Monday, September 20, 2021
Home Blog

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

0


নুসরাত রীপা

পর্ব-১৬

তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই ভালোবাসে।
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর বিজু মায়ের ঘরে আসে। তুলির বিয়ে, বাড়িতে এই প্রথম নতুন প্রজন্মের বিয়ে আয়োজনও তাই ব্যাপক। মা ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। বিজু মায়ের পাশে বসে বলল, মা একটা কথা বলি।
বল।
তুলির বিয়েতে আমি থাকছি না।
কেন রে?
মীরাকে বিয়ের কথা জানানো হয়নি। ও অনেক কষ্ট পাবে মা। আমি না থাকলে বলতে পারবো আমাকেও জানাও নি।
বোকা ছেলে। এটা কোন কথা! তুলি তোর ছোট বোন না? না থাকলে তুলি মনে কষ্ট পাবে না?
না, মা। তুলিও মীরাকে অনেক ভালোবাসে। মীরা তো আমাদের বোনই মা। ভার্সিটিতে ক্লাস বন্ধ, তাই এসেছিলাম। কাল আমি হলে ফিরে যাব।
তোর দাদীমনি রাগ করবেন।
আহা, শান্তা। বিজু এখন বড় হয়েছে। ও এখন ভোটার। মানে ও এখন নিজস্ব স্বাধীন চিন্তা ভাবনা আর মত প্রকাশের ক্ষমতাধারী। কাজেই ওকে ওর সিদ্ধান্ত নিতে দাও। আজমল সাহেব শোয়া থেকে উঠে বসলেন।
তুলির বিয়ের খবরটা মীরাকে না জানানো বিষয়টা বাড়ির কেউই মেনে নিতে পারছেনা। কিন্তু হুর ইজান্নাত কে কে বলবে!
বিজু মায়ের ঘর থেকে নিজের ঘরে চলে আসে। মীরার কথা মনে পড়ে। মীরা তো কখনো কারো সাথে রাগ করে কথা বলে না, ঝগড়া করে না। ছোটবেলা থেকে মেয়েটা জানেনা ওর বাবা মা কে। ওর কী ধর্ম। ওর জন্ম কোথায়। কেবল মিশনারী স্কুলের স্মৃতি নিয়ে ও বেড়ে উঠেছে অচেনা এক বাড়িতে। যদিও এ বাসায় সবাই ওকে স্নেহ আদর করে ঠিকই, কিন্তু সেটা তো বাসার মেয়ে হিসাবে নয়। এতিম অসহায়
মানুষ হিসাবে।
দাদীমনিতো কখনোই ভালোবাসেননি মীরাকে। বিজুরাও দাদীমনিকে মিছে কথা বলে মীরাকে বকা খাইয়েছে কত! মীরা এসব পরে আর মনে করেনি। ভুলে গেছে। কত কাজ আগ বাড়িয়ে করে দিয়েছে বিজু শাওন তুলিদের।
এতিম বলেই বোধহয় ও সব মেনে নিয়েছে সব সময়।
ঘুমোসনি?
দরজার বাইরে থেকে মাথা ঢুকিয়ে বলে শাওন। বিজুর ঘরে শব্দ শুনে এসেছে।
না। তুই?
গান বাছছিলাম। পরশু ডিজে আনছি–
ওয়াও।
আগামীকাল ফুপুরা চলে আসবে সব।
ছোট ফুপুও আসবে? বলে মুখটা একটু বাঁকা করে বিজু। শাওন বলে, হা। আসবে তো। কিন্তু তুই মুখ বাঁকাচ্ছিস কেন?
না, বলছিলাম তাহলে তো অরিত্রিও আসবে।
ছোট ফুপির ক্লাস নাইনে পড়া অপরূপা সুন্দরী কন্যা অরিত্রিকে শাওন মনে মনে পছন্দ করে। বিজু তাই এটা নিয়ে ওকে ক্ষ্যাপাতে ভালোবাসে।
বিজুর কথায় শাওন কণ্ঠে ঝাঁঝ ঢেলে বলে,আসলে আসবে। ঘুমাতে গেলাম।
বিজু দুষ্টুমির হাসি হেসে বলে, যা। কাল তোর ফ্রেস থাকাটা জরুরী!!
শাওনের ঘরের দরজা লাগানোর শব্দ কানে আসে! বিজু বিড়বিড় করে, ভালোই হবে, এত মানুষ আসবে, মীরা না এলেই ভালো। কে কী বলে ফেলে কে জানে!! লোকজনের তো উল্টোপাল্টা কথা বলতে জিভ সুরসুর করে! হঠাৎ মীরার জন্য ভীষণ কষ্ট হতে থাকে। মীরা যখন শুনবে তুলির বিয়ে হয়ে গেছে, ওকে জানানো হয়নি কত কষ্টই না পাবে।
বিজু ঠিক করে কাল সকালের ট্রেনেই ও ঢাকা যাবে। ঢাকায় নেমে মীরা কে ফোন দেবে। হোক না আপন নয়, তবু বোন তো!মা তো বিজু শাওন আর মীরাকে আলাদা ভাবেনি কখনো। তাহলে বিজু কেন ভাববে।
এই প্রথম বিজু মীরাকে চমকে দেওয়ার জন্য কী নেওয়া যায় ভাবতে থাকে।
বিজু ওর ছোট্ট ট্র্যাভেল ব্যাগটায় দুটো টিশার্ট ভরে। একটা জিন্স। দাঁড়ি রাখে তাই শেভিং কিটস নেওয়ার দরকার নাই। টুথপেস্ট, টাওয়েল— ভরতে ভরতে ভূপেন হাজারিকার আমি এক যাযাবর বইটা ব্যাগে ভরে নেয়। বইটা রবিনের কাছ থেকে পড়ার জন্য এনেছিল। কিন্তু সিএসইর ছাত্র হলেও বই পড়ায় ওর আগ্রহ নেই। বইটা মীরা পেলে খুশি হবে। রবিনকে পরে বোঝানো যাবে। আপাতত মীরাকে খুশি করার কথা ভাবে বিজু।

পর্ব-১৭

এরকমটা হবে অয়নের ধারণাতেও ছিল না। ও ভালো কাজ করে। কাজের প্রতি সিনসিয়ার। কোন এসাইনমেন্ট ধরলে দিন রাত এক করে সেটা কমপ্লিট করে। অথচ ওকে পানিশমেন্ট ট্রান্সফার দিয়ে হিলট্রাক এ পাঠিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় এক রাজনীতিবিদের মাদক চোরাচালানে অয়ন সমস্যা করছিল। পর পর দুটো চালান চোরাচালানীসহ ধরা পড়েছে। ট্রান্সফারটা সম্ভবত তিনিই করিয়েছেন।
তা যেই করাক এই মুহূর্তে বান্দরবন যাবার ইচ্ছে ছিল না অয়নের। সামনে বিয়ে। জেবা ঐ রকম বুনো পাহাড়ী এলাকায় থাকবে কীভাবে? বেড়ানোর জন্য পাহাড়-সাগর-জঙ্গল যতই আকর্ষক হোক না কেন বসবাসের জন্য মোটেও ভালো নয়। বিশেষ করে জেবার মতো আজন্ম শহরে লালিত মেয়েরা দুচারদিন গ্রাম- পাহাড়-জঙ্গলে বেড়াতে যেতে ভালোবাসলেও এসব পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে থাকার ক্ষমতা এদের নাই। অবশ্য জেবার সাথে বিয়েটা হবে কী না সেটাও এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অয়নের সাথে রাগ করে জেবা কথা বলা বন্ধ রেখেছে। একটা টেক্সট ও দিয়েছে, আপনি মীরা না খিরা কে ভালোবাসেন সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। আপনাকে আমি বিয়ে করবো কী না সেটা এখন আমার ভাবনা। সামনে ফাইনাল পরীক্ষা তাই ভাবনাটা আপাতত তালাবদ্ধ করে রাখছি। পরীক্ষার পর চূড়ান্ত মতামত জানাব। আপনার ইচ্ছে হলে এখন গার্ডিয়ানদের জানিয়ে বিয়েটা ভেঙে দিতে পারেন। সেটা আপনার ইচ্ছে।
আমি এখন আর এসব ভাববো না “।
এইরকম টেক্সট পড়ে অয়ন হতভম্ব। মীরার সাথে প্রেম কেন ভালো বন্ধুত্বটাই তো হয় নি। মেয়েটা কেমন শিউলি ফুলের মতো। সেজন্যেই না অয়ন বন্ধুত্ব করতে চেয়েছে। শিউলি ফুল ঝরে গেলেও দীর্ঘ সময় থাকে কিন্তু মালা গাঁথলেই খানিক বাদে নষ্ট হয়ে যায়! আর মীরার সাথে প্রেম বিয়ের কথা ভাবেও নি অয়ন। একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের ভালো লাগতেই পারে। সব ভালো লাগাই তো বিয়ের জন্য নয়।
জেবা মেয়েটা সুন্দরী। কিন্তু প্রায় দশ বছরের ছোট বলে অয়ন শুরুতে সম্পর্কটা করতেই চায়নি। কিন্তু অভিভাবকদের নানা মোটিভেশনাল কথা বার্তা আর রূপের মোহে টুপ করে রাজি হয়ে গিয়েছিল। জেবার টেক্সট আর ট্রান্সফার দুইয়ে মিলে একটা বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে নতুন কর্মস্থলের দিকে যাত্রা শুরু করেছে অয়ন।
বাসে,জার্নিতে সব সময়ই ভীষণ ঘুম পায় অয়নের। চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু মনের মধ্যে নানা রকম চিন্তা ঘুরপাক খায়। আগামী বছর প্রমোশন। এই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার ওর চাকরীর ওপর কতখানি প্রভাব ফেলবে কে জানে। আবার ছোটবেলা থেকেই অয়নকে সবাই ভালো ছেলে বলে জানে। জেবা যদি বিয়ে ভাঙার কারণ হিসাবে অয়নের অন্য নারীর সাথে প্রেম আছে বলে কমপ্লেন করে সেটা অয়নের জন্য অবশ্যই মঙ্গলজনক হবে না। প্রেম থাকলে তো অয়ন নিজের প্রেমিকাকেই বিয়ে করতো। বাড়িতে বাবা মা কোন বাধাই দিতো না। অয়ন এসব প্রেম ট্রেমে জড়াতে চায়নি। অথচ জেবা সেটা নিয়েই কথা বলছে।
মীরার কথা মনে পড়ে অয়নের। নিতান্তই কর্তব্য পালন করতে গিয়ে পরস্পরের পরিচয়। একই এলাকার হিসেবে অয়ন যোগাযোগ টা রাখতে চেয়েছিল। মীরার সাথে যোগাযোগ রাখতে চাওয়া বা ওকে ফোন করাটা কি আসলেই অন্যায় হয়েছে? নিজের কাছেই উত্তর খোঁজে অয়ন।

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

0

মিলু কাশেম

অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা উপাদানে সজ্জিত এই দেশ। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষনীয় স্থান। সিলেট কে বলা হয় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ।সিলেটের পাহাড় টিলা বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি তে ছড়িয়ে অসংখ্য চা বাগান।এছাড়া ছোট বড় পাহাড় টিলা হাওর নদী বনাঞ্চল জলজ বন প্রাকৃতিক ঝর্ণা’ ও অপরূপ সমারোহ নিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দেয় সিলেট। বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব প্রান্তে ভারতের খাসিয়া জয়ন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে সিলেটের অবস্থান। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেটের পর্যটন।প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য ছাড়াও সিলেট ভ্রমনকারীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষন ওলীকুল শিরোমনি হযরত শাহ জালাল ও হযরত শাহ পরাণের মাজার। প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে অগনিত মানুষ মাজার জিয়ারতে আসেন সিলেট।বোনাস হিসাবে উপভোগ করে যান সিলেটের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সিলেট শহরের উত্তর প্রান্তে রয়েছে ভারত উপমহাদেশের সর্ব প্রথম ও সর্ব বৃহৎ চা বাগান মালনীছড়া চা বাগান।সিলেটে আসা পর্যটকদের মন


জুড়ায় অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলং,জল পাথর আর দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ পাহাড়ের বিছনাকান্দি, বাংলাদেশের সুন্দর গ্রাম পানতুমাই,নীলনদ খ্যাত পান্না সবুজ জলের লালাখাল, পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত অঞ্চল চেরাপুঞ্জি পাহাড়ের পাদদেশের অপার সৌন্দর্যের রানী ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ,রূপসী লোভাছড়া, দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি আর দেশের একমাত্র মিঠা পানির জলজবন বা সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল।
গত কয়েক বছরে এই রাতারগুল জলজবন পরিনত হয়েছে সিলেট তথা দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন আকর্ষনে। রাতারগুলের অবস্থান সিলেট শহর থেকে উত্তর পূর্ব দিকে ২৬ কিলোমিটার দূরে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার ফতেহপুর ইউনিয়নে।বিশ্বের কয়েকটির মধ্যে অন্যতম এবং বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম ফরেস্ট বা মিঠাপানির জলজবন এবং বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য এই রাতারগুল। জলজবন মানে জলে ডুবে থাকা বন।এখানে হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং উদ্ভিদ জাতিয় বন সারা বছর পানিতে ডুবে থাকে।আর এই গাছের ছায়ায় ফাঁকে ফাঁকে পর্যটকরা নৌকা দিয়ে ঘুরে অবলোকন করেন জলজবনের অপার সৌন্দর্য।

রাতারগুল সোয়াম ফরেস্টের আয়তন প্রায় ৩৩ হাজার ৪ শ’ একর।এর মধ্যে প্রায় ৫০৫ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্য প্রানীর অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষনা করা হয়। এছাড়া প্রায় ২০৫ হেক্টর বনভূমি কে ২০১৫ সালে
বাংলাদেশ বন বিভাগ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষনা করে।চির সবুজ এই বন গোয়াইন নদীর দক্ষিন তীরে অবস্থিত।এই বনে বেশী জন্মায় করচ গাছ।বর্ষা কালে এই বন ২৫/৩০ ফুট পানির নীচে নিমজ্জিত থাকে।বাকি সারা বছর পানির উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট থাকে।বর্ষা কালে রাতারগুল জলজবনে অথৈ পানিতে ডুবে থাকে প্রায় ৪ মাস।আর বর্ষাকাল হচ্ছে এই বনের সৌন্দর্য উপভোগের প্রকৃত সময়।তাই রাতারগুল প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত প্রিয় নাম।প্রতিদিন দেশেবিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এই জলজবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। রাতারগুল জলজবনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পাশাপাশি রয়েছে রয়েছে সিলেটের স্থানীয় ভাষায়
রাতা গাছ নামে পরিচিত মুর্তা বা পাটি গাছের অরণ্য ।জানা যায়সেই রাতা গাছের নামানুসারে মুলত এই বনের নাম রাতারগুল। সিলেটের উত্তর পূর্ব দিকে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বৃষ্টিপাত অঞ্চল ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির সন্নিকটে অবস্থিত ক্রান্তীয় জলবায়ুর এই বনে প্রতিবছর ভারী বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে রাতারগুলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ৪১৬২ মিলিমিটার। জুলাই মাস সবচেয়ে আর্দ্র তখন বৃষ্টিপাতের পরিমান ১২৫০ মিলিমিটার। এই মিটা পানির জলজবনে উদ্ভিদের দুইটি স্থর পরিলক্ষিত হয় উপরে বৃক্ষ জাতীয় আর নীচে ঘন পাটি পাতা বা মুর্তা বনের আধিক্য বিদ্যমান। রাতারগুল জলজবনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা উদ্ভিদের আচ্ছাদনে আবৃত।এখন পর্যন্ত এই বনে ৭০ প্রজাতির উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে।রাতারগুল


মুলত প্রাকৃতিক বন। জলমগ্ন এই জলে আছে করচ ছাড়াও কদম হিজল বরুন গড়াই গাছ সহ বেত মুর্তা নানা প্রজাতির জল সহিষ্ণু গাছ। জলমগ্ন এই বনে সাপের আবাস বেশী আছে জোকও।তাছড়া নানা প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাস রয়েছে এই বনে। নৌকা দিয়ে বনের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে এসব প্রাণী নজর কাড়ে পর্যটকদের।
রাতারগুল জলজবনের দক্ষিন পাশে রয়েছে শিমুল বিল ও নেওয়া বিল নামে ২টি হাওর। নানা প্রজাতির মাছও মিলে এই এলাকায়।শীতকালে দেশিবিদেশি পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্যে পরিনত হয় রাতারগুল। বর্ষাকালে রাতারগুলের সৌন্দর্য অপরূপ হলেও সারা বছরই পর্যটকদের ভীড় লেগে থাকে রাতারগুলে। পুরো জলজবন এলাকা এক পলকে দেখে নিতে বন বিভাগের জাতীয় উদ্যান পরিকল্পনার আওতায় গত কয়েক বছর আগে একটি সুউচ্চ টাওয়ার নির্মান করা হয়।পরিবেশবাদী সংগঠন গুলোর আপত্তির মুখে তখন কিছুদিন বন্ধ রাখা হলেও পরে এই টাওয়ারের নির্মান কাজ শেষ করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত কওে দেয়া হয় টাওয়ারটি।বনে আগত পর্যটকরা এই টাওয়ারে উঠে অবলোকন করেন রাতারগুল জলজবনের সৌন্দর্য।


বর্ষা কালে নির্দিষ্ট ঘাট থেকে শত শত নৌকা নিয়ে রাতারগুল জলজবনে ঘুরতে আসেন পর্যটকরা।বনে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সুউচ্চ টাওয়ার।তাই এক নজর পুরো বন দেখতে সবাই টাওয়ারে উঠেন।বর্ষাকালে ২০/২৫ ফুট পানিতে অবস্থিত টাওয়ারটিতে এক সাথে শত শত দর্শনার্থীদের উঠানামায় নড়ে উঠে এই টাওয়ার।তাই বর্তমানে টাওয়ারটি বিপদজনক হয়ে পড়েছে।তবুও ও ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন শতশত পর্যটক টাওয়ারে উঠে ছবি তুলা ও আড্ডায় মেতে উঠেন। সার্বিক নিরাপত্তার কারনে বন বিভাগ আপাতত টাওয়ারের উপরে উঠে রাতারগুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এই জলজবনের সৌন্দর্য ওয়াচ টাওয়ার থেকে দেখা ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ২০১৫ সালে বন বিভাগ এই টাওয়ার নির্মান করেছিল। রাতারগুল জলজবনকে কেন্দ্র করে আশেপাশে তৈরী হয়েছে বেশ কয়েকটি অবকাশ যাপন কেন্দ্র। সিলেট শহর থেকে খুব সহজেই যাতায়াত করা যায়। শহরতলীর ধূপাগুল এলাকায় কিছু জায়গা ছাড়া
রাতারগুল তিন নাম্বার ঘাট পর্যন্ত রাস্তা ভাল।সিলেট শহর থেকে এক ঘন্টার মধ্যেই পৌছা যায় ঘাটে। সিএনজি অটো রিক্সা কার মাইক্রোবাস নিয় সহজেই যাওয়া যায় রাতারগুলে।পর্যটকদের জন্য চা নাস্তাসহ মোটামুটি খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে ঘাট এলাকায়।ঘাট থেকে খোলা নৌকা নিয়ে যেতে হয় মুল জলজবন এলাকায়।নৌকা ভাড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ৭৫০ টাকা।প্রতি নৌকায় ৫ জন বহন করা হয়।প্রয়োজনে বড় নৌকাও পাওয়া যায়। রাতারগুল মুল বনের মধ্যখানে খোলা জায়গায় রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।টাওয়ারে পাশে রয়েছে গাছের ছায়ায় কিছু নৌকায় ভাসমান দোকান।চা বিস্কিট ঝাল মুড়ি চানাচুর ডাব প্রভৃতি পাওয়া যায় এসব দোকানে। আ বনের ভেতরের সার্বিক নিরেপত্তা পরিবেশ চমৎকার।যা পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করে।তাই সিলেট ভ্রমনকালে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলজবন রাতারগুল। যা অবশ্যই ভালো লাগবে।

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

0

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল

হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও চিত্রনায়ক রুবেল। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে নামেন তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও দুজন উঠতি চিত্রনায়িকাও ছিলেন।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সুবিস্তৃত হাওর এখন অবাধ জলরাশিতে কানায় কানায় পূর্ণ। ছুটির দিনে মানুষ হাওরের জলে একটু শরীর ভেজানোর জন্য ছুটে আসছে। প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর এই হাওরে মানুষের মনকে আরেকটু রাঙাতে রাত্রিযাপনের প্রয়াসে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরের মধ্যে নির্মিত হয়েছে বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। হাওরের মাঝে বসেই প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখা যাবে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট থেকে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিসোর্টের দরজা খুলেছে।
প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই ঢাকা থেকে জায়েদ খান, মিশা সওদাগর, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও রুবেল হেলিকপ্টারের চড়ে হাওরাঞ্চলে যান।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ও অভিজাত প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। হাওরাঞ্চলে এই প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন একটি রিসোর্ট নির্মিত হয়েছে। যেখানে তারকা হোটেলের সমান সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জের ‘হাওরের বিস্ময়’ হিসেবে পরিচিত ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-ওয়েদার সড়কের মিঠামইন জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুরে দক্ষিণের হাওরে এর অবস্থান। স্থানীয় বাসিন্দা ডা. এ বি এম শাহরিয়ার তার হাওরের পৈতৃক সম্পত্তির ৩০ একর জায়গায় গড়ে তুলেছেন এই প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট।
দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের এলাকায় এই রিসোর্ট নির্মাণ হওয়ায় এর মালিক রিসোর্টের নামকরণ করেছেন ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’। সেখানে বিশাল একটি পুকুর আছে। পুকুরের চারদিকে গড়ে তোলা হয়েছে রিসোর্টটি। পুকুরের উত্তর পাশে রেস্টুরেন্ট আর দক্ষিণ পাশে গড়ে তোলা হয়েছে কটেজগুলো। এর চারদিকে লাগানো হচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো গাছ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিস্তীর্ণ হাওরে সবুজের এই সমারোহ পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেবে মুহূর্তেই। কটেজগুলোর দক্ষিণে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ জলরাশি নিঃসন্দেহে হাওরপ্রেমীদের চোখ জুড়াবে।
হাওর উপজেলা মিঠামইনে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ও অভিজাত প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট
বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা ও স্পিডবোট। তবে শুকনো মৌসুমে মোটরসাইকেল বা গাড়িযোগে অনায়াসে যাওয়া যাবে এই রিসোর্টে। প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে মোট ১০টি ডুপ্লেক্স কটেজ রয়েছে। তবে সেগুলোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। কটেজগুলোর ভেতরের অংশের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র। এখন মিস্ত্রিরা বাইরে রঙের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গত ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিসোর্টটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। তবে লকডাউনের কারণে তা পিছিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে হাওরে ৩০ একর জায়গায় অত্যাধুনিক ও মানসম্মত সুবিধা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। অত্যাধুনিক এ রিসোর্টে রয়েছে ১০টি আবাসিক ডুপ্লেক্স কটেজ, যার প্রতিটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। দুতলা বিশিষ্ট এ সকল কটেজে ৪০টি পরিবার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে অত্যাধুনিক পার্টি সেন্টার (আউটডোর), বিশাল ক্যান্টিনে ৪ শতাধিক লোকের একত্রে খাবারের ব্যবস্থা। ইনডোরে রয়েছে চাইনিজ ও বাংলা রেস্টুরেন্ট। লেকের পাশে রয়েছে কালচারাল সেন্টার, সাইট লিংক ও গলফ কার রাইডিং। লেকের মাঝখানে রয়েছে হেলিপ্যাড।
মাছ ধরার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক চৌকি। আনুমানিক ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। রয়েছে সবজি বাগান। গাছের মাঝখানে শিশুদের জন্য খেলার সামগ্রীসহ ২০টি ছাতা রয়েছে বিশ্রামের জন্য। বিভিন্ন কারুকার্যে খচিত পাথরের মাছ ,বাঘ, সিংহও রয়েছে। পাঁচ তলা ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে লেকের পশ্চিম পাশে। যেখান থেকে বিস্তীর্ণ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। মনোরম পরিবেশে লেকের দুপাশে অত্যাধুনিক দুটি সিঁড়ি ঘাট রয়েছে। সুদৃশ্য পাইপের ভেতর চারজন বসার মতো জায়গাও রয়েছে।
এছাড়াও রয়েছে সুইমিং প্লটিং, পেডেল বোট, জেডস কি ওয়াটার বাইক, শিশুদের জন্য কিডস কর্নার। বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য দুটি অত্যাধুনিক ট্রলার ও তিনটি স্পিড বোট রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে রিসিপশনিস্টসহ ৮০ জন স্টাফ রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি এজেন্সির ১০ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে।

মৎস্য খাতে অর্জিত সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন

0


ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ

মৎস্যখাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। দেশের প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দেশের মানুষ গড়ে জনপ্রতি প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২.৫৮ গ্রাম মাছ বর্তমানে গ্রহণ করছে।
মহান স্বাধীনতা দিবস মুজিববর্ষে ৫০তম বছরে পদার্পণ করছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকালে মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আজ বিশ্ব পরিমণ্ডলে স্বীকৃত ও সমাদৃত। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত মোট মাছের পরিমাণ ৪৩.৮৪ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০০৮-০৯ সালের মোট উৎপাদনের চেয়ে ৬২.৩১ শতাংশের বেশি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য মতে, (২০২০) মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বিশ্বে ৩য় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ। দেশ এখন মাছে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই না, উদ্বৃত্তও বটে। এ অর্জন জাতির জন্য গৌরব এবং অহংকারের।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার শুভ সূচনা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন ‘মাছ হবে এ দেশের দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।’ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে মৎস্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে। দেশ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছ ও পুষ্টি পাচ্ছে। গত এক দশকে মৎস্য খাতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৬.২৮ শতাংশ। মৎস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৪১ সালে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়াবে ৯০ লাখ মেট্রিক টন।
আমাদের জলাশয়ে প্রায় ৮ শত প্রজাতির মাছ ও চিংড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ২৬০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ এবং ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। আইইউসিএন (২০১৫) এর তথ্য মতে, আমাদের দেশে ২৬০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায়। আমাদের ঐতিহ্যের অংশ মিঠাপানির এসব সুস্বাদু মাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার্থে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা পরিচালনা করে এ যাবত ২৪টি বিপন্ন প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টটিউট বর্তমানে কাকিলা, কাজলী, বাতাসী, রানী, ঢেলা ইত্যাদি আরো ১০ প্রজাতির দেশীয় মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করছে। এসব মাছও অদূর ভবিষ্যতে চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে। অপরদিকে দেশে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহস্থ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘দেশীয় মাছের লাইভ জিন ব্যাংক।’ লাইভ জিন ব্যাংকে ইতোমধ্যে ৮৫ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশীয় মাছ সুরক্ষা এবং গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কেআইবি কৃষি পদক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক সম্মাননা পদকসহ একুশে পদক ২০২০ অর্জন করেছে। নদ-নদী ও হাওড় বিলে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তি ও অভয়াশ্রম (৪২৬টি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেও বিপন্ন প্রজাতির মাছ সুরক্ষায় মৎস্য অধিদপ্তর কাজ করছে।
আমাদের মাছের মোট উৎপাদনের শতকরা ১৬ ভাগ (৬.৫৯ লাখ মেট্রিক টন) সামুদ্রিক মাছের অবদান। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিমি.এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সমুদ্রে স্থায়ীত্বশীল মৎস্য আহরণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। অপরদিকে সামুদ্রিক মাছের অবাধ প্রজনন, সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০১৫ সাল থেকে সমুদ্রে বছরে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে সমুদ্রে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১২-১৫%। সমুদ্রের মৎস্যসম্পদের মজুদ নিরূপণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সামুদ্রিক মাছের জীববৈচিত্র্যতা সুরক্ষিত হবে।
ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে; বর্তমানে ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে ইলিশ ব্যবস্থাপনা কৌশল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বাহিনী কর্তৃক সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করায় সাম্প্রতিককালে দেশে ইলিশের বিস্তৃতি ও উৎপাদন বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৮-২০০৯ সালে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৮-১৯ সালে ৫ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত ১২ বছরে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৩ শতাংশ। গত ২০১৬ সালে ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইলিশের স্বত্ব এখন শুধুই বাংলাদেশের। এটা জাতির জন্য গৌরবের।
প্রচলিত মৎস্য প্রজাতির পাশাপাশি বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদ যেমন কুচিয়া, শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, সী-উইড, ওয়েস্টার ইত্যাদি সংরক্ষণ ও চাষাবাদ কৌশল উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আমাদের খাদ্য তালিকায় এসব অপ্রচলিত প্রজাতি না থাকলেও বিদেশে এদের প্রচুর চাহিদা ও বাজারমূল্য রয়েছে। এসব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। গবেষণায় কক্সবাজার উপকূলে এ পর্যন্ত ১৩৮ প্রজাতির সীউইডের সন্ধান পাওয়া গেছে; এর মধ্যে ১৮ প্রজাতির সীউইড বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন। অতঃপর, বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন ৩ প্রজাতির (ঝধৎমধংংঁস ড়ষরমড়পুংঃঁস, ঈধঁষধৎঢ়ধ ৎধপবসড়ংধ ও ঐুঢ়হবধ ংঢ়ঢ়.) সীউইডের চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। উদ্ভাবিত সীউইড চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সীউইড অদূর ভবিষ্যতে একটি অন্যতম রপ্তানিপণ্য হিসেবে সুনীল অর্থনীতিতে অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। বর্তমানে ভেটকি, চিত্রা ও দাতিনা মাছ এবং হরিণা ও চাকা চিংড়ির প্রজনন ও চাষাবাদের উপর গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে। বাগদা চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে এসপিএফ পোনা উৎপাদন জোরদার করা হয়েছে। চাষিদেরকে উত্তম চাষ ব্যবস্থাপনার আওতায় চিংড়ির ক্লাস্টার ফার্মিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।


দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখতে ৩৯ লাখ হেক্টরের অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় যেমন নদ-নদী, প্লাবনভূমি, হাওড়-বাওড় ও বিলকে বিজ্ঞানভিত্তিক চাষ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে। মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় হাওড়ের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে সম্প্রতি ১টি উন্নয়ন প্রকল্প একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।
প্রকৃত মৎস্যজীবী/জেলেদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর কর্র্তৃৃক ইতোমধ্যে ১৬ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী/জেলেদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলের মাঝে পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে। জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন সময়ে ভিজিএফ সহায়তার আওতায় দেশের মোট ৩৬টি জেলার ১৫২ উপজেলার ৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২টি পরিবারকে ২০ কেজি হারে মোট ১০৫৬৬.৮৪ মেট্রিক টন চাল প্রদান করা হয়েছে। তা ছাড়া করোনাকালে চাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।
মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে ৫০টি দেশে চিংড়ি ও মৎস্য পণ্য রপ্তানি করছে। বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রায় ৭১ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে দেশে ৩৯৮৫ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। মানসম্মত মৎস্য ও মৎস্যপণ্য রপ্তানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় আন্তর্জাতিক মানের ৩টি মান নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে মানুষের ব্যস্ততা বাড়ায় এবং নারী কর্মজীবীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরাসরি খাওয়া উপযোগী কিংবা স্বল্প পরিশ্রমে খাবার উপযোগী মানসম্মত মূল্য সংযোজিত মৎস্য পণ্য উৎপাদন এখন সময়ের দাবী। অপরদিকে, চাষিরা সাম্প্রতিককালে প্রায়ই বলেন, তারা মাছের ভাল মূল্য পাচ্ছেন না। এ অবস্থা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে ও আমাদের মাছ থেকে মূল্য সংযোজিত পণ্য (ঠধষঁব ধফফবফ ঢ়ৎড়ফঁপঃ) তৈরি করতে হবে। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হবেন। বর্তমানে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এ লক্ষ্যে কাজ করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব শ ম রেজাউল করিম এমপি মৎস্য খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরির নির্দেশনা প্রদান করছেন।
মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমাদের যেমন আত্মতৃপ্তির সুযোগ আছে, ঠিক তেমনি আমাদের সামনে রয়েছে বড় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন ও মাছের আবাসস্থলের অবক্ষয়। তা ছাড়া দেশে মাছের চাষাবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের আরেকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে চাষাবাদে মানসম্পন্ন উন্নত জাতের মাছের পোনা এবং স্বল্প মূল্যের মৎস্য খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা। এ জন্য দেশের ৯ শতাধিক হ্যাচারিতে ভালো মানের পোনা উৎপাদনের জন্য উন্নত জাতের ব্রুড মাছের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বাঁচাতে হবে আমাদের হালদা নদীকে-যেখানে রুইজাতীয় মাছ প্রাকৃতিকভাবে ডিম ছাড়ে। আনন্দের বিষয় যে, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে জাতীয় উদযাপন কমিটি কর্তৃক হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে হালদা নদী জাতীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা পাবে; সুরক্ষিত হবে হালদা নদীর পরিবেশ ও নিষিক্ত ডিম।
ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

0


মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ। এতদিন স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও অতীতের রেকর্ড ভেঙে এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দেশ। চাষের মাছে বরাবরের মতো পঞ্চম স্থানে থাকলেও জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের ফলে উন্মুক্ত জলাশয় ও পতিত পুকুরে বেড়েছে মাছের চাষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের অভয়াশ্রম তৈরি, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাছ শিকার বন্ধ ও জলাশয়াদিতে মাছ অবমুক্তকরণে এ সফলতা এসেছে। এ ছাড়া প্রদর্শনী আর প্রশিক্ষণ, ইনসেনটিভ দেওয়ার ফলে বেকারত্বের সংখ্যা যেমন কমে এসেছে, তেমনি পতিত পুকুর সংখ্যাও এখন শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক প্রতিবেদন ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার-২০২০’ এর মতে, ২০১৯ সালে বিশ্বে প্রায় ১৮ কোটি টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। এসব মাছের অর্ধেকেরও বেশি অভ্যন্তরীণ উৎসের বা স্বাদু পানির মাছ। আর বাকি মাছ সামুদ্রিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আর প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন ও ভারত। চাষের মাছে বাংলাদেশের অবস্থানটি পঞ্চম।
চাষের মাছে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম। এর আগে ২০১৭ সালে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ পঞ্চম থেকে তৃতীয় স্থানে উঠেছিল। আর সামগ্রিকভাবে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বাড়ার হারেও বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। বর্তমানে মাছ বাড়ার হার ৯ শতাংশ। আর ১২ শতাংশ নিয়ে প্রথম অবস্থান দখল ইন্দোনেশিয়ার। প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে মাছ চাষের হার বেড়েছে ৫২৭ শতাংশ আর মাছ খাওয়ার হার বেড়েছে ১২২ শতাংশ।
বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয় ছিল। অতীতের রেকর্ড ভেঙে এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। এ সফলতা আসার বেশকিছু কারণ রয়েছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্প, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী, ইনসেনটিভ দেওয়াই মূল কারণ। এ ছাড়া মুক্ত জলাশয়, হাওড়, বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা তো আছেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা, মুক্ত জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করা আর মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করাতে বড় সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্প হাতে নেওয়ায় আগামীতে আরও ভালো অবস্থানে আসবে দেশ।
এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা বলেন, এখন মাছ চাষ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমাদের গবেষণায় বিলুপ্ত মাছ- টেংরা, পাবদা, গুলশা চাষে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করছি। এতে এক দিকে বেকারত্ব কমছে, অন্যদিকে বেড়েছে মাছ উৎপাদন।
বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশে পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকারের মূল নির্দেশনা হলো ‘দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি পতিত না রেখে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে’। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে মৎস্য অধিদফতরাধীন চলমান ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক’ প্রকল্পটি অক্টোবর, ২০১৫-জুন, ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সারাদেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলায় প্রায় ২,৬০০.০ হেক্টর আয়তনের পতিত বা অব্যবহৃত ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শ্রেণির জলাশয় (পুকুর/দিঘি/মরানদী/বরোপিট/বিল/হাওড় ইত্যাদি) পুনঃখননের মাধ্যমে মৎস্যচাষ উপযোগী সংস্কার করে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের আওতায় আনা।
বিবেচ্য প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দুটি, তা হলো ১. বছরে মোট ১০,২৩৪.০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন (প্রায় ৪.০ মেট্রিকটন/হেক্টর/বছর) এবং ২. মোট ১৮,২০০ জন প্রান্তিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি (৭-১০ জন/হেক্টর)।
এছাড়াও সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিতকরন, সরকারি খাস জলাশয়ে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণসহ অনেক লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রকল্পটি গৃহীত। উন্নয়নকৃত জলাশয়ের পাড়/ডাইকগুলোতে শাক-সবজি, নেপিয়ার ঘাস ও ফলদবৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিগত জুন/২০২০ পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ হেক্টর জলাশয় পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সংস্কারকৃত উক্ত জলাশয় হতে বর্তমানে বাৎসরিক প্রায় ৬,৫০০.০ মেট্রিকটন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদনসহ (৫.০ মেট্রিকটন/হেক্টর/বছর) এবং প্রায় ৯,১০০ জন প্রান্তিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে (৭ জন/হেক্টর)। এছাড়াও পরোক্ষভাবে আরো দ্বিগুণেরও বেশি পরিমাণ মানুষ আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই চলমান জলাশয় সংস্কার প্রকল্পটি করোনার প্রভাব মোকাবেলায় প্রধান লক্ষ্য পূরণে দেশে অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার গুরুত্ব অনুধাবন করে করোনা মহামারি মোকাবেলার অংশ হিসাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় এবং মৎস্য অধিদফতরের নিবিড় তত্ত্বাবধানে জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের অর্থায়নে বর্তমান ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রায় ১,১০০.০ হেক্টর জলাশয় পুনঃখনন করে গঠিত সুফলভোগী প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাধ্যমে মৎস্য চাষের আওতায় আনার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে (কর্মসংস্থান সৃষ্টি- প্রতি হেক্টরে ৭-১০ জন ও অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদন- ৪ মেট্রিকটন/হেক্টর/বছর) ইতিমধ্যে নির্বাচিত ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শ্রেণির পতিত জলাশয় পুনঃখনন কাজ মাঠ পর্যায়ে প্রায় সমাপ্ত অবস্থায় আছে। দেশের ভয়াবহ করোনা মহামারিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এ ব্যাপক জলাশয় পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন সংশ্লিষ্ট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা/উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী, জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীগণ।
পুনঃখনন কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে নিবিড় মনিটরিং কাজে নিয়োজিত আছেন ৮ বিভাগের সুযোগ্য উপপরিচালক মহোদয়গণ। এছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে মৎস্য অধিদফতর এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম চলমান পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন। সর্বপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্দেশিত প্রতিটি পুনঃখনন কাজের স্বাক্ষী সংরক্ষণ, অনুমোদিত চূড়ান্ত পরিমাপ কমিটি কর্তৃক সম্পাদিত কাজের হিসাব নিরুপন এবং গঠিত সুফলভোগী গ্রুপের নিকট পুনঃখননকৃত জলায়শটি মাছ চাষের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর কার্যক্রম জলাশয় পুনঃখনন কাজ শতভাগ স্বার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

0


মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ। এতদিন স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও অতীতের রেকর্ড ভেঙে এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দেশ। চাষের মাছে বরাবরের মতো পঞ্চম স্থানে থাকলেও জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের ফলে উন্মুক্ত জলাশয় ও পতিত পুকুরে বেড়েছে মাছের চাষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের অভয়াশ্রম তৈরি, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাছ শিকার বন্ধ ও জলাশয়াদিতে মাছ অবমুক্তকরণে এ সফলতা এসেছে। এ ছাড়া প্রদর্শনী আর প্রশিক্ষণ, ইনসেনটিভ দেওয়ার ফলে বেকারত্বের সংখ্যা যেমন কমে এসেছে, তেমনি পতিত পুকুর সংখ্যাও এখন শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক প্রতিবেদন ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার-২০২০’ এর মতে, ২০১৯ সালে বিশ্বে প্রায় ১৮ কোটি টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। এসব মাছের অর্ধেকেরও বেশি অভ্যন্তরীণ উৎসের বা স্বাদু পানির মাছ। আর বাকি মাছ সামুদ্রিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আর প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন ও ভারত। চাষের মাছে বাংলাদেশের অবস্থানটি পঞ্চম।
চাষের মাছে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম। এর আগে ২০১৭ সালে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ পঞ্চম থেকে তৃতীয় স্থানে উঠেছিল। আর সামগ্রিকভাবে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বাড়ার হারেও বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। বর্তমানে মাছ বাড়ার হার ৯ শতাংশ। আর ১২ শতাংশ নিয়ে প্রথম অবস্থান দখল ইন্দোনেশিয়ার। প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে মাছ চাষের হার বেড়েছে ৫২৭ শতাংশ আর মাছ খাওয়ার হার বেড়েছে ১২২ শতাংশ।
বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয় ছিল। অতীতের রেকর্ড ভেঙে এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। এ সফলতা আসার বেশকিছু কারণ রয়েছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্প, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী, ইনসেনটিভ দেওয়াই মূল কারণ। এ ছাড়া মুক্ত জলাশয়, হাওড়, বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা তো আছেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা, মুক্ত জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করা আর মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করাতে বড় সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্প হাতে নেওয়ায় আগামীতে আরও ভালো অবস্থানে আসবে দেশ।
এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা বলেন, এখন মাছ চাষ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমাদের গবেষণায় বিলুপ্ত মাছ- টেংরা, পাবদা, গুলশা চাষে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করছি। এতে এক দিকে বেকারত্ব কমছে, অন্যদিকে বেড়েছে মাছ উৎপাদন।
বৈশ্বিক করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় দেশে পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকারের মূল নির্দেশনা হলো ‘দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি পতিত না রেখে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে’। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে মৎস্য অধিদফতরাধীন চলমান ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক’ প্রকল্পটি অক্টোবর, ২০১৫-জুন, ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সারাদেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলায় প্রায় ২,৬০০.০ হেক্টর আয়তনের পতিত বা অব্যবহৃত ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শ্রেণির জলাশয় (পুকুর/দিঘি/মরানদী/বরোপিট/বিল/হাওড় ইত্যাদি) পুনঃখননের মাধ্যমে মৎস্যচাষ উপযোগী সংস্কার করে স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষের আওতায় আনা।
বিবেচ্য প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য দুটি, তা হলো ১. বছরে মোট ১০,২৩৪.০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন (প্রায় ৪.০ মেট্রিকটন/হেক্টর/বছর) এবং ২. মোট ১৮,২০০ জন প্রান্তিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি (৭-১০ জন/হেক্টর)।
এছাড়াও সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিতকরন, সরকারি খাস জলাশয়ে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ, ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণসহ অনেক লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রকল্পটি গৃহীত। উন্নয়নকৃত জলাশয়ের পাড়/ডাইকগুলোতে শাক-সবজি, নেপিয়ার ঘাস ও ফলদবৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিগত জুন/২০২০ পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ হেক্টর জলাশয় পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সংস্কারকৃত উক্ত জলাশয় হতে বর্তমানে বাৎসরিক প্রায় ৬,৫০০.০ মেট্রিকটন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদনসহ (৫.০ মেট্রিকটন/হেক্টর/বছর) এবং প্রায় ৯,১০০ জন প্রান্তিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে (৭ জন/হেক্টর)। এছাড়াও পরোক্ষভাবে আরো দ্বিগুণেরও বেশি পরিমাণ মানুষ আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই চলমান জলাশয় সংস্কার প্রকল্পটি করোনার প্রভাব মোকাবেলায় প্রধান লক্ষ্য পূরণে দেশে অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার গুরুত্ব অনুধাবন করে করোনা মহামারি মোকাবেলার অংশ হিসাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় এবং মৎস্য অধিদফতরের নিবিড় তত্ত্বাবধানে জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের অর্থায়নে বর্তমান ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রায় ১,১০০.০ হেক্টর জলাশয় পুনঃখনন করে গঠিত সুফলভোগী প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাধ্যমে মৎস্য চাষের আওতায় আনার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে (কর্মসংস্থান সৃষ্টি- প্রতি হেক্টরে ৭-১০ জন ও অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদন- ৪ মেট্রিকটন/হেক্টর/বছর) ইতিমধ্যে নির্বাচিত ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন শ্রেণির পতিত জলাশয় পুনঃখনন কাজ মাঠ পর্যায়ে প্রায় সমাপ্ত অবস্থায় আছে। দেশের ভয়াবহ করোনা মহামারিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এ ব্যাপক জলাশয় পুনঃখনন কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন সংশ্লিষ্ট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা/উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী, জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীগণ।
পুনঃখনন কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণে নিবিড় মনিটরিং কাজে নিয়োজিত আছেন ৮ বিভাগের সুযোগ্য উপপরিচালক মহোদয়গণ। এছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে মৎস্য অধিদফতর এবং প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম চলমান পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন। সর্বপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্দেশিত প্রতিটি পুনঃখনন কাজের স্বাক্ষী সংরক্ষণ, অনুমোদিত চূড়ান্ত পরিমাপ কমিটি কর্তৃক সম্পাদিত কাজের হিসাব নিরুপন এবং গঠিত সুফলভোগী গ্রুপের নিকট পুনঃখননকৃত জলায়শটি মাছ চাষের উদ্দেশ্যে হস্তান্তর কার্যক্রম জলাশয় পুনঃখনন কাজ শতভাগ স্বার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)

0


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য সেক্টরের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য অধিদপ্তর বিগত কয়েক দশক ধরে যুগোপযোগী ও লাগসহ কর্মকান্ডের মাধ্যমে র্তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করে আসছে। তবে ‘‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প’’ এর মাধ্যমে ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণের ধারণা একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাছ চাষের আধুনিক কলাকৌশল ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং চাষিদের সমস্যা জেনে তার প্রতিকার করা বা উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে সমস্যা নিরসন করা। লাগসহ প্রযুক্তি অনুসরণ করে মাছের চাষ চাষ করা হলে বর্তমানের দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবিত নুতন নুতন প্রযুক্তি মৎস্য চাষীদের নিকট হন্তান্তর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক কার্য়ক্রম পরিচালনা করার আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। এ বাস্তবতার আলোকে গ্রাম পর্যায়ে ফলাফল প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং চাষীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবাকে জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রকল্পটির কার্যক্রম প্রনয়ণ করা হয়েছে। প্রকল্পের উদ্দেশঃ ক) স্থানীয় মৎস্য চাষীদের সম্পৃক্ত করে নির্বাচিত ইউনিয়ন সমূহের গ্রামের সকল বা অধিকাংশ পুকুরে এবং অন্যান্য চাষযোগ্য জলাশয়ে উন্নততর লাগসই প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। খ) মৎস্য অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, খড়পধষ ঊীঃবহংরড়হ ধমবহঃ ভড়ৎ ঋরংযবৎরবং ( খঊঅঋ) লিফ এবং স্থানীয় মৎস্য চাষীদের মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন ভিত্তিক মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা। গ) মাছ ও চিংড়ি চাষ, পোনা ব্যবসা এবং অন্যান্য মৎস্য ভিত্তিক আয় বর্ধক কর্মসূচীর মাধ্যমে স্থানীয় পুরুষ ও নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। ঘ) প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রদর্শনী খামার স্থাপনসহ স্থানীয় মৎস্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রুপদান করা। ফলে মাছ চাষ সম্প্রসারণ ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প-এর প্রকল্প পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান বলেন ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য সেক্টরের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য অধিদপ্তর বিগত কয়েক দশক ধরে যুগোপযোগী ও লাগসহ কর্মকান্ডের মাধ্যমে র্তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করে আসছে। তবে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এর মাধ্যমে ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণের ধারণা একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাছ চাষের আধুনিক কলাকৌশল ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং চাষিদের সমস্যা জেনে তার প্রতিকার করা বা উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে সমস্যা নিরসন করা। লাগসহ প্রযুক্তি অনুসরণ করে মাছের চাষ করা হলে বর্তমানের দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবিত নুতন নুতন প্রযুক্তি মৎস্য চাষীদের নিকট হন্তান্তর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক কার্য়ক্রম পরিচালনা করার আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। এ বাস্তবতার আলোকে গ্রাম পর্যায়ে ফলাফল প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং চাষীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবাকে জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রকল্পটির কার্যক্রম প্রনয়ণ করা হয়েছে। যার সাফল্য এখন দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সাফল্য
ক) স্থানীয় মৎস্য চাষীদের সম্পৃক্ত করে নির্বাচিত ইউনিয়ন সমূহের গ্রামের সকল বা অধিকাংশ পুকুরে এবং অন্যান্য চাষযোগ্য জলাশয়ে উন্নততর লাগসই প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। খ) মৎস্য অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, খড়পধষ ঊীঃবহংরড়হ ধমবহঃ ভড়ৎ ঋরংযবৎরবং ( খঊঅঋ) লিফ এবং স্থানীয় মৎস্য চাষীদের মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন ভিত্তিক মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা। গ) মাছ ও চিংড়ি চাষ, পোনা ব্যবসা এবং অন্যান্য মৎস্য ভিত্তিক আয় বর্ধক কর্মসূচীর মাধ্যমে স্থানীয় পুরুষ ও নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। ঘ) প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রদর্শনী খামার স্থাপনসহ স্থানীয় মৎস্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রুপদান করা। ফলে মাছ চাষ সম্প্রসারণ ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বেড়েছে মাছের উৎপাদন।

মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে : কাজী শামস আফরোজ

0

মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে :
কাজী শামস আফরোজ
মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ বলেছেন, মৎস্য খাতকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে বর্তমান সরকারের আমলে মৎস্য খাতে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মাছের উৎপাদনে পরিপূর্ণতা এসেছে। এখন কোথাও মাছের সংকট নেই। যে পরিমাণ মাছ আমাদের প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি উৎপন্ন হচ্ছে। এ পরিবর্তনের ম্যাজিশিয়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ। বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. তৌফিকুল আরিফ ও মো. লিয়াকত আলীসহ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, টেংরা, পাবদা, শিংসহ হারিয়ে যাওয়া যে সকল মাছ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, বিলুপ্তপ্রায় সেসব মাছ আমরা আবার ফিরিয়ে আনছি। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাঙালির নিজস্ব প্রজাতির মাছ মানুষের দোরগোড়ায় ফিরিয়ে আনার সমস্ত প্রক্রিয়া আমরা সামনে নিয়ে আসছি।
তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে আমাদের মাছের চাহিদা রয়েছে। মৎস্য সম্পদের মাধ্যমে আমরা একদিকে পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ করছি, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছি। মৎস্য খাতকে এমন একটি জায়গায় আমরা নিয়ে যাবো, যেখানে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে, বেকার মানুষ উদ্যোক্তা হবে। দারিদ্র্য দূর হবে, পুষ্টির অভাব দূর হবে, খাদ্যের অভাব দূর হবে। অর্থাৎ এই খাতের ব্যবহারের পরিসর অনেক বড় হবে।
মৎস্য খাতে যারা বিনিয়োগ করছেন তাদেরকে স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে আমরা ঋণ দিচ্ছি। মৎস্য খাতের ক্ষতিগ্রস্তদের আমরা আর্থিক প্রণোদনা দেবো, যেন তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কোন মানুষ বিপন্ন থাকবে না। প্রান্তিক পর্যায়ের একটা পুকুর আমরা ফেলে রাখতে দেবো না। পুকুর খননের জন্য সাহায্য করা হবে, পুকুরে আধুনিক জাতের পোনা মাছ সরবরাহ করা হবে, পুকুরের মাছের খাবারের জন্য ভর্তুকি দেয়া হবে, কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে। মৎস্য সম্পদ আমরা সারাদেশে বিস্তৃত করবো।
বর্তমানে মৎস্য খাত একটা শিল্পে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ, আধুনিক, উন্নত সোনার বাংলাতে সত্যি সত্যি পরিণত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। এ খাতকে আমরা পরিকল্পিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ’ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

0


মৎস্য খাত বাংলাদেশে একটি স্বর্ণালী অধ্যায় সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি। তিনি বলেন, ভাতে-মাছে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গাতে আমরা শুধু পরিপূর্ণতাই আনবো না, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।
সম্প্রতি রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ, ২০২১ উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী একথা জানান।
এসময় মন্ত্রী বলেন,“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা হচ্ছে ভাতে-মাছে বাঙালির চিরন্তন বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের মৎস্য খাতকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বিকশিত করছেন এ ধারাকে অব্যাহত রেখে মৎস্য সম্পদে বিশ্বে আমরা অনন্য-আসাধারণ জায়গায় পৌঁছে যাবো। এ লক্ষ্য নিয়ে মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে এবারের মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন হতে যাচ্ছে। ভাতে-মাছে বাঙালির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জায়গাতে আমরা শুধু পরিপূর্ণতাই আনবো না, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশা অনুযায়ী মাছ হবে দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ। সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।”
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন,‘বেশি বেশি মাছ চাষ করি, বেকারত্ব দূর করি’এ প্রতিপাদ্যে ২৮ আগস্ট থেকে ০৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হয়। জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সংসদ লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ৩১ আগস্ট বঙ্গভবন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।”
এ সময় তিনি বলেন,“করোনার কারণে বিদেশ থেকে আমাদের অনেক প্রবাসীরা বেকার হয়ে দেশে ফিরছেন। স্বল্প আয়ের চাকরি বা ব্যবসা যারা করতেন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। করোনায় সৃষ্ট বেকারদের পূনর্বাসনের ক্ষেত্রে আমাদের মৎস্য খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছ চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব লাঘব হচ্ছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ছে এবং উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে। আবার মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আমরা দেশে আনতে সক্ষম হচ্ছি। পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে আমাদের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।” তিনি আরো বলেন,“মৎস্য খাতে একটা আমূল পরিবর্তন এসেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে সরকার প্রধানের সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতা। সরকারের গৃহিত পদক্ষেপে ইলিশের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাদ-গন্ধ ফিরে এসেছে, পরিমাণ বেড়েছে। জাটক নিধন বন্ধ করার সুফল আমাদের সামনে দৃশ্যমান। দেশের মানুষের কাছে যে মাছগুলো দুর্লভ ছিল, সেগুলো ফিরে এসেছে। বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমরা ফিরিয়ে এনেছি এবং সেটা আমরা সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। মৎস্যজাত পণ্য তৈরির খাতকেও সরকার উৎসাহিত করছে। দেশের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় অঞ্চল তথা হাওর অঞ্চল, পাবর্ত্য অঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চলে আমরা ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প নিচ্ছি। মাছকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা অভয়াশ্রম করছি। নদীতে যাতে মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং মাছ বেড়ে উঠতে পারে সে জন্য প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।”
“আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে মৎস্য খাত অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে। মৎস্য খাতে উপযুক্ত পদক্ষেপের কারণে আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদের বিস্তার ঘটছে। বাজারে পর্যাপ্ত মাছ রয়েছে। ফলে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে, গড় আয়ু বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাতৃমৃত্যুর হার শিশু মৃত্যুর হার কমে গেছে।”-যোগ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরো যোগ করেন,“২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৪৫ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও স্বীকৃতি। বিশ্বে অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ ৩য়, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম, ইলিশ উৎপাদনে ১ম ও তেলাপিয়া উৎপাদনে ৪র্থ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী চাষকৃত মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হার ধীরগতিসম্পন্ন হলেও বিগত এক দশকে আমাদের মৎস্য উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির ধারা ৯.১ শতাংশ, যা বিশ্বের মূল উৎপদানকারী দেশসমূহের মধ্যে ২য় অবস্থান।”
মন্ত্রী আরো বলেন,“মৎস্য খাদ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান আছে কীনা তা পরীক্ষার জন্য আমরা আন্তর্জাতিকমানের পরীক্ষাগার করেছি। মাছ রপ্তানির জন্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিদেশে পাঠানো মাছের চালান দেশে ফেরত না আসে। দেশের অভ্যন্তরের বাজারেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। মৎস্য সম্পদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সব জায়গায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
“মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির পথে আমরা কেউ যেন ক্ষতিকর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই। বিষাক্ত কোন খাবার দিয়ে মাছ আমরা বাড়াবো না। অপরিকল্পিতভাবে মাছের চাষবাদ করবো না-এসময় আহ্বান জানান জানান মন্ত্রী।
মৎস্য খাতে যারা অবদান রাখছেন, ভালো ভূমিকা রাখছেন তাদের উৎসাহিত করতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে এ বছর বিভিন্ন খাতে মৎস্য পদক প্রদান করা হচ্ছে বলেও এসময় জানান মন্ত্রী।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও মোঃ তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বিএফআরআই-এর মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের উপপরিচালক শেফাউল করিম, নৌপুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোঃ আতিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পরীমণির বিয়ে বিয়ে খেলা

0


মডেলিং দিয়ে শুরু, এরপর নাটকে অভিনয় করে মিডিয়ার অলি-গলি চেনা, সবশেষে সিনেমায় এসে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া; চিত্রনায়িকা পরীমণির ক্যারিয়ারের সমীকরণটা এমনই। ২০১১ সালে তিনি ঢাকায় আসেন। এর চার বছর পর ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।
এ পর্যন্ত দুই ডজনের বেশি সিনেমায় দেখা গেছে পরীমণিকে। এর মধ্যে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘বিশ্বসুন্দরী’র জন্য বেশ প্রশংসিত হন তিনি। যদিও তার অভিনীত কোনো সিনেমাই পায়নি ব্যবসায়িক সাফল্য। তবুও একের পর এক সিনেমা এসেছে তার হাতে।
পেশাগত কাজের চেয়ে পরীমণি বেশি পরিচিতি পেয়েছেন তার ব্যক্তিগত নানা কর্মকাণ্ডে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তার বিয়ে ও বাগদান। সুদর্শনা এ নায়িকা দুটি বিয়ে করেছেন বলে শোনা যায়। আর একটি বাগদানের গল্প তো কম-বেশি সবারই জানা।
২০১৬ সালের দিকে ফেসবুকে কিছু ছবি ভাইরাল হয়। যেগুলোতে পরীমণিকে এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। শোনা যায়, ওই ব্যক্তির নাম ফেরদৌস কবীর সৌরভ। যিনি একজন ফুটবলার। তার সঙ্গে ২০১২ সালে পরীর বিয়ে হয়েছিল। তাদের বিয়ের কাবিননামার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও ওই বিয়ের কথা অস্বীকার করেছিলেন পরী। এমনকি উল্টো ক্ষেপে গিয়ে লাগামহীন নানা বক্তব্যও দিয়েছিলেন।
২০২০ সালের ১০ মার্চ পরীমণি দ্বিতীয় (তার মতে প্রথম) বিয়ে করেন। বরের নাম কামরুজ্জামান রনি। তিনি একজন সহকারী পরিচালক। মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। নাটকীয় সেই বিয়েতে তারা মাত্র ৩ টাকা কাবিন করেছিলেন। বিয়ের পর পরীমণি বলেছিলেন, কাবিন কোনো বিষয়ই না। পারস্পরিক সম্পর্কটাই আসল। রনিকে বিয়ে করে তিনি উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পরই তাদের সম্পর্কের বিষয়টা আড়াল হতে থাকে। এক পর্যায়ে পরী জানান, তাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। আর বিয়েটাও সিরিয়াসলি করেননি।
এ তো গেল বিয়ের গল্প। এবার আসা যাক পরীর জমকালো বাগদানের ঘটনায়। ২০১৬ সাল থেকেই সাংবাদিক তামিম হাসানের সঙ্গে পরীর প্রেম শুরু হয়। নিজেদের প্রেম তারা দু’জনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করেছেন। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনে তামিমের সঙ্গে পরীর বাগদান সম্পন্ন হয়। তখন তারা বলেছিলেন, পরবর্তী বছরের ভালোবাসা দিবসে বিয়ে করবেন। এরপর তারা একসঙ্গে মালদ্বীপে গিয়ে অবকাশ যাপন করে আসেন। কিন্তু কিছু দিন যেতেই শোনা যায়, তাদের সম্পর্ক ভেঙে গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে পরী বরাবরই বাধাহীন মুক্ত পাখির মতো। নিজের যখন যা ইচ্ছে হয়েছে, তাই করেছেন। সেটা কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো হোক কিংবা বিয়ে। এসব বিষয়ে তিনি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন, সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছেন, কিন্তু গায়ে মাখেননি কিছুই।

প্রথম বিয়ে খালাত ভাইয়ের সঙ্গে
দেশের সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। তার পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি। তার নানারা খুবই গরিব ছিলেন। সেখানে এসএসসি পাসের পর খালাত ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয় পরীমনির।
পরীমনির নানা শামসুল হক গাজী জানান, পরীমনির মায়ের মৃত্যুর পর তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। সে আমাদের বাড়িতে থেকে স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া করে। অত্যন্ত মেধাবী ছিল সে। গরিব হওয়ায় কোনো প্রাইভেট পড়তে পারেননি পরীমনি। তারপরও তিনি ভগিরাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।
তিনি জানান, প্রথমবার ফেল করলেও দ্বিতীয়বার এসএসসি পাশ করে। পরে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হলেও বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। সেখানে ২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদ হয়। স্থানীয়রা জানান, উচ্ছৃঙ্খল জীবনের জন্য খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ও ২০২০ সালে তৃতীয় বিয়ে হয় পরীমনির।

ফাঁস হলো প্রথম বিয়ের কাবিন
ঢালিউডের এই সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত নায়িকা পরীমনি। সিনেমার জগতে পরীমনি আলোচিত হলেও ব্যক্তিজীবন নিয়ে সমালোচনার ঝড়ের মুখে বারবার তাকে পড়তে হচ্ছে। গণমাধ্যমে উঠে এসেছে তার অতীত দাম্পত্যজীবনের অজানা কাহিনী। এ পর্যন্ত ২টি বিয়ের খবর গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এ যাবৎ পাওয়া তথ্য মতে, পরীমনির প্রথম স্বামীর নাম ইসমাইল আর দ্বিতীয় স্বামীর নাম সৌরভ। যদিও গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্মৃতিমনি, যিনি আজকের পরীমনি; তিনি বিয়ের খবরকে মিথ্যাবলে অস্বীকার করেছেন। তবে, ইসমাইল যে পরীমনির প্রথম স্বামী এটা এখন প্রমাণিত সত্য। পরীমনি তার সিনেমার আলোর জগতে প্রবেশ করে প্রথম স্বামীকে অস্বীকার করছে। যে ইসমাইল পরীমনিকে বাঁচতে শিখিয়েছে, জীবনকে জীবন হিসেবে ভাবতে শিখিয়েছে সেই ইসমাইল আজ পরীমনির কাছে অপরিচিত, অচেনা। সিনেমার নায়ক নায়িকাদের ব্যক্তিজীবনের অনেক কালো অধ্যায় থাকে। কিন্তু পরীমনি সে অধ্যায়কে বেমালুম অস্বীকার করে দর্শকের কাছে প্রমাণ করলেন যে, তিনি নায়িকা হতে চান, তিনি সুপারস্টার হতে চান কিন্তু মানুষ হতে চান না, শিল্পী হতে চান না। যে মানুষের মধ্যে নিজের বৈধ স্বামীকে স্বীকার করে নেবার মানসিকতা বা সৎসাহস নেই সে মানুষটির দ্বারা আর যাই হোক শিল্পচর্চা সম্ভব নয়। বিয়ে করেওতো কত নায়ক নায়িকা সিনেমায় সফল হয়েছে। এ সময়ের ছোট ও বড় পর্দায় জনপ্রিয় নায়ক মোশাররফ করিম তার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আর উঠতি নায়িকা পরীমনি সিনেমার ঝলসিত জগতে পা দিয়েই ১০ বছরের জীবনকে বেমালুম ভুলে গেলেন? তিনি যদি অভিনয়কে শিল্প মনে করেন তাহলে কেন ভাবছেন বিয়ের কথা স্বীকার করলে তার বাজারের কাটতি কমে যাবে? তাহলে কী তিনি নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন না যে, তিনি মিডিয়ায় টিকে আছেন শুধু শরীর দিয়ে। বা এ অঙ্গনে টিকে থাকতে তাকে শরীরকেই উপজীব্য করতে হচ্ছে?

কে এই পরীমনি? ইসমাইলই বা কে???
শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি। ৩ বছর বয়সেই তার মা মারা যান। বাবা মনিরুল ইসলাম মেয়েকে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। পরীমনি পিরোজপুরে খালা এবং নানার বাড়িতে বড় হয়। সেখান থেকে পরিচয় ইসমাইলের সাথে। পরী যখন ক্লাশ সিক্সে তখন থেকেই একে অন্যের পরিচয় ও প্রেমের শুরু। নাইনে প্রেম তুঙ্গে। তারপর চলে ৭ বছরের বাঁধভাঙা প্রেম। অত:পর দুজন দুজনকে বিয়ে করতে চায়। মেয়ের মা-বাবা না থাকায় রাজি হয় না ইসমাইলের পরিবার। ইসমাইলের বাবা একটি সরকারি ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার। মা একজন সরকারি চাকুরীজীবী। তারা স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশা করে একটি শিক্ষিত, ভদ্র, রুচিশীল এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে তার ছেলের জন্য বউ হয়ে আসবে। তবে, হালছাড়ার পাত্র নয় ইসমাইল। ৭ বছরের প্রেমতো এভাবে বিলীন হয়ে যেতে পারে না। ইসমাইল তার নিজের পরিবারকে ম্যানেজের জন্য সবধরনের চেষ্টা করে। অবশেষে, অনেক আকুতি মিনতির পর ইসমাইলের পরিবার ছেলের আবেগের মূল্য দেয়।
মা মারা যাওয়া, নিরুদ্দেশ থাকা বাবার মেয়ে পরীমনিকে ভালবাসার বাঁধনে বাঁধে ইসমাইল। ভালবাসায় ভুলিয়ে দেয় পরীমনির কষ্টের শৈশব। জীবনকে জীবনের মতো করে ভাবতে শিখে পরীমনি। আশৈশব দেখা সাদা স্বপ্নগুলো রঙিন স্বপ্নে রূপ নেয়। ইসমাইলও ভালবাসার মানুষটির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে থাকে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার ফি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পরীমনির জন্য। ইসমাইলের পরিবার সে খবর জানার পর বন্ধ করে দেয় তার পড়ালেখা। তারপর ভর্তি হতে হয় ভোলা সরকারি কলেজে। পরীমনিরও পড়ালেখা চালিয়ে নেয় ইসমাইল। বাবার চাকরীর সুবাদে বাস করেন ভোলা শহরে। সাড়ে ৩ বছর বেশ সুখেই কাটে ইসমাইল- পরীমনির খুনসুঁটিময় দাম্পত্যজীবন।
এই সুখের জীবনে কাল হয়ে আসে পরীমনির নানা। এর মধ্যে পরীমনির বাবা মেয়েকে বিয়ের পর দেখতে এসেছিল। তবে তিনি বেশিদিন বাঁচেননি। কোন এক প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন তিনি। নানা শামসুল হক গাজী অভাবী ও খুব লোভী প্রকৃতির মানুষ। নাতি জামাই ইসমাইলের কাছ থেকে প্রায় টাকা নিতেন তিনি। একবার ৫০ হাজার টাকা চাইলে ইসমাইল দিতে অপরাগতা জানায়। তাতেই ক্ষিপ্ত হয় নানা। তারপর নানা বেছে নেন অন্যপথ। নাতির সৌন্দর্য্যকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি বাড়ি গাড়ির মালিক হবার স্বপ্ন দেখেন তিনি। নানাই মিডিয়ার বিভিন্ন পরিচালকদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরীমনিরও ছোটবেলা থেকে নাচ-গান করার ঝোঁক। নানার প্ররোচণায় পরীমনিও পুরোদমে নায়িকা হবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। একের এক চাপ দেয় ইসমাইলকে। ইসমাইল নিজের স্ত্রীকে মিডিয়ায় দিতে রাজি হয় না। আর ইসমাইলের পরিবার শিক্ষিত, রুচিশীল ও ধার্মিক হওয়ায় পুত্রবধূকে বর্তমান অসুস্থ ধারার এই সিনেমার জগতে দেখতে রাজি হয় না। তারপরও পরীমনি ঝামেলা করতে থাকে। দিন দিন দাম্পত্যকলহ বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত পরীমনিকে প্রথমে ঢাকায় তারপর রংপুর. কুয়াকাটা এবং কক্সবাজারে নিয়ে ১ মাস বেড়ায় ইসমাইল। বিভিন্নভাবে পরীমনিকে সিনেমা জগতে ঢোকার ভূত নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সফল হয় না। জীবনের প্রথমবার ঢাকায় যাওয়ার পর সেই ভূত আরও চেপে বসে পরীর মনে। বাধ্য হয়ে ইসমাইল অল্পবিস্তর পরিচিত কয়েকজন নাট্যকারের কাছে পরীমনিকে নিয়ে যায়। বেইলি রোড, নাটক পাড়া ও আজিজ মার্কেটে যোগাযোগ করে। অবশ্য এটা ছিল পরীকে সান্ত্বনা দেয়া। যদিও ইসমাইল জানে সে কখনও তার স্ত্রীকে এই জগতে দিবে না। সে পরীমনিকে বুঝায় যে, ‘আমি এবং আমার পরিবার চাই না তুমি এই জগতে প্রবেশ করো। আমরা সাধারণভাবে বাঁচতে চাই।’


কিন্তু পরীমনির উন্মাতাল মন আর লোভী নানার সহযোগিতায় পরী বিজ্ঞাপনের মডেলিং এর সুযোগ পায়। এইতো শুরু। নানার সাথে ইসমাইলকে রেখে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসে পরী। তারপর মডেলিং শুরু করে। মডেলিং করাবস্থাতেও যোগাযোগ হয় ইসমাইল আর পরীমনির। ইসমাইল তার ভালবাসার মানুষকে ফিরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু পরীমনি রাজি হয় না। উল্টো ইসমাইলকে ঢাকায় চলে আসতে বলে। পরী বলেন, ‘আমার সাথে থাকো। আর আমার মডেলিং এর জন্য হেল্প করো। আমি চাই তুমি আমাকে এই জগতে সাপোর্ট দাও। তুমি আমার পাশে থাকো।’
কিন্তু ইসমাইল এই জগতে নিজের স্ত্রীকে দেখতে চায় না। ইসমাইল নিজেও একসময় মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। পরিবারের সুনামের কথা ভেবে সে ঐ অঙ্গনও ছেড়ে দিয়েছিল। যাহোক, ইসমাইল কোনরকমই রাজি হয় না। তখন পরীমনি শর্ত দিয়ে বলে, ‘হয় আমার সাথে সংসার করবে, না হয় পরিবারের সাথে থাকবে।’ আর অন্যদিকে, ইসমাইলের পরিবার শর্ত দেয়, ‘হয় তুমি মডেলিং করা বউ নিয়ে থাকবে, না হয় আমাদের সাথে থাকবে। স্মৃতি যদি ঐ উচ্ছশৃঙ্খল জগত থেকে ফিরে না আসে তাহলে তাকে আমরা মেনে নিব না। আর তুমি ওর সাথে ঘর করলে তোমাকেও ত্যাজ্য করবো। কারন, এসব জগতের মেয়েরা আমাদের পরিবারের সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
ইসমাইল উভয় সংকটে পড়ে যায়। কাকে ছেড়ে কাকে রাখবে। এদিকে, পরীমনি মিডিয়া জগতে একের পর এক কাজ পেতে শুরু করেছে। প্রথমত স্বামী ইসমাইলকে তার পাশে চাইলেও এখন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী জুটে যাওয়ায় পরীমনি ডিভোর্স চায়। অবেশেষে ২০১২ সালে ইসমাইল ও পরীমনি উভয়ই মিউচুয়াল ডিভোর্সে যায়।
এই হল পরীমনির প্রথম স্বামী ইসমাইলের কাহিনী। ইসমাইলকে ছাড়ার পর পরীমনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছে যশোরের ছেলে সৌরভকে- এরকম সংবাদ পত্রিকাতে প্রকাশ হয়েছে। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে কোন তথ্য এই প্রতিবেদকের জানা নেই। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়নি।

ইসমাইল-পরীমনির বিয়ের দালিলিক প্রমাণ—
ইসমাইল ও পরীর বিয়ের খবর প্রথমে বন্ধু অনিক আব্রাহামের ফেসবুকে এবং পরে গণমাধ্যমে প্রচার হলে এ বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরীর বিয়ের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ একটি সাক্ষাতকার প্রকাশ করে। সেই সাক্ষাতকারে এক প্রশ্নের জবাবে বিয়ে করেননি বলে দাবি করেন পরীমনি।
‘‘প্রশ্ন: বিয়ের ব্যাপারে যে কথা উঠছে?
উত্তর: বিয়ে যদি হতো, আমি তো বলেই দিতাম। বিয়ে হলে আমার কী এমন ক্ষতি হতো। বিয়েতে তো সমস্যার কোনো কিছুই দেখছি না।’’
পাঠক, পরীমনি দাবি করছে তার কোন বিয়ে হয়নি। ইসমাইল তার স্বামী নয়। আসুন এবার বিয়ের প্রমাণ তুলে ধরি— (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং)
১. ইসমাইল ও পরীমনির বিয়ের কাজি ছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ভগীরথপুরের কাজি আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘আমি ইসমাইল আর পরীমনির বিয়ের কাজী ছিলাম। ইসমাইল ও পরীমনি ২৪.৪.২০০৯ ইং তারিখে সালে বিয়ে করেন। আমিই সে বিয়ে পড়াই। আর ২০.৪.২০১২ সালে আমার হাত দিয়েই ডিভোর্স হয়।’
বিয়ের কাবিননামা নিচের (১ নং) ছবিতে দেখুন। বিয়ের তালাকনামা (২ নং) ছবিতে।
নিকাহনামা ফরম নাম্বার- ১৬০১, বিয়ের রেজিস্ট্রি তারিখ: ২৪.৪.০৯ ইং, দেনমোহর: ৫ লক্ষ টাকা মাত্র। বিবাহের সাক্ষী: ১. মো. কবির হোসেন, পিতা: আ: হাশেম, ঠিকানা: ভগীরথপুর, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। ২. মো. এনামুল কবীর, পিতা: আ: রাজ্জাক, ঠিকানা: ভগীরথপুর, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। তালাকের তারিখ: ২০.৪.১২, তালাকের রেজিস্ট্রি তারিখ: ১.৮.১২। সাক্ষী: আবুল হাশেম ও কাওছার গাজী। ঠিকানা: সিংহখালী, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর।
২. এবার, পরীমনির বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখুন— তিনি ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সোমবার সকালে প্রথম আলোতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ইসমাইল তার এলাকার এবং খুব কাছের। এই লোকটি আমার আত্মীয়ও না, বন্ধুও না। সে আমার পরিচিত। পরিচিত মানুষের সঙ্গে আমি কি ছবি তুলতে পারি না! কার মনে কী উদ্দেশ্য, তা তো আর আমি জানি না। নিশ্চয় কেউ এই বিষয়টাতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তা না হলে হঠাৎ করে অনেক আগের তোলা এই ছবিগুলোকে কেন সামনে নিয়ে আসা হলো!
এই ‘ইসমাইল’-এর সঙ্গে তাহলে বিয়ে হয়নি? এরকম প্রশ্নের জবাবে পরীমনি জানান, ‘পরিচয় থাকা মানে তো আর স্বামী না। তিনি এলাকার খুব কাছের। তার মানে তো এই না যে তাঁর সঙ্গে আমার প্রেম ছিল, সম্পর্ক ছিল আর বিয়েও হয়েছে! তাঁর কিন্তু সংসার আছে, বউ আছে।’
পাঠক, লক্ষ্য করুন, প্রথম আলোতে দেয়া সাক্ষাৎকারে পরীমনি স্বীকার করলেন ইসমাইল পরিচিত এবং তার সাথে ছবি তুলেছেন পরীমনি। এমনকি ইসমাইলকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন তিনি। এবং পরীমনি এও জানেন যে, ইসমাইল বিয়ে করেছেন, তার বউ আছে। (পাঠক, পরীমনির সাথে ডিভোর্সের পর ইসমাইল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবরও পরীমনি জানেন।) (০১ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো)
পাঠক এবার আসুন দেখে নেই, প্রিয়.কম অনলাইন পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাতকারে পরীমনি কী বলেছেন, ‘‘তার ফেসবুক আইডিতে ছবিগুলো পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে পরী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এটা ফেইক। বিয়ের আসরে বসে থাকলে সেটা বিয়ে কিনা যাচাই করা উচিৎ। ছবি তো হাজার জনের সঙ্গে আছে। তার মানে এই নয় যে সবাই আমার স্বামী।’ তাহলে এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে অনিক বা ইসমাইলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে পরী বলেন, ‘তাদেরকে তো আগে আমার চিনতে হবে তারপর ব্যবস্থা। আর ঘাড়ের উপর পড়লে তো ছেড়ে দেবো না কাউকে। এটা মিথ্যা এটুকু নিশ্চিত থাকেন।’’’
ৃকী বুঝা গেল? প্রথম আলোকে বললেন তিনি ইসমাইলকে চিনেন। এলাকার খুব কাছের লোক। পরীমনি এও জানেন যে, ইসমাইল বিবাহিত। খুব কাছের লোক না হলেতো জানার কথা নয় সেটাই স্বাভাবিক। পরী সে সাক্ষাতকারে এও স্বীকার করেছেন যে তিনি ইসমাইলের সাথে ছবি তুলেছেন। পরিচিত বিধায় ছবি তুলেছেন। আর, প্রিয়.কমকে পরী ইসমাইলের ব্যাপারে কী বললেন? ‘‘তাহলে এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে অনিক বা ইসমাইলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে পরী বলেন, ‘তাদেরকে তো আগে আমার চিনতে হবে তারপর ব্যবস্থা।’’ অর্থাৎ, প্রিয়.কমকে বললেন, ইসমাইল এবং ইসমাইলের বন্ধু অনিককে তিনি চিনেনই না।
পাঠক, প্রশ্ন জাগে নাৃ তাহলে পরীমনির কোন কথাটি সত্য?
পরীমনি প্রথম আলোর একই সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইসমাইলের সাথে ছবি তুলেছেন কিন্তু বিয়ে করেননি। আর সেই সাক্ষাতকারের শেষে গিয়ে বলেছেন ছবি ফটোশপে করা। এসব ছবি তার নয়। অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, ‘মিথ্যাবাদী একেক সময় একেক কথা বলেন। অসংলগ্ন কথা বলেন।’ পরীর ক্ষেত্রে কী তাই প্রমাণ হলো না?
পাঠক, প্রথমত, আপনারা বিয়ের কাবিননামা দেখলেন। তালাকনামাও দেখলেন। যদিও পরীমনির দাবি কাবিননামা ফটোশপে করা যায়। কিন্তু যে কাজি বিয়ে করিয়েছে তার বক্তব্য এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে সে বক্তব্য কিভাবে মিথ্যা প্রমাণ করবে পরীমনি?
দ্বিতীয়ত, পরীমনির সাক্ষাতকারই প্রমাণ করে যে, পরীমনির বক্তব্য মিথ্যা ও অসংলগ্ন।
তৃতীয়ত, পরীমনির ছবি। ২ নম্বর ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন। পরীমনির মেকাপ ছাড়া একটি বেডরুমে তোলা ছবি। পরীর পিছনে দেয়ালের দিকে তাকান। দেখবেন দেয়ালে ইসমাইল ও পরীর যুগল ছবি টাঙানো। তারা স্বামী স্ত্রী না হলে একজন অপরিচিত মানুষের বেডরুমে এরকম যুগল ফ্রেমে বন্দী কোন ছবি থাকে? আর পরী যেখানে ছবি তুলেছে সেটা যে ইসমাইলের বেডরুম তা দেয়ালে টাঙানো ছবি আর বেডরুমের আসবাবপত্রগুলো মিলালেই পরিষ্কার হওয়া যায়। প্রশ্ন হলো, পরী শুধু এলাকার পরিচিত একজন মানুষের বাসার বেডরুমে এরকম পোশাকে ছবি তুললেন কিভাবে? স্বামী- স্ত্রী না হলে কী এরকম ছবি তোলা সম্ভব? তখনতো তিনি শোবিজের মানুষ ছিলেন না যে এসব ছবি তার জন্য স্বাভাবিক? আর কোন নায়িকা কোনদিন মেকাপ ছাড়া কী ফটোসেশন করে বা ছবি তোলে? স্বামীর কাছে ছাড়া? তাহলে প্রমাণ হয় যে, এ ছবিটি ইসমাইল ও পরীর দাম্পত্যজীবনের একটি বিশেষ মুহূর্তে তোলা ছবি।
আরও কিছু ছবি নিচে পাঠকদের জন্য দেয়া হয়েছে। এ ছবিগুলো ইসমাইল আর পরীমনির।


পরীমনি নিশ্চয় বলবেন না যে, এসব ছবি নায়িকা হওয়ার আগের ছবি। তাহলে নায়িকা হওয়ার আগে পরী কী এতোই অশ্লীল বা চরিত্রহীন মেয়ে ছিল যে অন্য এক পুরুষের সাথে এরকম অন্তরঙ্গ ছবি তুলেছেন? ছবির এই পুরুষটি যদি স্বামী না হয় তাহলে পরীর সম্পর্কে সাধারণ পাঠক বা দর্শকের কী ধারণা জন্মাবে? একজন চরিত্রহীন নারী কোনদিন কোন দর্শকের প্রিয় মানুষ বা প্রিয় চরিত্র হয়ে উঠতে পারে? আর এসব নারী বা নায়িকা কী করে বাংলাদেশের সিনেমা জগতকে পরিশীলিত, সুস্থ ও মননশীল এবং রুচিশীল ছবি উপহার দিবে। যে মেয়েটি বিয়ে ছাড়াই (পরীর মিথ্যাচার অনুযায়ি) একটি পুরুষের সাথে দিনের পর দিন অন্তরঙ্গভাবে মিলামিশা করেছে। এসব প্রশ্নের কী উত্তর আছে পরীর কাছে? পরী সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘‘(ইসমাইলসহ যারা সত্য প্রকাশ করেছে) এদের আমি হাজতে ভরবই। থানার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার পর পিঠের ওপর যখন দুইটা পড়বে, তখন সবকিছু গড়গড় করে বের হয়ে যাবে।’’ শিল্প-সংস্কৃতির সাথে জড়িত কোন আর্টিস্ট, কোন শিক্ষিত- মার্যিত আর্টিস্ট বা ন্যূনতম মনন ও সভ্যতা জানা মানুষ এরকম অস্ত্রের ভাষায় মিডিয়ার সামনে কথা বলতে পারে? পরীর সম্পর্কে তার দর্শকদের কী চিন্তা হওয়া উচিৎ?
এ বিষয়ে কথা হয় পরীমনির প্রথম স্বামী ইসমাইলের সাথে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওটা আমার অতীত। আমি আর অতীত নিয়ে ঘাটতে চাই না। ৭ বছরের প্রেমিকাকে বিয়ে করে ৪ বছর সংসার করেছিলাম। সে যে জীবনের হাতছানিতে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি চাই সে, সে জীবনে সাইন করুক। ও (পরীমনি) সুখী হোক। আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠুক। ওর ইচ্ছা পূরণ হোক। আমি আমার কষ্ট বুকে চেপে রাখতে চাই। আমার পরিবার এসব পছন্দ করে না। ওসব অতীত আমাদের পরিবারের জন্য ঝামেলার। ওর (পরীমনির) বিষয়ে আমি আর ভাবতে চাই না। যে গেছে সে একেবারেই গেছে। ও যে কারনে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে সে কারনে ও সফল হোক। এটাই দোয়া করি। তবে কষ্টের জায়গাটা হলো, স্মৃতিমনি আজকের পরীমনি নিজের ৪ বছরের বৈধ স্বামীকে স্বীকার করতে ভয় পায়? আমাদেরতো ডিভোর্স হয়ে গেছে। এখনতো আমি তারউপর কোন অধিকার খাটাবো না। তাহলে কেন এই মিথ্যাচার? যদিও আমি চাই না, মিডিয়া এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করুক।’’
পাঠক, পরীমনি বাংলাদেশের আলোচিত নায়িকা। পরীমনি তার সিনেমার জগতে উত্তরোত্তর জনপ্রিয় হয়ে উঠুক, বাজারে তার কাটতি বাড়ুক, তার ইচ্ছাপূরণ হোক- এটা নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নাই। আমাদের ‘আলো অন্ধকার’ পেইজটি শুধু সত্যটা তুলে ধরতে চায়। কারন সমাজের আর যেসব মেয়েরা পরীমনির মতো সিনেমার জগতে নাম লেখাতে ভালবাসা, স্বামী ও সংসারকে ত্যাগ করার কথা ভাবছেন, তাদেরকে সচেতন করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা নায়িকা পরীমনির অতীতটা তুলে ধরছি, যাতে পরীমনির মত চিন্তা পোষণকারী মেয়েরা সে চিন্তা থেকে সরে আসতে পারে। হাজারও ইসমাইলের ভালবাসা যেন অন্যকোন পরীমনির কারনে নষ্ট হয়ে না যায়- এ সত্য ঘটনা উদঘাটনে এটাই আমাদের একমাত্র প্রয়াস। পরীমনির পেশাগত ক্যারিয়ার নষ্ট বা ইমেজ নষ্ট করা মোটেও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। অবক্ষয়িত সমাজকে সচেতন করে তোলাই একমাত্র উদ্দেশ্য।

একনজরে পরীমনির যত বিয়ে ও অনৈতিক সম্পর্ক
ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনি এখন দেশের বেশি আলোচিত-সমালোচিত নাম। অবৈধ মাদকদ্রব্য রাখা, পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি।
পরীমনির প্রকৃত নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলায় জন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন পরী। মেধাবী ছাত্রী ছিলেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছিলেন। তবে সিনে জগতের প্রবেশের আগে পরে তার একাধিক বিয়ে ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা শোনা যায়।
২০০৭ সালের দিকে পরীমনির মা আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি অনেকটা রহস্যাবৃত। এরপর বাবার সঙ্গে সাভারে বসবাস শুরু করেন পরীমনি। মাঝে মাঝে বরিশালে নানা বাড়ি গিয়ে থাকতেন। সেখানে মাসুদ নামের দূর-সম্পর্কের এক আত্মীয়ের সঙ্গে প্রেম ও পরে বিয়ে হয়। একদিন নানা বাড়ি থেকে মাসুদের সঙ্গে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। ১ মাস পর আবারও বরিশালে ফিরে আসেন। এরপর বিচ্ছেদ হয় মাসুদের সঙ্গে। ২০১১ সালের দিকে বাবার সঙ্গে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকায় বসবাস শুরু করেন পরীমনি। এ সময় সাভার কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে নিয়মিত ক্লাস করতেন না। ২০১২ সালের শুরুর দিকে সিলেটে তার বাবার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় বলে পরীমনির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়। ধারণা করা হয়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ তাকে খুন করে। এরপর থেকে পরী সাভারে তার এক খালার বাসায় থাকতে শুরু করেন। এরপর ২০১১ সাল থেকে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হন। নাচ করতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এভাবে সুযোগ পান টিভি নাটকে অভিনয়ের। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’, ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’ নামের নাটকে দেখা গেছে তাকে। এরপর ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’ নামে একটি নাটকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ২০১৪ সালের দিকে তার সঙ্গে পরিচয় হয় কথিত প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের। রাজই তাকে সিনেমায় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। এরপর থেকে রাজের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে সিনেমায় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় পরীর।
ওই সময় নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেন পরী। কিন্তু ছবিটির মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর রাজই প্রযোজক হয়ে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় নির্মাণ করেন ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ নামের একটি ছবি। ছবিতে নায়ক ছিলেন জায়েদ খান। এটিই পরীর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি। সে সময়ই সিনেমাপাড়ায় তাকে নিয়ে ঘটে যায় হুলুস্থুল কাণ্ড। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই ১৯টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন পরী। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বেপরোয়া জীবন। নজরুলের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। সেখানে প্রভাবশালীদের যাতায়াত ছিল।
অভিনয় জীবন ছাড়া ব্যক্তিজীবন নিয়েও বিতর্কিত এ নায়িকা। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় পরীমনির সঙ্গে দুজনের বিয়ের খবর। এমনকি বিয়ের ছবি, কাবিননামা ও তালাকনামার ছবিও প্রকাশ পায় ফেসবুকে। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সকালে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কিছু ছবি শেয়ার দিয়ে দাবি করা হয়, পরীমনি ইসমাইল নামের একজনের স্ত্রী।
কিছুদিন পরেই ফেসবুকে পাওয়া যায় সৌরভ কবীর নামের আরও একজনের সঙ্গে তার বিয়ের কাবিননামা এবং কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি। ছবিতে অভিষেক হওয়ার ঠিক আগের দুই বছর অর্থাৎ নাটকে অভিনয় করার সময় সেতু নামের এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তারা দুই বছর সংসারও করেছিলেন।
২০১৭ সালে তামিম হাসান নামের এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানা যায়। বাগদানও হয়েছিল। তামিমকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন দেশে ঘুরতেও গিয়েছেন পরী। দুই বছর প্রেমের পর ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। সর্বশেষ অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনার দিনও তার সঙ্গে তামিমের উপস্থিতি দেখা গেছে।
এরপর ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে অভিনেত্রী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজি ডেকে তার সহকারী কামরুজ্জামান রনিকে মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। কিন্তু সে বিয়েও ৫ মাসের মাথায় ভেঙে যায়।
এছাড়া ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় পলাতক আসামি বিতর্কিত ব্যবসায়ী চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আজিজ তাকে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া ছবিতে অভিনয় করা কালেই তার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন পরী তার ছত্রছায়ায় ছিলেন। বিভিন্ন কারণে সেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। তবে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কিছু শিল্পপতির সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠে।