Saturday, January 22, 2022
Home Blog

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

0

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু

আকাশ বাবু:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী ও মক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ। ২০০৬ সালের ১৭ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়, ঢাকার বিআইডাব্লিউটি এ ভবনে ১৯৯১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রি জননেত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন একান্ত সহকারী জেবুন্নাহার মতিন এর সভাপতিত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ এর সমন্বয়ে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটির মেয়াদ শেষে গত ১৬ অক্টোবর ২০২১ ঢাকার মোহাম্মদপুর প্রিন্স বাজার রেস্টুরেন্টে নবগঠিত কমিটির অভিষেক ও কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি পদে বগুড়ার কৃতি সন্তান জননেতা আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক পদে কিশোরগঞ্জের তৃণমূলের কর্মীবান্ধব প্রয়াত সৎ, জনপ্রিয় নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্নেহধন্য এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু সার্চ কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়। সিনিয়ির সহ সভাপতি এস এম জয়নাল আবেদীন, সহ সভাপতি এমদাদুল হাসান তালুকদার বাবুল, আবু বক্কর সিদ্দীক, শেখ সেলিম কবির, নূর হোসেন, মো: সোহরাব উদ্দীন, সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক খান জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ আর মন্ডল রানা, মো: সাইফুল ইসলাম, প্রধান সাংগঠনিক সম্পাদক জানে আলম রাজন, দপ্তর সম্পাদক এড. সানাউল হক, অর্থ সম্পাদক মো: খালেকুজ্জামান, আইন সম্পাদক ডিএজি এড. কোহিনুর আক্তার লাকীসহ ২০১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের নবগঠিত কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, “ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংরক্ষণের সহযোগী শক্তি হিসেবে সকল ধর্ম বর্ণ গোত্রের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রদায়িক স¤প্রীতি রক্ষাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের সফলতা জনগণকে অবহিত করানোসহ সৎ যোগ্য আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তোলাই বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের মূল আর্দশ উদ্দেশ্য। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাব ।”

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

0

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

0



আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিবাহিত জীবনের দীর্ঘ ৫৭টি বছর সুখে-দুখে, রাজনৈতিক দুঃসময় ও দুর্বিপাকে একসাথে কাটিয়ে এসেছেন জীবনের অধিকাংশ সময়। এরমধ্যে তারা হয়েছেন তিনপুত্র ও এক কন্যার গর্বিত জনক-জননী। মাঠের রাজনীতি করতে গিয়ে আজকের রাষ্ট্রপতি কখনোই ঘর-সংসার কিংবা স্ত্রী-পুত্রের খবর রাখতে পারেননি অথবা একান্ত প্রয়োজনেও পরিবারের সদস্যদের সময় দিতে পারেননি। তিনি সব-সময় থেকেছেন গণমানুষের সাথে। মানুষই যেন তার কাছে সব, মানুষের ঘরই যেন তার ঘর, তার সংসার।

প্রতিটি পুরুষের সাফল্যের পেছনে অধ্যবসায়, কর্মনিষ্ঠা ও একাগ্রতা যেমন থাকতে হয়, তেমনি আড়ালে থাকতে হয় একজন প্রেরণাময়ী নারী। কাজী নজরুল ইসলাম যেমনটি বলেছেন, ‘কোনকালে একা হয়নি তো জয়ী পুরুষের তরবারি/ সাহস দিয়েছে প্রেরণা দিয়েছে বিজয়ালক্ষ্মী নারী’।

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত উপজেলা মিঠামইনের প্রত্যন্ত গ্রাম কামালপুর থেকে উঠে আসা একজন আবদুল হামিদের সাফল্যের ক্ষেত্রেও আড়াল থেকে তাকে সুন্দরের অভিযাত্রায় এগিয়ে নিয়েছেন তেমনি একজন অসম্ভব মমতাময়ী প্রেরণাদাত্রী নারী, যার নাম বেগম রাশিদা হামিদ।

আজকের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ রাশিদা খানমের প্রেরণা ও সহযোগিতাই এই জননেতাকে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে বলে স্বয়ং আবদুল হামিদও অকপটে স্বীকার করেন।

হাওরের প্রবেশদ্বার করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে রাশিদা খানম। পরিবারের তীব্র বাধা পেরিয়ে ১৯৬৪ সালে ওই হাওর-তরুণের মন কেড়ে নেন রাশিদা খানম। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে শক্তি আর সাহস জোগাতে নেপথ্য থেকে অনুপ্রেরণা দিতে থাকেন এই মহিয়সী নারী।

সেই থেকে গল্পের শুরু। গ্রামের একজন সাধারণ ঘরের অতি সাধারণ তরুণী হয়েও নিজের শ্রম-মেধা আর মননের মিথস্ক্রিয়ায় একজন ভালবাসার মানুষকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন রাশিদা খানম। রাজনীতির মাঠে তদানীন্তন স্বৈর-শাসক আইয়ূব খানের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনকে বেগবান করতে গিয়ে যে মানুষটি সেই তরুণ বয়সেই ঘর ছেড়ে বহির্মুখী বোহেমিয়ান জীবন বেছে নিয়েছিলেন, ছন্নছাড়া সেই মানুষটিকে ভালবেসে তার মঙ্গলের জন্য যিনি দিন-রাত শ্রম, মেধা আর মননকে বিনিয়োগ করেছেন, তিনিই এ দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের প্রাণপ্রিয় সহধর্মিনী বেগম রাশিদা হামিদ।

জনমানুষের সাথে মিশতে গিয়ে আবদুল হামিদ ভুলে যেতেন নিজের ঘরের কথা, সংসারের কথা, এমনকি স্ত্রী-পুত্রের কথাও। এসব নিয়ে কোনদিনও অনুযোগ কিংবা অভিমান প্রকাশ করেননি স্ত্রী রাশিদা খানম। সব দুঃখ, নৈরাশ্য ও বঞ্চনাকে মেনে নিয়ে তিনি আবদুল হামিদের পাশে অনেকটা নেপথ্য অভিভাবকের মতোই দায়িত্ব পালন করেছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুল হালিম খানের চার ছেলে আর দুই মেয়ের মধ্যে রাশিদা সবার বড়। বাড়ির পাশের মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর ১৯৬৩ সালে এসভি সরকারি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজে ভর্তি হন। এ সময় পরিচয় হয় কামালপুরের সেই সম্ভাবনাময় তরুণ গুরুদয়াল কলেজ ছাত্র সংসদের তৎকালীন জিএস মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেম। তারপর বিয়ে। এইচএসসি পাস করার আগেই আবদুল হামিদের সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি।

তবে তাদের বিয়েটা এত সহজ ছিল না। রাজনীতি করা বোহেমিয়ান ছেলের সঙ্গে কিছুতেই বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না তার মামা-খালারা। কিন্তু আবদুল হামিদ আর রাশিদার মন যে সবার অন্তরালে বাঁধা পড়ে গেছে একে অন্যের প্রেমের বন্ধনে। এ বন্ধন ছিন্ন করার ক্ষমতা কারোরই নেই। তাদের অকৃত্রিম প্রেমের বন্ধন ছিন্ন করার জন্য রাশিদার পরিবার থেকে অনেক চেষ্টা ছিল বটে, কিন্তু তরুণী রাশিদার প্রেমের প্রগাঢ়তার কাছে পরিবারের সব চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায়। তাই এক সময় উভয় পরিবারের সম্মতির মধ্য দিয়ে এই প্রেমিকযুগলের অবিচ্ছিন্ন প্রেম সামাজিকভাবে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।

প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে তারা হয়ে ওঠেন আদর্শ স্বামী-স্ত্রী। রাশিদার মাতামহ সেই সময়কার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য মাওলানা সাইদুর রহমানের হস্তক্ষেপে ও মধ্যস্থতায় ১৯৬৪ সালে ৪ অক্টোবর এই প্রেমিকযুগল বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। সময়ের হিসেবে আজ তাদের ৫৫তম বিয়ে বার্ষিকী।

রাশিদা হামিদ বলেন, এসএসসি পাস করার পর বিয়ে! মামা বিয়ের বিষয়ে মত বদলে ফেলতে পারেন। এজন্য তাড়াহুড়ো করে বিয়ে হয়ে যায়। স্বামী রাজনীতি করেন। কিশোরগঞ্জে একটি ছোট বাসায় থাকতাম। গ্রামের বাড়ি থেকে ছোট ছোট অনেক দেবর আর ভাগ্নে বাসায় থেকে লেখাপড়া করে। তাদের কেউ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, কেউবা ষষ্ঠ শ্রেণিতে। সারাদিন বাসায় লোকজন লেগেই থাকত। তাদের চা-নাশতা দেয়া, পরিবারের লোকজনের জন্য রান্না, খাওয়ানো সব আমাকে সামলাতে হতো।‘বিয়ের পর হঠাৎ করে এমন অবস্থায় পড়লাম, কোনো অবসর ছিল না। নিজের দিকে খেয়াল রাখার সুযোগ ছিল না। টানাপোড়েনের সংসার। দিনেদিনে সংসার বড় হতে থাকে। ছন্দপতন ঘটে নিজের লেখাপড়ায়। তারপরও হতোদ্যম না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকি। গভীর রাতে একটু একটু করে পড়ি। এভাবে এইচএসসি পাস করি। স্বামী আর বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজের জীবন নিয়ে কোনো চিন্তার সুযোগ পাইনি। তবে আমার স্বামী মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি অতিশয় সহজিয়া ও সৎ রাজনীতিক। এজন্য একদিন সে ভালো করবে- এমন বিশ্বাস ছিল আমার’- এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় এমনটিই বলছিলেন, দেশের টানা দু’বারের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা হামিদ।

স্বামীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জেল-জুলুম, হুলিয়া আর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাশিদা হামিদ বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র শিক্ষা আন্দোলন, ছয়দফা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, সর্বোপরি ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন আর একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধের সময় মিঠামইনে গ্রামে গ্রামে পালিয়ে বেড়াতে হয় রাশিদাকে। ডাকাতরা কেড়ে নেয় সবকিছু।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সন্তানদের মুখে সময়মতো খাবার তুলে দিতে পারেননি। মেলেনি প্রয়োজনীয় কাপড়। তবে থামেনি তার জীবন-সংগ্রাম। আবদুল হামিদকে রাজনীতির কারণে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৬ সালে গ্রেফতার করা হয় আবদুল হামিদকে। দুই বছর পর তাকে জেল থেকে বের করে আনেন রাশিদা হামিদ।

রাশিদা হামিদের ছোট ভাই আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. আ. ন. ম. নৌশাদ খান বলেন, ধৈর্য আর সহিষ্ণুতার চরম পরীক্ষা দিয়ে আমার বোন রাশিদা আপা এদেশের হাজারো নারীর আইডলে পরিণত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কঠিন পরিস্থিতিতে অবিচল থেকে স্বামীকে পেছনে থেকে প্রেরণা দিয়ে মর্যাদার আসনে তুলে এনেছেন তিনি। আপার জন্য আমাদেরও গর্বে বুক ভরে যায়।

রাষ্ট্রপতির ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবদুল হক নুরু বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনাবাহিনী বড় ভাই আবদুল হামিদকে কিশোরগঞ্জের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। সেই সময়কার তাঁর শিক্ষক গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াসীম উদ্দীন আহম্মদকে দিয়ে রাতে আবদুল হামিদকে বাসা থেকে ডেকে বের করা হয়। সকালে ভাবী রাশিদা হামিদ জানতে পারেন, তার স্বামীকে আর্মিরা ধরে নিয়ে গেছে। কিশোরগঞ্জ জেল থেকে তাকে পাঠানো হয় ময়মনসিংহ কারাগারে। পরে আবদুল হামিদকে নেয়া হয় রাজশাহী ও কুষ্টিয়া কারাগারে।

কুষ্টিয়া কারাগারে থাকার সময় এক পর্যায়ে আবদুল হামিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই সময় ভাবী রাশিদা খানম স্বামীকে দেখতে ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন কারাগারে। একদিকে পরিবার আরেক দিকে সংসার। দুই দিকই সামলাতে হয় তাকে। হাসপাতালে ভর্তির পর রাশিদা হামিদ আদালতে রিট করেন।

রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠপুত্র বর্তমান সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মতোই আমার মা মানুষের পাশে থেকে সারাজীবন পরিবার, এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের সেবা করেছেন। মমতাময়ী একজন মায়ের যে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার আমার মায়ের মধ্যে তা পরিপূর্ণভাবেই রয়েছে। তখন আমি ছোট হলেও মায়ের সেই স্নেহপূর্ণ স্মৃতির কথা আজও জ্বলজ্বল করে। আব্বার কারাবাসকালীন চরম দুর্দিনেও তিনি আমাদেরকে বাবার অভাব বুঝতে দেননি। সেই মায়ের সন্তান হতে পেরে আমি নিজেও গর্ববোধ করি। প্রকৃত মায়ের আদর দিয়ে তিনি আমাদের এতগুলো ভাই-বোনকে বড় করেছেন। তিনি একজন মহান শিক্ষক। তার কাছ থেকে আমরা জীবনের পাঠ নিয়েছি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তখন ১৯৮১ সাল। দেশের রাষ্ট্রপতি সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান। তার পিএস ছিলেন রাশিদা হামিদের মামা কর্নেল এ ওয়াই এম মাহফুজুর রহমান। তাকে দিয়ে আবদুল হামিদ ও রাশিদা হামিদকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ডেকে পাঠান জিয়াউর রহমান। তাকে প্রস্তাব দেয়া হয় আওয়ামী লীগ বাদ দিয়ে তার মন্ত্রিপরিষদে যোগ দিতে। কিন্তু রাশিদা হামিদ ও তার স্বামী আবদুল হামিদ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এজন্য অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয় তাদের।
রাষ্ট্রপতির কণিষ্ঠপুত্র রাসেল আহমেদ তুহিন বলেন, আম্মা আমাদের পরিবারের সকল সদস্যদের কাছে আদর্শের জীবন্ত প্রতীক। আব্বা রাজনীতির বাইরে পরিবারের খোঁজ নিতে পারতেন না। সবকিছু সামলাতে হয়েছে আম্মাকে। আম্মার কাছে থেকে শুনেছি, পঁচাত্তরে জাতির জনককে হত্যার পর গোটা পরিবারকে কঠিন সময় পার করতে হয়।

পরিবারের উপার্জনক্ষম কেউ ছিল না। চরম অবস্থায় বাধ্য হয়ে ভরণ-পোষণের জন্য আম্মা পরিবারের সবাইকে নিয়ে আশুগঞ্জে মামার বাসায় চলে আসেন। আমরা ছয় মাস সেখানে ছিলাম। আব্বা জেলে থাকার সময় ১৫ দিন পরপর আম্মা আমাদের নিয়ে আব্বাকে দেখতে যেতেন। আইনি বিষয়গুলো নিজেই খোজঁ-খবর নিতেন।

আব্বাকে রাজশাহী জেলে নেয়ার পর আম্মার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন সময় গেছে টাকার অভাবে আমাদের একমাত্র ছোট বোনটি অসুস্থ হয়ে পড়লেও তার চিকিৎসা করাতে পারেননি। তারপরও আম্মা কোনো কিছুর বিনিময়ে কোনো আপস করেননি। অবিচল থেকে আব্বাকে সাহস জোগাতেন।

কুষ্টিয়া জেল থেকে আব্বাকে অসুস্থ অবস্থায় পিজি হাসপাতালে ভর্তি করার পর আম্মা হাইকোর্টে রিট করেন। সেই সময়কার প্রধান বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে দেখা করে বিনাবিচারে আটক করে রাখা আব্বার মুক্তির জন্য তার সহযোগিতা চান।
মাকে নিয়ে গর্বিত তিন ছেলে এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, রাসেল আহমেদ তুহিন ও রিয়াদ আহমেদ তুষার এবং একমাত্র মেয়ে স্বর্ণা হামিদ। তারা জানান, প্রচণ্ড অভাব-অনটনের মধ্যেও কোনোকিছু অপূর্ণ রাখেননি তাদের প্রিয় আম্মাজান। আবদুল হামিদের মতোই সাধারণ ও সহজিয়া জীবনে অভ্যস্ত বেগম রাশিদা হামিদ। আবদুল হামিদ স্পিকার হওয়ার আগ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ শহরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সান রাইজ কিন্ডারগার্টেন নামক একটি স্কুল। সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন রাশিদা হামিদ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন রাশিদা হামিদ। বর্তমানে রাশিদা হামিদ বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত আবদুল হালিম খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। তিনি একজন শিক্ষানুরাগী। প্রতি বছর এ ফাউন্ডেশন কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুদান প্রদান করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। তার পরিবারের সদস্যরা এটি পরিচালনা করে থাকেন।

আবদুল হালিম খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু জানান, রাশিদা আপা একজন আদর্শ নারী। তার মতো মহিয়সী নারীকে পেয়ে ফাউন্ডেশনের সবাই গর্বিত ও আনন্দিত। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সব প্রয়োজনে ছুটে আসেন ফাউন্ডেশন ও কলেজের নানা কাজে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে তিনি সবার খোঁজ-খবর নেন। তিনি আমদের আদর্শ ও নীতিবান হতে শিখিয়েছেন।

এলাকার সবার প্রিয় আপা রাশিদা হামিদ বলেন, স্বামী আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদে সাতবার এমপি হয়েছেন। সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার, স্পিকার, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও পরপর দু’বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। কারণ আমাদের প্রেমের বিয়েতে পরিবারের কোনো কোনো সদস্যদের বিরোধীতা ছিল। পরে তারা সবাই আমাদের দু’জনার সম্পর্কের গভীরতা উপলব্ধি করে শেষ পর্যন্ত আমাদের বিয়েটা মেনে নেন।

সেই থেকে দু’জন একসাথে, একপথে দীর্ঘ ৫৫টি বছর পার করে এসেছি। স্বামীর সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে যতটুকু পেরেছি স্বামীকে শক্তি-সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছি। বঙ্গভবনে থাকলেও আমার মন পড়ে থাকে গ্রামে। গ্রামীণ পরিবেশের সেই কোলাহল, সাধারণ মানুষজনের আন্তরিকতা ও শিশুদের মুখরতা আমাকে আজও টানে। আমি মনে করি সততা-ত্যাগ, জনসম্পৃক্ততা আর মানুষের ভালোবাসাই আবদুল হামিদকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, তিনি এখনও সেই আগের মতোই আছেন। সংসার জীবন শুরু করেছিলাম এক কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। তখন রাত দেড়টা-দুটার আগে ঘুমাতে পারতাম না। সবাই ঘুমিয়ে গেলে বই নিয়ে পড়তে বসতাম। এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখনও রাত দুটার আগে ঘুমাতে পারি না।

তিনি হাসতে হাসতে বলেন, আবদুল হামিদকে কতটা ভালোবাসি তা কেবল আমিই জানি। ওকে কলেজ জীবন থেকেই ভালোবাসি, কারণ সে মানুষকে ভালোবাসে। কারও ক্ষতি করে না। তার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এখনও বঙ্গভবনে লুঙ্গি পরে এলাকার কোন সাধারণ মানুষ এলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিয়ে উঠে পড়েন। এ কারণেই এ মানুষটিকে এতবেশি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি।

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

0


তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার শুভ সূচনা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘মাছ হবে এ দেশের দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।’ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে মৎস্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছ ও পুষ্টি পাচ্ছে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত একাধিক বাস্তবমুখী ও যুগপোযোগী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে জাতির জনকের ভবিষ্যদ্বাণী আজ সফল হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে। ‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনের মূল্যায়ণের উপর ভিত্তি করেই রচিত এ প্রতিবেদন।

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা মাছ নিয়ে তাদের ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২০’ শিরোনামে প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলেছে, স্বাদু পানির উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। দেশে উৎপাদিত মাছের ৭৫ শতাংশ এখন বাজারজাত করছেন মৎস্যচাষিরা। এ ছাড়া কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ২৪ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছ। সব মিলিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছরে মাছ উৎপাদনে রের্কড সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে মাছের উৎপাদন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন হয় ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ লাখ ৮১ হাজার টন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গিয়ে দাঁড়াবে ৪৫ দশমিক ৫২ লাখ মেট্রিক টন।

মাছ বাঙালি জাতির সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অংশ। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টিচাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪.৭৩ শতাংশ মৎস্য উপখাতের অবদান এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। দেশের প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশের বেশি অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দেশের মানুষ গড়ে জনপ্রতি প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ বর্তমানে গ্রহণ করছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দশকে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৫ গুণ। তাছাড়া গবেষণার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রজাতির মাছ এখন চাষ করা হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া মাছ চাষ হচ্ছে সরকারি-বেসরকারিভাবেও। এ ছাড়া মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ এখন ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে রোল মডেল।বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ড ও বেকারত্ব নিরসনে মৎস্য খাত বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে মাছ চাষ ও ব্যবসায় দুই কোটির কাছাকাছি মানুষ যুক্ত আছেন।

প্রকল্পের নির্বাহী সার-সংক্ষেপ
টেকসই মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ,“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি ২৫৪০০৪.৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অক্টোবর ২০১৫ হতে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ৪ বছর মেয়াদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করে। পরবর্তীতে দেশের সমউন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে আরও ৮ টি জেলার ১২০ টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প এলাকা সম্প্রসারণ করে ইত্যাদি কারণে ১ম ও ২য় বার সংশোধন করে প্রকল্পটি বর্তমানে দেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৯০০০.০০ লক্ষ টাকা। এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ২৯০১৫.৫৪ লক্ষ টাকা এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭০.৯৪%।
প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে পতিত জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, মাছ চাষের উন্নত প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণসেবা প্রদান এবং উকারণ সরবরাহ; গ্রামীণ দরিদ্র্য মৎস চাষি, মৎস্যজীবী, বেকার যুবক, দুস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের আর্থ-সমাজিক অবস্থার উন্নয়ন। এছাড়া পতিত জলাশয় সংস্কার করে মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, পরিবেশবান্ধব মাছ চাষ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমাজভিত্তিক মাছ চাষ সম্প্রসারণও অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। মূল প্রকল্প প্রস্তাবনাটি বাংলাদেশের ৫৩টি জেলার ২২৯টি উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে ৯৮৮.৮২ হেক্টর পুকুর, দিঘি এবং ১৬৫২.৬১ হেক্টর খাল/বিল/মরা নদী পুন:খনন, পানি চলাচলের অবকাঠামো হিসেবে ৫০০টি পাইপ কালভার্ট স্থাপন, ১৫০৩৫ জন সুফলভোগীকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৭৮২টি প্রদর্শনী মৎস্য খামার স্থাপন, ৭১,১৫০টি বৃক্ষরোপণ এবং উম্মুক্তকরণ কর্মসূচির অধীনে চাষিদেরকে ৮০টি মাছ ধরার জাল এবং ৪০টি পানির পাম্প সরবরাহ। প্রকল্পের অধীনে ২টি পিকআপ, মাছ ধরার জাল ও পাম্প মেশিন ব্যতীত সকল যানবাহন, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং জনবল যথাসময়ে নিয়োগ করা হয়েছে। ক্রয় প্রক্রিয়া পিপিআর ২০০৮ অনুসরন করা হয়েছে।
প্রকল্পের সংস্কারকৃত জলাশয় মছের উৎপাদন গড়ে ৫৪.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুরূপভাবে ঐ সকল জলাশয়ে গঠিত সুফলভোগীদের বাৎসরিক আয় পূর্বের তুলনায় গড়ে ২৫.৫৫৫ (৩৪.৭৫৬ টাকা) ও মাছ খাওয়ার পরিমাণ ৭৪.৩৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের পুন:খনন কাজ সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে জরিপে ৯৬% সুফলভোগী এবং প্রায় ১০০ভাগ জেলা/উপজেলা মৎস কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, জলাশয়সমূহ কাঙ্খিত গভীরতায় খনন করা হয়েছে এবং খনন কজের মান সন্তোষজনক। সমীক্ষা দল কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শনের কাজের মান সন্তোষজনক পাওয়া গিয়াছে এবং সমধর্মী অন্যান্য প্রকল্পের সাথে কোন প্রকার দ্বৈততা পরিলক্ষিত হয়নি। প্রকল্পেটি গ্রহণের পূর্বে প্রায় ৪৪% জলাশয় পতিত ছিল। অবশিষ্ট জলাশয়ের অধিকাংশে মৌসুমী মাছ চাষ বা আহরণ করা হতো। পূর্বে এ সকল জলাশয়ের মাছের বাৎসরিক উৎপাদন বাৎসরিক ০-২.০ মে টন/হেক্টর সীমিত ছিল। পুন:খননের পর মাছের উৎপাদন ৪.০ হতে ৬..০ মে. টন/হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। জলাশয়সমূহ পুন:খনন/সংস্কারের ফলে মাছ চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডিপিপিতে অনুমিত মাছের বাৎসারিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১০.২৩৪ মে.টনের চেয়ে বেশী বৃদ্ধি পাবে। অনুরূপভাবে ১৫,০০০-২০,০০০ লোকের প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় সমপরিমাণ লোকের পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে। ফলে প্রকল্পেভুক্ত গ্রামীণ দরিদ্র মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, বেকার যুবক, দুঃস্থ মহিলাসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। প্রশিক্ষণের ফলে মৎস্য চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৯০.৮% সুফলভোগী প্রশিক্ষণের মান ভাল/খুব ভাল এবং ৫৪.২% প্রশিক্ষণের পর বুকলেট/লিফলেট পেয়েছেন। জলাশয়সমূহ হতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও পূর্বের তুলনায় সর্বনিম্ন ৫% হতে ৫০% এবং গড়ে ১৪.২%বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের কাজ টেকসই করার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মাছ চাষের জন্য গঠিত সকল সুফলভোগীদল নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের আবর্তক তহবিল থাক প্রয়োজন। উন্নয়নকৃত জলাশয়সমূহ এলকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণে ইজারা বা মাছ চাষের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হচ্ছে। ইজারামূল্য প্রতি বছর ৫% হতে ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বা হচ্ছে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যবস্থপাপনা.এডিপি অর্থ ছাড় ও ব্যায় এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন ইত্যাদি অনেকগুলো সবল দিক পরিলক্ষিত হয়েছে। অনুরূপভাবে প্রকল্প এলাকায় মাছ চাষ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রকল্পের সুফলভোগীদের কর্মসংস্থান এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বন্যা, প্লাবন, পলি ভরাট এবং সুফলভোগী দলের নিবন্ধন না হওয়া ও প্রতিবছর ইজারা মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য প্রকল্পের কাজ টেকসই হওয়া এবং প্রভাবশালী মহল কর্তৃক জলাশয়সমূহ পুন:দখল এবং দূষনের ঝুঁকি রয়েছে।
উপরোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে প্রকল্পের অর্জনসমূহ ও সুফলভোগী দল টেকসইকরণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য, বিষয়ে মোট ১০টি সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্র্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা, সুফলভোগী দলের নিবন্ধন, পুজিগঠন, দীর্ঘ মেয়াদে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ইজারা প্রদান, একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রকল্পের অধীনে স্থাপিত প্রদর্শনী মাছচাষ কার্যক্রম টেকসইকরণ, সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ পুন:দখল, দূষণ রোধ এবং প্রকল্প সমাপ্তির পর রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বিভাগ বা জেলা পর্যায়ে বহুমুখী সেবাযুক্ত প্রদর্শনী মৎস্য খামার স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও অনেক সুফল যেমন-কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, খাল-বিল, মরানদী পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ উন্নয়ণের চলাচলের ব্যবস্থা, জলজ জীব বৈচিত্র্য এবং চিংড়ি চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। জলাশয়ের পাড়ে সাকসবজি, পেঁপেঁ, কলা গাছ, লেবু চাষ, গবাদি পশুর খাদ্য যেমন-নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হচ্ছে। সর্বোপরি পানি সম্পদের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি নিশ্চিত কল্পে খাল, বিল, মরানদীসহ সরকারি জলাশয় অবৈধ দখলদারদের কবল হতে মুক্ত করে এখন মাছ চাষের আওতায় এসেছে।

প্রকল্পের সবল দিক ও সুযোগ ঝুঁকি বিশ্লেষণ
“জলাশয় সংষ্কারের মাধ্যমে সৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটির আরডিপিপি পর্যালোচনা, মাঠ পর্যায় হতে তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষন করে সবল দিক, সুযোগ ও ঝুকি নিম্নে সংক্ষেপে প্রদান করা হয়েছে;

প্রকল্পের সবল দিকসমূহ
যে কোন প্রকল্পের সবল দিক হচ্ছে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ নিয়ামক। ডিপিপির অবকাঠামোগত উপাদান ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যা প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ের বাস্তবায়নের এবং প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। এ পর্যায়ে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জন্য জনবল নিয়োগ, জমি অধিগ্রহন, ক্রয় ও সম্পদ সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবিড় পরিক্ষণ, প্রকল্পের অভিষ্ঠ লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ফলাফল ও প্রভাব নির্ণয়ের অনুমতি লজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক ইত্যাদি বিবেচনায় করা হয়েছে । এতে দেখা যায়
১. ডিপিটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণায়ন গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়েছে। ২. উপরোক্ত বিষয়াবলী ডিপিপির লগফ্রেমে সুবিন্যস্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩. ডিপিপিতে উল্লিখিত বিষয়বলী যথাযথভাবে প্রদান করা হয়েছে। ৪. পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালক ও জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। ৫. দু একটি আইটেম ব্যতীত সকল সম্পদ প্রকল্পের সূচনালগ্নে ক্রয় করা হয়েছে।
৬. প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ামিতভাবে পর্যালেচনা ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভাসমূহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যে, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পটির মধ্যবর্তী মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক নিয়মিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়, আইএমইডিসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করেছেন।
৭. স্থানীয় জনগণ, সুফলভোগী দল ও প্রশাসনিক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে সহযোগিতা করছেন।

প্রকল্পের সুযোগসমূহ
প্রকল্পের সুযোগ হচ্ছে প্রকল্প বহির্ভূত উপাদান (ঊীঃবৎহধষ ভধপঃড়ৎং) যা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নতুনভাবে সৃষ্টি হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ইতোমধ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের সুযোগসমূহ নিম্নরূপ শনাক্ত করা হয়েছে:

  • মাছ চাষের এলকা বৃদ্ধি; * গ্রামীন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থ-সামজিক উন্নয়ন;
  • আমিষ জাতীয় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি; * পরিবেশ দূষন হ্রাস ও পরিবেশের উন্নয়ন; * পানির বহুবিধ ব্যবহার; এবং * সেচ সুবিধা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি।
    এছাড়া কেআইআই’তে অংশগ্রহণকারী জেলা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাগণ অনেকগুলো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যা কেআইআই সেকশনে প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের ঝুঁকিসমূহ
    ঝুঁকি হচ্ছে প্রকল্পের বাইরের নিয়ামক, যেগুলো প্রকল্প ও উদ্দেশ্য অর্জন অথবা প্রকল্পের অধীনে সৃষ্ট সুযোগ সুবিধাদির ক্ষতি করছে বা ভাবিষ্যতে করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের ঝুঁকিসমূহ নিম্নরূপ শনাক্ত করা হয়েছে; * মৎস্যচাষি সমিতি বা দলসমূহের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্টিত না হওয়ায় সমিতির অবলুপ্তি
  • সুফলভোগী দলের পুঁজি গঠিত না হওয়া; * প্রকল্পের অবকাঠমো নির্মাণ ও জলাশয় সংষ্কারে স্থানীয়দের প্রভাব ও বিরোধ; * প্রাকৃতিক বিপর্যয় (বন্যা, পলি ভরাট, সংস্কারকৃত জলাশয়ের পাড় ভাংগণ ইত্যাদি);
  • সংস্কৃত জলাশয়সমূহ বাৎসরিক ভিত্তিতে ইজারা প্রদান এবং প্রতি বছর ১০-১৫% হারে ইজারা মূল্য বৃদ্ধি করা; * সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ ব্যবস্থাপনার মৎস্য অধিদপ্তর বা সুফলভোগী দলের নিকট দীর্ঘ মেয়াদে হস্তান্তর না করা ইত্যাদি; এবং * সংষ্কারকৃত জলাশয়সমূহ প্রভাবশালী কর্তৃক দখল, দূষণ, পরিবর্তন এবং লিজ নিয়ে মাছ চষের প্রবির্তে ফসলী জমিতে রুপান্তর এবং শিল্পবর্জ্য ফেলার ঝুঁকি রয়েছে।

নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষার সার্বিক পর্যবেক্ষণ
“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটির প্রধান প্রধান কাজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি, উদ্দেশ্য অর্জন, উৎপাদন বৃদ্ধি, সুফলভোগীদের আর্থ-সমাজিক অবস্থার উন্নয়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তাবয়নে সমস্যা, প্রকল্পের কাজ টেকসই করার পরিবল্পনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষার পর্যক্ষেণ নিম্নে প্রদান করা হলো।

প্রকল্প অনুমোদন ও সংশোধন
প্রকল্পটি ৫টি উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষে ২৫৪০৪.৪৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ১৭/২/২০১৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অক্টোবর ২০১৫ হতে জুন ২০১৯ মেয়াদে অনুমোদিত হয়। মূল ডিপিপিতে দেশের ৫৩টি জেলার ২২৯টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তাবয়নের লক্ষ্য নির্ধারিণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ অবমুক্তিতে বিলম্ব হয়। অত:পর দেশের সমউন্নয়নের লক্ষ্যে মূল ডিপিপির জেলা ও উপজেলা ঠিক রেখে শুধু নতুন জলাশলের তালিকা অন্তর্ভূক্ত করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার মধ্যে ১৫% বৃদ্ধি এবং মেয়াদ জনু ২০২০পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ ২৯২১৫.০৯ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৪টি জেলা এবং ১২০টি উপজেলা অন্তর্র্ভূক্তসহ অন্যান্য সুবিধা সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় ৪০% বৃদ্ধি করে ২য় সংশোধন অনুমোদন করা হয়। ২য় সংশোধিত প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২২ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৯০০.০০ লক্ষ টাকা নির্ধারিত করা হয়। প্রকল্পটি বর্তমানে বাংলাদেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


ডিপিপির লগফ্রেম ৮দ্ধ৮ মেট্রিকস ফলম্যাট অনুসরনে প্রস্তুত করা হয়েছে। লগফ্রেমে ইনপুট, আউটপুট ইত্যাদি প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের সকল ক্রয় কাজ সরকারি নিয়ম অনুসরণে করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৯০০.০০ লক্ষ টাকা মধ্যে এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২৯০১৪.৫৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি ৭০.৯৪%। প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি জলাশয়ের জন্য ১টি করে সর্বমোট ২৩৩৬টি দল গঠন করা হয়েছে। আরডিপিতে পুন:খননকৃত জলাশয় মাছ চাষের জন্য দরিদ্র সুফলভোগীদলের নিকট কমপক্ষে ৩ বছরের জন্য সরকারি মূল্যে ইজারা প্রদানের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী শুধু নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সংগঠনের নিকট সরকারি জলাশয় ইজারা বা লিজ দেয়ার নিয়ম করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজের অগ্রগতিঃ

প্রকল্পের সংস্থান অনুযায়ী সকল জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। অগ্রগতি ১০০%। প্রকল্পের সংস্থান অনুযায়ী ১টি জিপ, ৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং ১০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ২টি ডাবল কেবিন পিকআপ ব্যতীত অবশিষ্ট যাসবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে জাল ও পাম্প মেশিন ক্রয়: আরডিপিতে প্রস্তাবিত ৮০টি জাল ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ ৪০টি পাম্প মেশিন ক্রয়ের চলমান আছে বলে জানা গিয়াছে। প্রকল্পের সংস্থান অনুযায়ী আসবাবপত্র ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি যথা-ক্যামেরা, ফটোকপিয়ার, কম্পিউটার ইত্যাদি ক্রয় করা হয়েছে। আরডিপিপি অনুযায়ী পুন:খনন লক্ষ্যমাত্রা
এ খাতে লক্ষমাত্রা ১৬৫২.৬৯ হেক্টর এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ২২৫৫৬.৩৮ লক্ষ টাকা। এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৭৩.৬৪%। জলাশয় খনন কাজে দ্বৈততা বিষয়ে সকল সুবিধভোগীগণ মতামত ব্যক্ত করেছেন যে জলাশয় খনন কাজে সমধর্মী অন্যান্য প্রকল্পের সাথে কোন প্রকার দ্বৈততা বা একই জলাশয় একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পুন:খনন করা হয়নি। সরেজমিন পরির্দশনেও কোন প্রকার দ্বৈততা পাওয়া যায়নি।
পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো (পাইপ কালভার্ট) নির্মাণ লক্ষমাত্রা ৫০০টি এবং প্রাক্কলিত ১০০০ লক্ষ টাকা এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৮২.২৫%। আরডিপিপি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান: লক্ষমাত্রা ১৫,০৩৫ জন এবং ১১৭.৪৫ লক্ষ টাকা। এ পর্যন্ত প্রকল্পের অধীনে ১১৭২৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান: প্রদান করা হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতি ৯১.৮৪%। প্রদর্শনী খামার স্থাপন লক্ষমাত্রা ৭৮২ টি এবং ৭৯২.২৫ লক্ষ টাকা। মার্চ ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৩.৭৬%
আরডিপিপি অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ লক্ষমাত্রা ৭১১৫০টি এবং ১১০.০০ লক্ষ টাকা। মার্চ ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৭.৩১%।

নিবিড় পরিবীক্ষণ অংশগ্রহণকারী প্রায় সকলেই পুন:খনন কাজের মান সন্তোষজনক বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সমীক্ষা দল কর্তৃক প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকালে বাস্তবেও তা পাওয়া যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বহুমুখি ইতিবাচক দিক যেমন, মাছ চাষের এলাকা ও উৎপাদন বৃদ্ধি, সকরারি সম্পদ অবৈধ দখল হতে উদ্ধার, পরিবেশ উন্নয়ন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন, সারা বছর পানি প্রাপ্তি ও শস্য শাকসবজি চাষ ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুপাররিশ ও উপসংহার
“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটির অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং সুফলভোগীদের তথ্য জরিপ, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা, জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফসার সাথে নিবিড় সাক্ষাৎকার (কওও) বিভিন্ন কাজ সরেজমিন পরিদর্শন এবং আঞ্চলিক কর্মশালা হতে প্রাপ্ত সুপারিশের আলোকে নিম্নলিখিত সুপাররিশসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে।
১. প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে সমাপ্তকরণঃ প্রকল্পের অধীনে পুকুর, দিঘি ও অন্যান্য জলাশয় খননের গড় অগ্রগতি ৬৯.৮৮%। এ প্রেক্ষাপটে, প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ (৩০.১২%) প্রকল্প মেয়াদ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব জরুরি।
২. সংষ্কারকৃত জলাশয়ে মাছ চাষের জন্য গঠিত অধিকাংশ সুফলভোগী দলের নিবন্ধন করা হয়নি। সুফলভোগী দল টেকসই করার জন্য প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে সমবায় বিভাগ অথবা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে নিবন্ধন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
৩. প্রকল্পের মেয়াদ শেষে সুফলভোগী দল কারিগরি পরামর্শ ব্যাতীত অন্য কোন সহায়তা পাবেন না। ফলে উন্নত পদ্ধতি অবলম্বন করে পুঁজির অভাবে মাছ চাষ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। এ পর্যায়ে যে কোন নির্ভরশীল সংস্থার সাথে মাছ চাষের লভ্যাংশের একটি অংশ সঞ্চয় করে পুঁজি গঠন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৪. বর্তমানে সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে ইজারা প্রদান করা হচ্ছে, যা টেকসই মৎস্য উৎপাদনে সহায়তা করবে না। এ পর্যায়ে জলাশয়সমূহ নিবন্ধিত সুফলভোগী দলের নিকট জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০০৯ অনুসরণের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৫. সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতিবছর সর্বন্মি ৫% হতে সর্বোচ্ছ ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা টেকসই মৎস্য উৎপাদনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। এ পর্যায়ে জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০০৯ অনুসরণে সংষ্কারকৃত জলাশয়ের ইজারামূল্য নির্ধারণ করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
৬. সরকারি/স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের পতিত জলাশয় পুন:খনন ও মাছ চাষের জন্য সমঝোতা স্মারকঃ পতিত জলাশয় পুন:খনন ও মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সাথে সমঝোতা স্মারক প্রণয়ন করা হলে পুন:খনন ও মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
৭. সুফলভোগী দল পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রদর্শন কার্যক্রম টেকসই নাও হতে পারে। প্রদর্শনী মৎস চাষ টেকসই করার লক্ষ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নিবিড় তদারকি বৃদ্ধ করা প্রয়োজন।
৮. সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ যাতে প্রভাবশালীগণ পুন:দখল করতে না পারে এবং দূষণ রোধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৯. বহু সেবাযুকÍ প্রদশনী মৎস্য খামার স্থাপনঃ মৎস্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পর্যায়ে কমপক্ষে একটি করে বহু সেবাযুক্ত প্রদর্শনী মৎস্য খামার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

উপসংহার
“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি পূর্ণমাত্রায় বাস্তাবয়ন করা সম্ভব হলে প্রায় ৩৫০০টি বভিন্ন প্রকার জলাশয় (পুকুর, দীঘি, খাল,বিল, বরোপিট) মাছ চাষের আওতায় আসবে। এ সকল জলাশয়ে অধিকাংশে পূর্বে মাছ চাষ করা হতো না। এছাড়া দীর্ঘদিন পতিত থাকায় অধিকাংশ জলাশয় আগাছায় পরিপূর্ণ ছিল, ময়লা-আবর্জনা ফেলার আঁধার এবং পরিবেশ দূষনের অন্যতম প্রধান কারণে পরিণত হয়েছিল। অনেক জলাশয় দখলদারদের দখলে চলে গিয়েছিল। এ সকল জলাশয় হতে স্থানভেদে সরকারের যৎসামন্য রাজস্ব আদায় হতো। জলাশয়সমূহ প্রকল্পের অধীনে সংষ্কারের ফলে মাছ চাষের আদর্শ স্থানে পরিণত হয়েছে। সংস্কারে পরবর্তী সময় এ সকল জলাশয় হতে মাছের উৎপাদন গড়ে হেক্টর প্রতি ২.৫-৩.০ মে.টন বৃদ্ধি পেয়েছে। জলাশয় ভেদে ২.০০ লক্ষ টাকা হতে সর্বোচ্ছ ১৪.০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হচ্ছে। রাজস্ব আদায় সর্বনিম্ন ৫.০% হতে সর্বোচ্চ ৫০২% এবং গড়ে ১৪.২% বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পের সুফলভোগীদের মতামত অনুযায়ী গ্রামীণ দরিদ্র মৎস্যজীবী, বেকার যাবক, দুঃস্থ মহিলা এবং অন্যদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পাশাপাশি মাছ খাওয়ার পরিমাণও প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফফে প্রকল্পটি গ্রামীণ জনসাধারণের আত্মকর্মসংস্থান, আমিষজাত খাদ্যের সংস্থান এবং সকরারের রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রকল্পের অধীনে প্রস্তাবিত ২৫৯৭.৪ হেক্টর জলাশয় পুন:খনন করে মাছ চাষ করা হলে দেশে প্রায় ১২,০০০ হতে ১৫,০০০মেঃটন মাছ উৎপাদন হবে। দেশের সকল পতিত জলাশয় সংস্কার করে মাছ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হলে বাংলাদেশে মাছ চাষের সাফল্যে আরেকটি নতুন পলক যুক্ত হবে, গ্রামীণ দারিদ্র্য বহুমাত্রায় দূর হবে এবং আমিষ জাতীয় খাদ্যের যোগানে আত্মনির্ভরশীল হবে। এ প্রেক্ষাপটে জেল ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অথবা ইধংবষরহব জরিপ করে দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল খাস পতিত জলাশয়ের তালিকা প্রস্তুতপূর্বক মাছ চাষের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব
বর্তমানে প্রকল্পটি দেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এখনো ১৪৬টি উপজেলা প্রকল্প বর্হিভুত রয়েছে। এসকল উপজেলা এবং বিদ্যমান প্রকল্প এলাকার মধ্যে অসংখ্য জলাশয় রয়েছে যা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়ে গেছে। দেশের উপকূলীয় জেলায় মৎসজীবীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মিষ্টি পানির উৎস নিশ্চিত করণসহ উপকূলীয় সুরক্ষায় খনন উপযোগী বিপুল পরিমান জলাশয় আছে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায় হতে খনন উপযোগী জলাশয়ের তালিকা প্রকল্প দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। যার প্রাক্কলিত খনন ব্যয় আনুমানিক ৪০০০.০০ কোটি টাকা। মাঠ পর্যায়ে চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প ব্যয় ২০০.০০ কোটি টাকা বৃদ্ধিসহ মেয়াদ আরোও ২(দুই) বছর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

0

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

পল্লবীতে বাড়ি থেকে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ৩ বান্ধবী উধাও

0


অনলাইন ডেস্ক:

কলেজ পড়ুয়া তিন বান্ধবী বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, স্কুল সার্টিফিকেট ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। রাজধানীর পল্লবীতে এই ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজে পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, বিদেশে নেওয়ার প্রলোভনে তাদেরকে নিয়ে গেছে একটি নারী পাচারকারী চক্র। এ জন্য তারা বাসা থেকে অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়েছে। নিখোঁজ তিন ছাত্রী হলেন- কাজী দিলখুশ জান্নাত নিসা, কানিজ ফাতেমা ও স্নেহা আক্তার। তারা সবাই দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এর মধ্যে নিসা মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট, স্নেহা পল্লবী ডিগ্রি কলেজ ও কানিজ দুয়ারিপাড়া কলেজের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় নিসার মা মাহমুদা আক্তার শুক্রবার পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে যাদের বিবাদী করা হয়েছে, তারা হলেন, তরিকুল, রকিবুল ও জিনিয়া। এর মধ্যে জিনিয়া টিকটকের পরিচিত মুখ। আর তরিকুল ও রকিবুল সহোদর। অভিযোগে মাহমুদা জানান, তার মেয়ে নিসা ও তার দুই বান্ধবী কানিজ ফাতেমা ও স্নেহাকে বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘরছাড়া করেছে একটি নারী পাচারকারী চক্র। পরিবারের কাউকে কিছু না বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সবাই নিজ নিজ বাসা থেকে একযোগে বের হয়। বের হওয়ার সময় সবাই বাসা থেকে কয়েক লাখ টাকা, গহনা, স্কুল সার্টিফিকেট ও দামি মোবাইল নিয়ে গেছে।

জান্নাতের বড় বোন আইনজীবী কাজী রওশন দিল আফরোজ বলেন, আমার বোন ও তার বান্ধীদের বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে। এ জন্য তারা গতকাল প্ল্যানিং করে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গতকাল সকালে সবাই কলেজের পোশাক পরে বের হয়েছে। সবার কাঁধে কলেজের ব্যাগ ছিল।

তাদের মহল্লার প্রতিবেশী তরিকুল, রকিবুল ও জিনিয়া এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। রওশন আরও বলেন, তরিকুল আমার বোনের সঙ্গে প্রায় সময় কথা বলত। তরিকুল তাকে (নিসা) বলতো, সে অনেক বড় হ্যাকার। আর অনেক বড় কোম্পানির মালিক। আমেরিকায় লোক পাঠায়। আমার বোন নিসা বাসায় এসে আমাকে প্রায় সময় বলত, ‘আপু তরিকুল তোমাকে তার কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার পদে চাকরি দেবে’।

তিনি বলেন, ঘটনার পর আমরা তরিকুলের বাসায় গিয়ে জানতে পারি, সে ও তার বড় ভাই রকিবুল গতকাল থেকেই বাসায় নেই। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। জিনিয়া নামে তরিকুলের এক টিকটক বান্ধবী রয়েছে। জিনিয়া আমার ছোট বোন ও তার বান্ধবীদেরও পরিচিত। গতাকল জিনিয়ার বাসায় গিয়েছিলাম ওদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে। কিন্তু জিনিয়া দেখা করেনি। তার পরিবারের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি, তরিকুল ও জিনিয়ার পরিবার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা জানে আমার বোন ও তার বান্ধবীরা কোথায় আছে।

পল্লবী থানার এসআই সজিব খান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তরিকুলকে আটক করেছি। তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, আমরা এ ব্যাপারে তদন্ত করছি।

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

0


নুসরাত রীপা

পর্ব-১৬

তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই ভালোবাসে।
রাতে খাওয়া দাওয়ার পর বিজু মায়ের ঘরে আসে। তুলির বিয়ে, বাড়িতে এই প্রথম নতুন প্রজন্মের বিয়ে আয়োজনও তাই ব্যাপক। মা ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। বিজু মায়ের পাশে বসে বলল, মা একটা কথা বলি।
বল।
তুলির বিয়েতে আমি থাকছি না।
কেন রে?
মীরাকে বিয়ের কথা জানানো হয়নি। ও অনেক কষ্ট পাবে মা। আমি না থাকলে বলতে পারবো আমাকেও জানাও নি।
বোকা ছেলে। এটা কোন কথা! তুলি তোর ছোট বোন না? না থাকলে তুলি মনে কষ্ট পাবে না?
না, মা। তুলিও মীরাকে অনেক ভালোবাসে। মীরা তো আমাদের বোনই মা। ভার্সিটিতে ক্লাস বন্ধ, তাই এসেছিলাম। কাল আমি হলে ফিরে যাব।
তোর দাদীমনি রাগ করবেন।
আহা, শান্তা। বিজু এখন বড় হয়েছে। ও এখন ভোটার। মানে ও এখন নিজস্ব স্বাধীন চিন্তা ভাবনা আর মত প্রকাশের ক্ষমতাধারী। কাজেই ওকে ওর সিদ্ধান্ত নিতে দাও। আজমল সাহেব শোয়া থেকে উঠে বসলেন।
তুলির বিয়ের খবরটা মীরাকে না জানানো বিষয়টা বাড়ির কেউই মেনে নিতে পারছেনা। কিন্তু হুর ইজান্নাত কে কে বলবে!
বিজু মায়ের ঘর থেকে নিজের ঘরে চলে আসে। মীরার কথা মনে পড়ে। মীরা তো কখনো কারো সাথে রাগ করে কথা বলে না, ঝগড়া করে না। ছোটবেলা থেকে মেয়েটা জানেনা ওর বাবা মা কে। ওর কী ধর্ম। ওর জন্ম কোথায়। কেবল মিশনারী স্কুলের স্মৃতি নিয়ে ও বেড়ে উঠেছে অচেনা এক বাড়িতে। যদিও এ বাসায় সবাই ওকে স্নেহ আদর করে ঠিকই, কিন্তু সেটা তো বাসার মেয়ে হিসাবে নয়। এতিম অসহায়
মানুষ হিসাবে।
দাদীমনিতো কখনোই ভালোবাসেননি মীরাকে। বিজুরাও দাদীমনিকে মিছে কথা বলে মীরাকে বকা খাইয়েছে কত! মীরা এসব পরে আর মনে করেনি। ভুলে গেছে। কত কাজ আগ বাড়িয়ে করে দিয়েছে বিজু শাওন তুলিদের।
এতিম বলেই বোধহয় ও সব মেনে নিয়েছে সব সময়।
ঘুমোসনি?
দরজার বাইরে থেকে মাথা ঢুকিয়ে বলে শাওন। বিজুর ঘরে শব্দ শুনে এসেছে।
না। তুই?
গান বাছছিলাম। পরশু ডিজে আনছি–
ওয়াও।
আগামীকাল ফুপুরা চলে আসবে সব।
ছোট ফুপুও আসবে? বলে মুখটা একটু বাঁকা করে বিজু। শাওন বলে, হা। আসবে তো। কিন্তু তুই মুখ বাঁকাচ্ছিস কেন?
না, বলছিলাম তাহলে তো অরিত্রিও আসবে।
ছোট ফুপির ক্লাস নাইনে পড়া অপরূপা সুন্দরী কন্যা অরিত্রিকে শাওন মনে মনে পছন্দ করে। বিজু তাই এটা নিয়ে ওকে ক্ষ্যাপাতে ভালোবাসে।
বিজুর কথায় শাওন কণ্ঠে ঝাঁঝ ঢেলে বলে,আসলে আসবে। ঘুমাতে গেলাম।
বিজু দুষ্টুমির হাসি হেসে বলে, যা। কাল তোর ফ্রেস থাকাটা জরুরী!!
শাওনের ঘরের দরজা লাগানোর শব্দ কানে আসে! বিজু বিড়বিড় করে, ভালোই হবে, এত মানুষ আসবে, মীরা না এলেই ভালো। কে কী বলে ফেলে কে জানে!! লোকজনের তো উল্টোপাল্টা কথা বলতে জিভ সুরসুর করে! হঠাৎ মীরার জন্য ভীষণ কষ্ট হতে থাকে। মীরা যখন শুনবে তুলির বিয়ে হয়ে গেছে, ওকে জানানো হয়নি কত কষ্টই না পাবে।
বিজু ঠিক করে কাল সকালের ট্রেনেই ও ঢাকা যাবে। ঢাকায় নেমে মীরা কে ফোন দেবে। হোক না আপন নয়, তবু বোন তো!মা তো বিজু শাওন আর মীরাকে আলাদা ভাবেনি কখনো। তাহলে বিজু কেন ভাববে।
এই প্রথম বিজু মীরাকে চমকে দেওয়ার জন্য কী নেওয়া যায় ভাবতে থাকে।
বিজু ওর ছোট্ট ট্র্যাভেল ব্যাগটায় দুটো টিশার্ট ভরে। একটা জিন্স। দাঁড়ি রাখে তাই শেভিং কিটস নেওয়ার দরকার নাই। টুথপেস্ট, টাওয়েল— ভরতে ভরতে ভূপেন হাজারিকার আমি এক যাযাবর বইটা ব্যাগে ভরে নেয়। বইটা রবিনের কাছ থেকে পড়ার জন্য এনেছিল। কিন্তু সিএসইর ছাত্র হলেও বই পড়ায় ওর আগ্রহ নেই। বইটা মীরা পেলে খুশি হবে। রবিনকে পরে বোঝানো যাবে। আপাতত মীরাকে খুশি করার কথা ভাবে বিজু।

পর্ব-১৭

এরকমটা হবে অয়নের ধারণাতেও ছিল না। ও ভালো কাজ করে। কাজের প্রতি সিনসিয়ার। কোন এসাইনমেন্ট ধরলে দিন রাত এক করে সেটা কমপ্লিট করে। অথচ ওকে পানিশমেন্ট ট্রান্সফার দিয়ে হিলট্রাক এ পাঠিয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় এক রাজনীতিবিদের মাদক চোরাচালানে অয়ন সমস্যা করছিল। পর পর দুটো চালান চোরাচালানীসহ ধরা পড়েছে। ট্রান্সফারটা সম্ভবত তিনিই করিয়েছেন।
তা যেই করাক এই মুহূর্তে বান্দরবন যাবার ইচ্ছে ছিল না অয়নের। সামনে বিয়ে। জেবা ঐ রকম বুনো পাহাড়ী এলাকায় থাকবে কীভাবে? বেড়ানোর জন্য পাহাড়-সাগর-জঙ্গল যতই আকর্ষক হোক না কেন বসবাসের জন্য মোটেও ভালো নয়। বিশেষ করে জেবার মতো আজন্ম শহরে লালিত মেয়েরা দুচারদিন গ্রাম- পাহাড়-জঙ্গলে বেড়াতে যেতে ভালোবাসলেও এসব পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে থাকার ক্ষমতা এদের নাই। অবশ্য জেবার সাথে বিয়েটা হবে কী না সেটাও এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অয়নের সাথে রাগ করে জেবা কথা বলা বন্ধ রেখেছে। একটা টেক্সট ও দিয়েছে, আপনি মীরা না খিরা কে ভালোবাসেন সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। আপনাকে আমি বিয়ে করবো কী না সেটা এখন আমার ভাবনা। সামনে ফাইনাল পরীক্ষা তাই ভাবনাটা আপাতত তালাবদ্ধ করে রাখছি। পরীক্ষার পর চূড়ান্ত মতামত জানাব। আপনার ইচ্ছে হলে এখন গার্ডিয়ানদের জানিয়ে বিয়েটা ভেঙে দিতে পারেন। সেটা আপনার ইচ্ছে।
আমি এখন আর এসব ভাববো না “।
এইরকম টেক্সট পড়ে অয়ন হতভম্ব। মীরার সাথে প্রেম কেন ভালো বন্ধুত্বটাই তো হয় নি। মেয়েটা কেমন শিউলি ফুলের মতো। সেজন্যেই না অয়ন বন্ধুত্ব করতে চেয়েছে। শিউলি ফুল ঝরে গেলেও দীর্ঘ সময় থাকে কিন্তু মালা গাঁথলেই খানিক বাদে নষ্ট হয়ে যায়! আর মীরার সাথে প্রেম বিয়ের কথা ভাবেও নি অয়ন। একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের ভালো লাগতেই পারে। সব ভালো লাগাই তো বিয়ের জন্য নয়।
জেবা মেয়েটা সুন্দরী। কিন্তু প্রায় দশ বছরের ছোট বলে অয়ন শুরুতে সম্পর্কটা করতেই চায়নি। কিন্তু অভিভাবকদের নানা মোটিভেশনাল কথা বার্তা আর রূপের মোহে টুপ করে রাজি হয়ে গিয়েছিল। জেবার টেক্সট আর ট্রান্সফার দুইয়ে মিলে একটা বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে নতুন কর্মস্থলের দিকে যাত্রা শুরু করেছে অয়ন।
বাসে,জার্নিতে সব সময়ই ভীষণ ঘুম পায় অয়নের। চলন্ত গাড়ির জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু মনের মধ্যে নানা রকম চিন্তা ঘুরপাক খায়। আগামী বছর প্রমোশন। এই পানিশমেন্ট ট্রান্সফার ওর চাকরীর ওপর কতখানি প্রভাব ফেলবে কে জানে। আবার ছোটবেলা থেকেই অয়নকে সবাই ভালো ছেলে বলে জানে। জেবা যদি বিয়ে ভাঙার কারণ হিসাবে অয়নের অন্য নারীর সাথে প্রেম আছে বলে কমপ্লেন করে সেটা অয়নের জন্য অবশ্যই মঙ্গলজনক হবে না। প্রেম থাকলে তো অয়ন নিজের প্রেমিকাকেই বিয়ে করতো। বাড়িতে বাবা মা কোন বাধাই দিতো না। অয়ন এসব প্রেম ট্রেমে জড়াতে চায়নি। অথচ জেবা সেটা নিয়েই কথা বলছে।
মীরার কথা মনে পড়ে অয়নের। নিতান্তই কর্তব্য পালন করতে গিয়ে পরস্পরের পরিচয়। একই এলাকার হিসেবে অয়ন যোগাযোগ টা রাখতে চেয়েছিল। মীরার সাথে যোগাযোগ রাখতে চাওয়া বা ওকে ফোন করাটা কি আসলেই অন্যায় হয়েছে? নিজের কাছেই উত্তর খোঁজে অয়ন।

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

0

মিলু কাশেম

অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা উপাদানে সজ্জিত এই দেশ। বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষনীয় স্থান। সিলেট কে বলা হয় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ।সিলেটের পাহাড় টিলা বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি তে ছড়িয়ে অসংখ্য চা বাগান।এছাড়া ছোট বড় পাহাড় টিলা হাওর নদী বনাঞ্চল জলজ বন প্রাকৃতিক ঝর্ণা’ ও অপরূপ সমারোহ নিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দেয় সিলেট। বাংলাদেশের উত্তর পূর্ব প্রান্তে ভারতের খাসিয়া জয়ন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে সিলেটের অবস্থান। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেটের পর্যটন।প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য ছাড়াও সিলেট ভ্রমনকারীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষন ওলীকুল শিরোমনি হযরত শাহ জালাল ও হযরত শাহ পরাণের মাজার। প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে অগনিত মানুষ মাজার জিয়ারতে আসেন সিলেট।বোনাস হিসাবে উপভোগ করে যান সিলেটের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সিলেট শহরের উত্তর প্রান্তে রয়েছে ভারত উপমহাদেশের সর্ব প্রথম ও সর্ব বৃহৎ চা বাগান মালনীছড়া চা বাগান।সিলেটে আসা পর্যটকদের মন


জুড়ায় অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলং,জল পাথর আর দিগন্ত ছোঁয়া সবুজ পাহাড়ের বিছনাকান্দি, বাংলাদেশের সুন্দর গ্রাম পানতুমাই,নীলনদ খ্যাত পান্না সবুজ জলের লালাখাল, পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত অঞ্চল চেরাপুঞ্জি পাহাড়ের পাদদেশের অপার সৌন্দর্যের রানী ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ,রূপসী লোভাছড়া, দেশের বৃহত্তম হাওর হাকালুকি আর দেশের একমাত্র মিঠা পানির জলজবন বা সোয়াম ফরেস্ট রাতারগুল।
গত কয়েক বছরে এই রাতারগুল জলজবন পরিনত হয়েছে সিলেট তথা দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন আকর্ষনে। রাতারগুলের অবস্থান সিলেট শহর থেকে উত্তর পূর্ব দিকে ২৬ কিলোমিটার দূরে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানার ফতেহপুর ইউনিয়নে।বিশ্বের কয়েকটির মধ্যে অন্যতম এবং বাংলাদেশের একমাত্র সোয়াম ফরেস্ট বা মিঠাপানির জলজবন এবং বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য এই রাতারগুল। জলজবন মানে জলে ডুবে থাকা বন।এখানে হাজার হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এবং উদ্ভিদ জাতিয় বন সারা বছর পানিতে ডুবে থাকে।আর এই গাছের ছায়ায় ফাঁকে ফাঁকে পর্যটকরা নৌকা দিয়ে ঘুরে অবলোকন করেন জলজবনের অপার সৌন্দর্য।

রাতারগুল সোয়াম ফরেস্টের আয়তন প্রায় ৩৩ হাজার ৪ শ’ একর।এর মধ্যে প্রায় ৫০৫ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্য প্রানীর অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষনা করা হয়। এছাড়া প্রায় ২০৫ হেক্টর বনভূমি কে ২০১৫ সালে
বাংলাদেশ বন বিভাগ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষনা করে।চির সবুজ এই বন গোয়াইন নদীর দক্ষিন তীরে অবস্থিত।এই বনে বেশী জন্মায় করচ গাছ।বর্ষা কালে এই বন ২৫/৩০ ফুট পানির নীচে নিমজ্জিত থাকে।বাকি সারা বছর পানির উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট থাকে।বর্ষা কালে রাতারগুল জলজবনে অথৈ পানিতে ডুবে থাকে প্রায় ৪ মাস।আর বর্ষাকাল হচ্ছে এই বনের সৌন্দর্য উপভোগের প্রকৃত সময়।তাই রাতারগুল প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত প্রিয় নাম।প্রতিদিন দেশেবিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন এই জলজবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। রাতারগুল জলজবনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পাশাপাশি রয়েছে রয়েছে সিলেটের স্থানীয় ভাষায়
রাতা গাছ নামে পরিচিত মুর্তা বা পাটি গাছের অরণ্য ।জানা যায়সেই রাতা গাছের নামানুসারে মুলত এই বনের নাম রাতারগুল। সিলেটের উত্তর পূর্ব দিকে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বৃষ্টিপাত অঞ্চল ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির সন্নিকটে অবস্থিত ক্রান্তীয় জলবায়ুর এই বনে প্রতিবছর ভারী বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে রাতারগুলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমান ৪১৬২ মিলিমিটার। জুলাই মাস সবচেয়ে আর্দ্র তখন বৃষ্টিপাতের পরিমান ১২৫০ মিলিমিটার। এই মিটা পানির জলজবনে উদ্ভিদের দুইটি স্থর পরিলক্ষিত হয় উপরে বৃক্ষ জাতীয় আর নীচে ঘন পাটি পাতা বা মুর্তা বনের আধিক্য বিদ্যমান। রাতারগুল জলজবনের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা উদ্ভিদের আচ্ছাদনে আবৃত।এখন পর্যন্ত এই বনে ৭০ প্রজাতির উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে।রাতারগুল


মুলত প্রাকৃতিক বন। জলমগ্ন এই জলে আছে করচ ছাড়াও কদম হিজল বরুন গড়াই গাছ সহ বেত মুর্তা নানা প্রজাতির জল সহিষ্ণু গাছ। জলমগ্ন এই বনে সাপের আবাস বেশী আছে জোকও।তাছড়া নানা প্রজাতির বন্য প্রাণীর আবাস রয়েছে এই বনে। নৌকা দিয়ে বনের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে এসব প্রাণী নজর কাড়ে পর্যটকদের।
রাতারগুল জলজবনের দক্ষিন পাশে রয়েছে শিমুল বিল ও নেওয়া বিল নামে ২টি হাওর। নানা প্রজাতির মাছও মিলে এই এলাকায়।শীতকালে দেশিবিদেশি পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্যে পরিনত হয় রাতারগুল। বর্ষাকালে রাতারগুলের সৌন্দর্য অপরূপ হলেও সারা বছরই পর্যটকদের ভীড় লেগে থাকে রাতারগুলে। পুরো জলজবন এলাকা এক পলকে দেখে নিতে বন বিভাগের জাতীয় উদ্যান পরিকল্পনার আওতায় গত কয়েক বছর আগে একটি সুউচ্চ টাওয়ার নির্মান করা হয়।পরিবেশবাদী সংগঠন গুলোর আপত্তির মুখে তখন কিছুদিন বন্ধ রাখা হলেও পরে এই টাওয়ারের নির্মান কাজ শেষ করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত কওে দেয়া হয় টাওয়ারটি।বনে আগত পর্যটকরা এই টাওয়ারে উঠে অবলোকন করেন রাতারগুল জলজবনের সৌন্দর্য।


বর্ষা কালে নির্দিষ্ট ঘাট থেকে শত শত নৌকা নিয়ে রাতারগুল জলজবনে ঘুরতে আসেন পর্যটকরা।বনে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সুউচ্চ টাওয়ার।তাই এক নজর পুরো বন দেখতে সবাই টাওয়ারে উঠেন।বর্ষাকালে ২০/২৫ ফুট পানিতে অবস্থিত টাওয়ারটিতে এক সাথে শত শত দর্শনার্থীদের উঠানামায় নড়ে উঠে এই টাওয়ার।তাই বর্তমানে টাওয়ারটি বিপদজনক হয়ে পড়েছে।তবুও ও ঝুকি নিয়ে প্রতিদিন শতশত পর্যটক টাওয়ারে উঠে ছবি তুলা ও আড্ডায় মেতে উঠেন। সার্বিক নিরাপত্তার কারনে বন বিভাগ আপাতত টাওয়ারের উপরে উঠে রাতারগুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় এই জলজবনের সৌন্দর্য ওয়াচ টাওয়ার থেকে দেখা ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ২০১৫ সালে বন বিভাগ এই টাওয়ার নির্মান করেছিল। রাতারগুল জলজবনকে কেন্দ্র করে আশেপাশে তৈরী হয়েছে বেশ কয়েকটি অবকাশ যাপন কেন্দ্র। সিলেট শহর থেকে খুব সহজেই যাতায়াত করা যায়। শহরতলীর ধূপাগুল এলাকায় কিছু জায়গা ছাড়া
রাতারগুল তিন নাম্বার ঘাট পর্যন্ত রাস্তা ভাল।সিলেট শহর থেকে এক ঘন্টার মধ্যেই পৌছা যায় ঘাটে। সিএনজি অটো রিক্সা কার মাইক্রোবাস নিয় সহজেই যাওয়া যায় রাতারগুলে।পর্যটকদের জন্য চা নাস্তাসহ মোটামুটি খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে ঘাট এলাকায়।ঘাট থেকে খোলা নৌকা নিয়ে যেতে হয় মুল জলজবন এলাকায়।নৌকা ভাড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ৭৫০ টাকা।প্রতি নৌকায় ৫ জন বহন করা হয়।প্রয়োজনে বড় নৌকাও পাওয়া যায়। রাতারগুল মুল বনের মধ্যখানে খোলা জায়গায় রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।টাওয়ারে পাশে রয়েছে গাছের ছায়ায় কিছু নৌকায় ভাসমান দোকান।চা বিস্কিট ঝাল মুড়ি চানাচুর ডাব প্রভৃতি পাওয়া যায় এসব দোকানে। আ বনের ভেতরের সার্বিক নিরেপত্তা পরিবেশ চমৎকার।যা পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করে।তাই সিলেট ভ্রমনকালে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলজবন রাতারগুল। যা অবশ্যই ভালো লাগবে।

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

0

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল

হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগর, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও চিত্রনায়ক রুবেল। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি হেলিকপ্টারে করে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে নামেন তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও দুজন উঠতি চিত্রনায়িকাও ছিলেন।
জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সুবিস্তৃত হাওর এখন অবাধ জলরাশিতে কানায় কানায় পূর্ণ। ছুটির দিনে মানুষ হাওরের জলে একটু শরীর ভেজানোর জন্য ছুটে আসছে। প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর এই হাওরে মানুষের মনকে আরেকটু রাঙাতে রাত্রিযাপনের প্রয়াসে কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরের মধ্যে নির্মিত হয়েছে বিলাসবহুল প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। হাওরের মাঝে বসেই প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখা যাবে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট থেকে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিসোর্টের দরজা খুলেছে।
প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই ঢাকা থেকে জায়েদ খান, মিশা সওদাগর, মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও রুবেল হেলিকপ্টারের চড়ে হাওরাঞ্চলে যান।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ও অভিজাত প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। হাওরাঞ্চলে এই প্রথম ব্যক্তি উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন একটি রিসোর্ট নির্মিত হয়েছে। যেখানে তারকা হোটেলের সমান সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা কিশোরগঞ্জের ‘হাওরের বিস্ময়’ হিসেবে পরিচিত ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-ওয়েদার সড়কের মিঠামইন জিরো পয়েন্ট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুরে দক্ষিণের হাওরে এর অবস্থান। স্থানীয় বাসিন্দা ডা. এ বি এম শাহরিয়ার তার হাওরের পৈতৃক সম্পত্তির ৩০ একর জায়গায় গড়ে তুলেছেন এই প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট।
দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের এলাকায় এই রিসোর্ট নির্মাণ হওয়ায় এর মালিক রিসোর্টের নামকরণ করেছেন ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’। সেখানে বিশাল একটি পুকুর আছে। পুকুরের চারদিকে গড়ে তোলা হয়েছে রিসোর্টটি। পুকুরের উত্তর পাশে রেস্টুরেন্ট আর দক্ষিণ পাশে গড়ে তোলা হয়েছে কটেজগুলো। এর চারদিকে লাগানো হচ্ছে সৌন্দর্যবর্ধনকারী বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো গাছ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিস্তীর্ণ হাওরে সবুজের এই সমারোহ পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেবে মুহূর্তেই। কটেজগুলোর দক্ষিণে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ জলরাশি নিঃসন্দেহে হাওরপ্রেমীদের চোখ জুড়াবে।
হাওর উপজেলা মিঠামইনে নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ও অভিজাত প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট
বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা ও স্পিডবোট। তবে শুকনো মৌসুমে মোটরসাইকেল বা গাড়িযোগে অনায়াসে যাওয়া যাবে এই রিসোর্টে। প্রেসিডেন্ট রিসোর্টে মোট ১০টি ডুপ্লেক্স কটেজ রয়েছে। তবে সেগুলোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। কটেজগুলোর ভেতরের অংশের কাজ শেষ হয়েছে মাত্র। এখন মিস্ত্রিরা বাইরে রঙের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গত ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিসোর্টটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। তবে লকডাউনের কারণে তা পিছিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনের ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে হাওরে ৩০ একর জায়গায় অত্যাধুনিক ও মানসম্মত সুবিধা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। অত্যাধুনিক এ রিসোর্টে রয়েছে ১০টি আবাসিক ডুপ্লেক্স কটেজ, যার প্রতিটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। দুতলা বিশিষ্ট এ সকল কটেজে ৪০টি পরিবার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে অত্যাধুনিক পার্টি সেন্টার (আউটডোর), বিশাল ক্যান্টিনে ৪ শতাধিক লোকের একত্রে খাবারের ব্যবস্থা। ইনডোরে রয়েছে চাইনিজ ও বাংলা রেস্টুরেন্ট। লেকের পাশে রয়েছে কালচারাল সেন্টার, সাইট লিংক ও গলফ কার রাইডিং। লেকের মাঝখানে রয়েছে হেলিপ্যাড।
মাছ ধরার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক চৌকি। আনুমানিক ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। রয়েছে সবজি বাগান। গাছের মাঝখানে শিশুদের জন্য খেলার সামগ্রীসহ ২০টি ছাতা রয়েছে বিশ্রামের জন্য। বিভিন্ন কারুকার্যে খচিত পাথরের মাছ ,বাঘ, সিংহও রয়েছে। পাঁচ তলা ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে লেকের পশ্চিম পাশে। যেখান থেকে বিস্তীর্ণ হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। মনোরম পরিবেশে লেকের দুপাশে অত্যাধুনিক দুটি সিঁড়ি ঘাট রয়েছে। সুদৃশ্য পাইপের ভেতর চারজন বসার মতো জায়গাও রয়েছে।
এছাড়াও রয়েছে সুইমিং প্লটিং, পেডেল বোট, জেডস কি ওয়াটার বাইক, শিশুদের জন্য কিডস কর্নার। বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য দুটি অত্যাধুনিক ট্রলার ও তিনটি স্পিড বোট রয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে রিসিপশনিস্টসহ ৮০ জন স্টাফ রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি এজেন্সির ১০ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে।