Thursday, September 23, 2021

স্বাস্থ্য বিভাগে লম্পট নাছিরের সীমাহীন অপকর্ম

এক বছরের কাজ ১৭ দিনে : হরিলুট সাড়ে ৫ কোটি টাকা!

দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ, জালিয়াতি, প্রতারণা ও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নাছিরকে শাস্তি দিয়ে (দুই গ্রেড নিচে নামিয়ে) স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও তিনি তদবীরের মাধ্যমে আবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে ফিরে গিয়ে একটি প্রচারণা প্যাকেজ থেকেই লুটপাট করেছেন সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এক বছরের কাজ সেরে ফেলেছেন মাত্র ১৭ দিনে। সবই করেছেন ঘরে বসে কাগজে কলমে। ছয়টি বেসরকারী সংস্থার সাথে যোগসাজসে গোপন চুক্তিতে কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে পুরো টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। একাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক (বর্তমানে এলপিআর-এ আছেন) লাইন ডিরেক্টর এহসানুল করিম। দুর্নীতির কারণে ইতির্পর্বে কয়েকবার নাছিরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন, কিন্তু রহস্যজনক কারণে তদন্ত থেমে গেছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ৬টি প্রচারণা প্যাকেজে দুর্নীতি ধরা পড়ার পর নাছিরকে রাজশাহীতে বদলি করে দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রাজশাহীতে বদলি করা হলেও তিনি অফিস করেন ঢাকায় বসেই, মাসে একবার গিয়ে বেতন নিয়ে চলে আসেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক : লম্পট নাছিরের কারনে স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। একাধিকবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তিনি প্রতি রাতেই মদ ও নারী নিয়ে ফুর্তিতে লিপ্ত হন রাজধানীর বিভিন্ন গোপন সেক্স সেন্টারে। মদ ও নারী ছাড়া একটি রাতও কাটে না তার। কক্সবাজারে একটি ট্যুরে গিয়ে রাতে মাতাল হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মচারীদের কাছে রাতের জন্য মেয়ে যোগার করে দিতে বলেছিলেন। রাতে মেয়ে না দেয়ায় তিনি পরদিন অনুষ্টানে যাননি। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং তদন্তে নাছির দোষী সাব্যস্ত হয়। অনেক কষ্টে সেবার বেঁচে যান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী প্রধান পদটি লাভ করে মো. নাছির উদ্দিন যেন হাতের মুঠোয় আকাশ পেয়ে যায়। দুর্নীতি ও লুটপাট করে তিনি রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। বিষয়টি নজরে এলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযুক্ত হওয়ায় কমিটি মো. নাছির উদ্দিনকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার ওই সময়ের বেতন স্কেল থেকে দুই ধাপ অবনমনের শাস্তি দেয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে তাকে ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে বদলি করা হয়। কিন্তু শাস্তিমূলক এ আদেশ অমান্য করে তিনি পূর্বের বেতন স্কেলে বেতন উত্তোলন করতে থাকেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে কেন তার বেতন অবনমিত করা হয়নি এবং কেন তাকে পূর্বের স্কেলে বেতন দেয়া হচ্ছে জানতে চেয়ে ঢাকা সিভিল সার্জন এবং প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয় থেকে পত্র দেয়া হলে তারা বিষয়টি অবহিত নন বলে জানান। জানা যায়, সু-কৌশলে মো. নাছির উদ্দিন সরকারি আদেশ লুকিয়ে এবং গোপনে অনিয়মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পূর্বের স্কেলে বেতন উত্তোলন করেছেন। যদিও মন্ত্রণালয়ের পত্রের প্রেক্ষিতে প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের বেতন বন্ধ রেখেছিল।

শুরু থেকেই অবৈধ নাছির
স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো সূত্রে জানা যায়, মো. নাছির স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর অর্গানোগ্রামভুক্ত কোনো কর্মকর্তা নন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এডিবি সাহায্যপুষ্ট ২য় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ের ঢাকা অফিসে একজন অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তদ্বির করে ফেনী সদর হাসপাতালের প্রকল্পে সৃষ্ট পদে স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পুনঃনিয়োগ পেয়ে যোগদান করেন। প্রকল্প শেষ হলে বেশকিছু কর্মচারীকে রাজস্ব খাতে সম্পৃক্তকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সে সময়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর অর্গানোগ্রামে ৮টি শূন্য পদ বিলুপ্তি করে কয়েকটি হাসপাতালে ৮টি স্বাস্থ্য শিক্ষা পদ সৃষ্টি করে প্রকল্পের ৮ জনকে পদায়ন করা হয়। এদের মধ্যে মো. নাছিরকে ফেনী সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। অর্থাৎ হাসপাতালের অর্গানোগ্রামেই তার পদ সৃষ্টি হয়। এ পদ থেকে বদলী হতে হলে যে সকল হাসপাতালে এ পদ রয়েছে সে সকল হাসপাতালেই তার পদায়ন হবে অন্য কোথাও নয়। পরবর্তীতে বিধি-বহির্ভূতভাবে নানা কৌশলে তদবির করে অবৈধভাবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর গবেষণা কর্মকর্তার শূন্য পদে নিজ বেতনে বদলী হয়ে আসেন যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ বিধিমালা পরিপন্থী। ওই সময়ে অবৈধ কাগজপত্র এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি গবেষণা কর্মকর্তা পদে মন্ত্রণালয় থেকে স্থায়ীকরণের আদেশ করান। উল্লে¬খ্য, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ বিধিতে এ পদে সরাসরি নিয়োগের বিধান থাকা সত্ত্বেও বিধি-বহির্ভূতভাবে গবেষণা কর্মকর্তা পদে আসেন তিনি।

অবৈধ নিয়োগ অবৈধ পদোন্নতি
স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগবিধিতে গবেষণা কর্মকর্তা পদটি একটি ব্লক পোস্ট, যা পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি পূরণযোগ্য। নিয়োগবিধি অনুযায়ী এ পদে কোনো পদোন্নতি নেই। কিন্তু মো. নাছির উদ্দিন সরকারি বিধি-বিধান না মেনে অর্থ এবং তদবিরের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গ্রেডেশন তালিকায় তার নিজ পদ গবেষণা কর্মকর্তার পরিবর্তে জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা দেখিয়ে গ্রেডেশন তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে পুনরায় সহকারী প্রধান হিসেবে অবৈধভাবে পদোন্নতি পান। এদিকে এক সময়ে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করলেও সরকার পরিবর্তন হবার পরপরই তিনি খোলস পাল্টিয়ে আবার আওয়ামী বনে যান।
এ বিষয়ে মো. নাছির উদ্দিন আগের পদের বেতন নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নাছির বলেন, সচিবের অনুমতিতে আগের পদের বেতন নিয়েছি। পরে যখন এ বিষয়ে চিঠি আসে তারপর থেকে বেতন উত্তোলন বন্ধ রেখেছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাসুদেব গাঙ্গুলী তখন বলেছিলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য শাস্তি হিসেবে যে পদে পদায়ন করা হয়েছে সে পদেই বেতনসহ অন্যান্য সুবিধাদি ভোগ করতে হবে। আগের পদের বেতন নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। নিলেও তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। উল্লেখ্য মো. নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে তখন দুর্নীতি দমন কমিশন একটি মামলা দায়ের করেছিল কিন্তু নাছির সেটি দশ লাখ টাকা খরচ করে হিমাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে নিজেই প্রচার করেছে। তাছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী প্রধানের লোভনীয় পদটি ফিরে পাবার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেছিলেন নাছির।

এক বছরের কাজ ১৭ দিনে শেষ: হরিলুট সাড়ে ৫ কোটি টাকা!
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের অন্যতম মো. নাছির উদ্দিন কোন আইনকেই তোয়াক্কা করেন না। একাধিকবার তার ভয়াবহ দুর্নীতির প্রমাণ পেলেও তাকে লঘু দন্ড দিয়ে রেহাই দেয়া হয়েছে। অথচ তার অপরাধ-দুর্নীতির মাত্রা এতই ভয়াবহ যে, নিয়ম মেনে শাস্তি দিলে এখন তার জেলে থাকার কথা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে বরাবরের মত এবারও রাজশাহীতে বদলী করে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছয়টি গণসচেতনতামূলক প্রচারণা সার্ভিস প্যাকেজ ছিল, যেগুলোর মাধ্যমে দেশব্যাপী মানুষদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত ১৩ জুন ২০১৯ এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেন ও ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে এক বছরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। ভুয়া বিল- ভাউচার বানিয়ে কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে এই কাজটি করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক ডেপুটি চিফ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ মো. নাছির উদ্দিন।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কয়েকজন বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, এই কাজগুলো মূলত এনজিও’র মাধ্যমে করার কথা। ছয়টি প্যাকেজের একটি ছিল ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতামূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা করা, এরপর বিভাগীয়/জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে সনদ নেওয়ার কথা। কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। জালিয়াতির মাধ্যমে সিভিল সার্জনদেও স্বাক্ষর নকল করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধান শেষ হলে তুলে ধরা হবে কেঁচু খুরতে সাপ বেরিয়ে আসার কাহিনী।

নাছিরের ক্ষমতার উৎস!
মো. নাছির উদ্দিন ২০১৯ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর অবৈধভাবে ডেপুটি চিফ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন নিয়ে এসেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আগের মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি এই পদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির বরাদ্দ না থাকলেও তিনি ব্যবহার করেছেন দু’টি পাজেরো।
এই কর্মকর্তা কীভাবে আবার পদোন্নতি পেয়ে ফিরে আসলেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উল্লেখিত কর্মকর্তা স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ১৯৯৫ সালের নিয়োগবিধির বহির্ভূত ও অনুপ্রবেশকারী। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ বিধিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, হেলথ এডুকেটর পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ১০ বছর চাকরিপূর্তি সাপেক্ষে ৬০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে ও ৪০ ভাগ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগে জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পাবেন। একইভাবে ৬০ ভাগ জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পদোন্নতির মাধ্যমে ও ৪০ ভাগ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। কিন্তু মো. নাছির উদ্দিন কখনো হেলথ এডুকেটর বা পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ করা জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন না। ১৯৯৯ সালে এডিবি সাহায্যপুষ্ট দ্বিতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রকল্পের আওতায় (উন্নয়ন খাতে) স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি। সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো সরকারি ফিডারভুক্ত পদ নয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মো. নাছির উদ্দিনকে ২০০৬ সালের ১৬ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরে সরাসরি নিয়োগযোগ্য গবেষণা কর্মকর্তা পদে (নিজ বেতনে) পদায়ন করা হয়, যা স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ বিধিমালার পরিপন্থি বলে তৎকালীন প্রধান ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো তাকে পূর্বপদে বদলির প্রস্তাব করে এবং নিয়োগবিধি বহির্ভূত স্থায়ীকরণের আদেশ বাতিলের জন্য ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর দু’টি পৃথক চিঠি মহাপরিচালক বরাবর পাঠায়। তাছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগবিধির কোন শর্ত পূরণ না করায় উন্নয়ন খাত/প্রকল্প থেকে অনুপ্রবেশকারী মো. নাছির উদ্দিনকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে অপসারণের জন্য মহাপরিচালক বরাবর তৎকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে কর্মরত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে তাকে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বদলী করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ও টেন্ডার-সংক্রান্ত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ডা. ইশরাত জাহান ছাড়াও ১২ জনের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের নামও ছিল।
এদিকে নাছির উদ্দিনের অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে তার নামে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়। ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের সই করা অভিযোগনামায় বলা হয়েছিল, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি প্রায়ই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্ব্যবহার, অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতেন। এমনকি প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী তার যন্ত্রণায় অতিষ্ট। তাছাড়া বহিরাগত বা সন্ত্রাসী এনে অফিসে হুমকি-ধামকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এরপর ২০১৫ সালের ২৭ মে নাছির উদ্দিনকে নেত্রকোনার সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে না গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে থেকেই দূর্নীতির কার্যক্রম চালাতে থাকেন। এসময় তাকে অফিস কক্ষ ও ব্যবহার্য মালামাল দপ্তরের স্টোর অ্যান্ড সাপ্লাই অফিসের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা অগ্রাহ্য করে একই স্থানে অবস্থান করেন।
এছাড়া ২০১৪ সালে কক্সবাজারে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘পরিপ্রেক্ষিত’ অভিযোগ করে। সেবার ‘মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগ প্রতিরোধ’ শীর্ষক প্রচারাভিযানের দায়িত্বে থাকা ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি নারী সরবরাহের মতো অশালীন প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তিনি মদ্যপ ও অসংযত অবস্থায় মহেশখালীতে চলমান কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে অন্যদের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়লে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে নাছির উদ্দিন বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে কমিটির সভাস্থল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবের (আইন) অফিসকক্ষ ও কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে আক্রমণ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করলে অন্য কর্মকর্তাদের বাধায় সেখান থেকে চলে আসেন। তবে পরে আবার সরকারি অফিসের বাইরে ওইসব কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন ও হুমকি দেন। এতকিছুর পরেও নাছিরের দাপট নিয়ে শঙ্কিত পর্যবেক্ষক মহল, নাছিরের ক্ষমতার উৎস কোথায় তা তলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

Related Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

মৎস্য খাতে অর্জিত সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদমৎস্যখাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে...

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ।...