Wednesday, October 27, 2021

স্বাস্থ্য বিভাগের কালো বিড়াল চরিত্রহীন নাছির উদ্দিন

সারাদেশে ১৭ দিনে ৭২ টি কর্মশালা করে আলোচনায়

দূর্নীতি, জালিয়াতি ও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগে নাছিরকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে শাস্তি দিয়ে (দুই গ্রেড নিচে নামিয়ে) বদলী করার পর দূর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিল। সেসময় দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন লক্ষ্মীপুরের জয়নাল আবেদীন। দূর্নীতির একাধিক মামলায় আসামীদের ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। নাছির নিজের মামলা থেকে দায়মুক্তি পেতে লক্ষ্মীপুরের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সাথে ১০ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে ৫ লাখ অগ্রীম দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ গুরুতর এবং প্রমাণিত হওয়ায় দায়মুক্তি নিতে পারেননি। পরে টাকা ফেরত পাবার লক্ষ্যে পুরানা পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে কয়েক দফা দেন-দরবার করেও টাকা ফেরত না পেয়ে তার এলাকা বাঞ্ছারামপুরের এক প্রভাশালী আওয়ামী লীগ নেতাকে ম্যানেজ করে মামলাটি ধামাচাপা দিয়েছেন এবং আবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে ফিরে গিয়ে একটি প্রচারণা প্যাকেজ থেকেই লুটপাট করেছেন সাড়ে ৫ কোটি টাকা। এবারও তাকে কোন শাস্তি না দিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় অফিসে বদলী করে দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ও টেন্ডার-সংক্রান্ত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ডা. ইশরাত জাহান ছাড়াও ১২ জনের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের নামও ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক বছরের কাজ সেরে ফেলেছেন মাত্র ১৭ দিনে। সবই করেছেন ঘরে বসে কাগজে কলমে। ছয়টি বেসরকারী সংস্থার সাথে যোগসাজসে গোপন চুক্তিতে কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে পুরো টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। একাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক (বর্তমানে এলপিআর-এ আছেন) লাইন ডিরেক্টর এহসানুল করিম। দুর্নীতির কারণে ইতির্পর্বে কয়েকবার নাছিরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন, কিন্তু রহস্যজনক কারণে তদন্ত থেমে গেছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ৬টি প্রচারণা প্যাকেজে দুর্নীতি ধরা পড়ার পর নাছিরকে রাজশাহীতে বদলি করে দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রাজশাহীতে বদলি করা হলেও তিনি অফিস করেন ঢাকায় বসেই, মাসে একবার গিয়ে বেতন নিয়ে চলে আসেন।
লম্পট নাছিরের কারনে স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। একাধিকবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যত কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তিনি প্রতি রাতেই মদ ও নারী নিয়ে ফুর্তিতে লিপ্ত হন রাজধানীর বিভিন্ন গোপন সেক্স সেন্টারে। মদ ও নারী ছাড়া একটি রাতও কাটে না তার। কক্সবাজারে একটি ট্যুরে গিয়ে রাতে মাতাল হয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মচারীদের কাছে রাতের জন্য মেয়ে যোগার করে দিতে বলেছিলেন। রাতে মেয়ে না দেয়ায় তিনি পরদিন অনুষ্টানে যাননি। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং তদন্তে নাছির দোষী সাব্যস্ত হয়। অনেক কষ্টে সেবার বেঁচে যান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী প্রধান পদটি লাভ করে মো. নাছির উদ্দিন যেন হাতের মুঠোয় আকাশ পেয়ে যায়। দুর্নীতি ও লুটপাট করে তিনি রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। বিষয়টি নজরে এলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযুক্ত হওয়ায় কমিটি মো. নাছির উদ্দিনকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার ওই সময়ের বেতন স্কেল থেকে দুই ধাপ অবনমনের শাস্তি দেয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে তাকে ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসে বদলি করা হয়।

সারাদেশে ১৭ দিনে ৭৩ টি কর্মশালা!
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছয়টি গণসচেতনতামূলক প্রচারণা সার্ভিস প্যাকেজ ছিল, যেগুলোর মাধ্যমে দেশব্যাপী মানুষদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত ১৩ জুন ২০১৯ এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ দেন ও ৩০ জুনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ এক্ষেত্রে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে এক বছরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এভাবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ৫ কোটি টাকা। ভুয়া বিল- ভাউচার বানিয়ে কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে এই কাজটি করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক ডেপুটি চিফ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ মো. নাছির উদ্দিন।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কয়েকজন বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, এই কাজগুলো মূলত এনজিও’র মাধ্যমে করার কথা। ছয়টি প্যাকেজের একটি ছিল ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতামূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা করা, এরপর বিভাগীয়/জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে সনদ নেওয়ার কথা। কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। জালিয়াতির মাধ্যমে সিভিল সার্জনদের স্বাক্ষর নকল করে প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধান শেষ হলে তুলে ধরা হবে কেঁচু খুরতে সাপ বেরিয়ে আসার কাহিনী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের অন্যতম মো. নাছির উদ্দিন কোন আইনকেই তোয়াক্কা করেন না। একাধিকবার তার ভয়াবহ দুর্নীতির প্রমাণ পেলেও তাকে লঘু দন্ড দিয়ে রেহাই দেয়া হয়েছে। অথচ তার অপরাধ-দুর্নীতির মাত্রা এতই ভয়াবহ যে, নিয়ম মেনে শাস্তি দিলে এখন তার জেলে থাকার কথা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে বরাবরের মত এবারও রাজশাহীতে বদলী করে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।

প্যাকেজ বাস্তবায়ন করেছে যারা
৬ টি বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দেখিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক ডেপুটি চিফ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার শীর্ষ দুর্নীতিবাজ মো. নাছির উদ্দিন। সংস্থাগলো কাজ শেষ করে যে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করলেই বুঝা যায় যে, রিপোর্টগুলো ঘরে বসে বানানো হয়েছে। কর্মসূচিগুলো কবে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কারা উপস্থিত ছিল সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হলে ‘তথ্যগুলো বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহের কাছে আছে, স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে নেই বলে জানান লাইন ডিরেক্টর সাইফুল ইসলাম। বাস্তবায়নসংক্রান্ত জরুরী কক্য-উপাত্ত ছাড়া কিভাবে বিল পরিশোধ করা হলো তা কারো বোধগম্য নয়। এবিষয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহের বিস্তারিত নি¤েœ তুলে ধরা হলো।

রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট (জঋউ)
রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট বাস্তবায়ন করেছে ‘স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ডকুমেন্টারী নির্মাণ করে জেলা পর্যায়ে প্রদর্শন ও ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতামূলক কর্মসূচি (খরভবংঃুষব ্ ঐবধষঃয ঊফঁপধঃরড়হ চৎড়সড়ঃরড়হ- চধপশধমব ঘড়: খ্ঐঊচ ঝ-০১/২০১৮/১৯)। এর মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা করা, এরপর বিভাগীয়/জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছ থেকে সনদ নেওয়ার কথা। এই প্যাকেজের জন্য বাজেট ছিল ৯৯,৩৫,৭৬৮ (নিরানব্বই লাখ পয়ঁত্রিশ হাজার সাত শত আটষট্টি) টাকা। ৬৪ টি জেলা, ৮টি বিভাগ ও একটি উপজেলায় মো ৭৩ টি কর্মশালা/সেমিনার/আলোচনা সভা মাত্র ১০ দিনে (২০-৩০ জুন ২০১৯) কিভাবে সম্ভব হলো সে প্রশ্নের কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। কর্মসূচিগুলো কবে কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কারা উপস্থিত ছিল সে বিষয়ে কিছুই উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে জানার জন্য রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট এর কার্যালয় ২৬ চামেলীবাগ (৩য় তলা) শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭ ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের ফোন নম্বর ০১৭২০৪০৯১৫৬-এ একাধিকবার ফোন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে তারা বিভাগীয়/জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সনদ জসা দিয়েছেন। বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন অফিসে যোগাযোগ করে জানা গেছে তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। একটু লক্ষ্য করলেই বুঝা যায় সবগুলো সনদ/প্রত্যয়নপত্র জাল, একই হাতের লেখা এবং একই ফরমেটে তৈরি। মজার ব্যাপার হচ্ছে রিসার্চ ফর ডেভেলপমেন্ট যে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতে কোন তারিখ নেই। অন্য ৫টি সংস্থার তথ্যগুলো নিয়ে রাজপথ বিচিত্রার অনুসন্ধানও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

নাছিরের ক্ষমতার উৎস নিয়ে প্রশ্ন
মো. নাছির উদ্দিন ২০১৯ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর অবৈধভাবে ডেপুটি চিফ ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে পদায়ন নিয়ে এসেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আগের মতো নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি এই পদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির বরাদ্দ না থাকলেও তিনি ব্যবহার করেছেন দু’টি পাজেরো।
এই কর্মকর্তা কীভাবে আবার পদোন্নতি পেয়ে ফিরে আসলেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছিলেন, এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উল্লেখিত কর্মকর্তা স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর ১৯৯৫ সালের নিয়োগবিধির বহির্ভূত ও অনুপ্রবেশকারী। স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ বিধিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, হেলথ এডুকেটর পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা ১০ বছর চাকরিপূর্তি সাপেক্ষে ৬০ ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে ও ৪০ ভাগ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগে জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পদে পদোন্নতি পাবেন। একইভাবে ৬০ ভাগ জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পদোন্নতির মাধ্যমে ও ৪০ ভাগ পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। কিন্তু মো. নাছির উদ্দিন কখনো হেলথ এডুকেটর বা পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ করা জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন না। ১৯৯৯ সালে এডিবি সাহায্যপুষ্ট দ্বিতীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রকল্পের আওতায় (উন্নয়ন খাতে) স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি। সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো সরকারি ফিডারভুক্ত পদ নয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মো. নাছির উদ্দিনকে ২০০৬ সালের ১৬ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরে সরাসরি নিয়োগযোগ্য গবেষণা কর্মকর্তা পদে (নিজ বেতনে) পদায়ন করা হয়, যা স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগ বিধিমালার পরিপন্থি বলে তৎকালীন প্রধান ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো তাকে পূর্বপদে বদলির প্রস্তাব করে এবং নিয়োগবিধি বহির্ভূত স্থায়ীকরণের আদেশ বাতিলের জন্য ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর দু’টি পৃথক চিঠি মহাপরিচালক বরাবর পাঠায়। তাছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর নিয়োগবিধির কোন শর্ত পূরণ না করায় উন্নয়ন খাত/প্রকল্প থেকে অনুপ্রবেশকারী মো. নাছির উদ্দিনকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরো থেকে অপসারণের জন্য মহাপরিচালক বরাবর তৎকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোতে কর্মরত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে তাকে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বদলী করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক ও টেন্ডার-সংক্রান্ত দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি ডা. ইশরাত জাহান ছাড়াও ১২ জনের সংশ্নিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিনের নামও ছিল।
এদিকে নাছির উদ্দিনের অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে তার নামে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয়। ২০১৫ সালে তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের এক সচিবের সই করা অভিযোগনামায় বলা হয়েছিল, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে তিনি প্রায়ই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্ব্যবহার, অশালীন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতেন। এমনকি প্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী তার যন্ত্রণায় অতিষ্ট। তাছাড়া বহিরাগত বা সন্ত্রাসী এনে অফিসে হুমকি-ধামকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এরপর ২০১৫ সালের ২৭ মে নাছির উদ্দিনকে নেত্রকোনার সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে না গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে থেকেই দূর্নীতির কার্যক্রম চালাতে থাকেন। এসময় তাকে অফিস কক্ষ ও ব্যবহার্য মালামাল দপ্তরের স্টোর অ্যান্ড সাপ্লাই অফিসের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা অগ্রাহ্য করে একই স্থানে অবস্থান করেন।
এছাড়া ২০১৪ সালে কক্সবাজারে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘পরিপ্রেক্ষিত’ অভিযোগ করে। সেবার ‘মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগ প্রতিরোধ’ শীর্ষক প্রচারাভিযানের দায়িত্বে থাকা ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি নারী সরবরাহের মতো অশালীন প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তিনি মদ্যপ ও অসংযত অবস্থায় মহেশখালীতে চলমান কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে অন্যদের সঙ্গে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়লে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে নাছির উদ্দিন বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে কমিটির সভাস্থল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিবের (আইন) অফিসকক্ষ ও কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে আক্রমণ করেন এবং মারধরের চেষ্টা করলে অন্য কর্মকর্তাদের বাধায় সেখান থেকে চলে আসেন। তবে পরে আবার সরকারি অফিসের বাইরে ওইসব কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন ও হুমকি দেন। এতকিছুর পরেও নাছিরের দাপট নিয়ে শঙ্কিত পর্যবেক্ষক মহল, নাছিরের ক্ষমতার উৎস কোথায় তা তলিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021