Thursday, January 27, 2022

সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে

৩০ কোটি টাকায় পদোন্নতি!
নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, খুবই লোভনীয় একটি পদ। ইতিপূর্বে যারাই এই পদের চেয়ারটিতে বসতে পেরেছেন তারাই হাজার কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন রাতারাতি। কথিত আছে বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীদের বাসায় টাকা যায় বাজারের বেগ অথবা মিষ্টির প্যাকেট ভর্তি হয়ে আর প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালকদের বাসায় টাকা যায় বস্তা ভর্তি হয়ে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বালিশকা- ঠিকাদার জি কে শামীমরা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ প্রকৌশলী কবির হোসেন, টিপু মুন্সী ও রফিকুল ইসলামরা প্রধান প্রকৌশলী হয়ে অনেক ম্যাজিক দেখিয়ে গেছেন। গণপূর্ত অধিদফতরে। একজন সহকারী প্রকৌশলী হয়েও আলী আকবর মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে স্বপদে বহাল আছেন বীরদর্পে। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী পদটির ৫০ কোটি টাকাও খরচ করতে রাজী থাকেন অনেকেই। ৩০ কোটি টাকা খরচ করে পদ বাগিয়ে নিয়ে এর প্রমাণ দিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী
মো: আশরাফুল আলম। ঘুষ নিয়ে এবং ‘ঘনিষ্ঠ’ ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ আগেই উঠেছে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, নামে-বেনামে দেশেই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশেও পাচার করেছেন। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও জমা পড়েছে অভিযোগ। সবশেষ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আশরাফুল আলমের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এবার অভিযোগে জানা গেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদ থেকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে ‘পরামর্শক’কে দেওয়ার জন্য ২০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছে আশরাফুল আলমকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, রীতিমতো স্ট্যাম্পে সই করে চেকের মাধ্যমে এই টাকা লেনদেন হয়। তবে তাতেও কাজ হয়নি। চুক্তির বাইরেও খরচ করতে হয়েছে আরও ১০ কোটি টাকা। বাড়তি এই অর্থ লেনদেন হয়েছে নগদ টাকায়। অর্থাৎ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থেকে প্রধান প্রকৌশলী হতে গণপূর্তের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে একজনের কাছে ২০ কোটি টাকা ও বিভিন্ন জায়গায় আরও ১০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৫তম ব্যাচের প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের গ্রামের বাড়ি বগুড়ায়। গণপূর্ত অধিদফতরের বিভিন্ন সূত্র এবং ঠিকাদাররা বলছেন, সেই সুবাদে ‘জিয়া পরিবারের প্রকৌশলী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিভিন্ন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থানে পোস্টিং পেয়েছেন। সবশেষ তিনি গণপূর্ত অধিদফতরের রংপুর জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুর জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকা অবস্থাতেই ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেতে একজনকে ‘পরামর্শক ফি’ বাবদ ২০ কোটি টাকা দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হয়। চুক্তিতে আশরাফুল আলমের পক্ষে তার শ্যালক সদরুল ইসলাম সায়মন এবং পরামর্শকের পক্ষে ঠিকাদার রিন্টু আনোয়ার সই করেন। চুক্তিনামায় ১১৪/৪ পশ্চিম আগারগাঁও, ১৬৪ উত্তর বাড্ডা ও ২৮ পূর্ব নয়া টোলা ঠিকানার তিন ব্যক্তির সইও আছে সাক্ষী হিসেবে।
চুক্তিনামায় আশরাফুলের শ্যালকের বয়ানে বলা হয়, আমার আত্মীয় (দুলাভাই) মো. আশরাফুল আলমের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতিতে সহযোগিতা করার জন্য রিন্টু আনোয়ারের সঙ্গে পরামর্শক হিসেবে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হলাম। পরামর্শক হিসেবে পারিশ্রমিকের বিনিময় ২০ কোটি টাকা নির্ধারিত হলো।
আশরাফুল ইসলামের শ্যালক সদরুল ইসলাম সায়মনের সই করা ওই চুক্তিনামায় আরও বলা হয়, আমি আশরাফুল আলমের সম্মতি, অনুরোধ ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিন্টু আনোয়ারের অফিসে (৩৪, বিজয় নগর, চতুর্থ তলা) উপস্থিত হয়ে আমার নামের অ্যাকাউন্টের ২০ কোটি টাকার তারিখবিহীন একটি চেক অগ্রিম হিসেবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নিজ হাতে সই করে হস্তান্তর করলাম। প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে আশরাফুল আলমের পদোন্নতির চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে রিন্টু আনোয়ার এই চেক নগদায়ন করে নিতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে আমি চেকটি নগদায়ন করে না দিলে রিন্টু আনোয়ার চেকটি ডিজঅনার করে আমার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
চুক্তিনামা ও ব্যাংক চেক পর্যালোচনা করে উভয় নথিতে সদরুল ইসলাম সায়মনের সই একই বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ১০ নভেম্বরের ওই চুক্তির পর ৩১ ডিসেম্বর গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান আশরাফুল আলম। তবে অভিযোগ ওঠে, এরপর চুক্তির ওই ২০ কোটি টাকা পরিশোধ করেননি তার শ্যালক সায়মন। গণপূর্তের একাধিক সূত্র জানায়, ওই টাকা তুলতে গত ২১ জুলাই রিন্টু আনোয়ার তার দলবলসহ প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের কক্ষে যান। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা ও ঠিকাদার এই কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা স্বীকার করেছেন।
চুক্তিনামায় আশরাফুল আলমের শ্যালক সায়মনের বাসার যে ঠিকানা রয়েছে, ধানমন্ডির সেই বাসায় গিয়ে দেখা পাওয়া যায় তার। চুক্তিনামার বিষয়টি বারবারই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি দাবি করেন, চুক্তিনামায় দেওয়া সই তার নয়। তবে তার এ দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
চুক্তিনামায় তার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দেওয়া আছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমি ভোটার আইডি কার্ড করিনি।’ চুক্তির বিষয়টি শেষ পর্যন্ত স্বীকার না করলেও তিনি আশরাফুল আলম ও রিন্টু আনোয়ারের মধ্যেকার সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে রিন্টু আনোয়ার সবকিছুই মিথ্যা বলে দাবী করেন।
এদিকে, ঘুষ দিয়ে পদোন্নতি পাওয়া ছাড়াও আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিভিন্ন কাজে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার নামে। এসব অভিযোগে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পৌঁছেছে।
এদিকে, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদক জানিয়েছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ায় আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রী সাবিনা আলমের সম্পদের হিসাব চেয়ে এর আগে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি নোটিশ দেয় দুদক। নোটিশে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে বলা হয়। এরপর দুদকের সহকারী পরিচালক মেফতাহুল জান্নাত প্রাথমিক অনুসন্ধানে আশরাফুল-সাবিনা দম্পতির জ্ঞান আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়ে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এবার তার সম্পদের অনুসন্ধানে দুদকের সহকারী পরিচালক সাইদুজ্জামানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। এবার যেকোনো মুহূর্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে গণপূর্তের এই কর্মকর্তাকে।

অভিযোগ বঙ্গভবন-পিএমও-তেও!
মো. আশরাফুল আলম। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব)। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ঘুষ নিয়ে এবং ‘ঘনিষ্ঠ’ ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ তার নামে রয়েছে অনেক আগে থেকেই। নামে-বেনামে দেশেই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতির চূড়ায় উঠে আসেন।
এমন নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আশরাফুল আলমের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ বলে জানা গেছে। কিন্তু বিভিন্ন মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ঢেলে সেই মামলা বন্ধের প্রক্রিয়া আশরাফুল চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, চার দলীয় জোট সরকারের আমলের ঘৃণ্য গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামির অন্যতম সহযোগীও ছিলেন আশরাফুল’ রয়েছে এমন অভিযোগও।
এতসব অভিযোগের পরও বহাল তবিয়তে নিজ পদে রয়েছেন মো. আশরাফুল আলম। তাতে করে গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে কেবল সংশ্লিষ্ট বিভাগে দফায় দফায় অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাননি ঠিকাদাররা। এ কারণে এবার তারা বাধ্য হয়ে আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সরকার ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব থেকে শুরু করে এই অভিযোগ তারা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। এমনকি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়েও এই অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। ওই অভিযোগপত্র ও তার সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন নথি কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পান কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম মের্সাস কাজী শাহ ইসলাম কনস্ট্রাকশন। অসাধু উপায়ে এই প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন আশরাফুল আলম। অভিযোগ আছে, মানহীন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে ওই ইনস্টিটিউট নির্মাণের কাজ এগিয়ে গেলেও কায়কোবাদ বা তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি আশরাফুলের হস্তক্ষেপেই।
পরে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৩ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সেই সুপারিশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগে বলা হয়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কায়কোবাদ এখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। এবং এখনো তার সঙ্গে আশরাফুলের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।
ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার কার্যক্রম আশরাফুল ধানমন্ডিতে পিডাব্লিউডি’র কার্যালয়ে বসে সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কার্যালয়কে তারা ‘হাওয়া ভবন-২’ হিসেবে আখ্যা দেন। বলেন, বিকেলের পর থেকে সেই কার্যালয়ে বসেই বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ‘ডিস্ট্রিবিউশন’ করেন তিনি।
এর আগে একাধিক জাতীয় দৈনিকে আশরাফুল আলমের বিভিন্ন কর্মকা- নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রংপুর) এবং ঢাকায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে নিযুক্ত থাকার সময়েই ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে। এসব প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে আশরাফুল আলমের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দেশে-বিদেশে এমন সম্পদের তথ্যের বিষয়ে জানতে চেয়ে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নোটিশও দিয়েছিল দুদক। সে জবাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু কোটি কোটি টাকা খরচ করে সেই প্রক্রিয়াকেও আশরাফুল আলম থামিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এখনো আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।
কেবল ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার বিষয়ে নয়, অধিদফতরের পিয়ন, কেরানি থেকে শুরু করে নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত বিভিন্ন পদের ‘বদলি বাণিজ্যে’র ক্ষেত্রে আশরাফুল আলম প্রধান হোতা বলে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তারা লিখিত অভিযোগে বলছেন, তাকে ‘সালামি’ দিয়ে ‘সন্তুষ্ট’ না করা পর্যন্ত পিডাব্লিউডি’র কোনো প্রকৌশলীই নিজ কর্মস্থলে ‘নিরাপদ’ নন। এই করোনাভাইরাসের সংকটকালেও টাকার বিনিময়ে পোস্টিং ও বদলির কার্যক্রম থেকে দমিয়ে রাখা যায়নি তাকে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ৮০ জন প্রকৌশলী, উপপ্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলীর বদলির পেছনেও তিনিই মূল ভূমিকা পালন করেছেন। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়েও অন্যদের ওপর চাপ তৈরি করা ও সুবিধা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার নামে। এসব অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগকারীরা আবেদন করেছেন, চলতি দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদফতরের এই প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যেন যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...