Wednesday, August 4, 2021

মেঘ পাহাড়ের দেশ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি মেঘালয়


॥ মিলু কাসেম ॥
মেঘের দেশ মেঘালয়। আমাদের নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের একটি। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে ভারতের প্রাকৃতিক পাহাড়ী সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন এই পার্বত্য প্রদেশটি। মেঘ-বৃষ্টির দেশ হিসেবেও মেঘালয়ের পরিচিতি ও খ্যাতি দুনিয়া জোড়া।
এক সময় এটি ছিল ভারতের বৃহত্তম রাজ্য আসামের অন্তর্গত। ১৯৭২ সালে আসাম ভেঙে সৃষ্টি হয় সেভেন সিস্টার খ্যাত আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, অরুণাচল, নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম রাজ্যের। সেই থেকে পূর্ণাঙ্গ পৃথক রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে মেঘালয়। এই রাজ্যের আয়তন ২২৪২৯ বর্গকিলোমিটার। পুরো রাজ্যে সমতল ভূমির পরিমাণ খুবই কম। পাহাড়ী এই রাজ্যে বাস করে প্রায় ২০ লাখ মানুষ। স্থানীয় অধিবাসীদের প্রায় একশ ভাগই পাহাড়ী অধিবাসী সম্প্রদায়ের। পাহাড়ী বিভিন্ন উপজাতি ছাড়াও এ রাজ্যের বিভিন্ন শহরাঞ্চলে বাস করেন অন্যত্র থেকে আসা বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ। এদের অধিকাংশই আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ থেকে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা হিন্দীভাষী মানুষও বাস করেন স্বল্পসংখ্যক। পার্বত্য উপত্যকা আর মালভূমি সমৃদ্ধ রাজ্য মেঘালয়ের প্রধান প্রধান উপজাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ খাসিয়া, গারো, লুসাই, হাজং, জৈন্তিয়া প্রভৃতি সম্প্রদায়। মেঘালয়ের সাতটি জেলার প্রতিটিতেই এদের বসবাস। জেলাগুলোর নামকরণও হয়েছে তাদের পরিচয়েইÑ পশ্চিম গারো হিলস, পূর্ব গারো হিলস, দক্ষিণ গারো হিলস, পশ্চিম খাসিয়া, পূর্ব খাসিয়া হিলস, রিভোই এবং জৈন্তিয়া হিলস ডিস্ট্রিক্ট।
এই পর্বতদূহিতা মেঘের দেশ মেঘালয়ের ছবির মতো সাজানো গোছানো রাজধানীর নাম শিলং। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরিচ্ছন্ন নগরী শিলং রূপ-লাবণ্য নৈসর্গিক সম্ভারে কোন দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই কাঠমুন্ডু, দার্জিলিং কিংবা সিকিমের গ্যাংটকের চেয়ে। পাহাড়ের পর পাহাড়ের ফাঁকে চমক জাগানিয়া নয়নাভিরাম দৃশ্যের ছড়াছড়ি, পাইনের গহিন অরণ্য, পাহাড়ের গা বেয়ে তির তির করে নেমে আসা ঝর্নাধারা, সুবিস্তৃত স্বচ্ছ সরোবর আর বর্ণালী সাজে সজ্জিত আদিবাসী সুন্দরী রমণীদের উচ্ছ্বল হাসি অভ্যাগতদের প্রাণে ছড়িয়ে দেয় অনাবিল মুগ্ধতা। তাই শিলংকে ডাকা হয় প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড। ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের সবুজ-শ্যামল আমাদের এই দেশটিতে বেড়ানোর মতো স্থান হাতেগোনা। কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, কাপ্তাই, চট্টগ্রাম, কুয়াকাটা, সিলেট, শ্রীমঙ্গল ছাড়া বেড়ানোর সুযোগ-সুবিধামত অবকাঠামো খুব কমই আছে আমাদের দেশে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে পাহাড়ী প্রাচীর তুলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অন্য দেশের রাজ্য মেঘের দেশ মেঘালয়। ভ্রমণে যারা আনন্দ খুঁজে ফেরেন, চান অন্যরকম বৈচিত্র্য অথবা কম খরচে ঘুরে আসতে চান দেশের বাইরে তাদের জন্য পাহাড়ী সৌন্দর্যের অপার ডালি সাজিয়ে অপেক্ষায় আছে ভারতের এই পর্বত রাজ্যটি। একাকী বা সপরিবারে বেড়িয়ে আসতে পারেন এই রাজ্যের রাজধানী প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড শৈল শহর শিলং। হানিমুনস্পট হিসেবে শিলং তুলনাহীন। শিলং বেড়ানোর মজাই আলাদা।
খাসিয়া হিলসের উপর ছবির মত সাজানো গোছানো শহর শিলং। পুরো শহরটাই গড়ে উঠেছে উঁচু-নিচু পাহাড়ের উপর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শিলং শহরের গড় উচ্চতা প্রায় পাঁচ হাজার ফুট। যে কারণে শহরটি ভারতের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে চিহ্নিত। শিলংয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। এ ধরনের সুন্দর পরিচ্ছন্ন সাজানো গোছানো শান্ত নগরী ভারতে আর নেই। শিলংয়ের প্রকৃতির মতোই সুন্দর এখানকার মানুষ। চাল-চলন, কথা-বার্তায়, জীবন-যাত্রায় অত্যন্ত স্মার্ট এখানকার মানুষের লাইফ স্টাইল ইউরোপীয় ধাঁচের। পাহাড়ী নগরী বলে শিলংয়ে কোন সমতল রাস্তা নেই। আর সে কারণে নেই রিকশার ঝামেলা। প্রাইভেট কার, ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস, বাস চলে আঁকা-বাঁকা পাহাড়ী পথে। শিলংয়ের রাস্তায় যানবাহন চলে সারিবদ্ধ। কেউ ট্রাফিক আইন অমান্য করে না। ঝকঝকে সুন্দর-পরিচ্ছন্ন এই শহরের কোন রাস্তার পাশে চোখে পড়ে না ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। কিংবা নোংরা পোশাক পরে কোন ভিক্ষুক হাত বাড়িয়ে আগলে দাঁড়ায় না রাস্তা। প্রকৃতির উজাড় করা সম্ভারের সাথে পাল্লা দিয়ে শিলংয়ের বাসিন্দারাও হয়ে উঠেছে শান্তিপ্রিয়। মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশ থেকে কেউ শিলংয়ে নতুন এলে চমকে যাবেন সর্বত্র আমাদের ‘সিলেটী’ ভাষার অবাধ ব্যবহার দেখে। পুলিশ বাজার, জি.এস রোডের বড় দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ সবখানে লোকজন কথা বলছে সিলেটী ভাষায়। মনে হবে বাংলাদেশের ভেতরেই সিলেটের কোথাও আছেন। এর কারণ এ অঞ্চলে সিলেট প্রত্যাগত অনেক মানুষ বাস করেন। তাছাড়া ১৯৪৭-এর দেশ বিভাগের পূর্বে সিলেট ছিল আসাম প্রদেশের একটি জেলা আর শিলং ছিল আসামের রাজধানী। তাই শিলং, গৌহাটি, শিলচর প্রভৃতি ভারতীয় শহরের জীবনযাত্রায় ভাষাগত দিক দিয়ে সিলেট অঞ্চলের মিল রয়েছে। উপজাতিসহ শিলংয়ের অধিকাংশ মানুষই সিলেটী ভাষাসহ বাংলা বুঝেন মোটামুটি। উপজাতিরা কথা বলেন নিজেদের ভাষায়। তবে সবচেয়ে অবাক লাগবে ওদের মুখে খাঁটি ইউরোপীয়ান ইংরেজী শোনে। বিশ্বাস হবে না ওরা যে ভারতীয় আদিবাসী। আসলে পুরো মেঘালয় রাজ্য জুড়ে রয়েছে খ্রিস্টান মিশনারীদের ব্যাপক কার্যক্রম। আর এদের তৎপরতায় ব্রিটিশ শিক্ষা পদ্ধতিতে আধুনিকভাবে শিক্ষিত হয়ে উঠেছে পাহাড়ী উপজাতিরা। তাই শিলংয়ের অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্কুল-কলেজসহ জীবনযাত্রার সর্বত্র ইংরেজীর আধিপত্য বেশি। শিলংয়ের আদিবাসী খাসিয়া, জৈন্তিয়া, গারো কিংবা লুসাই সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর কিংবা তরুণ-তরুণীর মুখে অনর্গল ইংরেজী শুনলে মনে হবে না এটা ভারতীয় কোন শহর। শিলংয়ের স্থানীয় অধিবাসীদের জীবনযাপনের ধরণও পশ্চিমা ধাঁচের। এখানকার অভিজাত এলাকা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে কখনো কখনো ব্যাংকক, হংকং কিংবা ম্যানিলা বলে ভুল হওয়া বিচিত্র নয়। শিক্ষানগরী হিসেবেও শিলংয়ের খ্যাতি সেই ব্রিটিশ আমল থেকে। অনেকগুলো ভালো আবাসিক স্কুল ও কলেজ রয়েছে। ইংরেজী মাধ্যমের এসব স্কুলে বাংলাদেশেরও অনেক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। সামরিক ঘাঁটি হিসেবেও শিলং প্রসিদ্ধ। ভারতের উত্তর-পূর্ভাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দফতর এই শহরে। সমস্ত শিলং জুড়ে ছড়িয়ে আছে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সুসজ্জিত আকর্ষণীয় দফতরসমূহ।
কেবল ভারতের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, স্বাস্থ্যকর শহর শিলং। পুরো শহরটার অবস্থানই পাঁচ হাজার ফুট পাহাড়ের উপর। আর পাহাড়ের মধ্য দিয়ে চলে গেছে পিচঢালা প্রশস্ত রাজপথ। শিলংয়ের অধিকাংশ বাড়িঘর টিনশেডের বাংলো টাইপের। সবুজ অরণ্যের সাথে মিল রেখে এসব বাংলোর টিনের চালে রয়েছে ঘন সবুজ রং। শিলংয়ের অভিজাত আবাসিক এলাকাতে রয়েছে আধুনিক ডিজাইনের বাড়িঘর। প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় কমলালেবুর বাগান। কমলার মৌসুমে গাছ ভর্তি পাকা কমলা সহজেই পাগল করে তুলে দেশি-বিদেশী পর্যটককে।
সাহিত্যপ্রিয় বাঙ্গালীদের কাছে শিলংয়ের রয়েছে আরেকটি পরিচিতি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’র স্মৃতি বিজড়িত শহর শিলং। অমিত-লাবণ্যের দুর্দান্ত প্রেম কাহিনীর পটভূমি গড়ে উঠেছে এই শহরে। যারা এই অমর উপন্যাসটি পড়েছেন তাদের কাছে নিশ্চয়ই শিলংয়ের অনুপম সৌন্দর্য অপরিচিত নয়। শিলংয়ের পাহাড়ী পথেই অমিতের সঙ্গে দেখা হয়েছিল লাবণ্যের। শেষের কবিতার বর্ণনার সাথে এখনো এ শহরের অনেক কিছু মিলে যায়। ১৯২৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তিন মাসের জন্য এসেছিলেন শিলংয়ে। দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়ি ‘জিৎভূমি’তে তিনি উঠেছিলেন। পাহাড় উপত্যকা আর গুপ্ত গুহার শহর কবিকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে, এখানে বসেই তিনি রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধ্রুপদী নাটক ‘রক্ত করবী’। শিলং শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘পুলিশ বাজার।’ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রও এটি। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ট্যুরিস্ট অফিস, পার্লামেন্ট হাউসÑ সবকিছুই এর কাছাকাছি। পুলিশ বাজারের পাশেই জি.এস রোড। এটাই শহরের মধ্যবর্তী প্রধান সড়ক। রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ বিপণীবিতান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ওয়াইন শপ। পুলিশ বাজার মোড় থেকে জি. এস রোড চলে গেছে ডাউন হয়ে বড় বাজারের দিকে। প্রধান সড়ক থেকে অনেকগুলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই বড় বাজার। শিলংয়ের বৃহৎ পাইকারী এবং কাঁচাবাজার এটি। এখানকার অধিকাংশ দোকান চালায় খাসিয়া মহিলারা। পর্যটন এলাকা বলে শিলংয়ে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। অধিকাংশই পুলিশ বাজার, জি.এস রোড এলাকায়। পোলো টাওয়ার, আল-পাইন, পাইনহুড, আশোক, কন্টিনেন্টাল শিলংয়ের সবচেয়ে ভালো হোটেল। তাছাড়া আছে সেন্টার পয়েন্ট, ব্রডওয়ে, ব্লু-পাইন, এস্বেসী, মনসুন, শিলং ক্লাবসহ মধ্যমানের অসংখ্য হোটেল। সারাবছর বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি পাওয়া যায় বলে শিলংয়ে খাবারের মানও অত্যন্ত ভালো। সর্বভারতীয় খাবারের পাশাপাশি বাঙালীদের রসনা তৃপ্তির জন্য রয়েছে হোটেল ‘সুরুচি’।
কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পেছনেই এর অবস্থান। সুরুচির শুঁটকি ভর্তা, মুড়িঘন্টের স্বাদ অনেক দিন মনে থাকবে। আর যারা বিফ ভুনা খেতে চান তাদের জন্য থানা রোডের ডিউলিপ হোটেলের সামনে রয়েছে ছোট্ট একটি খাবারের হোটেল। গরুর মাংসের স্বাদ নিতে পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। সত্যি এদের কষানো গরু মাংসের স্বাদ অতুলনীয়। আর দামও সস্তা, মাত্র ১৫/২০ রুপিতে পেটপুরে খাওয়া যায়।
শিলং এবং মেঘালয়ের সৌন্দর্য ভালোভাবে উপভোগ করতে হলে হাতে কয়েক দিনের সময় নিয়ে যেতে হবে। এ শহরে রিকশা বা বেবীট্যাক্সি ড্রাইভার স্থানীয় বলে এরা একই সাথে গাইডেরও দায়িত্ব পালন করে। এ ক্ষেত্রে ৫/৬শ রুপিতেই মোটামুটি শহরের আকর্ষণীয় স্পটগুলো দেখা হয়ে যাবে। এছাড়া রাজ্য পর্যটন দফতরের বাসে করেও স্পটগুলো দেখে আসতে পারেন। ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ১শ রুপির মধ্যেই। দেখার মত অনেক কিছুই আছে শিলংয়ে। এর মধ্যে বড়পানি লেক, নেহেরু পার্ক, শিলং পিক, এলিফ্যান্ট ফলস, ঈগলস ফলস, সুইট ফলস, মার্গারেট ফলস, ক্রিনোলাইস ফলস, ওয়ার্ডস লেক, লেডি হায়দরী পার্ক, গলফ কোর্স, হেলপ ক্যাথেট্রাল, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ অসংখ্য দেখার মত স্পট আছে। তবে সবচেয়ে চমৎকার পিকনিক স্পট শিলং পিক। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রাজ্যের সবচেয়ে উঁচু স্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে শিলং পিকের উচ্চতা সাড়ে ছয় হাজার ফুটের মতো। এখান থেকে অবলোকন করা যায় পুরো শিলং শহরের অপরূপ সৌন্দর্য। সন্ধ্যায় এখানে দাঁড়িয়ে শহরকে মনে হয় নক্ষত্রখচিত আকাশ। দিনের বেলায় অনেক সময় শিলং পিকে দাঁড়িয়ে মেঘ ছোঁয়া যায়। কলকাতার অনেক বাংলা সিনেমার গানের দৃশ্য চিত্রায়িত হয়েছে এই মনোরম লোকেশনে। শিলং গলফ কোর্স এবং গলফ ক্লাবের সুনাম অনেক দিনের। ভারতের তৃতীয় প্রাচীনতম গলফ কোর্স এটি। ১৮৮৯ সালে ইংরেজরা এটি প্রতিষ্ঠা করে। তখন এটি ছিল নয় গর্তের। ১৯২৪ সালে এই গলফ কোর্স রূপান্তর হয় আঠারো গর্তে। এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম গলফ মাঠ এটি। চারদিকে সবুজ আর সবুজ দু’চোখ জুড়িয়ে যায়। দূর থেকে মনে হয় বিশাল জায়গা জুড়ে সবুজ গালিচা বিছানো রয়েছে। অনেক হিন্দি-বাংলা সিনেমা ও নাটকের শুটিং হয় এখানে। শিলং গিয়ে বড়পানি লেক না দেখলে আপনার ভ্রমণ অপূর্ণ থেকে যাবে। শিলং-গৌহাটি মহাসড়কের পাশে অনেকগুলো পাহাড় পরিবেষ্টিত দৃষ্টিনন্দন বড়পানি লেক যে কোন পর্যটককে আকৃষ্ট করে। পর্যটকদের জন্য লেক এলাকায় থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ হোটেল-রেস্তোরাঁ, বার রয়েছে। এখানে গেলে সহজে আসতে মন চাইবে না।
শিলং ছাড়াও মেঘালয়ের আরো অনেক আকর্ষণীয় স্পট রয়েছে বেড়ানোর জন্য। এর মধ্যে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিবহুল স্থান চেরাপুঞ্জি, কাজিরাঙ্গা, নংপো, সেভেন স্টার ফলস ইত্যাদি। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মাত্র একশ কিলোমিটার দূরে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র আসামের রাজধানী গৌহাটি এবং যাদুনগরী কামরূপ কামাখ্যা। এসব স্থানে যাতায়াতের জন্য ট্যাক্সি এবং বাসের সুব্যবস্থা রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি যাবার মধ্যপথে একটি আকর্ষণীয় স্থান ‘মকডক’। ভারতের বৃহত্তম শুটিং স্পটগুলোর অন্যতম এটি। মকডক পৌঁছে মনে হবে জায়গাটা খুব পরিচিত। চেনা চেনা। বলিউডের অনেক সুপার-ডুপার হিট ছবির শুটিং হয়েছে এখানে। হিন্দি ফিল্ম যারা দেখেন তাদের কাছে মকডক মোটেই অপরিচিত নয়। এখানকার অপরূপ পাহাড়ী দৃশ্যাবলী দেখতে দেখতে হঠাৎ করে মুম্বাইয়ের হিরো-হিরোইনসহ কোন সিনেমার শুটিং ইউনিটের দেখাও পেয়ে যেতে পারেন। মকডকের খানিকটা দূরে একটি দুর্গম এলাকায় রয়েছে একটি উচ্ছল পাহাড়ী ঝর্না। পৃথিবীর চতুর্থ উচ্চতম এই ঝর্নার নাম ‘নূর কালিকাই ফলস’। অনেক উঁচু একটি পর্বত থেকে নেমে আসা অবিরাম জলধারার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ পর্যটকদের নিয়ে যায় অন্য ভুবনে। বর্ষায় এই ঝর্নার টইটম্বুর সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হতেই হবে।
শিলং থেকে চেরাপুঞ্জির দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা পথ দিয়েই যেতে হবে চেরাপুঞ্জি। এখানে সারা বছর বৃষ্টি হয়। বর্ষা লেগে থাকে বার মাস। তবে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই-আগস্ট মাসে। এ সময় একটানা ২০/২৫ দিন ঝুম বৃষ্টির পর ২/১ ঘণ্টার জন্য বৃষ্টি থামলেও আবার শুরু হয় টানা বর্ষণ। এখানকার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৫০০ ইঞ্চি। ১৯৬১ সালে চেরাপুঞ্জিতে পৃথিবীর সর্বকালের সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় ৯০৫ ইঞ্চি। যে কারণে পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাত অঞ্চল হিসেবে গ্রিনেজ বুক অব রেকর্ডে স্থান করে নেয় চেরাপুঞ্জি। জানা যায়, চেরাপুঞ্জিতে এক সময় ব্রিটিশ ভারতের বড় কর্তারা থাকতেন। বাংলো টাইপের সারিবদ্ধ পুরনো বাড়িগুলো সেই সাক্ষ্য বহন করছে। অত্যধিক বৃষ্টিপাত হলেও চেরাপুঞ্জিতে কাদা-মাটি বা জলাবদ্ধতার সন্ধান পাওয়া যায় না। অফুরন্ত বৃষ্টির পানি পাহাড়ী ঢাল বেয়ে সহজে নিচে নেমে যায়। তাছাড়া এ অঞ্চলের মাটি মোটা দানা সমৃদ্ধ বেলে জাতের। তাই সহজে পানি শোষণ করে নেয়। চেরাপুঞ্জির শেষ প্রান্তের আকর্ষণীয় সুউচ্চ পাথুরে এলাকাটির নাম ‘সুরমা ভ্যালী’। ঠিক এখানেই হঠাৎ করে পাহাড় শেষ হয়ে গেছে। এখান থেকে বাংলাদেশের ভোলাগঞ্জ আর ছাতক দেখা যায়। রাতের বেলা সিলেটের অনেক টাওয়ারের বাতিও চোখে পড়ে। সুরমা ভ্যালীর খোলা প্রান্তরে দাঁড়িয়ে চোখে পড়ে সামনে শুধু সমতল আর সমতল ভূমি। আর সহজেই মনে প্রশ্ন জাগে ব্রিটিশরা দেশ ভাগের সময় নিশ্চয়ই পক্ষপাতিত্ব করে আমাদের ভাগে কোন পাহাড় দেয়নি। চেরাপুঞ্জি যাবার বা ফেরার পথে দেখতে পারেন রহস্যময় ত্রি-মুখী সুড়ঙ্গ পথ ‘মৌসুমাই কেভ’। কথিত আছে এ সুড়ঙ্গ পথে লুকিয়ে আছে অশরীরি ডাইনীর দল। রূপসী নারীর ছদ্মবেশে ওরা আগন্তুকদের নিয়ে যায় ভুল পথে। এক সময় এখানে তিন দিকে তিনটি সুড়ঙ্গ পথ ছিল। একটি মুখ ছিল ৭৫ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। অপরটি ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে গিয়ে লেগেছে ১৪০ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে পর্যটকরা ঘুরে আসতে পারেন। এই ভূগর্ভস্থ এবড়ো-থেবড়ো পাথুরে পথ পাড়ি দিয়ে বের হওয়া যায় অন্য প্রান্ত দিয়ে। দুর্গম হুহার শিহরণ জাগানিয়া সুড়ঙ্গ পথটি আগে ছিল নিরেট অন্ধকার। এখন ভেতরে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সাহসী আর কষ্টসহিষ্ণু না হলে এই সুড়ঙ্গে প্রবেশ না করাই ভালো। চেরাপুঞ্জির আশপাশেও রয়েছে অনেক আকর্ষণীয় স্পট। শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি গিয়ে সারাদিন ঘুরে বিকেলেই ফেরত আসা যায়। কেউ রাত্রি যাপন করতে চাইলেও চেরাপুঞ্জিতে রয়েছে দি রেইন, রেইনবো, ইয়ুথ সেন্টার ইত্যাদি আবাসিক হোটেল। এছাড়া রাজ্য পর্যটক দফতরের সহায়তাও নিতে পারেন।
মেঘের রাজ্য মেঘালয়ের অবস্থান বাংলাদেশের সিলেট-সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলার উত্তর সীমান্তে। সড়ক পথে শিলং যেতে হলে যেতে হবে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে। জাফলং যারা গেছেন তাদের কাছে তামাবিল অবশ্যই পরিচিত। তামাবিল স্থলবন্দরের মোড় থেকেই চলে গেছে বাম দিকে একটি সড়ক জাফলং আর সোজা রাস্তাটি গেছে একটু সামনে বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টে তামাবিল সীমান্ত চেক পোস্টে। সিলেটের শিবগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে জাফলংগামী বাসে যাওয়া যায় তামাবিল। দেড় থেকে দু’ঘণ্টার জার্নি। মাইক্রো অথবা ট্যাক্সিতে গেলে সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টা। এশিয়ান হাইওয়ের কল্যাণে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় এসে গেছে তামাবিল। তাই এদিকের জার্নি এখন খুবই আরামদায়ক। থানা শহর জৈন্তাপুর থেকেই নজরে আসবে খাসিয়া জয়ন্তিয়া পাহাড় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। তামাবিল যেতে যেতে পাহাড় চলে আসবে একেবারেই কাছে। আসলে এখানে পাহাড়ই বাংলা-ভারতের সীমান্ত গড়েছে। তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের সীমান্ত চেক পোস্ট ‘ডাউকি’। সেখান থেকে শিলংয়ের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় সকাল ১১টার মধ্যে ডাউকি যেতে না পারলে শিলংগামী বাস পাওয়া যাবে না। যেতে হবে ট্যাক্সিতে। ট্যাক্সি সারা দিনই পাওয়া যায়। শিলং পর্যন্ত রিজার্ভ ভাড়া পড়বে এক হাজার থেকে ১২শ রুপি। আর বাস ভাড়া মাত্র ৩৫ রুপি। ট্যাক্সিতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।
ডাউকি থেকে শিলং যেতে প্রথমেই চোখে পড়বে সেই বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি। যা পাহাড়ী নদী পিয়াইনের উপর দুই পাহাড়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যারা জাফলং গেছেন তাদের কাছে এই সেতুটি অপরিচিত নয়। জাফলং থেকেই ঝুলন্ত এই সেতুটি অবলোকন করা যায়। সেতুটি ডাউকি শহরের পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত। সেতুটি পার হয়ে গাড়ি উঠতে থাকবে পাহাড়ী রাস্তা বেয়ে উপরের দিকে। বাম দিকে নজরে আসবে বাংলাদেশের জাফলং। ডাউকি থেকে জাফলং যাবার পথে রাস্তার দু’পাশে অপূর্ণ নৈসর্গিক বিচিত্র দৃশ্য ভরিয়ে দেবে ভ্রমণ বিলাসী মন। কখনো পাহাড়ের মাঝ দিয়ে, কখনো গিরিখাত দিয়ে আঁকা-বাঁকা পথ, কোথাও পাহাড়ের পিঠে পাহাড়ীদের টুকরো জনপদ চোখের দৃষ্টি অজান্তেই হারিয়ে যাবে প্রকৃতির আশ্চর্য অপূর্ব রূপ-লাবণ্যের মাঝে। শিলং যাবার মধ্য পথে পড়বে মহকুমা শহর ‘পাইনাসুলা’। সেখান থেকে শিলংগামী সড়কটি আস্তে আস্তে উঠে যাবে আরো উপরের দিকে। পাইনাসুলায় রয়েছে বাংলাদেশ ভিউ পয়েন্ট। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে দূরের বাংলাদেশের দৃশ্য দেখার মজাই আলাদা। পাইনাসুলা থেকে শিলংগামী পাহাড়ী সর্পিল রাস্তার গড় উচ্চতা ৪ থেকে ৫ হাজার ফুট। আকাশে মেঘ থাকলেও হাত বাড়িয়ে ছোঁয়া যায়। পেজাতুলোর মত মেঘ উড়ে যায় গা ঘেষে। দেহ মনে শীতল হাওয়া ছড়িয়ে দেবে রোমাঞ্চকর অনুভূতি। কোন সময় কুয়াশা বেশি হলে কিংবা কালো মেঘের কারণে গাড়ি চলতে পারে না। স্টার্ট বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। অথবা দিনে-দুপুরে হেড লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলে। এভাবে কয়েক মিনিট চলার পর আবার দেখা যায় রোদের ঝলক, আবার হয়তো ভারী বর্ষণ।
বাংলাদেশে যখন প্রচ- গরম তখন তামাবিল থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরের শিলংয়ে গিয়ে দেখবেন প্রচ- ঠান্ডা। গায়ে দিতে হতে পারে জ্যাকেট, রাতে হিটার ছেড়ে ঘুমোতে হতে পারে। শীতকালে প্রচ- ঠান্ডা পড়ে শিলংয়ে। গ্রীষ্মের আবহাওয়া ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক। বৃষ্টি-রোদ মিষ্টি মিষ্টি ঠান্ডা হাওয়া শিলংয়ের বৈশিষ্ট্য। বছরের যে কোন সময় শিলং ভ্রমণ করা যায়। তবে বর্ষায় গেলে ঝর্নাগুলোকে পাওয়া যায় পরিপূর্ণ যৌবনা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর কিংবা মার্চ-এপ্রিলের দিকে শিলং ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। তাই ব্যস্ততার ফাঁকে সময়-সুযোগ মত একবার অন্তত ঘুরে আসুন প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড স্বপ্নের শহর শিলং।
এক বছর আগেও যারা শিলং বেরিয়ে এসেছেন এ বছর শিলং গিয়ে হোঁচট খাবেন নানাভাবে। প্রায় সবকিছুই পাল্টে গেছে শিলংয়ের। এক বছর আগে যে টাকায় শিলং ঘুরে এসেছেন এবার লাগবে তার দ্বিগুণ। কারণ শুধু বাংলাদেশী পর্যটক নয়Ñ কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং বিদেশী পর্যটকদের ভিড়ে শিলং এখন টইটম্বুর। সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। আগে যেসব হোটেলের একটি কক্ষে ভাড়া ছিল ৫শ’ রুপি সে কক্ষটির ভাড়া এখন দুই হাজার রুপি। বাংলাদেশের একটি থ্রি স্টার হোটেলের ভাড়ার সমান। বাংলাদেশে একই মানের এ রকম একটি হোটেল কক্ষের ভাড়া হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা। খাদ্য পণ্যের দামও বেড়েছে অনেক গুণ। শপিং করার ইচ্ছা একেবারেই বাদ দিতে হবে। কারণ ভারতীয় যেসব পণ্য বিশেষ করে কাপড়-চোপড় যে টাকায় ঢাকায় কেনা যায়Ñ সেই পণ্যটি শিলং থেকে কিনতে হবে তিন গুণ টাকায়। তাছাড়া পছন্দসই কাপড়-চোপড় পাওয়াটাও কঠিন। তবে সেখানের মানুষ আইনের প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করেন না। রাস্তায় কোন টহল পুলিশ নেইÑ চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটতে শোনা যায়নি।
রাস্তায় ইউরোপিয়ান স্টাইলে টাইট জিন্স প্যান্ট আর টি- শার্ট পরে তরুণীরা হেঁটে যাচ্ছেÑ হেঁটে যাচ্ছে তরুণরাও কিন্তু কোন বিশৃংখলা নেই। নেই ইভটিজিং। রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে চলছে মারুতি-সুজুকি ট্যাক্সি ক্যাব। কোন ওভারটেকিং নেই, নেই যানজট। শহরে ভিক্ষুক নেই। নেই ধুলাবালি এবং কাদামাটি। বিভিন্নস্থানে বাঁশ-বেতের তৈরি ডাস্টবিন বসিয়ে রাখা হয়েছে। সবাই সেসব ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলছে। রাত ৮টার সময় বন্ধ হয়ে যায় সব দোকান পাঠ। আবার সকাল ১০টার সময় খোলে। ১০টার আগে খাবার হোটেলগুলোও খোলা হয় নাÑ ফলে খুব সকালে যাদের নাস্তা করার অভ্যাস তাদেরকে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। অবশ্য আবাসিক হোটেলগুলোতে সকালে নাস্তা পাওয়া যায় তবে ভ্যাট ট্যাক্স মিলিয়ে দাম আদায় করে নেয় ফাইভস্টার হোটেলের মতো। শিলং বিখ্যাত এলিফেন্ট ফলস-এ খাসিয়া রাজা-রানীদের পোশাক পরে কিছুক্ষণ রাজারানী সাজার ব্যবস্থা আছে এবং আছে ছবি তুলে সাথে সাথে প্রিন্ট করে নিয়ে আসার ব্যবস্থা।
শিলং শহরে কোন হাইরাইজ বিল্ডিং নেই। সেখানের নাগরিক ছাড়া অন্য কেউ কোন জায়গাজমি ও দোকানপাট কিনতে পারবেন নাÑ তবে ভাড়া নিতে পারবেন। কয়েক পুরুষ ধরে সেখানে বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং চাকরি করছেন সিলেট এলাকার অনেক নাগরিক কিন্তু সেখানে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারছেন না।
প্রকৃতির লীলাভূমি মেঘ পাহাড়ের দেশ মেঘালয়ের রাজধানী শিলং-এ একবার গেলে বার বার যেতে মন চাইবে। তবে মনে রাখতে হবে যে ফেরার সময় বিকাল ৪টার আগেই ডাউকি ইমিগ্রেশন অতিক্রম করতে হবে কারণ সাড়ে ৪টায় ওদের ইমিগ্রেশন অফিস বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া বাংলাদেশ ও ভারত ইমিগ্রেশনে কয়েকটি ফরম পূরণ করতেই দেড়/ দুই ঘন্টা সময় নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়টি আরেকটু সহজ করতে পারলে পর্যটকদের অনেক সময় বেঁচে যাবে।

Related Articles

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অবদানগুলোকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে: সৈয়দ টিটু

আনিসুজ্জামান খোকন :নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অবদানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,...

দীপিকার পায়জামা খুলে যাওয়ার রহস্য ফাঁস

কয়েক মাস বিরতির পর আবারও নেটমাধ্যমে ফিরেছেন বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। ফিরেই ইনস্টাগ্রামে নতুন একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভৌতিক কায়দায় সেই ভিডিওতে মুগ্ধ নেটাগরিকরা।...

লাইসেন্স ছাড়াই চলছে জয়যাত্রা টিভি

আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী ও এফবিসিআই-এর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা আইপি টিভির অফিসে অভিযানে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অবদানগুলোকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে: সৈয়দ টিটু

আনিসুজ্জামান খোকন :নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অবদানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,...

দীপিকার পায়জামা খুলে যাওয়ার রহস্য ফাঁস

কয়েক মাস বিরতির পর আবারও নেটমাধ্যমে ফিরেছেন বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন। ফিরেই ইনস্টাগ্রামে নতুন একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভৌতিক কায়দায় সেই ভিডিওতে মুগ্ধ নেটাগরিকরা।...

লাইসেন্স ছাড়াই চলছে জয়যাত্রা টিভি

আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী ও এফবিসিআই-এর পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন জয়যাত্রা আইপি টিভির অফিসে অভিযানে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই)...

হেলেনা আক্তার থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীর

বিভিন্ন সময় নানা ভাবে আলোচনা-সমালোচনায় আসা হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে গুলশানের নিজ বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। কখনও ব্যবসায়িক আবার কখনও...

আটকের পর রহস্যজনক হাসি হেলেনার

আওয়ামী লীগের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামসর্বস্ব সংগঠন ‘চাকরিজীবী লীগ’ নিয়ে আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী ও এফবিসিআই’র পরিচালক হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশানের বাসায় থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে।...