Thursday, September 23, 2021

মুক্তিযুদ্ধের গল্প : সহযাত্রা

ইউসুফ শরীফ
সামনে খোয়াওঠা পুরনো সড়ক। তারপর সিকি মাইল দূরে অর্ধ শুষ্ক নিরাভরণ এক নদী। নদী তীরে বহুদূর পর্যন্ত কোন বাড়িঘর-গাছপালা নেই। এই সড়ক পার হয়ে নদীর পাড়ে পৌঁছা কতটা নিরাপদ বুঝতে পারছে না। গতকাল প্রায় এরকমই একটা সড়ক পার হতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেছে।
সে তো শুধু একা নয়। সঙ্গে আরেকজন-না, ঠিক আরেকজন মাত্র নয়, বরং আরও একজন। একজনের মধ্যে আরেকজন তাকে লতিয়ে লতিয়ে চলেছে। অবরুদ্ধ জনপদ পার হয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু পার কি হতে পারছে? পারছে না। একটার পর একটা মাঠ, দূর থেকে দেখা গ্রাম-জনপদের প্রান্তরেখা, গাছপালার নীলচে ঘের পার হয়েও অবরোধমুক্ত হতে পারছে না। একটা গোটা দেশকে কিভাবে অবরুদ্ধ করা যায়-উন্মুক্ত নীল আকাশ-বহতা নদী-বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ-আম-জাম-বট- পাকুড়ের সবুজ তরঙ্গায়িত মেঘের ছায়া আর এই সবের বাঁকে বাঁকে সচল প্রাণবন্ত সব মানুষ-এখন ভয়ে-শংকায়-ত্রাসে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে চিকন তারের উপর দাঁড়িয়ে আছে-
সড়কের পাশে নিষিন্দার একটা ঝোঁপ জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত আশ্রয় হয়ে ওঠেছিল গতকাল। নিষিন্দা পাতার অন্যরকম এক ঘ্রাণ ছোটবেলার অনেক ভোরের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে জীবনের প্রবহমানতাকে আঁকড়ে রেখেছিল। গত কয়েকদিনের জীবন বাল্য-কৈশোরের সেই নিশ্চিন্ত ভোরকে আরেক জীবনের বিষয় করে তুলেছে। এখনকার এ জীবন অবিশ্বাস্য, কিন্তু বাস্তব এবং অসম্ভব বৈরি। নিরাপদ জীবন বলে আসলে কিছু ছিল কি না, এটাই এখন ভাবতে পারছে না। আপাতদৃষ্টিতে সবই ঠিকঠাক আছে, শুধু নিরাপত্তাটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কখনও কখনও অতি অল্প সময়ে অনেক ঘটনা জীবনকে এমন অক্টোপাসের মত আঁকড়ে ধরে যে, আর কোন কিছুই ওখানে প্রবেশের পথ পায় না। এরকম একটা অসম্ভব সময় জ্বলজ্যান্ত দানবের মত তাড়া করছে। রুদ্ধশ্বাসে ছুটছে তারা আরও অনেকের সঙ্গে-বহু মানুষের সঙ্গে। মানুষ শহর ছাড়ছে-গ্রাম ছাড়ছে-মানুষ মানুষকে ছাড়ছে-কেউ বাবা-মা ছাড়ছে-কেউ সন্তান-সন্তুতি ছাড়ছে-ছেড়ে আসছে-ছেড়ে আসতে হচ্ছে-ছেড়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে-কখনও সাথের লোকজনকে ছাড়িয়ে এসেছে, কখনওবা তারাই ওদের ছাড়িয়ে গেছে। কারা নতুন আর কারা পুরাতন-ঠাহর করার কোনই উপায় নেই।
পুরো দেশটাই কেউ উল্টে দিয়েছে। ঘরবাড়িকে আর ঘরবাড়ি মনে হচ্ছে না। গাছপালাকে আর গাছপালা নয়। মানুষকেও আর মনে হচ্ছে না মানুষ। যারা মানুষ হত্যা করছে, তারা যম নয়, যমের প্রেতাত্মা নিশ্চিত। যমের বাছ-বিচার আছে, প্রেতাত্মার নেই। আর যারা মানুষকে খাদ্য দিয়ে-আশ্রয় দিয়ে-সেবা দিয়ে প্রাণপণে আঁকড়ে রাখতে চাইছে-আরেকটা আক্রমণ সব তছনছ করে দেবে জেনেও-তাদের দিকে তাকালে মনে হয়, মানুষ মানুষের জন্য অত করে না-যদি করে তাহলে তারা হন অতিমানব। এসব ভাবনা তাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। সম্ভব-অসম্ভবের মাঝখানে, বিশ্বাস-অবিশ্বাসের মাঝখানে একটা অস্বস্তিকর হাইফেনের মত লাগছে নিজেকে।
আবিদের সঙ্গে যে আছে, তারও কি এরকমই মনে হচ্ছে? নিষ্কলুষ মুখে টলটলে লাবণ্যের উপর অসহ্য বেদনাভার ছাড়া আর কোন ছায়া দেখছে না। চকিত কোন ঝলকও নেই। তার ভেতরটা দেখার আকুতি তুষারপাতের মত একটু একটু জমা হচ্ছে আবিদের অনুভবে। কিন্তু সে তুষারপাত দুমড়ে-মুচড়ে মাড়িয়ে যাচ্ছে গুলি, মর্টার শেল আর কামানের গোলার শব্দ। কানের পর্দার উপর স্থায়ী সীল মারা হয়ে আছে পঁচিশে মার্চ কলজে ভেদকরা সশব্দ সেই মধ্যরাত। পরের দিনগুলোতে ভোর এসেছে-সূর্য উঠেছে-আলো ছড়িয়েছে, কিন্তু অন্ধকার কাটছে না। আবিদ স্পষ্ট দেখছে সাপের জিহ্বার মত বাদামি অন্ধকার মেঘের ছায়া ঢেকে রেখেছে এই দেশের শ্যামল রঙ। কোথাও গোলাগুলির শব্দ শুনলে মনে হয়, সেই শব্দ-ভান্ডার বিশাল হা করে আছে। তার ভেতর খোঁচা মেরে মেরে ওরা শব্দের অঙার উসকে দিচ্ছে। এই অনন্ত শব্দ তারই কানের একটা অংশ। যতদূর যাবে, এটা নিয়েই যেতে হবে।
কতদূর যাবে আবিদ? সঙ্গে যে আছে, সে যাবে কোথায়! কোথায় যাবে? আবিদ জানে না, সে নিজেও কি জানে, কতদূর এই গন্তব্য? কোথায় নির্বিঘ্নে শ্বাস নিতে পারবে? কোথায় পেছন থেকে বিভীষিকা আর তাড়া করবে না?
কোথায় যাবেন, আপনাকে দিয়ে যাব কোথায়?
জানি না, জানি না তো কোথায় যাব আমি!
তাহলে?
আমার যাওয়ার জায়গা! নেই, নির্দিষ্ট করা নেই-ছড়িয়ে গেছে সারাদেশে-
এসব প্রশ্ন-উত্তর কি তার সঙ্গে হয়েছে? আবিদ সচকিত, না তো! তাহলে? কোত্থেকে আসছে এ আলাপধ্বনি! দীঘল ছাদের পাতলা ফরসা শরীর, ডিম্বালু মুখের উপর ভাসা ভাসা বড় চোখে নিটোল দৃষ্টি। এ দৃষ্টি জীবনের গভীরতর আলোয় ভরা। তাকালে চোখ ফেরান যায় না। না, এখন সেখানে কোন আলো নেই। বারুদের উৎকট গন্ধমাখা ধোঁয়াটে অন্ধকার শুধু ছল ছল করছে। অন্ধকার জমে জমে টলমল-
প্রিয় শহর ঢাকা থেকে বেরিয়ে আসার কী প্রাণপণ আকুতি। দু’দিনের অপেক্ষা ছিল রুদ্ধশ্বাস। কখনও মনে হয়েছে, জীবনের ইলাস্টিক দু’পাশ থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, এখন তা গুটিয়ে যাবার অপেক্ষায়। আবিদের সঙ্গে যে আছে, সে যেন তারই শরীরের ছায়াÑলেপ্টে আছে তার অস্তিত্ব। হু-হা ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কিছু কি বলেছে? মনে করতে পারে না। আবার কখনও মনে হয়, অনেক কথা বলেছে-অত কথা, অত হৃদয়ছোঁয়া কথা যে, কোনটা রেখে কোনটা মনে পড়বে! তাই কোনটাই হৃদয় ছেড়ে আসছে না। তার কণ্ঠস্বর কেমন! দ্রুত লয়ের ভীত-সন্ত্রস্ত, কান্নাভেজা নাকি মার্চের আগুনরাঙানো? এই মাসটাই ফাল্গুনের পর চৈত্রের আগুনে পোড়া। বাতাসে দাবদাহ। প্রকৃতির বদলে যাওয়ার গন্ধ-ক’দিন পর বর্ষার অগ্রগামী দল ঝড়ের পাল উড়িয়ে আসবে। কিন্তু এ ক’দিন মানুষের শরীর আর রক্ত-পোড়া অদ্ভুত এক গন্ধ ছড়িয়েছে ঢাকার বাতাসে। এই গন্ধ শরীরের ভেতর রক্তে আগুন জ্বালায়। সেই প্ররোচনামাখা গন্ধটা পিছু পিছু আসছে, নাকি গন্ধের মেঘে মাথা জাগিয়ে তারাই দৌঁড়াচ্ছে! বাস্তবতা ধারণ করার মত স্থৈর্য নেই। এই গন্ধটা আগে কোনদিন আবিদ পায়নি। এরকম একটা গন্ধ বাতাসে লেপটাতে লেপটাতে এগোতে পারে, অমন ভাববারও কোন কারণ ছিল না। সে যে আলো-হাওয়া আর প্রকৃতিতে জন্মেছিল, সেখানে ছিল না অমন গন্ধ।
দুর্বিসহ ঘোর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই কথাগুলো কাউকে বলা দরকার। সে আলোচনা করতে চেয়েছে। কিন্তু সঙ্গের মানুষটার মুখের দিকে তাকিয়ে কোন উৎসাহ পায় না। আনন্দ-বেদনায়, বিস্ময়-কাতরতায় মানুষ ভাবনা ও বোধ ভাগাভাগি করতে চায়। সবাই তাই করছে। পারছে না আবিদ। সে কি ওকে ছেড়ে যাবে? ওর জন্য তার যাত্রা ধীর, শ্লথ। কিন্তু কোথায় যাবে এই তরুণী?
সে তো সাধারণ কোন তরুণী নয়। এরকম তরুণীর জন্য এই পৃথিবীতে বহু কিছু ঘটে গেছে। তদুপরি এ তরুণী সন্তানসম্ভবা-
আজ যে যুদ্ধটা শুরু হয়েছে, তা নিছক কোন তরুণীর জন্য হচ্ছে না, হচ্ছে মায়ের জন্য-মায়ের সন্তানের জন্য-সন্তান-সন্তুতির জন্য। এই তরুণীও নিশ্চিত চাইছে, তার সন্তান স্বাধীন দেশের মুক্ত মাটিতে অনাবিল আলো-হাওয়ায় জন্ম নেবে-
-আমি যদি তোমাদের হুকুম দিবার নাও পারি-তোমরা তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো…এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম-এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম-
সবুজ-শ্যামল এই দেশটির আত্মার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা সেই বলিষ্ঠ উদাত্ত কণ্ঠ বিশাল এক ছায়াবৃক্ষের মত ঢেকে রেখেছে গোটা দেশের যত তরুণ হৃদয়। তার হৃদয়েও তীব্র তাড়না-
কিন্তু এই তরুণী?
সামনের রাস্তা পেরিয়ে নদী পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া মানে জীবন হাতে করে শূন্যতা পার হওয়া। যে কোন সময় এই শূন্যতা জীবন গ্রাস করতে পারে। শূন্যতার ধুক-ধুকানি শুনতে পাচ্ছে সে। গত ক’দিনের হিম-আতঙ্ক আবার জব্দ করে ফেলল। অথচ শূন্যতার মধ্য দিয়েই পার হয়েছে চারদিন-তিনরাত। সাথে যে আছে. তার হৃদয়ও শূন্যতা ঠাসা, কান্নায় ক্লান্ত। এখন সে আর কাঁদতে পারছে না। আবিদের তাই মনে হচ্ছে।
আবিদ যখন দৃষ্টি রাখে, স্পষ্ট দেখে ওই মুখে স্তরে স্তরে বেদনার তলায় জেগে আছে শূন্য এক দেশ। শূন্যতা তীব্র হাহাকার ছড়ায়। পথে পথে অসংখ্য হাহাকার বিলি কেটে এসেছে তারা। কোথায় হাহাকার নেই! এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত হাহাকারে অবরুদ্ধ এই শান্তস্নিগ্ধ সবুজ দেশ। হাহাকার আশ্রয় লাভের জন্য। ঘরবাড়ি দেশ সব কিছু আছে, শুধু নেই আশ্রয়। অস্তিত্ব নিয়ে নিরাপদ হওয়ার জন্য যে আশ্রয়, তা যে কত মূল্যবান-কত দুর্লভ সেটা একটা আস্ত দেশের সকল মানুষ একই সাথে একই রকম করে টের পাচ্ছে।
তরবারির মত নদীটির বিস্তার এখানে কোন ঘাটের অস্তিত্ব রাখেনি। কোন নৌকা যে নেই, তা এজন্য, নাকি নৌকা কাদের প্রয়োজনে-সেজন্য?
অবরুদ্ধ শহরে ক’দিন এক অচেনা ঘোরের মধ্যে কেটেছে। একটা রাত এবং ঠিক সাড়ে এগারোটায় গোটা শহর আক্রমণের শিকার হয়ে ওঠল। এ এক অদ্ভুত যুদ্ধক্ষেত্র! প্রতিপক্ষহীন লড়াই যে কত ভয়াবহ, বীভৎস ও সংহারক হতে পারে! বহু কষ্টে তাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন মা। বাবা অকস্মাৎ মারা যাবার পর তার রেখে যাওয়া কিছু টাকা আর স্কুল শিক্ষিকা মা’র নামমাত্র আয় ছিল তাদের সম্বল। ছোট বোনের বিয়ে এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার খরচ মেটাবার প্রায় অসম্ভব কাজটি মা করেছেন। কামানের গোলার শব্দে যখন কানে তালা লেগে যায়, মা তাকে ঘর থেকে বেরোতে দেননি। জোর করে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে নিজে বারান্দায় বের হলেন। আচমকা সশব্দ আগুনের তীব্র গ্রোত বারান্দাসহ ঘরের অর্ধেকটা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গেল-
নদীর এপারের গ্রামটাকে এখন আর চেনা যাচ্ছে না। গ্রামটা গায়ে-গতরে তাজা ছাই মেখে পোড়া কাঠের মত এলোমেলো শুয়ে আছে। সজলের সাথে অনেকবার এসেছে ওই গ্রামে। গাছপালায় ঘেরা সবুজ-শ্যামল গ্রাম, হাসি-আনন্দে প্রাণবন্ত মানুষ-তাদের ছাড়া এ তো কোন গ্রামই নয়, শুধু পোড়া মাটি-
সজল তার কবিতার বন্ধু, যে কবিতা আত্মার উচ্চারণ-
যার নাম জানে না, সেই তরুণীকে হাত ধরে নিয়ে সে পালাচ্ছে অগ্নিগর্ভ ঢাকা শহর থেকে। নাম জানাটার কোন প্রয়োজন বা তাগিদ আদৌ আছে? কতজনের নাম জানবে সে! হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। আসলে কি পালাচ্ছে, নাকি বাঁচার জন্য ছুটছে! তারা সব বাঙালি-তাদের ঘরবাড়ি-জনপদ-হাজার বছরের ইতিহাস সব মিসমার হয়ে যাচ্ছে। কামানের গোলা-মর্টার শেলের আঘাতে ছিন্নভিন্ন ইতিহাস রক্ষার জন্য তারা পালাচ্ছে। সুদূর অতীতে একদা মানুষ সহজলভ্য খাবারের সন্ধানে বসত বদল করত। আর এখন ফসলের মাঠ-ঘরভর্তি শস্য রেখে শুধু নিজের দেহটি নিয়ে ছুটছে।
তরুণীর মুখে তাকালে আবিদ যে শূন্যতা দেখে, সেই শূন্যতায় অসহায় নিরালম্ব একটি দেশ দেখে। সে দেশটাকেই ফেলে আসতে চেয়েছে। কে থেকে গেল-কে পড়ে গেল, তা দেখার অবকাশ নেই। নিজেকে ছাড়া এই পলায়নপর মিছিলে কারও কাছে আর কিছুই দেখবার-ভাববার বিষয় নয়-মূল্যবান নয়।
আবিদ এগিয়ে গিয়েছিল। ক্লান্ত-শ্রান্ত ফুঁপানো ধ্বনি তার পা জড়িয়ে ধরল। সে এগোতে পারেনি। তরুণী কিছু বলেনি, শুধু তাকিয়েছে। সোজাসুজি তার চোখে। এই তাকান বিষাদসিন্ধুর চেয়ে ঘন হাহাকারে মথিত।
আর পারছি না, হায় আল্লাহ!
ক্লান্তি অবসাদে লাবণ্যবতী এই নারীর ভেঙেপড়া দলিত কণ্ঠ তাকে পীড়িত করে। সে জানে এ নারী ভেঙে পড়ার জন্য নয়। অসহায়ত্ব মানুষকে কিভাবে দলামোচড়া করে তোলে। মানুষ মানুষকে চায়-হাত ধরতে চায়-সাহায্য চায়। এই চাওয়া অনুচ্চারিত। আবিদ ভালভাবে অনুভব করছে এই চাওয়ার এরচেয়ে বড় সময় আর নেই। এমন একটা সময় এক মানুষ আরেক মানুষকে সহজে ফেলে যেতে পারে, আবার পারেও না। সে পারেনি। ওকে ফেলে যেতে পারেনি।
সঙ্গে নেয়া মানে নিছক তরুণীটিকে সঙ্গে নেয়া নয়। তার সঙ্গে আরেকজন আছে। প্রথম দু’দিন সে বুঝতেই পারেনি-গতকাল সকালে-দুপুরে-রাতে। সে কি মেয়ে, না ছেলে, জানে না। কিন্তু তার মনে হয়, সে ছেলেই হবে। না হলে নারীটিকে দুবর্হভার এবং অপরিমেয় কষ্ট দেবে কেন! তারপরও তরুণী যখন তার স্ফীত উদরের দিকে তাকায়, তার চোখে অপরূপ এক স্বপ্ন চমকে ওঠে। একটি শিশু আধো আধো বাংলায় বলবে-মা-মা-মা, বাব্-বা-বা-
তার মনে হয়, এই বাংলা শব্দ ছাড়া তার অস্তিত্ব নেই-
প্রথম দু’দিন সে বুঝতে পারেনি, তরুণী জঠরে বহন করছে এক শিশু।
-আপনার নামটাই জানা হয়নি-
-আমরা ক’জনের নাম জানতে পারব? কতজন আমাদের সাথে এল-কতজন আগে গেছে এবং কতজন পেছনে আসবে-কতজনের নাম আমরা জানতে পারব? আসলে কি তারা বহুজন, নাকি একইজন!
আবিদ কোন জবাব দিতে পারে না। আসলে জবাব নেই।
দীর্ঘ মাঠ। ফসলের ক্ষেতে ধান ছাপিয়ে উঠেছে আগাছা আর ঘাসের জঙ্গল। ধান হয়ত হবে, তবে সেই ধান ঘাস থেকে আলাদা করে কাটা সম্ভব হবে না। কাটবে কে, কাটার লোক কোথায়? নিড়ানি দেয়ার লোক ছিল না, আগাছা পরিস্কারের দায় তো প্রকৃতি নেবে না। তাই কৃষকের আদরের ক্ষেতের এই দশা।
ক্ষেতখলার আইল পথে তরুণীকে নিয়ে অনেক কষ্টে এগোল। মাঠের মাঝামাঝি পৌঁছে দেখল অতক্ষণ কালচে সবুজ যে গ্রাম দেখছিল, তা ঠিক কালচে নয়, ধোঁয়াটে ছাইরঙ। গ্রামটা কি পুড়িয়ে দিয়েছে পাক আর্মি? ঢাকার কাছে এই গ্রামে দ্রুত হানা দেয়া অস্বাভাবিক নয়।
কিছু বোঝার আগেই তারা দেখল, গ্রামের পশ্চিমদিক থেকে মিলিটারি কনভয় এগিয়ে আসছে পূবদিকে। ওরা যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে নির্ঘাত ওই কনভয়ের সামনে পড়বে। হঠাৎ আবিদের মনে হল, মিলিটারির বাইনোকুলারেও তো অতক্ষণে ওরা নিশ্চয় ধরা পড়ে গেছে। সে দ্রুত চারপাশ তাকিয়ে বা-দিকে নিচু জমিতে বোরো ক্ষেতে নেমে গেল। তরুণী দ্রুত পা চালাতে পারে না। আবিদ যা কখনও ভাবেনি, তাই করে বসে, তরুণীতে কোলে তুলে নেয়। তরুণী বিব্রত ও বিরক্ত হয়ে ওঠতে যাবে, তখনই মিলিটারি কনভয় থেকে একটা মর্টার শেল আকাশে আগুন ছড়াতে ছড়াতে ওদের উপর দিয়ে ছুটে গেল-
ফনফনা সবুজ বোরোক্ষেত। ধানের ছড়া সোনালি রঙের সতেজ আভা। সবুজ বিলি কেটে ভেতরে ঢুকে গেল আবিদ।
এক সময় তরুণী আবিদের বুকের তলায় কুঁকড়ে ঢুকে পড়ল। তার নরম শরীর, শরীরের মধ্যভাগে বেড়েওঠা শিশুটির নানা অংশ আবিদকে ঘনিষ্ট স্পর্শে বেঁধে ফেলল। তরুণীর শরীর অতটা নরম, মসৃণ ও ধীরলয় উষ্ণতায় ভরা এবং সুবাসমদির-এই বোধ নয়, বরং কচি ধানের নরম ঘ্রাণ আর শিশুর শরীরী ঘ্রাণ মিলেমিশে ছড়াতে থাকে আবিদের মগ্নচৈতন্যে-
আবিদের কাছে এরকম শরীরী সংলগ্নতা একেবারে নতুন। কলা ভবনের বিশাল থামের আড়ালে একবার ওর ক্লাসমেট সাবেরা আচমকা শরীর ঠেকিয়ে ওকে চুম্বন করেছিল। এক সেকেন্ডেরও কম সময়ের সেই অতর্কিত পুলক অনুভব করার আগে ওকে চরম বিব্রত করে তুলেছিল। পরদিন ক্লাস শেষে কড়িডোরে সাবেরা ওকে টেনে ধরে, এ্যাই, তুমি কি রাগ করেছ ? আবিদ সংক্ষেপে বলে, না। সাবেরা বলে, ডিড ইউ এনজয় ইট?
সাবেরার কথা মনে পড়ল-
২৬ ফেব্রুয়ারি ওদের আজিমপুর কলোনীর কোয়ার্টারে গিয়ে অবাক আবিদ। দরজায় তালা ঝুলছে। সামনের ফ্ল্যাটের বাঙালি পরিবারটিও নেই। ফিরে এসে নীলক্ষেতে লাভলি কনফেকশনারি থেকে ফোন করল। নো রিপ্লাই-
পরদিন ওর বাবার অফিসে গেল। অফিস চলছে না। কোন কাজ নেই। কেউ কেউ এলেও অল্পক্ষণ বাইরে গল্প করে ফিরে যায় বায়তুল মোকাররম, পল্টন মাঠে। ওটাই এখন সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। না, সাবেরার বাবার কথা কেউ বলতে পারল না। ফেরার সময় একজন বলল, ও আপনি জাভেদ সাবকে চান। জাভেদ সাবরা কি আর আসবে, ওসব ভুলে যান, পাঞ্জাবিরা কি আর অফিস করার কথা ভাবছে!
দু’তিনটা ভস্মস্তূপ দেখে বুঝল, এখানে বাড়ি ছিল, তার ছাই পড়ে আছে। ক’দিন পর কালবোশেখি শুরু হবে, উড়ে যাবে এই ছাই। কোথায় যাবে? এই মাটিতেই কোথাও মিশে যাবে। আসলে যাবে কি?
এক জায়গায় এসে দেখল, সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিন্তু একটা বড় ঘরের অর্ধেকটা কুঁজো হয়ে হাঁটা মানুষের মত থমকে আছে।
সেই ঘরে কিছু চাল ছিল-অর্ধেক পোড়া, অর্ধেক ভাল। তা থেকে বেছে নিয়ে রান্না বসিয়ে আবিদ যখন গলদঘর্ম সেই তরুণী এসে নিঃশব্দে হাত লাগাল। কটা আলু পেল খুঁজে। সিদ্ধ দিয়ে ভর্তা করা হল। রান্না শেষ হওয়ার পর তরুণী গিয়ে এক কোণে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পড়ল। অল্পক্ষণের মধ্যে তরুণী নাক ডাকিয়ে ঘুমাতে লাগল। ও কতদিন ঘুমায় না? আবিদ জানে না। কিন্তু গত চারদিন যে সে ঘুমায়নি, এটা জানে।
আবিদ তাকে ডেকে তুলল। থালাটা সামনে দেয়ার পর আবিদের দিকে দ্বিধান্বিত চোখ তুলে তাকাল। আবিদ ইতিবাচক ইশারা করল। তরুণী থালায় চোখ বুলিয়ে সাথে সাথে খাওয়া শুরু করল গোগ্রাসে। দ্রুততালে তার হাত উঠানামা করছে। তার সবটুকু চেতনা ভাতের থালা আর মুখ-গহ্বরের মাঝখানে বিরামহীন মাক্কুর মত। আবিদ স্থির দৃষ্টিতে দেখল। খাবার যে মানুষের অস্তিত্বের এক মৌলিক বিষয়, তা স্পষ্ট হয় ক্ষুধাতুর মানুষের খাবার ভঙ্গিতে। এই ক’দিনে তরুণীর এই ভঙ্গি আর কখনও দেখেনি। তরুণী পেট পুরে খেল, স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই।
পরদিন হাঁটতে হাঁটতে অবশ তরুণী। একটা হালট দ্রুত পার হতে হবে। আবিদ হাত বাড়িয়ে দিল। তরুণী একবার হালটের আর একবার আবিদের চোখে চোখ রাখল। তারপর আবিদের হাতে রাখল তার দীঘল ছাদের হাত। এই শুরু। এরপর যতবার হাত রাখার দরকার হয়েছে, আবিদ হাত বাড়িয়েছে, তরুণী স্বচ্ছন্দে হাত ধরেছে।
তখনই একটা ট্রেনের হুইসেল। পরিচিত শব্দ শুনে থমকে দাঁড়াল তরুণী।
ওদের বাড়ি থেকে রেললাইন ছিল এক মাইল দূরে। গভীর রাতে ট্রেনের হুইসেলে ঘুম ভেঙে গেলে তার মনে হত, সে যেন সুতিয়াখলি গ্রামে নয়, যেন অন্য কোথাও-কোন সুদূরে-যেন পাকিস্তানে-কোন অচেনা সুন্দর জায়গায়-
ওর চাচাতো বোন রাহেলা’বু বিয়ের পর স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে-রাওয়ালপিন্ডি চলে গেছে-দেড়/দু’বছর পর পর আসে-কিছু না কিছু গিফট সবার জন্য নিয়ে আসে। ওর জন্যও আনে। গিফটের সাথে একবার পিআইএ বিমানে-বিমানবালাদের ছবিওয়ালা পিচবোর্ডের একটা পাখা রাহেলা’বু ওকে দিয়েছিল-এই পাঁচ বিমানবালা হয়ে ওঠেছিল তার কাছে সৌন্দর্যের আদর্শ-তাদের পিআইএ’র ইউনিফর্ম-মাথার স্কার্ফ-কালো বেল্টের ছোট্ট হাতঘড়ি-মুখে টলটলে মিষ্টি হাসি-বহু বহুদিন তাকে আবিষ্ট করে রাখে। রাহেলাবু’র কাছে করাচি-রাওয়ালপিন্ডি-লাহোরের গল্প-সালিমারবাগ-নূরজাহানের কবর…গরীব গোরে দ্বীপ জ্বেলো না…
এই ছনের চাল-ছনের বেড়া-দু’চারটা টিনের ঘর-সুতিয়াখালি গ্রাম-ময়মনসিংহ শহর-টিনের চালের দোকানপাট-গাঙ্গিনারপাড়ে লাল বিশাল পানির ট্যাঙ্কি-লাল ইটের উপর লাল করোগেট টিনের রেলস্টেশন-এই সব কিছু ছাড়িয়ে তার কাছে বাইরের পৃথিবীর একটা ছিমছাম জানালা-রাহেলা’বু’ তার দুটি ফুটফুটে বাচ্চা-কোন কিছু পাওয়ার সাথে সাথে আলতো কণ্ঠে, শুকরিয়া-সপ্রতিভ দুলাভাই-তারা যতদিন থাকত, একটা ভাললাগা মালা তাদের ঘিরে রাখত। ওর বারবার মনে হয়েছে, রাহেলা’বু আরেক জগতের মানুষ এখন-একটা বিয়ে এবং পশ্চিম পাকিস্তান যাত্রা আরেক জগতে নিয়ে গেছে রাহেলাবু’কে-
তার খুব বড় হওয়ার সাধ-সুন্দর হয়ে বাঁচার সাধ-রাহেলা বু’র মত করাচি-লাহোর-রাওয়ালপিন্ডির মত সব পেয়েছির শহর, যেখানে সবাই রাহেলা বু’র মত-দুলাভাইর মত-তাদের দুই বাচ্চার মত সুখের দোলায় দুলে-দুলে-সব পেয়েছি’র শহরে থাকার বড় সাধ তার। তা নাহলে তো বৃটিশ আমলই ভাল ছিল। একটি এমএ পাস স্বামী-কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি…
এই হল আমার গল্প-এই বলে তরুণী এ স্বপ্নের কথা জানাতে পারে না। এটা এখন আর তার স্বপ্ন নয়-আঁতিপাতি করে খুঁজেও পায় না-ওটা নেই-একদমই নেই-
রেবেকা নামের এই তরুণীর সারা আকাশজুড়ে এখন রক্তমাখা বিষাদচিত্র-রায়হানের বড় সখ ছিল মেয়ে হবে। ও বলত, মেয়েরা হল ঘরের লক্ষী। ঘরে মেয়ে না থাকলে শ্রী আসে না-
রেবেকা বলত, না, ছেলে হবে। ছেলে না হলে ঘরের শক্তি বাড়ে না-
রসিকতায় শুরু হলেও কখনও কখনও তা মান-অভিমানে গড়াত।
রেবেকার এক বান্ধবীর বড় বোনের বিয়েতে ওরা একজন আরেকজনকে দেখে। রেবেকার মনে রায়হান অনেকদিন নানাভাবে খেলা করে। অকস্মাৎ দেখা হয় ট্রেনে। বাড়ি যাচ্ছিল-রেবেকা চোরা চোখে দু’তিনবার দেখে নিশ্চিত হয়। কিন্তু কথা বলতে পারে না, আর তাকাতেও পারে না। অনেকক্ষণ ট্রেনের বাড়ি-যাচ্ছি-বাড়ি-যাচ্ছি…ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। জানালার বাইরে দৃশ্যাবলী গোলা আটা ছিটিয়ে দেবার মত আকাশে লেপটে যেতে থাকল মাত্র-
রায়হানের বুক ঢিব ঢিব করছে।
বিয়ে এবং স্বপ্ন…
তাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল, চৈত্রে। কিন্তু চৈত্রে বিয়ে হয় না এবং বোশেখে ঝড়-ঝাপটা, জৈষ্ঠ্যে খরা-এ দু’মাসও নয়, তারপর তো আষাঢ়-শ্রাবণ অবিরল বৃষ্টি-জলোধারা।
অগ্রহায়ণ-পৌষে হলে ভাল হয়, মা বলেছিলেন।
শীতকালটা বিয়ের জন্য কেন বেছে নেয়া হয়, তা নিয়ে রেবেকার ভাবনা ছিল না। রমনার সবুজ ঘাসে চিৎ হয়ে শুয়ে রায়হান দু’আঙুলে ওর আঙুল টিপে ধরে বলত, আর তো পারি না-
এরপর তারা বিরাট সাহসের একটা কাজ করে বসে। বিয়ে করে ফেলে-
আবিদকে এই সব কথাবার্তা বলবে? কি হবে বলে!
পাশের বাসার বউটি এসে চাপাস্বরে শুধু বলেছিল, মোড়ে অনেক মানুষের লাশ পড়ে আছে-ওখানে-
রায়হান উৎসুক অনেকের সাথে মোড়ে গিয়েছিল। প্রায় সারারাত এবং দিনের অর্ধেক অপেক্ষায় কেটেছে-রেবেকা মোড়ের দিকে যেতে পারেনি। বউটিই তাকে টেনে নিয়ে গলিপথে ঢুকে পড়ে-একটা মেয়েমানুষ আরেক মেয়েমানুষকে টানতে পারে না-এক সময় সে আর বউটিকে দেখে না-পেছনে রক্ত চারপাশ গ্রাস করে করে দ্রুত ধাবিত হচ্ছিল তার দিকে-সে ঢুকে যায় আধাবিধ্বস্ত এক ঘরে-আবিদ তাকে টেনে ভেতরে ঢোকায়-এরপর চারদিন তিনরাত তাদের সহযাত্রা-
আবিদ ওকে পাজাকোলা করে দৌঁড়ে পুরনো খোয়াওঠা সড়কটা পার হয়ে শুষ্ক নদীপাড়ে গড়িয়ে পড়ল। পেছনে মিলিটারি কনভয়ের শব্দ-মর্টার শেলের শব্দ ওদের ঢেকে হৃদয়ের ধুকপুকের ওপর লেপ্টে যেতে থাকল…

Related Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

মৎস্য খাতে অর্জিত সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদমৎস্যখাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে...

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ।...