Monday, September 20, 2021

ভোলায় বিআইডব্লিইটিএ’র সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র অফিস এখন দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। পূর্বের বকেয়া টাকা আদায় না করে পুনঃ ইজারা দেয়া, অনুমতি থাকলেও ঘাটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ভিড়তে না দেয়াসহ ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মাসিক উৎকোচ নেয়া এবং লঞ্চ ঘাট করা বাবদ অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা আদায় করাসহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা, গাজীপুর, (কালুপুর) বিশ্ব রোডের মাথার ঘাট ইজারাদার আনোয়ার হোসেনের অভিযোগে জানা যায়,
ভোলা বিআইডব্লিউটএ কর্তৃপক্ষ ২০২০ – ২০২১ অর্থ বছরে কোনো প্রকার দরপত্র আহ্বান ছাড়াই এবং ২০১৯ – ২০২০ অর্থ বছরের ঘাটের বকেয়া ৩৪ লাখ এবং সী ট্রাক ভাড়া বাবদ বকেয়া ১৭ লাখ টাকা সম্পূর্ন আদায় না করেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে ইলিশা লঞ্চ ঘাটের পূর্বের ইজারা বহাল রেখে ৫১ লাখ টাকার পে অর্ডারের বিপরীতে এবছর ভ্যাটসহ ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার টাকায় একই ব্যাক্তিদেরকে পূনঃ ইজারা দেয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বছরের শেষে জুন মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে সম্পূর্ন বকেয়া পরিশোধ করার পরই কেবলমাত্র পরবর্তি টেন্ডারে অংশগ্রহন করা হয়। কিন্তু বকেয়া আদায় না করেই সূবিধাভোগী হয়ে ওই ইজারাদারদের যোগ সাজশে ঘাট ইজারা দেয় সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান।
অপরদিকে, ইলিাশা গাজিপুর (কালুপুর) বিশ্ব রোডের মাথার লঞ্চ ঘাট থেকে মাত্র ১’শ ২০ গজের মধ্যে ইলিশা ঘাট ইজারা দেয়া নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। ইলিশা লঞ্চ ঘাটটি ছিল বর্তমান ইলিশা বাজার থেকে প্রায় পৌনে ১ কিঃমিঃ উত্তর পশ্চিমে। নদী ভাঙ্গনের কারনে বর্তমান ফেরী ঘাটের সংলগ্নে নিয়ে আসা হয় ইলিশা ঘাটটি এবং দেয়া হয় পল্টুন। ফলে ফেরী এবং লঞ্চের সাথে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
অন্যদিকে, ইলিশা ঘাট থেকে মাত্র ১শ’ ২০ গজ দুরে রয়েছে ইলিশা-গাজীপুর (কালুপুর) বিশ্বরোড রাস্তার মাথার লঞ্চ ঘটটি। এ লঞ্চ ঘাটটি ২০২০ – ২০২১ অর্থ বছরে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকার পে অর্ডারের বিপরীতে ৪১ লাখ ২৬ হাজার টাকায় এঘাটের ইজারা নেয় জনৈক আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, আমার ইজারা নেয়া এ ঘাটে ঢাকা টু মনপুরা ও হাতিয়ার যাত্রীবাহী লঞ্চ ফারহান-০, ফারহান-৩ ও ফারহান-৪ ঘাট করার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এর অনুমতি ও নির্দেশনা থাকা সত্যেও ইলিশা ঘাটের ইজারাদারদের সাথে কারসাজি করে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহন করে অনুমোদন করা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে হুমকী ধামকী দিয়ে লঞ্চগুলোকে ইলিশা ঘাটে ভীড়তে বাধ্য করছেন ওই সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান। ফলে ঘাটে লঞ্চ ভিরানোর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় বড় ধরনের লোকসান ও ক্ষতির সন্মূখীন হয়ে পড়েছে ঘাট ইজারাদার আনোয়ার হোসেন । বর্তমানে তার ঘাট বাতিলের হুমকীও দিয়েছেন কামরুজ্জামান।
একদিকে ইজারাদারের ঘাটে অনুমোদিত লঞ্চ ভিড়তে না দেয়া অপরদিকে লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ পারিজাত, দোয়েল পাখী, ও ফারহান-০ ইলিশা ঘাট করা বাবদ সরকারের ১৮০ টাকা টোল নির্ধারিত থাকলেও সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামান প্রত্যেক লঞ্চ থেকে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করেন বলে জানিয়েছে মালিক পক্ষের ওয়াহিদ কাজি, রুহুল আমিন ও সাধারন মালিক আবছার উদ্দিন। ওই সহকারী পরিচালক নিজেই অঘোষিত ইজারাদার, নৌ কর্তৃপক্ষ। এখানে একচ্ছত্র আধিপত্য তার।
এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভোলা বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক কামরুজ্জামানের সাথে আলাপ করলে তিনি বিভিন্ন সময়ে মিডিয়া কর্মীদের বিআইডব্লিউটিএর পরিচালকদের উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো ইজারাদারের বকেয়া নেই, বকেয়া জমার রশিদ রয়েছে। ঘাট সম্পর্কে বলেন, যা কিছু হয় উপরের নির্দেশে হয়।
২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের ৫১ লাখ টাকা বকেয়ার সত্যতা স্বীকার করে ইলিশা ঘাট ইজারাদার সরোয়ারদি মাস্টার বলেন, করোনার কারনে ৬ লাখ টাকা মওকূফ করেছে। তবে এখনও ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। তার ঘাটে অন্য ঘাটের লঞ্চ ভিড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ওই ঘাটটি কালুপুর মৌজায় নয়। তাই লঞ্চ গুলো আমার ঘাটে ভিড়ে।
ইলিশা (কালুপুর) বিশ্বরোড রাস্তার মাথা লঞ্চ ঘাটে তাসরীফ-১ ও তাসরীফ-২ লঞ্চ ভিড়ানো প্রসঙ্গে মেসার্স ফেয়ার নেভিগেশনের মহাপরিচালক ইকবাল হোসেন বলেন, পুর্বের অনুমোদন অনুযায়ী ইলিশা ঘাটেই আমাদের লঞ্চ ভিড়ে। তবে এ ঘাটের পাশে ফেরী ঘাট হওয়ায় যে কোনো সময়ে দূর্ঘটনার আশংকা থাকায় পার্শবর্তী ইলিশা (কালুপুর) বিশ্বরোড রাস্তার মাথার লঞ্চ ঘাটে ভিড়ানোর জন্য গত ২৭ জুলাই ২০২০ তারিখে নৌ-নিরাপত্তা, বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক বরাবরে আবেদন করেছি। অনুমতি পেলে ওই ঘাট করবো।

Related Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

মৎস্য খাতে অর্জিত সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদমৎস্যখাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে...

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ।...