Monday, September 20, 2021

বেরিয়ে আসছে মেয়র জাহাঙ্গীরের থলের বিড়াল

বিশ্ব এজতেমার টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আবদুল মান্নান পবিত্র বড় হজ্বের টাকা আত্মসাত করে আলোড়ণ সৃষ্টি করেছিলেন, আর বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ছোট হজ্ব অর্থাৎ বিশ্ব এজতেমার টাকা আত্মসাত করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগসহ বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ব্যানারে বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত ফাইলটিতে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পাশাপাশি প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যার মাষ্টারমাই- হিসেবে মেয়র জাহাঙ্গীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ‘রাজপথ বিচিত্রা’র হাতে ফাইলটি আসার পর পত্রিকার পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী টিম গঠন করে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা/কর্মচারীর সাথে আলাপকালে তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে কেউ-ই নাম প্রকাশ রাজী হননি। অনুসন্ধান এখনো অব্যাহত থাকায় ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি সংখ্যায় বিশ্ব এজতেমার নামে আত্মসাত করা বিপূল অঙ্কেও টাকার তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো।

অভিনব কৌশলে বিশ্ব এজতেমার টাকা আত্মসাত
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম দুই বছর হলো দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। গত ২বছরের বিশ্ব এজতেমা হতেই মেয়র ১৩ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ২০১৯ ও ২০২০ এই ২সালের বিশ্ব এজতেমার জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রথমে ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে একটি সভা আহবান করেন। তার সভাপতিত্বে ২য় সভাটি অনুষ্টিত হয় ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে। সভা শুরুর প্রথমে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন ‘ আগামী ১৫-১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব এজতেমা অনুষ্টিত হবে। নানা জটিলতার কারণে এবার সময় খুব কম পাওয়া গেছে, এই অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা খুবই জটিল। তিনি অন্যান্য বছর বিশ্ব এজতেমার প্যা-েল এজতেমা কর্তৃপক্ষ তৈরি করতেন কিন্তু এবার অনেক কাজ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে করতে হবে।’ সভায় এসব কাজের জন্য উপস্থিত কাউন্সিলরদেরকে দিয়ে ১০টি কমিটি করে দেন।
সরকারী বিধি অনুযায়ী কোন কাজের ব্যয় ৫লাখ টাকার বেশি হলে টে-ারের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করতে হয়। সুচতুর জাহাঙ্গীর বিশ্ব এজতেমার কাজগুলোকে ৮১টি ভাগে ভাগ করে লুটপাটের পথ সুগম করেছেন। একই ধরণের একাধিক কাজকে অসংখ্য ভাগে ভাগ করে ৪লাখ ৮৫হাজার থেকে ৪লাখ ৯৯ হাজার টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেখিয়েছেন। কাজের তালিকাটা দেখলেই দুর্নীতি ও লুটপাটের বিষয়টা পরিস্কার হয়ে যাবে।
১. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মধুমিতা ও আনারকলি রোডে সড়কবাতি স্থাপনের লক্ষ্যে এল ই ডি বাল্ব ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করন- ৪লাখ ৯৩হাজার ৭০৯ টাকা। ২. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মধুমিতা ও আনারকলি রোডে সড়কবাতি স্থাপনের লক্ষ্যে সার্ভিস কেবল ক্রয় করন- ৪লাখ ৯৬হাজার ৮০০ টাকা।
(এরকমভাবে বৈদ্যুতিক কাজগুলোকে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছে, বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। ৫ নম্বর এজে-ায় বলা হয়েছে- বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মিল গেইট হতে কামাড়পাড়া পর্যন্ত সড়কবাতি স্থাপনের লক্ষ্যে সার্ভিস কেবল ক্রয় করন-৪লাখ ৮৩হাজার টাকা)
৬. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হো-া রোড হতে ন্যাশনাল টিউব পর্যন্ত সড়কবাতি স্থাপনের লক্ষ্যে সার্ভিস কেবল ক্রয় করন-৪লাখ ৯৮হাজার ১৮০টাকা। ৭. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে পুলিশ, র‌্যাব, ডিজিএফআই ও জিসিসি কর্মকর্তাদের রাত যাপনের স্থানের জন্য সড়কবাতি স্থাপনের লক্ষ্যে এল ই ডি বাল্ব ও প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি ক্রয় করন-৪লাখ ৯৫হাজার ১৮০ টাকা। ৮. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে সকল গেইট, কন্ট্রোল রুম ও দেওয়ালে ডিজিটাল ব্যানার প্রস্তুত ও স্থাপন এবং দেওয়ালে রং করন- ৪লাখ ৮০হাজার টাকা। ৯, বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে ইজতেমা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ডিজিটাল ব্যানার স্থাপন (১ম অংশ)-৪লাখ ৮৫হাজার টাকা। ১০. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে ইজতেমা প্রদর্শনের লক্ষ্যে ডিজিটাল ব্যানার স্থাপন করন (২য় অংশ)- ৪লাখ ৯০হাজার টাকা। ১১. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে গাজীপুর র‌্যাব কন্ট্রোল রুম, মেডিকেল সেন্টার, থাকার রুম ব্যবস্থা স্থাপন- ৪লাখ ৯৫হাজার টাকা। ১২. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে গাজীপুর পুলিশের কন্ট্রোল রুম, মেডিকেল সেন্টার, থাকার রুম ব্যবস্থা স্থাপন- ৪লাখ ৯৭হাজার টাকা। ১৩. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে গাজীপুর গাজীপুর সিটি কন্ট্রোল রুম, মেডিকেল সেন্টার, সিভিল সার্জন, সাংবাদিকদেও থাকার রুম ব্যবস্থা স্থাপন- ৪লাখ ৯৮হাজার টাকা। ১৪. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে গাজীপুর পুলিশ কন্ট্রোল রুম, সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন- ৪লাখ ৯৭হাজার টাকা। ১৫. বিশ্ব এজতেমা ২০১৯ উপলক্ষে বিভিন্ন কন্ট্রোল রুমে ভিআইপি টয়লেট স্থাপন ১ম অংশ- ৪লাখ ৯৯হাজার টাকা এবং ২য় অংশ-৪লাখ ৯৯হাজার টাকা।
এভাবে ৮১টি মনগড়া ও হাস্যকর খাত দেখিয়ে কোন কাজ না করেই টাকাগুলো আত্মসাত করেছেন।
২০২০ সালের বিশ্ব এজতেমা উপলক্ষে ইজতেমা মাঠে বালু ভরাটের নামেই আত্মসাত করেছেন ৫ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কেনাকাটায় তার আত্মসাতের পরিমান ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।

Related Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

মৎস্য খাতে অর্জিত সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদমৎস্যখাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে...

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ।...