Sunday, October 17, 2021

বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প


—–-মো. হাবিবুর রহমান
প্রকল্প পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাছ উৎপাদন ও আহরণে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। এ ছাড়া স্বাদু পানির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির হারে দ্বিতীয় স্থানে ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বিশ্বে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় ক্রাস্টাশিয়ান্স ও ফিনফিশ উৎপাদনে যথাক্রমে অষ্টম ও ১২তম স্থান অধিকার করেছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পটি সারাদেশে মৎস্য চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।
‘জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার দি স্টেট অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার-২০২০’ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম। তেলাপিয়া উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ এবং এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশেরও বেশি আহরিত হয় বাংলাদেশে।
জানা যায়, করোনা মহামারীতে বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭০,৯৪৫.৩৯ মে. টন মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ৩,৯৮৫.১৫ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। করোনায় দেশের বাজার সংকুচিত হওয়ায় ক্ষতি পোষানোর লক্ষ্যে অতিরিক্ত মাছ ও মাংস সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট মৎস্য উৎপাদন ছিল ২৭.০১ লাখ মে. টন যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ৪৬ লাখ মে. টনে উন্নীত হয়েছে। মৎস্য অধিদফতর জানায়, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী থেকে ২০২০ সালে রেকর্ড ২৫৭৭১.৪০ কেজি রুই মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৯৮.২২ কেজি রেণু উৎপাদিত হয়েছে, যা কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে হালদাকে ইতিমধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হালদা নদীকে সংরক্ষণ ও সুরক্ষা প্রদানের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এদিকে ‘সামুদ্রিক মৎস্য আইন-২০২০’ একাদশ জাতীয় সংসদে ইতিমধ্যে পাস হয়েছে। ‘জাতীয় সামুদ্রিক মৎস্য নীতিমালা’ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মৎস্য অধিদফতরের আওতাধীন গবেষণা ও জরিপ জাহাজ ‘আর ভি মীন সন্ধানী’ বঙ্গোপসাগরে এ পর্যন্ত ২৫টি সার্ভে ক্রুজ পরিচালনা করে। জৈবিক বিশ্লেষণের ডাটাও সংরক্ষণ করা হয়েছে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় প্রচলিত ও অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদ আহরণের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির নবদিগন্ত উন্মোচন করতে নানা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প-এর প্রকল্প পরিচালক মো: হাবিবুর রহমান বলেন ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য সেক্টরের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৎস্য অধিদপ্তর বিগত কয়েক দশক ধরে যুগোপযোগী ও লাগসহ কর্মকান্ডের মাধ্যমে র্তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করে আসছে। তবে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ এর মাধ্যমে ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণের ধারণা একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাছ চাষের আধুনিক কলাকৌশল ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং চাষিদের সমস্যা জেনে তার প্রতিকার করা বা উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে সমস্যা নিরসন করা। লাগসহ প্রযুক্তি অনুসরণ করে মাছের চাষ করা হলে বর্তমানের দ্বিগুণ মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবিত নুতন নুতন প্রযুক্তি মৎস্য চাষীদের নিকট হন্তান্তর করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক কার্য়ক্রম পরিচালনা করার আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। এ বাস্তবতার আলোকে গ্রাম পর্যায়ে ফলাফল প্রদর্শনী খামার স্থাপন এবং চাষীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবাকে জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রকল্পটির কার্যক্রম প্রনয়ণ করা হয়েছে। যার সাফল্য এখন দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয়েছে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও সাফল্য
ক) স্থানীয় মৎস্য চাষীদের সম্পৃক্ত করে নির্বাচিত ইউনিয়ন সমূহের গ্রামের সকল বা অধিকাংশ পুকুরে এবং অন্যান্য চাষযোগ্য জলাশয়ে উন্নততর লাগসই প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। খ) মৎস্য অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, খড়পধষ ঊীঃবহংরড়হ ধমবহঃ ভড়ৎ ঋরংযবৎরবং ( খঊঅঋ) লিফ এবং স্থানীয় মৎস্য চাষীদের মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনিয়ন ভিত্তিক মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করা। গ) মাছ ও চিংড়ি চাষ, পোনা ব্যবসা এবং অন্যান্য মৎস্য ভিত্তিক আয় বর্ধক কর্মসূচীর মাধ্যমে স্থানীয় পুরুষ ও নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। ঘ) প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রদর্শনী খামার স্থাপনসহ স্থানীয় মৎস্য উন্নয়ন কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদকে সম্পৃক্ত করে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রুপদান করা। ফলে মাছ চাষ সম্প্রসারণ ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ
একজন চাষীর মাধ্যমে অন্যান্য চাষীর কাছে প্রযুক্তি সেবা প্রসার অর্থাৎ ট্রিকল ডাউন মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত ও দলভিত্তিক সংযোগ রক্ষার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে লিফ ও বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় একাধিক ফলাফল প্রদর্শক (আরডি) নির্বাচন করা হয়। কার্প মিশ্র চাষসহ প্রত্যেক প্যাকাজের ক্ষেত্রে প্রতি আরডির জন্য ০৫ জন করে এফএফ (বন্ধু চাষী) রয়েছে। আরডিদেরকে ফলাফল প্রদর্শনী পুকুরের জন্য প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিক ও কারিগরী সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত চাষীদের কাছ থেকে এলাকার অন্যান্য পুকুর মালিকগণ মাছ চাষের আধুনিক ও লাগসহ প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারছেন।

প্রকল্পে বাস্তবায়িত প্যাকেজ সমূহঃ
কার্প নার্সারী ফলাফল প্রদর্শনীঃ

ভাল জাতের পোনা মজুদ করা মৎস্য চাষে সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত। মৎস্য অধিদপ্তরের প্রযুক্তি হন্তান্তর কর্মসূচীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কিন্ত ইউনিয়ন পর্যায়ে গুনগতমান সম্পন্ন পোনা উৎপাদনের প্রযুক্তি তেমনভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছিল না। ফলে মাছের সার্বিক উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। এই প্রকল্পের ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষীগণ নিজেদের এলাকাতেই হাতের কাছে ভাল পোনা যাতে অনায়াসেই পেতে পারেন সেলক্ষ্যে নার্সারী ফলাফল প্রদর্শনী কার্যক্রম অত্র প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ব নির্ধারিত চাহিদা মোতাবেক পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে করে দুরবর্তী স্থান থেকে বড় আকারের পোনার পরিবহনজনিত মচ্ছ্যুহার কমছে এবং গ্রামের পুকুরে সুস্থ সবল পোনা পৌঁছানো সম্ভভ হচ্ছে। তাই আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং ব্যয় বহুল যানবাহনের প্রয়োজন হচ্ছে না।

গলদা-কার্প মিশ্র চাষ প্রর্দশনীঃ
বাংলাদেশে গলদা-কার্প মিশ্র চাষের উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। গলদা চিংড়ি খুবই মুল্যবান ও জনপ্রিয় আমিষ জাতীয় খাদ্য। দেশে বিদেশে এর যথেষ্ট কদর ও বাজার মুল্য আছে। তাই এই মূল্যবান ফসল চাষীর দ্রুত আর্থিক উন্নয়নে অগ্রনী ভুমিকা রাখতে পারে। অতীতে দক্ষিনাঞ্চলে সমুদ্র উপকহলবর্তী এলাকায় সংগৃহীত প্রাকৃতিক পোনা দ্বারা চিংড়ি চাষ করা হত। বর্তমানে প্রাকৃতিক উৎস ছাড়াও সরকারী- বেসরকারী হ্যাচারীর মাধ্যমে চিংড়ি পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। কাজেই ফলাফল প্রদর্শনীর মাধ্যমে চাষীদের মাঝে চিংড়ি চাষ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গলদা চাষে সম্ভাব্য সুবিধাজনক স্থানে অর্থাৎ যেখানে পানি পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক ও হ্যাচারী উৎপাদিত পোনা প্রাপ্তির সুবিধা আছে সেসব এলাকাতে অত্র প্রকল্প থেকে গলদা-কার্প মিশ্র চাষ প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

ধানক্ষেতে মাছ চাষ প্রদর্শনীঃ
দেশে বর্তমান মোট আবাদী ফসল এলাকার আয়তন ৮.১৮ মিলিয়ন হেক্টর এবং কৃষি জমির পরিমান শতকরা ৮০ ভাগে ধান চাষ করা হয়, যার শতকরা ৫ ভাগ জমিতে ধানের সাথে মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের যেসব অঞ্চলে সেচের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদন করা হয়, যেসব অঞ্চল বৃষ্টির পানি নির্ভর ধান উৎপাদন সম্ভব এবং বন্যা প্লাবনমুক্ত এ ধরনের জমিতে ধানের সাথে মাছ চাষ করা যায়।
ধানের সাথে মাছের সমন্বিত চাষ কারিগরি ভাবে গ্রহনযোগ্য এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। অধিকন্ত ধানক্ষেতে মাছ চাষের সুবিধা হলো সমন্বিত জৈবিক উপায়ে পোকামাকড় ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করায় কীটনাশক ওষধের ব্যবহার হ্রাসের ফলে পরিবেশ সহনীয় খামার পদ্ধতি উন্নীত হয় এবং ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া একটি ফসলের পরিবর্তে ধান ও মাছের দুটি ফসল পাওয়া যায় এবং বর্ধিত উৎপাদন ও আয়ের জন্য কোন বাড়তি জমির প্রয়োজন হয় না। যে সকল জমিতে ধান কাটার পর কয়েক মাস পানি থাকে সে সকল জমিতে ধানের পরে মাছের চাণ করা সম্ভব। ধানক্ষেতে চাষের উপর্যুক্ত মাছের প্রজাতি হলো সরপুঁটি, নাইলোটিকা, কমনকার্প, গিফট তেলাপিয়া, শিং-মাগুর, গলদা চিংড়ি ইত্যাদি। উচ্চ ফলনশীল বিআর-৩, বিআর-১১, বিআর-১৪, বিআর-১৬ এবং পাইজাম ইত্যাদি জাতের ধানের সাথে মাছ চাষ করা যাচ্ছে।

কার্প-মিশ্র চাষ প্রদর্শনীঃ
গত কয়েক বছরে মাছ চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুকুরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্ত চাষীগণের কারিগরি জ্ঞানের অভাবে সীমাবদ্ধতার কারনে কাঙ্খিত মাত্রায় উৎপাদন হচ্ছিল না। প্রযুক্তি হন্তান্তরের অন্যতম সফল উপায় হল ফলাফল প্রদর্শনী খামার স্থাপন। এতে আশপাশের চাষীরা সরাসরি কার্যক্রম এবং ফলাফল দেখতে এবং শিখতে সক্ষম হয়। প্রদর্শনী খামারে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে পুকুর প্রস্ততি থেকে মাছ ধরা পর্যন্ত সকল কার্যক্রম প্রদর্শনের মাধ্যমে কার্প মিশ্র চাষ প্রযুক্তি স্থানীয় চাষীদের নিকট হন্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে।

দেশের ৪ হাজার ৩০০ পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে
৬১টি জেলার ৪৬৪টি উপজেলায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়নের একটি করে পুকুর বা জলাশয়ে মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাছ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি প্যাকেজ সম্প্রসারণ করে মাছের উৎপাদন ব্যাপকহারে বাড়ানো হচ্ছে। প্রথমে ৩ হাজার পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন করে পুকুর ও জলাশয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০০টি। এসব পুকুরে নতুন করে পাবদা-চিংড়ি ও টেংরা চাষ করা হচ্ছে।
প্রতি ইউনিয়নে একটি করে জলাশয় নির্বাচন করছেন চেয়ারম্যানের অধীনে গঠিত কমিটি। পুকুর বা জলশয়ের মালিককে ৩৫ হাজার টাকার উপকরণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। উপকরণের মধ্যে আছে ১০ হাজার টাকার মাছের পোনা, ১০ হাজার টাকার মাছের খাবারসহ বাকি টাকা পুকুর প্রস্তুতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩৫ হাজার টাকা প্রকল্প থেকে দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মৎস্য চাষের পরিধি বেড়েছে ফলে প্রকল্প এলাকায় মাছের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম মৎস্য চাষিদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। প্রকল্প শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১১৪ হেক্টর আয়তনের জলাশয়ে ১২ হাজার ৯৪৯টি বিভিন্ন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে বেজলাইন থেকে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ হাজার ৮২১ দশমিক ৭৬ মেট্রিক টন। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা চলমান প্রকল্পের ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। সারাদেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। আমরা জানি চিংড়ি, পাবদা ও টেংরা বিশেষ অঞ্চলের মাছ। কিন্তু প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ফলে এই মাছ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্যই মূলত প্রকল্পের আওতা ও মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ২৪২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৭০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি মার্চ ২০১৫ থেকে জুন ২০২০ মেয়াদে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। নতুন করে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে জুন ২০২২ সাল পর্যন্ত। মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্পের মোট ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩৯৫ কোটি ৯৭ লাখ। দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় বাড়ছে ১২৫ কোটি ৩৯ লাখ বা ৪৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় ৬১টি জেলার ৩৫৫টি উপজেলার ৩ হাজার ইউনিয়নে কার্যক্রম চলমান।
প্রকল্পের আওতায় তিন হাজার জলাশয়ে মৎস্য নার্সারি ফলাফল প্রদর্শনী, তিন হাজার জলাশয়ে কার্প মিশ্রচাষ ফলাফল প্রদর্শনী, তিন হাজার পুকুরে মনোসেক্স তেলাপিয়া ফলাফল প্রদর্শনী, দেড় হাজার পুকুরে পাঙ্গাস চাষ ফলাফল প্রদর্শনী, এক হাজার পুকুরে গলদা-বাগদা-কার্প মিশ্রচাষ ফলাফল প্রদর্শনী করা হচ্ছে।
এছাড়া ৫০০ পুকুরে কৈ-শিং মাগুর চাষ ফলাফল প্রদর্শনী, এক হাজার ধান খেতে মাছচাষ ফলাফল প্রদর্শনী, ৬৫০টি কার্প মিশ্রচাষ পাঙ্গাশ-তেলাপিয়া চাষ, ৩০০টি খাঁচায় মাছচাষ প্রদর্শনী করা হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বাংলাদেশে গলদা-কার্প মিশ্র চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। গলদা চিংড়ি খুবই মূল্যবান ও জনপ্রিয় আমিষ জাতীয় খাদ্য। দেশে-বিদেশে এর যথেষ্ট কদর ও বাজারমূল্য আছে। তাই এই মূল্যবান ফসল চাষির দ্রুত আর্থিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।

Related Articles

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

পল্লবীতে বাড়ি থেকে টাকা-স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ৩ বান্ধবী উধাও

অনলাইন ডেস্ক: কলেজ পড়ুয়া তিন বান্ধবী বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, স্কুল সার্টিফিকেট ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। রাজধানীর পল্লবীতে এই ঘটনা ঘটেছে।...

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...