Wednesday, December 1, 2021

পরীমণির বিয়ে বিয়ে খেলা


মডেলিং দিয়ে শুরু, এরপর নাটকে অভিনয় করে মিডিয়ার অলি-গলি চেনা, সবশেষে সিনেমায় এসে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া; চিত্রনায়িকা পরীমণির ক্যারিয়ারের সমীকরণটা এমনই। ২০১১ সালে তিনি ঢাকায় আসেন। এর চার বছর পর ২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন।
এ পর্যন্ত দুই ডজনের বেশি সিনেমায় দেখা গেছে পরীমণিকে। এর মধ্যে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘বিশ্বসুন্দরী’র জন্য বেশ প্রশংসিত হন তিনি। যদিও তার অভিনীত কোনো সিনেমাই পায়নি ব্যবসায়িক সাফল্য। তবুও একের পর এক সিনেমা এসেছে তার হাতে।
পেশাগত কাজের চেয়ে পরীমণি বেশি পরিচিতি পেয়েছেন তার ব্যক্তিগত নানা কর্মকাণ্ডে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তার বিয়ে ও বাগদান। সুদর্শনা এ নায়িকা দুটি বিয়ে করেছেন বলে শোনা যায়। আর একটি বাগদানের গল্প তো কম-বেশি সবারই জানা।
২০১৬ সালের দিকে ফেসবুকে কিছু ছবি ভাইরাল হয়। যেগুলোতে পরীমণিকে এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। শোনা যায়, ওই ব্যক্তির নাম ফেরদৌস কবীর সৌরভ। যিনি একজন ফুটবলার। তার সঙ্গে ২০১২ সালে পরীর বিয়ে হয়েছিল। তাদের বিয়ের কাবিননামার ছবিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও ওই বিয়ের কথা অস্বীকার করেছিলেন পরী। এমনকি উল্টো ক্ষেপে গিয়ে লাগামহীন নানা বক্তব্যও দিয়েছিলেন।
২০২০ সালের ১০ মার্চ পরীমণি দ্বিতীয় (তার মতে প্রথম) বিয়ে করেন। বরের নাম কামরুজ্জামান রনি। তিনি একজন সহকারী পরিচালক। মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। নাটকীয় সেই বিয়েতে তারা মাত্র ৩ টাকা কাবিন করেছিলেন। বিয়ের পর পরীমণি বলেছিলেন, কাবিন কোনো বিষয়ই না। পারস্পরিক সম্পর্কটাই আসল। রনিকে বিয়ে করে তিনি উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু কিছু দিন যাওয়ার পরই তাদের সম্পর্কের বিষয়টা আড়াল হতে থাকে। এক পর্যায়ে পরী জানান, তাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। আর বিয়েটাও সিরিয়াসলি করেননি।
এ তো গেল বিয়ের গল্প। এবার আসা যাক পরীর জমকালো বাগদানের ঘটনায়। ২০১৬ সাল থেকেই সাংবাদিক তামিম হাসানের সঙ্গে পরীর প্রেম শুরু হয়। নিজেদের প্রেম তারা দু’জনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার করেছেন। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জমকালো আয়োজনে তামিমের সঙ্গে পরীর বাগদান সম্পন্ন হয়। তখন তারা বলেছিলেন, পরবর্তী বছরের ভালোবাসা দিবসে বিয়ে করবেন। এরপর তারা একসঙ্গে মালদ্বীপে গিয়ে অবকাশ যাপন করে আসেন। কিন্তু কিছু দিন যেতেই শোনা যায়, তাদের সম্পর্ক ভেঙে গেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে পরী বরাবরই বাধাহীন মুক্ত পাখির মতো। নিজের যখন যা ইচ্ছে হয়েছে, তাই করেছেন। সেটা কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো হোক কিংবা বিয়ে। এসব বিষয়ে তিনি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছেন, সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছেন, কিন্তু গায়ে মাখেননি কিছুই।

প্রথম বিয়ে খালাত ভাইয়ের সঙ্গে
দেশের সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের শিংখালী গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন। তার পুরো নাম শামসুন নাহার স্মৃতি। তার নানারা খুবই গরিব ছিলেন। সেখানে এসএসসি পাসের পর খালাত ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয় পরীমনির।
পরীমনির নানা শামসুল হক গাজী জানান, পরীমনির মায়ের মৃত্যুর পর তাকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। সে আমাদের বাড়িতে থেকে স্থানীয় স্কুলে লেখাপড়া করে। অত্যন্ত মেধাবী ছিল সে। গরিব হওয়ায় কোনো প্রাইভেট পড়তে পারেননি পরীমনি। তারপরও তিনি ভগিরাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়।
তিনি জানান, প্রথমবার ফেল করলেও দ্বিতীয়বার এসএসসি পাশ করে। পরে স্থানীয় একটি কলেজে ভর্তি হলেও বরিশালে থাকা খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয়। সেখানে ২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদ হয়। স্থানীয়রা জানান, উচ্ছৃঙ্খল জীবনের জন্য খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ও ২০২০ সালে তৃতীয় বিয়ে হয় পরীমনির।

ফাঁস হলো প্রথম বিয়ের কাবিন
ঢালিউডের এই সময়ের আলোচিত ও সমালোচিত নায়িকা পরীমনি। সিনেমার জগতে পরীমনি আলোচিত হলেও ব্যক্তিজীবন নিয়ে সমালোচনার ঝড়ের মুখে বারবার তাকে পড়তে হচ্ছে। গণমাধ্যমে উঠে এসেছে তার অতীত দাম্পত্যজীবনের অজানা কাহিনী। এ পর্যন্ত ২টি বিয়ের খবর গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এ যাবৎ পাওয়া তথ্য মতে, পরীমনির প্রথম স্বামীর নাম ইসমাইল আর দ্বিতীয় স্বামীর নাম সৌরভ। যদিও গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্মৃতিমনি, যিনি আজকের পরীমনি; তিনি বিয়ের খবরকে মিথ্যাবলে অস্বীকার করেছেন। তবে, ইসমাইল যে পরীমনির প্রথম স্বামী এটা এখন প্রমাণিত সত্য। পরীমনি তার সিনেমার আলোর জগতে প্রবেশ করে প্রথম স্বামীকে অস্বীকার করছে। যে ইসমাইল পরীমনিকে বাঁচতে শিখিয়েছে, জীবনকে জীবন হিসেবে ভাবতে শিখিয়েছে সেই ইসমাইল আজ পরীমনির কাছে অপরিচিত, অচেনা। সিনেমার নায়ক নায়িকাদের ব্যক্তিজীবনের অনেক কালো অধ্যায় থাকে। কিন্তু পরীমনি সে অধ্যায়কে বেমালুম অস্বীকার করে দর্শকের কাছে প্রমাণ করলেন যে, তিনি নায়িকা হতে চান, তিনি সুপারস্টার হতে চান কিন্তু মানুষ হতে চান না, শিল্পী হতে চান না। যে মানুষের মধ্যে নিজের বৈধ স্বামীকে স্বীকার করে নেবার মানসিকতা বা সৎসাহস নেই সে মানুষটির দ্বারা আর যাই হোক শিল্পচর্চা সম্ভব নয়। বিয়ে করেওতো কত নায়ক নায়িকা সিনেমায় সফল হয়েছে। এ সময়ের ছোট ও বড় পর্দায় জনপ্রিয় নায়ক মোশাররফ করিম তার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আর উঠতি নায়িকা পরীমনি সিনেমার ঝলসিত জগতে পা দিয়েই ১০ বছরের জীবনকে বেমালুম ভুলে গেলেন? তিনি যদি অভিনয়কে শিল্প মনে করেন তাহলে কেন ভাবছেন বিয়ের কথা স্বীকার করলে তার বাজারের কাটতি কমে যাবে? তাহলে কী তিনি নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন না যে, তিনি মিডিয়ায় টিকে আছেন শুধু শরীর দিয়ে। বা এ অঙ্গনে টিকে থাকতে তাকে শরীরকেই উপজীব্য করতে হচ্ছে?

কে এই পরীমনি? ইসমাইলই বা কে???
শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি। ৩ বছর বয়সেই তার মা মারা যান। বাবা মনিরুল ইসলাম মেয়েকে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। পরীমনি পিরোজপুরে খালা এবং নানার বাড়িতে বড় হয়। সেখান থেকে পরিচয় ইসমাইলের সাথে। পরী যখন ক্লাশ সিক্সে তখন থেকেই একে অন্যের পরিচয় ও প্রেমের শুরু। নাইনে প্রেম তুঙ্গে। তারপর চলে ৭ বছরের বাঁধভাঙা প্রেম। অত:পর দুজন দুজনকে বিয়ে করতে চায়। মেয়ের মা-বাবা না থাকায় রাজি হয় না ইসমাইলের পরিবার। ইসমাইলের বাবা একটি সরকারি ব্যাংকের প্রিন্সিপ্যাল অফিসার। মা একজন সরকারি চাকুরীজীবী। তারা স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশা করে একটি শিক্ষিত, ভদ্র, রুচিশীল এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে তার ছেলের জন্য বউ হয়ে আসবে। তবে, হালছাড়ার পাত্র নয় ইসমাইল। ৭ বছরের প্রেমতো এভাবে বিলীন হয়ে যেতে পারে না। ইসমাইল তার নিজের পরিবারকে ম্যানেজের জন্য সবধরনের চেষ্টা করে। অবশেষে, অনেক আকুতি মিনতির পর ইসমাইলের পরিবার ছেলের আবেগের মূল্য দেয়।
মা মারা যাওয়া, নিরুদ্দেশ থাকা বাবার মেয়ে পরীমনিকে ভালবাসার বাঁধনে বাঁধে ইসমাইল। ভালবাসায় ভুলিয়ে দেয় পরীমনির কষ্টের শৈশব। জীবনকে জীবনের মতো করে ভাবতে শিখে পরীমনি। আশৈশব দেখা সাদা স্বপ্নগুলো রঙিন স্বপ্নে রূপ নেয়। ইসমাইলও ভালবাসার মানুষটির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে থাকে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার ফি ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পরীমনির জন্য। ইসমাইলের পরিবার সে খবর জানার পর বন্ধ করে দেয় তার পড়ালেখা। তারপর ভর্তি হতে হয় ভোলা সরকারি কলেজে। পরীমনিরও পড়ালেখা চালিয়ে নেয় ইসমাইল। বাবার চাকরীর সুবাদে বাস করেন ভোলা শহরে। সাড়ে ৩ বছর বেশ সুখেই কাটে ইসমাইল- পরীমনির খুনসুঁটিময় দাম্পত্যজীবন।
এই সুখের জীবনে কাল হয়ে আসে পরীমনির নানা। এর মধ্যে পরীমনির বাবা মেয়েকে বিয়ের পর দেখতে এসেছিল। তবে তিনি বেশিদিন বাঁচেননি। কোন এক প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন তিনি। নানা শামসুল হক গাজী অভাবী ও খুব লোভী প্রকৃতির মানুষ। নাতি জামাই ইসমাইলের কাছ থেকে প্রায় টাকা নিতেন তিনি। একবার ৫০ হাজার টাকা চাইলে ইসমাইল দিতে অপরাগতা জানায়। তাতেই ক্ষিপ্ত হয় নানা। তারপর নানা বেছে নেন অন্যপথ। নাতির সৌন্দর্য্যকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি বাড়ি গাড়ির মালিক হবার স্বপ্ন দেখেন তিনি। নানাই মিডিয়ার বিভিন্ন পরিচালকদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরীমনিরও ছোটবেলা থেকে নাচ-গান করার ঝোঁক। নানার প্ররোচণায় পরীমনিও পুরোদমে নায়িকা হবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। একের এক চাপ দেয় ইসমাইলকে। ইসমাইল নিজের স্ত্রীকে মিডিয়ায় দিতে রাজি হয় না। আর ইসমাইলের পরিবার শিক্ষিত, রুচিশীল ও ধার্মিক হওয়ায় পুত্রবধূকে বর্তমান অসুস্থ ধারার এই সিনেমার জগতে দেখতে রাজি হয় না। তারপরও পরীমনি ঝামেলা করতে থাকে। দিন দিন দাম্পত্যকলহ বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত পরীমনিকে প্রথমে ঢাকায় তারপর রংপুর. কুয়াকাটা এবং কক্সবাজারে নিয়ে ১ মাস বেড়ায় ইসমাইল। বিভিন্নভাবে পরীমনিকে সিনেমা জগতে ঢোকার ভূত নামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সফল হয় না। জীবনের প্রথমবার ঢাকায় যাওয়ার পর সেই ভূত আরও চেপে বসে পরীর মনে। বাধ্য হয়ে ইসমাইল অল্পবিস্তর পরিচিত কয়েকজন নাট্যকারের কাছে পরীমনিকে নিয়ে যায়। বেইলি রোড, নাটক পাড়া ও আজিজ মার্কেটে যোগাযোগ করে। অবশ্য এটা ছিল পরীকে সান্ত্বনা দেয়া। যদিও ইসমাইল জানে সে কখনও তার স্ত্রীকে এই জগতে দিবে না। সে পরীমনিকে বুঝায় যে, ‘আমি এবং আমার পরিবার চাই না তুমি এই জগতে প্রবেশ করো। আমরা সাধারণভাবে বাঁচতে চাই।’


কিন্তু পরীমনির উন্মাতাল মন আর লোভী নানার সহযোগিতায় পরী বিজ্ঞাপনের মডেলিং এর সুযোগ পায়। এইতো শুরু। নানার সাথে ইসমাইলকে রেখে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসে পরী। তারপর মডেলিং শুরু করে। মডেলিং করাবস্থাতেও যোগাযোগ হয় ইসমাইল আর পরীমনির। ইসমাইল তার ভালবাসার মানুষকে ফিরিয়ে নিতে চায়। কিন্তু পরীমনি রাজি হয় না। উল্টো ইসমাইলকে ঢাকায় চলে আসতে বলে। পরী বলেন, ‘আমার সাথে থাকো। আর আমার মডেলিং এর জন্য হেল্প করো। আমি চাই তুমি আমাকে এই জগতে সাপোর্ট দাও। তুমি আমার পাশে থাকো।’
কিন্তু ইসমাইল এই জগতে নিজের স্ত্রীকে দেখতে চায় না। ইসমাইল নিজেও একসময় মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিল। পরিবারের সুনামের কথা ভেবে সে ঐ অঙ্গনও ছেড়ে দিয়েছিল। যাহোক, ইসমাইল কোনরকমই রাজি হয় না। তখন পরীমনি শর্ত দিয়ে বলে, ‘হয় আমার সাথে সংসার করবে, না হয় পরিবারের সাথে থাকবে।’ আর অন্যদিকে, ইসমাইলের পরিবার শর্ত দেয়, ‘হয় তুমি মডেলিং করা বউ নিয়ে থাকবে, না হয় আমাদের সাথে থাকবে। স্মৃতি যদি ঐ উচ্ছশৃঙ্খল জগত থেকে ফিরে না আসে তাহলে তাকে আমরা মেনে নিব না। আর তুমি ওর সাথে ঘর করলে তোমাকেও ত্যাজ্য করবো। কারন, এসব জগতের মেয়েরা আমাদের পরিবারের সাথে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
ইসমাইল উভয় সংকটে পড়ে যায়। কাকে ছেড়ে কাকে রাখবে। এদিকে, পরীমনি মিডিয়া জগতে একের পর এক কাজ পেতে শুরু করেছে। প্রথমত স্বামী ইসমাইলকে তার পাশে চাইলেও এখন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী জুটে যাওয়ায় পরীমনি ডিভোর্স চায়। অবেশেষে ২০১২ সালে ইসমাইল ও পরীমনি উভয়ই মিউচুয়াল ডিভোর্সে যায়।
এই হল পরীমনির প্রথম স্বামী ইসমাইলের কাহিনী। ইসমাইলকে ছাড়ার পর পরীমনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছে যশোরের ছেলে সৌরভকে- এরকম সংবাদ পত্রিকাতে প্রকাশ হয়েছে। যদিও দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে কোন তথ্য এই প্রতিবেদকের জানা নেই। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হয়নি।

ইসমাইল-পরীমনির বিয়ের দালিলিক প্রমাণ—
ইসমাইল ও পরীর বিয়ের খবর প্রথমে বন্ধু অনিক আব্রাহামের ফেসবুকে এবং পরে গণমাধ্যমে প্রচার হলে এ বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরীর বিয়ের বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ একটি সাক্ষাতকার প্রকাশ করে। সেই সাক্ষাতকারে এক প্রশ্নের জবাবে বিয়ে করেননি বলে দাবি করেন পরীমনি।
‘‘প্রশ্ন: বিয়ের ব্যাপারে যে কথা উঠছে?
উত্তর: বিয়ে যদি হতো, আমি তো বলেই দিতাম। বিয়ে হলে আমার কী এমন ক্ষতি হতো। বিয়েতে তো সমস্যার কোনো কিছুই দেখছি না।’’
পাঠক, পরীমনি দাবি করছে তার কোন বিয়ে হয়নি। ইসমাইল তার স্বামী নয়। আসুন এবার বিয়ের প্রমাণ তুলে ধরি— (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং)
১. ইসমাইল ও পরীমনির বিয়ের কাজি ছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ভগীরথপুরের কাজি আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘আমি ইসমাইল আর পরীমনির বিয়ের কাজী ছিলাম। ইসমাইল ও পরীমনি ২৪.৪.২০০৯ ইং তারিখে সালে বিয়ে করেন। আমিই সে বিয়ে পড়াই। আর ২০.৪.২০১২ সালে আমার হাত দিয়েই ডিভোর্স হয়।’
বিয়ের কাবিননামা নিচের (১ নং) ছবিতে দেখুন। বিয়ের তালাকনামা (২ নং) ছবিতে।
নিকাহনামা ফরম নাম্বার- ১৬০১, বিয়ের রেজিস্ট্রি তারিখ: ২৪.৪.০৯ ইং, দেনমোহর: ৫ লক্ষ টাকা মাত্র। বিবাহের সাক্ষী: ১. মো. কবির হোসেন, পিতা: আ: হাশেম, ঠিকানা: ভগীরথপুর, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। ২. মো. এনামুল কবীর, পিতা: আ: রাজ্জাক, ঠিকানা: ভগীরথপুর, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর। তালাকের তারিখ: ২০.৪.১২, তালাকের রেজিস্ট্রি তারিখ: ১.৮.১২। সাক্ষী: আবুল হাশেম ও কাওছার গাজী। ঠিকানা: সিংহখালী, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর।
২. এবার, পরীমনির বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখুন— তিনি ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সোমবার সকালে প্রথম আলোতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘ইসমাইল তার এলাকার এবং খুব কাছের। এই লোকটি আমার আত্মীয়ও না, বন্ধুও না। সে আমার পরিচিত। পরিচিত মানুষের সঙ্গে আমি কি ছবি তুলতে পারি না! কার মনে কী উদ্দেশ্য, তা তো আর আমি জানি না। নিশ্চয় কেউ এই বিষয়টাতে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তা না হলে হঠাৎ করে অনেক আগের তোলা এই ছবিগুলোকে কেন সামনে নিয়ে আসা হলো!
এই ‘ইসমাইল’-এর সঙ্গে তাহলে বিয়ে হয়নি? এরকম প্রশ্নের জবাবে পরীমনি জানান, ‘পরিচয় থাকা মানে তো আর স্বামী না। তিনি এলাকার খুব কাছের। তার মানে তো এই না যে তাঁর সঙ্গে আমার প্রেম ছিল, সম্পর্ক ছিল আর বিয়েও হয়েছে! তাঁর কিন্তু সংসার আছে, বউ আছে।’
পাঠক, লক্ষ্য করুন, প্রথম আলোতে দেয়া সাক্ষাৎকারে পরীমনি স্বীকার করলেন ইসমাইল পরিচিত এবং তার সাথে ছবি তুলেছেন পরীমনি। এমনকি ইসমাইলকে ব্যক্তিগতভাবে চিনেন তিনি। এবং পরীমনি এও জানেন যে, ইসমাইল বিয়ে করেছেন, তার বউ আছে। (পাঠক, পরীমনির সাথে ডিভোর্সের পর ইসমাইল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবরও পরীমনি জানেন।) (০১ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো)
পাঠক এবার আসুন দেখে নেই, প্রিয়.কম অনলাইন পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাতকারে পরীমনি কী বলেছেন, ‘‘তার ফেসবুক আইডিতে ছবিগুলো পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে পরী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এটা ফেইক। বিয়ের আসরে বসে থাকলে সেটা বিয়ে কিনা যাচাই করা উচিৎ। ছবি তো হাজার জনের সঙ্গে আছে। তার মানে এই নয় যে সবাই আমার স্বামী।’ তাহলে এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে অনিক বা ইসমাইলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে পরী বলেন, ‘তাদেরকে তো আগে আমার চিনতে হবে তারপর ব্যবস্থা। আর ঘাড়ের উপর পড়লে তো ছেড়ে দেবো না কাউকে। এটা মিথ্যা এটুকু নিশ্চিত থাকেন।’’’
ৃকী বুঝা গেল? প্রথম আলোকে বললেন তিনি ইসমাইলকে চিনেন। এলাকার খুব কাছের লোক। পরীমনি এও জানেন যে, ইসমাইল বিবাহিত। খুব কাছের লোক না হলেতো জানার কথা নয় সেটাই স্বাভাবিক। পরী সে সাক্ষাতকারে এও স্বীকার করেছেন যে তিনি ইসমাইলের সাথে ছবি তুলেছেন। পরিচিত বিধায় ছবি তুলেছেন। আর, প্রিয়.কমকে পরী ইসমাইলের ব্যাপারে কী বললেন? ‘‘তাহলে এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে অনিক বা ইসমাইলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা জানতে চাইলে পরী বলেন, ‘তাদেরকে তো আগে আমার চিনতে হবে তারপর ব্যবস্থা।’’ অর্থাৎ, প্রিয়.কমকে বললেন, ইসমাইল এবং ইসমাইলের বন্ধু অনিককে তিনি চিনেনই না।
পাঠক, প্রশ্ন জাগে নাৃ তাহলে পরীমনির কোন কথাটি সত্য?
পরীমনি প্রথম আলোর একই সাক্ষাতকারে বলেছেন, ইসমাইলের সাথে ছবি তুলেছেন কিন্তু বিয়ে করেননি। আর সেই সাক্ষাতকারের শেষে গিয়ে বলেছেন ছবি ফটোশপে করা। এসব ছবি তার নয়। অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, ‘মিথ্যাবাদী একেক সময় একেক কথা বলেন। অসংলগ্ন কথা বলেন।’ পরীর ক্ষেত্রে কী তাই প্রমাণ হলো না?
পাঠক, প্রথমত, আপনারা বিয়ের কাবিননামা দেখলেন। তালাকনামাও দেখলেন। যদিও পরীমনির দাবি কাবিননামা ফটোশপে করা যায়। কিন্তু যে কাজি বিয়ে করিয়েছে তার বক্তব্য এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে সে বক্তব্য কিভাবে মিথ্যা প্রমাণ করবে পরীমনি?
দ্বিতীয়ত, পরীমনির সাক্ষাতকারই প্রমাণ করে যে, পরীমনির বক্তব্য মিথ্যা ও অসংলগ্ন।
তৃতীয়ত, পরীমনির ছবি। ২ নম্বর ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন। পরীমনির মেকাপ ছাড়া একটি বেডরুমে তোলা ছবি। পরীর পিছনে দেয়ালের দিকে তাকান। দেখবেন দেয়ালে ইসমাইল ও পরীর যুগল ছবি টাঙানো। তারা স্বামী স্ত্রী না হলে একজন অপরিচিত মানুষের বেডরুমে এরকম যুগল ফ্রেমে বন্দী কোন ছবি থাকে? আর পরী যেখানে ছবি তুলেছে সেটা যে ইসমাইলের বেডরুম তা দেয়ালে টাঙানো ছবি আর বেডরুমের আসবাবপত্রগুলো মিলালেই পরিষ্কার হওয়া যায়। প্রশ্ন হলো, পরী শুধু এলাকার পরিচিত একজন মানুষের বাসার বেডরুমে এরকম পোশাকে ছবি তুললেন কিভাবে? স্বামী- স্ত্রী না হলে কী এরকম ছবি তোলা সম্ভব? তখনতো তিনি শোবিজের মানুষ ছিলেন না যে এসব ছবি তার জন্য স্বাভাবিক? আর কোন নায়িকা কোনদিন মেকাপ ছাড়া কী ফটোসেশন করে বা ছবি তোলে? স্বামীর কাছে ছাড়া? তাহলে প্রমাণ হয় যে, এ ছবিটি ইসমাইল ও পরীর দাম্পত্যজীবনের একটি বিশেষ মুহূর্তে তোলা ছবি।
আরও কিছু ছবি নিচে পাঠকদের জন্য দেয়া হয়েছে। এ ছবিগুলো ইসমাইল আর পরীমনির।


পরীমনি নিশ্চয় বলবেন না যে, এসব ছবি নায়িকা হওয়ার আগের ছবি। তাহলে নায়িকা হওয়ার আগে পরী কী এতোই অশ্লীল বা চরিত্রহীন মেয়ে ছিল যে অন্য এক পুরুষের সাথে এরকম অন্তরঙ্গ ছবি তুলেছেন? ছবির এই পুরুষটি যদি স্বামী না হয় তাহলে পরীর সম্পর্কে সাধারণ পাঠক বা দর্শকের কী ধারণা জন্মাবে? একজন চরিত্রহীন নারী কোনদিন কোন দর্শকের প্রিয় মানুষ বা প্রিয় চরিত্র হয়ে উঠতে পারে? আর এসব নারী বা নায়িকা কী করে বাংলাদেশের সিনেমা জগতকে পরিশীলিত, সুস্থ ও মননশীল এবং রুচিশীল ছবি উপহার দিবে। যে মেয়েটি বিয়ে ছাড়াই (পরীর মিথ্যাচার অনুযায়ি) একটি পুরুষের সাথে দিনের পর দিন অন্তরঙ্গভাবে মিলামিশা করেছে। এসব প্রশ্নের কী উত্তর আছে পরীর কাছে? পরী সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘‘(ইসমাইলসহ যারা সত্য প্রকাশ করেছে) এদের আমি হাজতে ভরবই। থানার মধ্যে নিয়ে যাওয়ার পর পিঠের ওপর যখন দুইটা পড়বে, তখন সবকিছু গড়গড় করে বের হয়ে যাবে।’’ শিল্প-সংস্কৃতির সাথে জড়িত কোন আর্টিস্ট, কোন শিক্ষিত- মার্যিত আর্টিস্ট বা ন্যূনতম মনন ও সভ্যতা জানা মানুষ এরকম অস্ত্রের ভাষায় মিডিয়ার সামনে কথা বলতে পারে? পরীর সম্পর্কে তার দর্শকদের কী চিন্তা হওয়া উচিৎ?
এ বিষয়ে কথা হয় পরীমনির প্রথম স্বামী ইসমাইলের সাথে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওটা আমার অতীত। আমি আর অতীত নিয়ে ঘাটতে চাই না। ৭ বছরের প্রেমিকাকে বিয়ে করে ৪ বছর সংসার করেছিলাম। সে যে জীবনের হাতছানিতে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি চাই সে, সে জীবনে সাইন করুক। ও (পরীমনি) সুখী হোক। আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠুক। ওর ইচ্ছা পূরণ হোক। আমি আমার কষ্ট বুকে চেপে রাখতে চাই। আমার পরিবার এসব পছন্দ করে না। ওসব অতীত আমাদের পরিবারের জন্য ঝামেলার। ওর (পরীমনির) বিষয়ে আমি আর ভাবতে চাই না। যে গেছে সে একেবারেই গেছে। ও যে কারনে আমাকে ছেড়ে চলে গেছে সে কারনে ও সফল হোক। এটাই দোয়া করি। তবে কষ্টের জায়গাটা হলো, স্মৃতিমনি আজকের পরীমনি নিজের ৪ বছরের বৈধ স্বামীকে স্বীকার করতে ভয় পায়? আমাদেরতো ডিভোর্স হয়ে গেছে। এখনতো আমি তারউপর কোন অধিকার খাটাবো না। তাহলে কেন এই মিথ্যাচার? যদিও আমি চাই না, মিডিয়া এসব নিয়ে ঘাটাঘাটি করুক।’’
পাঠক, পরীমনি বাংলাদেশের আলোচিত নায়িকা। পরীমনি তার সিনেমার জগতে উত্তরোত্তর জনপ্রিয় হয়ে উঠুক, বাজারে তার কাটতি বাড়ুক, তার ইচ্ছাপূরণ হোক- এটা নিয়ে আমাদের কোন আপত্তি নাই। আমাদের ‘আলো অন্ধকার’ পেইজটি শুধু সত্যটা তুলে ধরতে চায়। কারন সমাজের আর যেসব মেয়েরা পরীমনির মতো সিনেমার জগতে নাম লেখাতে ভালবাসা, স্বামী ও সংসারকে ত্যাগ করার কথা ভাবছেন, তাদেরকে সচেতন করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা নায়িকা পরীমনির অতীতটা তুলে ধরছি, যাতে পরীমনির মত চিন্তা পোষণকারী মেয়েরা সে চিন্তা থেকে সরে আসতে পারে। হাজারও ইসমাইলের ভালবাসা যেন অন্যকোন পরীমনির কারনে নষ্ট হয়ে না যায়- এ সত্য ঘটনা উদঘাটনে এটাই আমাদের একমাত্র প্রয়াস। পরীমনির পেশাগত ক্যারিয়ার নষ্ট বা ইমেজ নষ্ট করা মোটেও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। অবক্ষয়িত সমাজকে সচেতন করে তোলাই একমাত্র উদ্দেশ্য।

একনজরে পরীমনির যত বিয়ে ও অনৈতিক সম্পর্ক
ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনি এখন দেশের বেশি আলোচিত-সমালোচিত নাম। অবৈধ মাদকদ্রব্য রাখা, পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি।
পরীমনির প্রকৃত নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলায় জন্ম তার। ছোটবেলা থেকেই নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন পরী। মেধাবী ছাত্রী ছিলেন তিনি। পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছিলেন। তবে সিনে জগতের প্রবেশের আগে পরে তার একাধিক বিয়ে ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা শোনা যায়।
২০০৭ সালের দিকে পরীমনির মা আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি অনেকটা রহস্যাবৃত। এরপর বাবার সঙ্গে সাভারে বসবাস শুরু করেন পরীমনি। মাঝে মাঝে বরিশালে নানা বাড়ি গিয়ে থাকতেন। সেখানে মাসুদ নামের দূর-সম্পর্কের এক আত্মীয়ের সঙ্গে প্রেম ও পরে বিয়ে হয়। একদিন নানা বাড়ি থেকে মাসুদের সঙ্গে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। ১ মাস পর আবারও বরিশালে ফিরে আসেন। এরপর বিচ্ছেদ হয় মাসুদের সঙ্গে। ২০১১ সালের দিকে বাবার সঙ্গে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকায় বসবাস শুরু করেন পরীমনি। এ সময় সাভার কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে নিয়মিত ক্লাস করতেন না। ২০১২ সালের শুরুর দিকে সিলেটে তার বাবার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায় বলে পরীমনির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়। ধারণা করা হয়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ তাকে খুন করে। এরপর থেকে পরী সাভারে তার এক খালার বাসায় থাকতে শুরু করেন। এরপর ২০১১ সাল থেকে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হন। নাচ করতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এভাবে সুযোগ পান টিভি নাটকে অভিনয়ের। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’, ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’ নামের নাটকে দেখা গেছে তাকে। এরপর ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’ নামে একটি নাটকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। ২০১৪ সালের দিকে তার সঙ্গে পরিচয় হয় কথিত প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের। রাজই তাকে সিনেমায় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। এরপর থেকে রাজের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে সিনেমায় নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় পরীর।
ওই সময় নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেন পরী। কিন্তু ছবিটির মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর রাজই প্রযোজক হয়ে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় নির্মাণ করেন ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ নামের একটি ছবি। ছবিতে নায়ক ছিলেন জায়েদ খান। এটিই পরীর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি। সে সময়ই সিনেমাপাড়ায় তাকে নিয়ে ঘটে যায় হুলুস্থুল কাণ্ড। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই ১৯টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন পরী। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বেপরোয়া জীবন। নজরুলের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। সেখানে প্রভাবশালীদের যাতায়াত ছিল।
অভিনয় জীবন ছাড়া ব্যক্তিজীবন নিয়েও বিতর্কিত এ নায়িকা। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় পরীমনির সঙ্গে দুজনের বিয়ের খবর। এমনকি বিয়ের ছবি, কাবিননামা ও তালাকনামার ছবিও প্রকাশ পায় ফেসবুকে। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সকালে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কিছু ছবি শেয়ার দিয়ে দাবি করা হয়, পরীমনি ইসমাইল নামের একজনের স্ত্রী।
কিছুদিন পরেই ফেসবুকে পাওয়া যায় সৌরভ কবীর নামের আরও একজনের সঙ্গে তার বিয়ের কাবিননামা এবং কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি। ছবিতে অভিষেক হওয়ার ঠিক আগের দুই বছর অর্থাৎ নাটকে অভিনয় করার সময় সেতু নামের এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তারা দুই বছর সংসারও করেছিলেন।
২০১৭ সালে তামিম হাসান নামের এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানা যায়। বাগদানও হয়েছিল। তামিমকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিভিন্ন দেশে ঘুরতেও গিয়েছেন পরী। দুই বছর প্রেমের পর ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। সর্বশেষ অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনার দিনও তার সঙ্গে তামিমের উপস্থিতি দেখা গেছে।
এরপর ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে অভিনেত্রী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজি ডেকে তার সহকারী কামরুজ্জামান রনিকে মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। কিন্তু সে বিয়েও ৫ মাসের মাথায় ভেঙে যায়।
এছাড়া ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় পলাতক আসামি বিতর্কিত ব্যবসায়ী চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আজিজ তাকে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়া ছবিতে অভিনয় করা কালেই তার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিন পরী তার ছত্রছায়ায় ছিলেন। বিভিন্ন কারণে সেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। তবে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কিছু শিল্পপতির সঙ্গে তার সখ্য গড়ে উঠে।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021