Wednesday, May 18, 2022

ট্রাম্পের ভুলগুলোই শক্তি বাইডেনের

‘আমেরিকা ফার্স্ট’—এই নীতি সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে নতুনভাবে পথ দেখিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একলা, বন্ধুহীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও লড়াইটা চালিয়ে গেছেন তিনি, যার প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে, বৈদেশিক বাণিজ্যিক সম্পর্কে। দেশের ভেতরে অর্থনীতিতে তাঁর ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরিতে। তবে এ সব কিছুকেই ওবামার সময়ের কাজের ধারাবাহিকতা বলছে ডেমোক্র্যাটরা।

করোনা বৈশ্বিক মহামারির বড় ধরনের প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে। এখানকার আনএমপ্লয়মেন্ট বা বেকারত্ব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কভিড-১৯ মোকাবেলায় ব্যর্থ—ডেমোক্র্যাটদের এমন অভিযোগের পরও অর্থনীতির লাগাম ভালোই টেনে ধরেছেন দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে থাকা এই রিপাবলিকান প্রার্থী।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই একটিমাত্র জায়গা, যেখানে বলা যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভালো করেছেন, সেটা হচ্ছে অর্থনীতি। এই চার বছরে অর্থনীতি ভালো অবস্থানে গেছে। তিনি অর্থনীতিকে ভালোভাবে হ্যান্ডল করেছেন। এটা তাঁর জন্য পজিটিভ একটা দিক।’ তবে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এখনো দেশে কিন্তু আনএমপ্লয়মেন্ট ৮ থেকে ১০ শতাংশ। ২২ মিলিয়ন মানুষ বেকার। লাল, নীল সব স্টেটই করোনায় বিপর্যস্ত। প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণে করোনা মোকাবেলার নৈতিক দায় ট্রাম্পের ওপরই পড়ে।

বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিকান অ্যালায়েন্সের চেয়ারপারসন নাসির আলী খান পল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত চার বছরে বাণিজ্যসংক্রান্ত আইন-কানুনে পরিবর্তন এনেছেন, করপোরেট ও ব্যক্তিগত আয়কর কমিয়েছেন। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিয়ে নির্বাহী আদেশও জারি করেছেন ট্রাম্প। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের পণ্য টিকিয়ে রাখা ট্রাম্পের আরো একটি নির্বাচনী স্লোগান। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধও এবারের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’ সর্বক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সফল বলেই মনে করেন এই রিপাবলিকান।

ন্যায্য নয়, এমন দাবি করে উত্তর আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা নাফটা এবং ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বা টিপিপি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন ট্রাম্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপরও কর বসিয়েছেন তিনি। এই অবস্থায় বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে আমেরিকা—এমনটাই মনে করেন নিউ জার্সির প্লেইন্সবরো টাউনশিপের কাউন্সিলম্যান ড. নুরুন নবী। তিনি বলেন, ট্রাম্প অর্থনীতিতে যে সাফল্য দেখিয়েছেন, সেটা ওবামার ভালো কাজের ধারাবাহিকতা মাত্র। প্রেসিডেন্ট ওবামা একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি রেখে গিয়েছিলেন।

ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের স্লোগান হচ্ছে ‘বিল্ড ব্যাক বেটার’। এর মাধ্যমে মূলত তিনি তরুণ-তরুণী ও শ্রমজীবী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে চাইছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের ধারণা, বাণিজ্যের ব্যাপারে জো বাইডেন এক জটিল ও অনিশ্চিত অবস্থানে আছেন। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের জন্য একদিকে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করছেন, অন্যদিকে দেশটির ব্যাপারে নমনীয় ভূমিকাও দেখাতে চান না। ‘যুক্তরাষ্ট্রপন্থী এক বাণিজ্য কৌশলের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের নিউ ইয়র্ক পাবলিক অ্যাডভোকেট প্রার্থী হেলাল এ শেখ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাইডেনও ভালো একটি অর্থনীতি উপহার দেবেন, করোনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনিই হবেন যোগ্য মানুষ। তিনিই পারেন সঠিক পথ দেখাতে।’

এর পরও অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা ভোটাররা এবারের নির্বাচনে মাথায় রাখবেন। বিশেষ করে করোনার সময় প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে নাগরিকদের অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে নানা সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প। যদিও রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির কারণে দ্বিতীয় সহায়তা ও স্টিমুলাস প্যাকেজটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। নির্বাচনের আগে সেটা সম্ভব বলেও মনে করেন না বিশ্লেষক হাবিব রহমান।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্প শিবির নিজেদের সফল মনে করে। যদিও সমালোচকরা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং নর্থ কোরিয়ার স্বৈরশাসককে বৈধতা দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে। বিভিন্ন চুক্তি থেকে সরে আসা, ন্যাটো, জাতিসংঘকে দুর্বল করার অভিযোগ আছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তবে এ ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যও কম নয়। শেষ দিকে ইসরায়েল ঘিরে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ তিন মুসলিম দেশের শান্তিচুক্তি এ দেশের রাজনীতিতে তাঁর পক্ষে গেছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কেননা এতে করে একই সঙ্গে ইহুদি ও ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের তিনি পাশে পাবেন বলে রিপাবলিকানরা মনে করে। ভারতের সঙ্গে শেষ সামরিক চুক্তি, যুদ্ধ বন্ধ, নতুন যুদ্ধের সূচনা না করা, সন্ত্রাস দমন, মিত্রদের কাছ থেকে ন্যায্য হিস্যা আদায়সহ নানা বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।

তবে করোনা মহামারির বিপর্যয়সহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুলগুলোই এবার নির্বাচন ঘিরে জোরালোভাবে আবর্তিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ভুলগুলোই বাইডেনের শক্তি। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এবার একটি পরিবর্তনের আবহ তৈরি হয়েছে। নিউ ইয়র্কের নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট শেখ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জো বাইডেন কথা দিয়েছেন তিনি জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবেন। বিশ্বে আমেরিকার নেতৃত্বকে আবারও শ্রেষ্ঠত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। তাঁর পক্ষে এটি সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবার তিনি কাজে লাগাবেন। তিনি মানবিক, তিনি দেশপ্রেমিক। সবচেয়ে বড় কথা তিনি অভিবাসীবান্ধব। আনডকুমেন্টেড অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার কথা বলে তিনি বড় একটি জনগোষ্ঠীর সমর্থন পাবেন।’

এ ছাড়া তরুণদের কাছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা তুঙ্গস্পর্শী। এবার নিজের একসময়কার সহকর্মীকে বেশ জোরালোভাবেই মাঠে পেয়েছেন জো বাইডেন। তাঁর পক্ষে সশরীরে নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বারাক ওবামা। এতে করেও অনেক ভোটারের দৃষ্টি তাঁর পক্ষে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...