Thursday, July 7, 2022

জ্বীনের বাদশাদের গডফাদার তৈয়ব আবারো সক্রিয়-পর্ব : ১


প্রতারক তিন ‘জ্বীনের বাদশা’ আটক
একসময় ছিল হারবাল প্রতারকদের যুগ। মঘা ইউনানী দাওয়াখানা, নিরাময় হারবাল, নিরাময় ভেষজ ক্লিনিক, কলিকাতা হারবাল, দেশ হারবাল, জাপান হারবাল, কোরিয়ান হারবাল ইত্যাদি বাহারী নামে অশ্লীল ভাষায় বিজ্ঞাপন দিয়ে যৌনশক্তি বাড়ানের প্রলোভনে প্রবাসী ও সহজ সরল মানুষকে আকৃষ্ট করে ও ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত আর প্রতারিত লোকটি ভেজাল ওষুধ খেয়ে সাময়িক ফল পেলেও এক পর্যায়ে তার যৌনশক্তি পুরোপুরি লোপ যেতো। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হলে সরকার এসব নিষিদ্ধ করা উদ্যোগ নেয়। এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালাত মাহবুব ও আলমগীর নামের দুই ভাই। আর বিজ্ঞাপনগুলো ছাপতো খবর গ্রুপের ২টি পত্রিকা- সাপ্তাহিক চিত্রবাংলা ও বর্তমান দিনকাল। প্রতি ২টি পত্রিকার অশ্লীল হারবাল বিজ্ঞাপন থেকেই আয় হতো ৬ লাখ টাকা। সবগুলো বিজ্ঞাপনের মূল যোগাদাতা ছিল শেখ তৈয়বের রহামান নামের এক প্রতারক। সরকার অশ্লীল বিজ্ঞাপন বন্ধ করলে প্রতারকরা এবার হারবাল বাদ দিয়ে শেখ তৈয়বের রহামানের নেতৃত্বে আধ্যাত্মিক প্রতারণা শুরু করে। জ্বীন সাধন, কালী সাধন, রূহানী দরবার শরীফ ইত্যাদি নাম দিয়ে সব সমস্যা সমাধান, গুপ্ত ধন ও লটারী পাইয়ে দেবার নাম করে প্রবাসীদের ফাঁদে ফেলে তাদের কষ্ঠার্জিত হাতিয়ে নিতে থাকে। এসব বিজ্ঞাপনে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার কওে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে বলা হতো। এদের প্রধান টার্গেট ছিল প্রবাসীরা। অসংখ্য প্রবাসী প্রতারিত হয়ে সরকারের নিকট অভিযোগ জানালে সরকার পত্রিকা নিষিদ্ধ করে। পরে বিশেষ কায়দায় শাক-সব্জির প্যাকেটে লুকিয়ে পত্রিকা প্রবাসে পাঠানোর ব্যকস্থা করেন মিজানুর রহমান মিজান। নে প্রক্রিয়াটিও ধরা পড়ে গেলে পত্রিকা ২ টি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতারক জ্বীনের বাদশা শেখ তৈয়বের রহামান পরবর্তীতে কতিপয় অখ্যাত আলু পটল ব্যবসয়ীর টিভি চ্যানেলগুলোর সাথে চুক্তি করে গভীর রাতে জ্বীনের বাদশার বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু করে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক মহিলার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার পর রাজধানীর ডেমরা থেকে তিন জ্বিনের বাদশাকে আটক করেছে সি আই ডি। বিভিন্ন সময়ে শেখ তৈয়বের রহামানের একাধিক শিষ্য ধরা পড়লেও শেখ তৈয়বের রহামান রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গ্রেপ্তার তিন জ্বিনের বাদশা
আল-আমিন, রাসেল ও সোহাগ। এরা তিন বন্ধু। তাদের সকলের বাড়ি ভোলায়। এক সময় কাজের সন্ধানে তারা আসে রাজধানী ঢাকায়। শুরুটা তাদের ইলেকট্রিশিয়ানের সহযোগী হিসেবে। পরবর্তীকালে তারা নিজেরাই ইলেকট্রিশিয়ান বনে যান। এরপর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতে গিয়ে তাদের ইচ্ছা জাগে দ্রুত প্রচুর টাকার মালিক হওয়ার।
যেই চিন্তা, সেই কাজ। এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পরামর্শ নিতে শুরু করে। প্রথমে তারা একটি বেসরকারি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল¬্যাটফরমে বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দেওয়া শুরু করে। বিজ্ঞাপনে দেওয়া হতো একটি মোবাইল ফোন নম্বর। সেই নম্বরে ফোন দিলে একজন ফোন রিসিভ করে ফোনদাতার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিত। পরে ঐ ফোনদাতাকে বলা হতো তারা যেভাবে কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে গরিব মানুষকে একবেলা খাবার দিতে হবে। সে জন্য ৯৯৯ টাকা বা ১১১১ টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পেয়ে দেওয়া হতো একটি মোবাইল ফোন নম্বর। বলা হতো রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ঐ নম্বরে ফোন করলে জিনের বাদশা কথা বলবেন।
টাকা লেনদেনের পরবর্তী ধাপে ঐ নম্বরে ভুক্তভোগী ফোন করলে একজন পুরুষ ফোন রিসিভ করেন। সালাম বিনিময়ের পর পরিবারের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য নেন। পরবর্তীকালে জিন-পরীর মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী বিদেশ থাকেন। তার ছিল দুরারোগ্য ব্যাধি। স্বামীর রোগ মুক্তির আশায় টেলিভিশনে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে কথিত জিনের বাদশাকে ফোন করলে ঐ নারীকে বলা হয়, তার সমস্যার সমাধান করা হবে।
জিনের বাদশা নামধারী চক্রটি ঐ নারীকে ফাঁদে আনার জন্য প্রথমে ৯৯৯ টাকা নেয়। তবে এই টাকা গরিব মানুষদের খাওয়ানো হবে বলে জানানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে ‘জিনের বাদশা’র সঙ্গে কথা বলে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় প্রায় ২২ লাখ টাকা খোয়ান ঐ নারী। গত ছয় মাসে চক্রটি বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি সিআইডি পুলিশ আল-আমিন, রাসেল ও সোহাগকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে সিআইডি পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সিআইডি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্যই জানিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
মুক্তা ধর আরও বলেন, আপাতত তাদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বিস্তারিত তদন্তে টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রেমের ফাঁদে ধরা পড়লো ‘জিনের বাদশা’
রংপুরের পীরগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে মোবাইলে জিনের বাদশা পরিচয়দানকারী জয়নাল সরকার (৩০) নামের এক প্রতারককে নকল স্বর্ণের পুতুল সহ গ্রেফতার করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। জয়নাল গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীর ভবানীপুর গ্রামের ফজল হকের ছেলে।
পীরগাছা থানার ওসি মো: আজিজুল ইসলাম জানান, মোবাইলে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে পীরগাছার চন্ডিপুর গ্রামের এক নারীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন জয়নাল। ইতিপূর্বে গুপ্তধন ও স্বর্ণের পুতুল দেওয়ার কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। অবশেষে ওই নারীর প্রেমের জালে স্বজন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় পড়ে কথিত জ্বীনের বাদশা জয়নাল সরকার।

নরসিংদীতে ২ ‘জিন বাদশা’গ্রেফতার
নরসিংদীতে জিন সেজে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। সোমবার (৯ নভেম্বর) ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার বীরগাঁও গ্রামের মৃত ইসমাইল মিয়ার ছেলে কথিত জিনের বাদশাহ সোনাম উদ্দিন (৮০) ও নরসিংদী সদর থানার পশ্চিম দত্তপাড়া মহল্লার আসাদ মিয়ার ছেলে সাদিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক (৪৪)।
নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক ও জেলা পুলিশ এর মিডিয়া সমন্বয়ক রুপণ কুমার সরকার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩ অক্টোবর নরসিংদী শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডের একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন ফারুক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। এসময় সাদিকুর রহমান সিদ্দিক (প্রতারক) জানান ১৪ বছর মামলা চালিয়ে জায়গার কোনও হদিস পাননি, সেই মামলার কাগজ পেয়েছেন সোনাম উদ্দিন হুজুরের কাছে।
ফারুক আহমেদেরও জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকায় ছদ্মবেশী প্রতারক সিদ্দিকের কথা বিশ্বাস করেন এবং তার জমির সমস্যা প্রতারক সিদ্দিককে জানান। এসময় প্রতারক সিদ্দিক একটা মোবাইল নম্বরে ফোন করে সোনাম উদ্দিন হুজুরের সঙ্গে ফারুককে কথা বলায়। এসময় কথিত হুজুর ফারুক আহমেদকে সরাসরি যেতে বলেন। পরে ৪ অক্টোবর ফারুক আহমেদ প্রতারক সিদ্দিকের সঙ্গে মনোহরদীর বীরগাঁও এলাকায় কথিত জিনের বাদশা সোনাম উদ্দিনের কাছে যান। প্রতারক সোনাম উদ্দিন আলখাল্লা পোশাক পড়ে জিন সেজে কণ্ঠ নকল করে কথা বলেন এবং ফারুকের মনে বিশ্বাস স্থাপন করান।
জমি ও ভালো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ধাপে ফারুকের থেকে জিনের বাদশাহ তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কথামতো কাজ না হওয়ায় ফারুক আহমেদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে ৮ নভেম্বর এ ঘটনায় নরসিংদীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তিনি মৌখিক অভিযোগ করেন। পরে ডিবির এসআই তাপস কান্তি রায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং অভিযান পরিচালনা করে মনোহরদী থানাধীন বীরগাঁও থেকে কথিত জিনের বাদশা সোনাম উদ্দিন ও সাদিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিককে গ্রেফতার করেন।
এসময় প্রতারকদের থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, আংটি, পাথর, আলখাল্লা পোশাক উদ্ধার করা হয়। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র জিনের বাদশা সেজে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জেলা পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

জিনের বাদশাহ বলছি…’
‘জিনের বাদশাহ বলছি…’ বলে যখন-তখন ফোন আসে ফরিদপুরের বটতলা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী। তবে শেষরক্ষা হয়নি। এই প্রতারক চক্রের তিনজনকে গতকাল রোববার রাতে ওই এলাকা থেকে আটক করেছেন র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা। এই তিনজন হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার চৎলারপাড় গ্রামের রাসেল মিয়া ও শাকিল মাতুব্বর এবং পাতরাইল গ্রামের সামসু মাতুব্বর।
র‌্যাবের দাবি, এ সময় স্বর্ণের বার বলে প্রচারিত ২২টি পিতলের সরঞ্জাম, ২টি ল্যাপটপ, ২৩টি মোবাইল সেট, ৮১টি সিমকার্ড, ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক জব্দ করা হয়।
আজ সোমবার দুপুরে র‌্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. রাকিবউজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা ‘জিনের বাদশা বলছি…’ বলে লোকজনকে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। আবার কখনো সাধু-সন্ন্যাসী সেজে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার কথা বলে প্রতারণা করতেন। নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী। যে মোবাইল থেকে কল করতেন, তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে রাখতেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গভীর রাতে ফোন করে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। আটক তিনজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
র‌্যাব জানায়, এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। আটক তিনজনের নামে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় মামলা হয়েছে। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হেলেনার জয়যাত্রায় ‘জ্বিনের বাদশা’র বিজ্ঞাপন
প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল চক্রটি।
প্রতারণার দায়ে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দেয়া আল আমিন ও তার দুই সহযোগীকে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দাবি করেছে, হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইপি টিভি জয়যাত্রায় প্রতারণায় সহায়ক বিজ্ঞাপন দিতেন। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদরদপ্তরে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয় কথিত জিনের বাদশার প্রতারণার কৌশলসহ নানা তথ্য। প্রতারক চক্রটি চট্রগ্রামের এক নারীর কাছ থেকে কয়েক ধাপে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘জয়যাত্রা আইপি টিভিসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল প্রতারক চক্রটি। তাদের বিজ্ঞাপনে মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। তার মাধ্যমেই যোগাযোগ ও প্রতারণা।’
সিআইডি জানায়, মঙ্গলবার ভোলায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার ভোররাতে অভিযান চলে রাজধানীর ডেমরা এলাকায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগী রাসেল ও সোহাগকে।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, তিনটি সিমকার্ড, পাসপোর্ট, চেক বইসহ নানা উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। প্রতারণার অভিযোগে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে তিনজনকে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে ছয় মাসে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারকদের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে ১২ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।
সিআইডি জানায়, চট্টগ্রামের এক নারীর স্বামী থাকেন বিদেশে। তিনি জটিল রোগ থেকে মুক্তির আশায় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন দেখে ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। যোগাযোগ করলে জিনের বাদশার মাধ্যমে তার রোগ সারানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু হয়।
বিশ্বাস তৈরির জন্য প্রতারকরা প্রথমে ৯৯৯ টাকা নেয় গরিব মানুষদের খাওয়ানো হবে জানিয়ে। এরপর ধাপে ধাপে প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রিয়জনের ক্ষতি করা ভয় দেখাত কথিত জিনের বাদশা।
প্রতারণার শিকার নারী চট্টগ্রামের খুলশি থানায় মামলা করলে সিঅআইডি তদন্তে নামে। এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার করা হয় প্রতারক চক্রের হোতা আল আমিনসহ তিনজনকে। প্রায় অভিন্ন কৌশলে চক্রটি গত ছয় মাসে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে সিআইডি জানতে পেরেছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, প্রতারকরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নানা রকম সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিত। এর মধ্যে রয়েছে জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষকে সুস্থ করা, বিদেশে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা, মামলা-মোকাদ্দমা থেকে মুক্তি, দাম্পত্যকলহ দূর করা, বিয়ের বাধা দূর করা, অবাধ্যকে বাধ্য করা ও চাকরিতে পদোন্নতি। সাধারণ মানুষ একবার তাদের ফাঁদে পা দিলে আর বের হতে পারতেন না।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...