Monday, May 23, 2022

জাহাঙ্গীর আলমের শেল্টারে হেফাজতের সন্ত্রাসীরা


গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের তা-বকারীদের গোপন মদদ দেয়া, নিজে আদালতে হাজির হয়ে জামিন গ্রহণ, জামায়াত বিএনপির সাথে গোপন আঁতাত, সীমাহীন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, লুটপাটসহ বেশকিছু গুরুতর অভিযোগের তথ্য-প্রমাণসহ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরগণ আবেদন করেছেন। এসংক্রান্ত আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানা গেছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ব্যানারে বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরিত ফাইলটিতে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পাশাপাশি প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যার মাষ্টারমাই- হিসেবে মেয়র জাহাঙ্গীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ‘রাজপথ বিচিত্রা’র হাতে ফাইলটি আসার পর পত্রিকার পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী টিম গঠন করে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা/কর্মচারীর সাথে আলাপকালে তারা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে কেউ-ই নাম প্রকাশ করতে রাজী হননি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে নারী কেলেঙ্কারীসহ চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জাহাঙ্গীর আলমের হেফাজত ও জামায়াত প্রীতি
অভিযোগে বলা হয়েছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চরম দূর্নীতিবাজ মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপি নামক অশুভ শক্তির সাথে চরম সখ্যতা ও তার লাগামহীন দূর্নীতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নিয়ে গাজীপুরে চাঞ্জল্য সৃষ্টি হয়েছে। জেলা ও গাজীপুর মহানগরের বেশীর ভাগ মানুষ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের। গাজীপুরের অধিকাংশ ভোটার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে গাজীপুরকে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জের স্থান দিয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে গাজীপুর জেলাকে বঙ্গবন্ধু ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয়ক্ষমতায় আসার পর সবচাইতে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ১৯ শে মার্চ সর্বপ্রথম এই জেলা থেকে পাকিস্তানী হানাদারদেও বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলা হয়েছে। গাজীপুর আওয়ামীলীগের সকল নেতাদের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক খুবই ভাল। তারা পরস্পরকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।
হেফাজত ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপি নামক অশুভ শক্তির নেতাদের আশ্রয়ও প্রশ্রয়দাতাদের যে তালিকা তৈরী করা হচ্ছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দূর্নীতিবাজ মেয়রের নাম এই তালিকার প্রথম স্থানে থাকবে বলে বলে ধারণা করছে গাজীপুরের মানুষ। তারা বলেন ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় গাজীপুর জেলা বর্তমানে একজন নেতার কর্মকান্ডের কারণে দলের মধ্যে বিরাট বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি হলেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জন্মের পরে গাজীপুরের কোন নেতা, কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেন নাই, তিনি একাই সব করে যাচ্ছেন, এই কথাটি বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতায় বিভিন্ন জনসভায় কাউন্সিলরদের সামনে বলেছেন। তিনি মেয়র হওয়ার আগেই জামায়াতের ইসলাম, হেফাজত ইসলাম ও
বিএনপির সাথে চরম সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। ২০১৩ ইং সালের হেফাজতে ইসলামের জ্বালাও পোড়াও
অপকমেৃর সাথে জড়িত গাজীপুর জেলার হেফাজতের সবচাইতে বড় মাওলানা মোঃ রহিম আল মাদানী
দীর্ঘদিন গাজীপুর জেলে অন্তরীন ছিল। তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পূর্বেই পরপর কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে
রহিম আল মাদানী ও তার বড় ভাই হালিমকে নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন করে এনেছেন এবং তার
বাড়িতে নিমন্ত্রণ করে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন। জামিনের সমস্ত টাকা নিজস্ব তহবিল থেকে
পরিশোধ করা হয়েছে, রহিম আল মাদানী বর্তমানে গাছা বোর্ড বাজার এলাকার বড় মসজিদের খতিব। রহিম
আল মাদানীর ভাই মাওলানা আব্দুল হালিম ফেইসবুকে একটি লেখায় মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের উদ্দেশ্যে
পোষ্ট করেছেন, লেখাটি ছিল, ‘তুমি কুরআনের এক পাখিকে সম্মান করেছে, তুমি মুক্ত করেছে এক হাক্কানী
আলেমকে, তুমি স্বপ্ন দেখিয়েছ হাজার হাজার যুবককে, তুমি মহান, তুমি উদার।’ কিছুদিন আগেই সোনার গাঁয়ের হেফাজতের জ্বালাও পোড়াও ঘটনার পক্ষে বোর্ড বাজার এলাকায় বিশাল গণজামায়েত করেছেন মাওলানা আবদুর রহিম আল মাদানী এবং বলেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের কোনো সদস্য মুক্তিযুদ্ধে রক্ত দেননি এবং তাদের পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নাই, প্রধানমন্ত্রী তার স্বপক্ষে একটি প্রমাণও দিতে পারবেন না। তার বক্তৃতার ভিডিও দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
মেয়র জাহাঙ্গীরের এর আশকারা পেয়ে তিনি এই ধরনের দুঃসাহসিক বক্তব্য প্রদান করেছেন। দীর্ঘদিন মেয়র
তাকে টাকা পয়সা দিয়ে লালন পালন করে হৃষ্টপোষ্ঠ করেছেন। দূর্নীতিবাজ মেয়র প্রতিমাসে বিভিন্ন মসজিদে
হেফাজত ও জামায়াতের খতিবদের তালিকা করে মাসোহারা দিচ্ছেন। বিষয়টি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সকল
প্রশাসনিক লোকজন অবগত রয়েছে। মেয়রের আশকারা পেয়ে রহিম আল মাদানীর নির্দেশে গাজীপুর চৌরাস্তার
মসজিদের সামনে শুক্রবার নামাজের পরে পুলিশের উপরে হেফাজতের লোকজন কিছুদিন আগে নগ্নভাবে
হামলা করেছে। মেয়র জাহাঙ্গীরের ফোনের কললিষ্ট ফোন অফিস থেকে সংগ্রহ করার জন্য আইন শৃঙ্খলা
বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে, রহিম আল মাদানীর সাথে তার মাসে কতবার কথা হয় জানা যাবে,
গাজীপুরের বড় বড় ওয়াজ মাহফিলে মেয়র জাহাঙ্গীর তাকে পাঠান এবং মোটা অংকের সম্মানী দেন। বাংলাদেশ
সরকার যখন দেশকে উন্নতশীল দেশ গড়ার লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে ঠিক তখনই জাহাঙ্গীর আলম
অশুভ শক্তির সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। জাহাঙ্গীর মনে করেন ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে তিনি
যাতে কোন অসুবিধায় না পড়েন, এইভাবে তিনি অশুভ শক্তির সাথে মিলেমিশে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। এতে
গাজীপুর আওয়ামী লীগের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছেন। ২০১৩ ইং সালের ৫ মে
হেফাজতের মিছিলে যে সমস্ত লোকজন গাজীপুর থেকে অংশগ্রহণ করেছেন জাহাঙ্গীর আলম তাদের সকলের
দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। এটা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও
এলাকাবাসী অবগত রয়েছেন। তার দূর্নীতি যাতে কেউ জানতে না পারে এজন্য আজ পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনে
প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করেন নাই। এলাকাবাসী বলেন ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন, গাজীপুরে আপনি একটি চারাগাছ লাগিয়েছেন, সেই গাছটি বাগানের সমস্ত গাছ খেয়ে ফেলেছে।’
সিটি কর্পোরেশনের টাকা খরচ করে তিনি বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও সৌদি
আরব ভ্রমণ করিয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লে¬খযোগ্য হানু মিয়া কাউন্সিলর ও তানভীর আহমেদ কাউন্সিলর
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির যে সমস্ত ঠিকাদারা কাজ করেছেন তাদের সকল পাওনা টাকা, বিএনপি
নেতা হাসান উদ্দিন সরকার ও সালাউদ্দিন সরকারের তদবিরে মেয়র জাহাঙ্গীর পাওনা পরিশোধ করে
দিয়েছেন। মনে হয়, তিনি বিএনপিকে পূণর্বাসনের দায়িত্বে নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগের
ঠিকাদারদের কোন টাকা পরিশোধ করছেন না, তিনি বিএনপি নেতা মার্শাল ও হোসেন মার্কেটের স্বপনকে
লাখ লাখ টাকার ঠিকাদারী কাজ দিয়েছেন। ঠিকাদার সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মোল্লার নেতৃত্বে তার
বাড়ীতে আওয়ামী সমর্থিত ঠিকাদারগণ যাওয়ার পরে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধের কোন আশ্বাস না দিয়ে
ঠিকাদার বাধনসহ অনেককে অপমান করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন।

সীমাহীন লুটপাট ও সম্পদ অর্জন
সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর পর তিনি আড়াই বছরে সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন পরিষ্কারের শাখা,
বিদ্যুৎ শাখা, মেকানিক্যাল শাখা ও পানি শাখা থেকে জ.ঋ.ছ ভূয়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮শ কোটি টাকা
আত্মসাৎ করেছেন, বর্তমানেও এই জ.ঋ.ছ ভূয়া প্রকল্প তৈরি অব্যাহত রেখেছেন। চেক রেজিষ্ট্রার বহি দেখলে
সবকিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। গোলাম কিবরিয়া সাহেব বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে এসে মেয়রের সাথে সকল রাস্তাঘাট পরিদর্শন করেছেন। এখন আর ভূয়া
জ.ঋ.ছ ফাইল তৈরি করতে কোন সমস্যা নেই। মেয়র জাহাঙ্গীর যতদিন আছেন এই কাজ অব্যাহত থাকবে কেহ কিছুই করতে পারবে না।’
তার আমলে ২ টি বিশ্ব এজতেমা পালিত হয়েছে, ১০/ ০২/ ২০০২ ইং তারিখে রেজুলেশনের মাধ্যমে এজতেমার
মাঠে বিভিন্ন ভুয়া খরচ দেখিয়ে প্রায় ৪ কোটি টাকা ও ২৮/ ১২/ ২০১৯ ইং তারিখে ২য় এজতেমার মাসিক সভার
রেজুলেশনে মাঠের বালু ভরাট ও অন্যান্য ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৯ কোটি টাকা, সর্বমোট ২টি এজতেমায় ১৩
কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চেক রেজিষ্ট্রার বই দেখলে তার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে এবং দেখার পর
মনে হবে আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ে না কেন। কয়েকটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারের ফার্মের নামে বার বার
উল্লে¬খিত ৮ শত কোটি টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এটা দিন দুপুরে ব্যাংক ডাকাতির মতো অস্বাভাবিক
ঘটনা। ডিপিপি প্রকল্পের অং চযধষঃ চষধহঃ এর মালামাল ক্রয়ের জন্য মেকানিক্যাল শাখা থেকে ৪৫ কোটি
টাকার ফাইল উপস্থাপন করে, ৫ কোটি টাকার মালামাল ক্রয় করে অবশিষ্ট ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ
করেছেন। উক্ত টাকা থেকে গাজীপুর কোনাবাড়ী এলাকায় ১৯ কোটি টাকা দিয়ে ঘ.ঞ.ক.ঈ নামে একটি
ফ্যাক্টরী ক্রয় করেছেন। গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় বাধুন মৌজায় সিটি কর্পোরেশনের আত্মসাৎ করা টাকা
দিয়ে প্রায় ১০০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ট্রাক দিয়ে সেই জমিতে বালি ভরাটের
কাজ অব্যাহত রেখেছেন, এই তথ্যটি তার সাথে যারা গাড়িতে চলে তারা প্রকাশ করেছেন, এছাড়া ভালুকা,
দিনাজপুর, উত্তরা, পূর্বাচল এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। সবচাইতে বেশি জ.ঋ.ছ ভূয়া ফাইল
ইঞ্জিনিয়ার তানভীর এর বিদ্যুৎ শাখা থেকে তৈরী করা হয়েছে, যা এখনও অব্যাহত। এই ফাইলগুলি বিদ্যুতের
গতিতে মেয়র এর অফিস কক্ষে চলে যায়, তার চাইতে বেশি গতিতে চেক লেখা হয়। ঈদের জন্য জ.ঋ.ছ
ভূয়া ফাইল বানানোর জন্য নগর ভবনে হিড়িক পড়ে গেছে।

কাউন্সিলরদের পাত্তাই দেন না
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৮ টি জোনের মোট ৭৬ জন কাউন্সিলর সংশ্লি¬ষ্ট ওয়ার্ড থেকে সরাসরি ভোটে
নির্বাচিত। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলদের অফিসরুম এবং প্রতিটি জোনে সিটি কর্পোরেশনের জোনাল
অফিস ১৪তলা করে নির্মাণ করে দিবেন বলে অনেকবার সিটি কর্পোরেশনের টাকা খরচে করে
চায়না থেকে লোক এনে বড় বড় হোটেলে রেখেছেন। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর পার হওয়ার পরেও তিনি
কোন কাউন্সিলর অফিস নির্মাণ করে দেন নাই এবং জোনাল অফিসও নির্মাণ করেন নাই। তিনি মুখে শুধু বড়
বড় কথা বলেন আর গল্প করে থাকেন। আমাদের ওয়ার্ডে আজ পর্যন্ত রাজস্ব ফান্ডের টাকা দিয়ে কোন কাজ করা
হয়নি। অথচ প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে জ.ঊ.ছ ভূয়া ফাইলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার বিল প্রতিনিয়ত তুলে
নেওয়া হচ্ছে। তিনি মুখোশধারী, ভন্ড, দুর্নীতিবাজ একজন মেয়র। বাংলাদেশে অনেক সিটি কর্পোরেশন
আছে, কোন নির্বাচিত মেয়র এই ধরণের দূর্নীতি ও অপকর্ম সাথে জড়িত নয়, তিনি মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরানোর জন্য সবকিছু রাস্তার উপরে ফোকাস করছেন, এটা একধরনের আইওয়াশ মাত্র। তিনি রাতে টর্চ লাইট নিয়ে রাস্তা পরিদর্শনে যান এবং নিজে ফিতা ধরে ফেইসবুকে ছবি পোষ্ট করেন, শুধুমাত্র তার দূর্নীতি আড়াল করার জন্য। রাস্তাঘাট পরিদর্শন শেষে রাত ১২.০০ ঘটিকার পর উত্তরা ১০ নং সেক্টরে এসে আনন্দ ফুর্তি করে রাত কাটান। বাংলাদেশের কোন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রাতে টর্চলাইট হাতে করে রাস্তা পরিদর্শনে যান না। এতো লুটপাট ও দূর্নীতি বাংলাদেশের কোন মেয়র আজ পর্যন্ত করেন নাই। তার দূর্নীতির কারণে এবং ঙাবৎষধঢ়ঢ়রহম প্রজেক্ট এর কারণে কোনাবাড়ী নির্বাহীর প্রকৌশলীর হত্যাকান্ড ঘটেছে। তার নেপথ্যে ছিল তার ঘনিষ্ট বন্ধু হাওয়া ভবনের মালিক মনিরুল ইসলাম। হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রায় কোটি টাকা খরচ করেছেন। তার লোভের কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। কোনাবাড়ীর সকল শ্রেণীর মানুষ এটা নিয়ে কানাঘুষা করছে। ০াবৎষধঢ়ঢ়রহম প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন ফান্ড থেকে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ অব্যাহত রেখেছেন, সেই টাকা দিয়ে তিনি গাজীপুরের সবচেয়ে বড় কর দাতা হয়েছেন। কালো টাকা সাদা করে তিনি সবচেয়ে বড় করদাতা হয়েছেন। কত টাকা তিনি সাদা করেছেন তা তার ইনকাম ট্যাক্সের ফাইল তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে।

নিজে নিজেই প-িত : গাড়ী মেরামতের নামে হরিলুট
ইদানিং তিনি জুম মিটিং এর আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মানুষকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন যে, তিনি অনেক কিছু জানেন এবং বুঝেন, তিনি এক ধ্যানে কম্পিউটারের মনিটরের দিকে চেয়ে থাকেন, মানুষ এটা নিয়ে হাসাহাসি করেন। আসলে তিনি কিছুই বুঝেন না, তিনি একলাইন বাংলা লিখলে কমপক্ষে পাঁচটি ভূল করেন। তিনি একটি ওয়ার্ড ইংরেজি লেখার ক্ষমতা রাখেন না কারণ তার সাটির্ফিকেট অধিকাংশই জাল। তিনি শুধু জ.ঋ.ছ ভূয়া ফাইলের চেক লিখতে পারেন, আর অন্য কোন যোগ্যতা নাই। তিনি অফিসে আসেন একমাত্র ভূয়া চেক স্বাক্ষর করার জন্য। সিটি কর্পোরেশন সৃষ্টির আগে দুইটি পৌরসভা ছিল, সেই পৌরসভার ব্যবহৃত পুরাতন সকল গাড়ি এবং সিটি কর্পোরেশনের কিছু পুরাতন গাড়ি ব্যবহারে অনুপযোগি হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে। সেই গাড়িগুলি মেরামত দেখিয়ে প্রত্যেকটি একেকবার প্রায় ৩৫ লাখ টাকা করে মোট ২০টি করে ফাইল তৈরি করা রয়েছে। গাড়িগুলির নাম্বার দেখলে ও নথি মিলালে দূর্নীতি পরিস্কার হয়ে যাবে। এভাবে সকল গাড়ি মেরামত বাবদ প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এটা করেছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর তার বন্ধু মনিরুল ইসলামকে নগর ভবনের ৩য় তলায় হাওয়া ভবন নামে একটি অফিস খুলে দিয়েছেন, সেখানে ঠিকাদারদের সীল, প্যাড ও অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে। প্রতিনিয়ত সেখান থেকে জ.ঋ.ছ ভূয়া ফাইল তৈরী করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ জানাজানির পর সেই অফিসটি নিচ তলায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে হাওয়া ভবন অফিসটি মেয়রের বাসায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করে তার বন্ধু মনিরুল।

সব ঠিকাদারী ফার্ম নিজেদের
মেয়র জাহাঙ্গীরের নিজস্ব লোকের যে কয়টি ফার্ম আছে, সেই ফার্ম গুলির নামে বার বার বিল প্রদান করা
হয়েছে। ফার্মগুলোর নাম হলো-মেসার্স আদিতা এন্টারপ্রাইজ, রয়েল ট্রেড এন্টারপ্রাইজ, ডেল্টা এন্টারপ্রাইজ,
এম.আর ট্রেডিং এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এস কন্সট্রাকশন, মেসাস আমিনুল এন্টারপ্রাইজ, জিওটেক ইঞ্জিনিয়ারিং,
মেসার্স কে এ ওয়েল্ডিং এর নামে বিল প্রদান করা হয় এবং এই ফার্মগুলির সাপোর্টিং ফার্মের নাম (মেসার্স মা
এন্টারপ্রাইজ, মিলি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ইকবাল এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আজিজুল এন্টারপ্রাইজ এবং বিসমিল্ল¬াহ
এন্টারপ্রাইজ, যাদের নামে কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই)। ঘুরেফিরে সেই কয়েকটি ফামেৃর নামে। ৩০ মাসে
রাজস্ব ফান্ড থেকে প্রায় ৮শত কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। যা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষণ
কর্মকর্তা জেনেশুনে করেছেন। তারাও এই অপকর্মের সাথে সরাসরি জড়িত। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে সিটি কর্পোরেশনের বদলি করা হয়েছে, মেয়রের অনিয়ম ধরার জন্য কিন্তু তিনি প্রতিদিন জঋছ ভূয়া ফাইলে স্বাক্ষর করার জন্য বেহুশ হয়ে যান। বছরে জ.ঋছ ফাইলে কত টাকা খরচ করা যাবে তা তিনি জেনেও মুখ বন্ধ করে রাখেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমানে শলার ঝাঁঙ থেকে শুরু করে কম্পিউটার পর্যন্ত বিভিন্ন জোনাল অফিসে সাফ্লাই দিয়ে থাকেন বলে সবাই জানে, তিনি একজন ছোটখাট ঠিকাদারও বটে। সাপ্ল¬াই এর লভ্যাংশ টাকা আগে
তিনি একাই নিতেন, এখন আবার মনিরুল ইসলামকে সমান ভাগে ভাগ দিতে হয়। বিষয়টি আঞ্চলিক নির্বাহী
কর্মকর্তাদের মুখ থেকে শোনা গেছে। মাসিক সভার রেজুলেশনের কপি দেখলে বুঝা যাবে প্রতিমাসে কত টাকা ভাগ হয়। ভূয়া ফাইল তৈরী হচ্ছে। তার সময়কালে কতগুলো ফাইল তৈরী করা হচ্ছে তার হিসাব সবাই প্রতিনিয়ত রাখছে। দেখা যায় পূর্বের তালিকাভূক্ত ০৮ টি জোনের কোন ঠিকাদার আজ পর্যন্ত কোন কাজ করতে পারে নাই। রাজস্ব ফান্ড থেকে কোন টেন্ডার প্রদান করা হয়না। রাজস্ব ফান্ডের টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে ভূয়া চেক লিখে উত্তোলন করে দুর্নীতিবাজ মেয়র ও তার বন্ধু ভন্ড মনিরুল ইসলাম নিয়ে যান। এভাবে সামনে রোজার
ঈদের জন্য ০৮ টি জোন থেকে প্রায় ৪০ টি ফাইল, প্রত্যেকটি প্রায় ৫ লাখ টাকা করে মোট ৪ কোটি টাকা
আত্মসাতের পরিকল্পনা করেছেন।

চাকরী স্থায়ী করে দেবার নামে আত্মসাত
বিগত এজতেমার সময়ে (৩ দিন) তিনি রাত ১২.০০ ঘটিকার পর মাঠের পশ্চিম পাশে ১০নং সেক্টরে চলে যেতেন আমোদ-ফুর্তি করার জন্য। এটা তার সাথের লোকজন নিশ্চিত করেছেন। মাষ্টার রোলের কয়েকশ কর্মচারীর চাকুরী স্থায়ী করে দিবে বলে তার বন্ধু ভন্ড মনিরুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম রানা ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের (মাষ্টার রোলে নিয়জিত) প্রতিজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা, ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা করে এবং ৩য় শ্রেনীর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা করে সর্বমোট ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন। তিনি বলেছেন চাকুরীর ঙৎমধহড়মৎধস পাস করার জন্য স্থানীয়সরকার মন্ত্রীকে ২ কোটি টাকা, জনপ্রশাসন সচিবকে ১ কোটি টাকা, পরিকল্পনা সচিবকে ১ কোটি টাকা, অর্থ সচিবকে ১ কোটি এবং স্থানীয়সরকার সচিবকে ১ কোটি টাকা ও স্থানীয়সরকারের অতিরিক্ত সচিবকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন, এই কথাটি মেয়র তার নিজস্ব লোকজনের সাথে গাড়িতে এবং ডাইনিং টেবিলে বসে গল্প করেছেন। জ্ঞানী লোকেরা বলে থাকেন, কোনো অযোগ্য লোক যদি, কোন কারণে যেন তেন উপায়ে যোগ্য চেয়ারে বসে যায়, ঐ চেয়ারের যোগ্য তিনি কখনই ছিল না, তখন তার
কর্মকান্ডে কেয়ামতের আলামত শুরু হয়ে যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে গত দুই বছর যাবৎ কেয়ামতের
আলামত শুরু হয়ে গিয়েছে। এমন কোন অপকর্ম নাই যেটা মেয়র জাহাঙ্গীর করেন নাই। মেয়র জাহাঙ্গীর
আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৬৬ জন কাউন্সিলরের সাথে কোনরকম আলোচনা বা পরামর্শ করেন না, তিনি ঢাকা
দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র সাইদ খোকনের ফর্মুলায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন চালাচ্ছেন। কাউকে কোন পাত্তা
দিচ্ছেন না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সাথে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নের ব্যাপারে তিনি কোন পরামর্শই করেন না।

করোনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ নিজের নামে বিতরণ
দূর্নীতিবাজ মেয়র গত বছর করোনার সময় অত্যন্ত গোপনে সিটি কর্পোরেশনের টাকা আত্মসাৎ করে ত্রাণের
চাল, ডাল ক্রয় করে গুদামজাত করেছিল। সেখানে তিনি তার নিজের নাম ব্যবহার করেছিল। সরকার থেকেও ত্রাণের চাল, ডাল দেওয়া হয়েছে, সেইগুলিও তিনি বস্তার মধ্যে নিজের নাম লিখে বিতরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মাসিক সভায় কাউন্সিলরগণ তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নাম এবং সিটি কর্পোরেশনের নাম কেন ব্যবহার করেন নাই’ তিনি কোন উত্তর দিতে পারেন নাই, পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভবিষ্যতে
আর এরকম হবে না।’ এবছর তিনি এক টাকারও ত্রাণ দেন নাই।
জাহাঙ্গীর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে ১৫ই আগষ্ট উপলক্ষে ৫৭ টি ওয়ার্ডে ১ টি করে মোট ৫৭ টি গরু কাঙ্গালী
ভোজের জন্য দিয়েছিলেন, কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর গত ০২ বছরে কাঙ্গালী ভোজের ১ টি গরুও কোথাও
দেন নাই। তার বাসায় নেতা-কর্মীরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের সাথে ভাল আচরণ করেন না, এমনকি এক
গ্ল¬াস দিয়েও পানি করোনা তাদেরকে আপ্যায়ণ করেন না। এটা হল তার বংশের পরিচয়। তার নারী কেলেঙ্কারী নিয়েও পাওয়া যাচ্ছে অনেক চমকপ্রদ তথ্য।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...