Sunday, September 19, 2021

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে দেশে মাছ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে


প্রকৌশলী মোঃ আলীমুজ্জামান চৌধুরী
প্রকল্প পরিচালক
জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প

মামুন আহমেদ জয় : মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ। এতদিন স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও অতীতের রেকর্ড ভেঙে এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দেশ। চাষের মাছে বরাবরের মতো পঞ্চম স্থানে থাকলেও জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের ফলে উন্মুক্ত জলাশয় ও পতিত পুকুওে বেড়েছে মাছের চাষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাছের অভয়াশ্রম তৈরি, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাছ শিকার বন্ধ ও জলাশয়াদিতে মাছ অবমুক্তকরণে এ সফলতা এসেছে। এ ছাড়া প্রদর্শনী আর প্রশিক্ষণ, ইনসেনটিভ দেওয়ার ফলে বেকারত্বের সংখ্যা যেমন কমে এসেছে, তেমনি পতিত পুকুর সংখ্যাও এখন শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক প্রতিবেদন ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার-২০২০’ এর মতে, ২০১৯ সালে বিশ্বে প্রায় ১৮ কোটি টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। এসব মাছের অর্ধেকেরও বেশি অভ্যন্তরীণ উৎসের বা স্বাদু পানির মাছ। আর বাকি মাছ সামুদ্রিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। আর প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন ও ভারত। চাষের মাছে বাংলাদেশের অবস্থানটি পঞ্চম।
চাষের মাছে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম। এর আগে ২০১৭ সালে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ পঞ্চম থেকে তৃতীয় স্থানে উঠেছিল। আর সামগ্রিকভাবে স্বাদু পানির মাছ উৎপাদন বাড়ার হারেও বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। বর্তমানে মাছ বাড়ার হার ৯ শতাংশ। আর ১২ শতাংশ নিয়ে প্রথম অবস্থান দখল ইন্দোনেশিয়ার। প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে মাছ চাষের হার বেড়েছে ৫২৭ শতাংশ আর মাছ খাওয়ার হার বেড়েছে ১২২ শতাংশ।
বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে তৃতীয় ছিল। অতীতের রেকর্ড ভেঙে এখন দ্বিতীয় অবস্থানে। এ সফলতা আসার বেশকিছু কারণ রয়েছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্প, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী, ইনসেনটিভ দেওয়াই মূল কারণ। এ ছাড়া মুক্ত জলাশয়, হাওড়, বিলে মাছের পোনা অবমুক্ত করা তো আছেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মা ইলিশ রক্ষা, মুক্ত জলাশয়ে মাছ অবমুক্ত করা আর মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করাতে বড় সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে চলমান প্রকল্প হাতে নেওয়ায় আগামীতে আরও ভালো অবস্থানে আসবে দেশ।
এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তরা বলেন, এখন মাছ চাষ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আমাদের গবেষণায় বিলুপ্ত মাছ- টেংরা, পাবদা, গুলশা চাষে প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করছি। এতে এক দিকে বেকারত্ব কমছে, অন্যদিকে বেড়েছে মাছ উৎপাদন।

মৎস্য খাতের উন্নয়ন
একসময় নদীনালা, খালবিল, হাওর-বাঁওঙ ইত্যাদি জলাশয় ছিল নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের প্রধান আবাসস্থল। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৯০ ভাগ আহরিত হতো এসব জলাশয় থেকে। ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পের প্রসার ও কৃষির আধুনিকায়নে ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং মনুষ্যসৃষ্ট বহুবিধ কারণে এসব প্রাকৃতিক জলাভূমি ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে এসব জলাশয় থেকে মৎস্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্ধিত চাহিদার জোগান দিচ্ছে চাষ করা মাছ। বাজারমূল্য ও পুষ্টিকর খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্যচাষ একটি লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে অসংখ্য আধুনিক মৎস্য খামার গঙে উঠছে। বর্তমানে কৃষি ফসলের সঙ্গে মৎস্য চাষের একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। সারা দেশের ভরাট হয়ে যাওয়া অসংখ্য সরকারি খাস জলাশয়ভুক্ত পুকুর, দিঘি, মৃতপ্রায় নদী, বিল, হাওর প্রভৃতি সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ করে উৎপাদন বাঙানো হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন অব্যবহƒত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। আবার জলাশয়ের নির্মিত পাড়ে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে ফলদ বৃক্ষ রোপণসহ নানা ধরনের শাকসবজি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রবাদ আছে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য। বাঙালিদের প্রতিদিনের খাদ্যশক্তির ৭৫ ভাগ জোগান দেয় ভাত। আর ভাতের সঙ্গে এখনো আমাদের প্রধান সম্পূরক খাবার মাছ। নদীমাতৃক বাংলাদেশের ২৩০টি নদী, শত শত হাওর-বাঁওড় ও খালবিল মৎস্য সম্পদে ভরপুর। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের তিন দশমিক ৭৭ ভাগ এবং কৃষি জিডিপি’র ২৫ দশমিক ৩০ ভাগ আসে মৎস্য খাত থেকে। দেশের মানুষের মোট প্রাণিজ আমিষের ৬০ ভাগ জোগান দেয় মাছ। দেশের মৎস্য খাত দুটি ভাগে বিভক্তÑঅভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক মৎস্য। মৎস্য অধিদপ্তরের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে উš§ুক্ত মৎস্য আহরণের অবদান ছিল ২৮ দশমিক ৪৫ ভাগ, চাষের মৎস্যের অবদান ৫৬ দশমিক ২৪ ভাগ এবং সামুদ্রিক মৎস্যের অবদান প্রায় ১৬ ভাগ। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০২০ সালের হিসাবমতে, বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় এবং অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষে বিশ্বে পঞ্চম।
পুষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস মাছ। সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ডি থাকে, যা শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। স্যামন, টুনা, সার্ডন, পোয়া, রূপচান্দা, কোরাল ইত্যাদি মাছে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। তাছাড়া সামুদ্রিক মাছে প্রচুর আয়োডিন থাকে। আয়োডিনের অভাবে শিশুদের গলগ- রোগ, মানসিক প্রতিবন্ধিতাসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার আয়োডিনের অভাবে গর্ভবতী মায়েরা নানা রোগে আক্রান্ত হয়। তাই সামুদ্রিক মাছ নারী ও শিশুদের অনেক রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ও ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে মৎস্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক করোনাকাল-উত্তর বাংলাদেশে পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য সরবরাহ ও গ্রামপর্যায়ে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকারের মূল নির্দেশনা হলোÑ‘দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি পতিত না রেখে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে।’ অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তরাধীন উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প অক্টোবর ২০১৫ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের ৬১টি জেলার ৪৯টি উপজেলার মোট দুই হাজার ৫৯৭ দশমিক ৪৩ হেক্টর তালিকাভুক্ত পতিত/অব্যবহƒত বিভিন্ন জলাশয় পুনঃখননের মাধ্যমে মৎস্য চাষ-উপযোগী করে সংস্কার করা হচ্ছে। ফলে ১০ হাজার ২৩৪ মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদনসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে খননকৃত জলাশয়ে ১০ হাজার ৬০০ জন সুফলভোগীকে সংগঠিত করে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব মাছ চাষের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। দেশব্যাপী চলমান এ প্রকল্পটি মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ, প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী এবং সরকারের প্রণোদনা বাংলাদেশে মৎস্য খাতে সফলতার মূল কারণ। এছাঙা হাওর ও বিলে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, মা ইলিশ রক্ষা এবং মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করাতে বড় সাফল্য এসেছে। প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিন মৎস্য শিকার বন্ধ রাখা এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার মাধ্যমে মা মাছ রক্ষা করা হচ্ছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকার অনেকটা সফল হয়েছে। ফলে প্রচুর বড় ইলিশ বাজারে আসছে। জলাশয়ে ডালপালা দিয়ে মাছের আশ্রয় তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে মাছ ডিম দিচ্ছে, বর্ষায় তা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। বিলুপ্তপ্রায় মাছের ওপর গবেষণা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে বাড়ছে মাছ উৎপাদন।
গত ১০ বছরে মৎস্য খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টিচাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছে। এ ইনস্টিটিউট থেকে এরই মধ্যে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক ৬২টি লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো মৎস্য অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণের ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল ৪৩ লাখ মেট্রিক টনে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মৎস্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে প্রথম, যার পরিমাণ পাঁচ দশমিক ১৭ লাখ মেট্রিক টন। দেশ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছ কিনতে পারছে, পুষ্টিও পাচ্ছে।
প্রচলিত মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি অপ্রচলিত মৎস্য সম্পদ যেমন কুঁচিয়া, শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি সংরক্ষণ ও চাষাবাদের কৌশল উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অপ্রচলিত মৎস্য পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের অপ্রচলিত মৎস্য রপ্তানির বঙ বাজার চীন, জাপান ও ভিয়েতনাম। ফিস এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রমতে, বাংলাদেশ থেকে ইতালি, জাপান, কোরিয়া, চীন, জার্মানি, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, হংকংসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মৎস্য রপ্তানি হচ্ছে। মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে গত অর্থবছর চার হাজার ৩১০ কোটি টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ।
মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সরকারের নির্দেশনায় মৎস্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী উন্নয়নমূলক নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মৎস্য খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কাঙ্খিত আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এ কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিগগিরই মৎস্য খাত দেশের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে জায়গা করে নেবে।
জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘প্রকল্পটির মাধ্যমে টেকসই মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও সরকারের দারিদ্র্য নিরসন প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করা হবে। এছাড়া পতিত জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি মাছ চাষের উন্নত প্রশিক্ষণ, সম্প্রসারণ সেবা ও চাষের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র মৎস্যজীবী, বেকার যুবক ও দুঃস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে।
দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পে নতুন যেসব কার্যক্রম যুক্ত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ৫৪০ হেক্টর পুকুর বা দীঘি পুনঃখনন, ১ হাজার ৪ হেক্টর খাল-বিল-মরা নদী-বরোপিঠ পুনঃখনন, ১০০টি পাইপ-কালভার্ট নির্মাণ, ২ হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, মাছ ধরার ৮০টি জাল বিতরণ, ৪০টি আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ পানির পাম্প স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শক নিয়োগ।
এদিকে পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশের ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলো খনন বা পুনঃখনন করে মাছ চাষের আওতায় আনতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথমদিকে পার্বত্য এলাকা বাদে অন্যান্য জেলার ২২৯টি উপজেলাকে প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সংশোধনীতে নতুন করে আরও ১২০টি উপজেলাকে যোগ করার এখন ৮টি বিভাগের ৬১ জেলার ৩৪৯টি উপজেলা প্রকল্পভুক্ত হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক আলীমুজ্জামান চৌধুরীর সাক্ষাৎকার

মৎস্য অধিদপ্তরে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা হয় ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক’ প্রকল্পটির পরিচালক-মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলীমুজ্জামান চৌধুরীর সাথে। তিনি প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরেন খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে। সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ নি¤েœ তুলে ধরা হলো ঃ

-: প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও গৃহিত কার্যক্রম বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে?
Ñ: প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- ক) সারাদেশের ভরাট হয়ে যাওয়া অসংখ্য পতিত সরকারি খাস ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়সমুহ (পুকুর/দিঘি/মরানদী/বরোপিট/বিল/হাওড় ইত্যাদি) প্রয়োজনীয় পুন:খননের মাধ্যমে সারাবছর প্রযুক্তিনির্ভর মাছ উৎপাদন কার্যক্রমের আওতায় আনা। খ) অব্যবহত জলাশয়ে মাছের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে বিপুল পরিমান কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা। গ) সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। ঘ) গঠিত সুফলভোগীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ সরকারী সম্পদের উপর তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। ঙ) বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ও সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা। চ) জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের উন্নয়ন করা। উক্ত লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের অধীন ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক’ প্রকল্পটি (দ্বিতীয় সংশোধিত) মোট ৪০৯.০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে অক্টোবর/২০১৫- জুন/২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমান বাস্তব অগ্রগতি আনুমানিক ৭০%।

-: পুন:খননের মাধ্যমে মাছচাষ উপযোগি জলাশয় তৈরির ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা কি?
Ñ: দেশের মানুষের পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্যের বড় অংশ আসে মৎস্য সেক্টর থেকে। ফলে প্রতিনিয়ত ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলো পুন:খনন/সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন অব্যহত রাখা এবং বর্ধিত চাহিদার যোগান দেয়া মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বর্তমানে দেশে প্রায় ৮.২১ লক্ষ হেক্টর বদ্ধ ও আধা-বদ্ধ জলাশয় রয়েছে যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক খাস পুকুর, দিঘি, বদ্ধ খাল, মরানদী, বাওড়, বিল ও বরোপিট পতিত অবস্থায় আছে যা সনাক্ত করে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পর্যায়ক্রমে পুন:খননের মাধ্যমে মাছচাষের আওতায় আনার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ অতিরিক্ত মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যহত রাখা সম্ভব।

-:দেশের জলাশয়গুলো ভরাট ও দখলের প্রবণতা রোধ করার লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন।
Ñ: মূলত জনসংখ্যার চাপ এবং প্রতিনিয়ত সরকারি জলাশয় সংলগ্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গাগুলো ভরাট করে বাড়ী নির্মাণ, শিল্প স্থাপন, নগরায়ণ, রাস্তা নির্মাণসহ প্রতিবছর বন্যাবাহিত বিপুল পরিমান পলিমাটি জমার কারণে একসময়ের বছরব্যাপী পানিতে ভরা প্রাকৃতিক মাছের বিচরণক্ষেত্র নদী-নালার গভীরতা ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে। বর্তমানে বর্ষাকালে ঐসব জলাশয়গুলোতে পানি থাকলেও গভীরতার অভাবে শুষ্কমৌসুমে শুকিয়ে যায়, ফলে ঔসব ভরাট হয়ে যাওয়া সরকারি জলাশয়গুলো স¦ার্থলোভী মানুষের অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে, ফলে একদিকে ধারণক্ষমতার অভাব অন্যদিকে দ্রুত পানি নিষ্কাশন/নেমে যাওয়ার অভাবে অল্প বর্ষাতেই লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে, কৃষি উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীন ভরাট হয়ে যাওয়া বদ্ধ জলাশয়গুলো পুন:খননের আওতায় এনে উপযুক্ত গভীরতার পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে হবে, প্রবাহমান বড় বড় নদীগুলোর সাথে ভরাট হয়ে যাওয়া সংযোগ খাল/শাখা নদীগুলো খনন করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে হবে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বসতবাড়ী নির্মাণ কঠোর আইন করে বন্ধ করতে হবে। এতে মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে, গ্রামভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে এবং আধুনিক কৃষিকাজে ভূপৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। অন্যদিকে সরকারী জলাশয়গুলোর সীমানা নির্ধারণ করা হলে অবৈধ দখল প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে।

-:আগামীতে মৎস্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় জনকল্যাণমূখী কি কি প্রকল্প প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে?
Ñবিষয়টি সম্পুর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয় হওয়ায় এর উপযুক্ত জবাব দিতে পারবেন সংস্থা প্রধান হিসাবে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি দেশের কৃষি সেক্টরের মধ্যে আমাদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ অধিদপ্তর/সংস্থাগুলি তুলনামুলকভাবে অনেক বেশী জনকল্যাণমুখী, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিবেচনায়। আমি মনে করি সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে মৎস্য সেক্টরের মাধ্যমে ভবিষ্যতের বর্ধিত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মৎস্য অধিদপ্তর জনকল্যাণমুখী প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা অব্যহত থাকবে।
-:মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিশ্বে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য কি ?
: :Ñসম্প্রতি ঋঅঙ এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির হারে ইন্দোনেশিয়ার পর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক অনুভূতি এবং এ অভাবনীয় কৃতিত্বের দাবীদার বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তথা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঠিক দিকনির্দেশনার আলোকে মৎস্য অধিদপ্তরের। নিশ্চয়ই চালিকা শক্তি হিসাবে মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে বর্ধিত মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমার প্রকল্পের ভুমিকা অত্যন্ত জোড়ালো। বর্তমান বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের কারণে কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি মোকাবেলায় দেশে পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য সরবরাহ ও গ্রামপর্যায়ে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশের ভরাট হয়ে যাওয়া সকল শ্রেণীর পতিত জলাশয়সমুহ মৎস্য চাষ উপযোগী করে পুন:খনন/সংস্কারের জন্য চলমান জলাশয় সংস্কার প্রকল্পের অনুরূপ বৃহত্তর পরিসরে প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজন এবং সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
-:বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর হতে চলেছে। এই ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর গুরুত্বপুর্ণ প্রকল্প হিসেবে কি কি প্রণয়ন করতে যাচ্ছেন?
Ñ: এক কথায় বলা যায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দীর্ঘ ৫০ বছরে মৎস্য অধিদপ্তর চাহিদার সাথে মিল রেখে কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আজকে যে অবস্থানে উপনীত হয়েছে তাতে চলমান প্রকল্পগুলোর অনুরূপ অসংখ্য সমাপ্ত প্রকল্পের বড় ধরনের অবদান রয়েছে। পরিসংখ্যান থেকে যতটুকু জেনেছি-স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের পুর্ব পর্যন্ত দেশে মৎস্যচাষ প্রবর্তনই হয়নি। দেশের নদী/নালা/খাল/বিল/হাওড়/বাওড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক জলাশয় হতে আহরিত মাছই একমাত্র প্রধান সরবরাহ ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাহেবের দূরদর্শি চিন্তার ফসল হিসেবে ১৯৭৩ সালে গণভবনের লেকে মাছের পোনা অবমুক্তির মাধ্যমে আধুনিক মাছ চাষের সূচনা হয়, যার ফলে আজকের দিনে মাছ চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক পেশা ও শিল্প হিসাবে মানুষ গ্রহণ করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে বিশ্বে বাংলাদেশ আজ মাছচাষে দ্বিতীয় এবং এক নম্বর অবস্থানে যাওয়ার চেষ্টায় সকল যুগান্তকরী কার্যক্রম গ্রহণ করে যাচ্ছে। যেমন (ক) বিশ্বে রফতানী বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আরো বেশি অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিকমানের প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভেল্যু এ্যাড করা হচ্ছে। (খ) জাতীয় মাছ ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে ও সাগরে নানা কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমানে ইলিশের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। (গ) অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছের মজুদ বাড়ানোর জন্য প্রতিবছর সারাদেশব্যাপী রাজস্ব খাতের অর্থায়নে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। (ঘ) সাগরের সামদ্রিক মাছের মজুদ গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রেখে আহরণ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। (ঙ) ভরাট হয়ে যাওয়া সকল জলাশয় পর্যায়ক্রমে খননের আওতায় এনে পরিকল্পিত চাষের আওতায় এনে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নেয়া হচ্ছে।

Related Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

মৎস্য খাতে অর্জিত সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদমৎস্যখাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে...

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ।...