Wednesday, October 27, 2021

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে মাহবুবের রামরাজত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতিতে ডুবে আছে স্বাস্থ্যখাত। বলতে গেলে স্বাস্থ্যখাত এখন রাহুর কবলে। মালামাল সরবরাহ না করে পুরনো যন্ত্রপাতি কুড়িয়ে এনে রং করে হাসপাতালে গছিয়ে দিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট। শত চেষ্টা করেও সি-িকেটের কবল থেকে মুক্ত করা যাচ্ছেনা স্বাস্থ্যখাতকে। স্বাস্থ্যখাতেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হতে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও যন্ত্রপাতি। কিন্তু কর্মকর্তা/কর্মচারীর তৈরি সি-িকেটের কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অন্যতম হোতা হচ্ছেন হিসাব রক্ষক মাহবুবুর রহমান।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে কর্মরত মহাদূর্নীতিবাজ, স্বঘোষিত পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আফজাল সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাব রক্ষক মাহবুবের শত শত কোটি টাকার দূর্নীতির মধ্যে এ প্রতিবেদনে কয়েকটি দূর্নীতির চিত্র উপস্থাপন করা হলো মাত্র।
নিজেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নিকট আত্মীয় বলে পরিচয়দানকারী মাহাবুব জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে কে কখন পরিচালক হয়ে আসবেন সেটা তিনিউ নির্ধারন করে থাকেন বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায় তিনি ১৯৯২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ দীর্ঘ ২৬ বছর যাবত আই.পি.এইচ-এ হিসাব রক্ষক পদে বহাল থেকে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছেন। তার লাগামহীন দূর্নীতির কারনে স্বাস্থ্য সেক্টরে একমাত্র উৎপাদিত আইভি ফ্লুইড/স্যালাইন তৈরীর প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের অতল তলে নিমজ্জিত হয়ে বন্ধ হয়ে আছে।
গত ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ ও ২০২০ বিগত এই তিনটি অর্থ বছরে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে এবং খাবার স্যালাইন উৎপাদন প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত প্রায় দুইশত কোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন টেন্ডার আহ্বান না করে শুধূমাত্র ক্যাশ পারচেজ, কোটেশন এবং তথাকথিত ডিপিএম পদ্বতিতে এই বিপুল পরিমান অর্থ প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কয়েকশত গুন বৃদ্ধি করে ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজসে আত্মসাত করেছে।
হিসাব রক্ষক মাহাবুব যে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর জাল করতে সিদ্বহস্ত। গত অর্থ বছরে জনসাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং খাবার স্যালাইন উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত বিভিন্ন কোডের ৬৮ কোটি টাকা কোনররূপ টেন্ডার না করেই কেবলমাত্র ক্যাশ পারচেজ এবং কোটেশনে করেছে, এ্রমধ্যে ক. এম.এস.আর কোডে ৩৯ কোটি ০৮ লক্ষ টাকা, খ. ভারী যন্ত্রপাতি কোডে ২৫ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা, গ. প্রচার বিজ্ঞাপন খাতে ১৭ লক্ষ টাকা, ঘ. বইপত্র ও সাময়িকী বাবত- ১০ লক্ষ টাকা, ঙ. আউটসোর্সিং-১ কোটি টাকা, চ. কম্পিউটার সামগ্রী ০৬ লক্ষ টাকা, ছ. মুদ্রণ ও বাধাই ৩০ লক্ষ টাকা, জ. আনুসাঙ্গিক ও কাঁচামাল ক্রয় ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, ঝ. পোষাক, ফার্নিচার, মোটরযান ও আসবাবপত্র রিপেয়ারিং ২ কোটি টাকা।
ক্রয় প্রক্রিয়ার নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে তিনি এবং বর্তমান পরিচালক আঃ রহিম ২৫ হাজার টাকা করে কাঁচা ভাউচারে ০৩ (তিন) কোটি টাকার নামমাত্র মালামাল ক্রয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছেন। ০৩ (তিন) লাখ টাকা করে মোট ০৯ কোটি টাকার কোটেশন করেছে ০৩ (তিন) শতটি। যারমধ্যে তার নিজের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বেনামে রয়েছে একশতটি। এছাড়াও যেসকল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নামে কোটেশন করেছেন তাদের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য (১) মেসার্স আশিক ট্রেডার্স, (২) জেরিন এন্টারপ্রাইজ, (৩) মিউচুয়াল ট্রেড সিস্টেম, (৪) চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ, (৫) হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ, (৬) মমতাজ এন্টারপ্রাইজ, (৭) এ এন্ড এ-কার সেন্টার এন্ড বিজনেস সলিউশন, (৮) জাহিদ এন্টারপ্রাইজ, (৯) আর এন এন্টারপ্রাইজ, (১০) অর্থী এন্টারপ্রাইজ, (১১) সাহেল এন্টারপ্রাইজ, (১২) আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ, (১৩) শারমীন এন্টারপ্রাইজ, (১৪) বাংলাদেশ সাইন্স হাউজ, (১৫) নুর সার্জিকেল, (১৬) রুবেল এন্টারপ্রাইজ, (১৭) মামুন এন্টারপ্রাইজ, (১৮) মুন্সী এন্টারপ্রাইজ, (১৯) মান্নান এন্টারপ্রাইজ, (২০) সুমন এন্টারপ্রাইজ, (২১) নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ, (২২) খোন্দকার ট্রেডিং, (২৩) গাজী ট্রেডার্স, (২৪) এ, এস এন্টারপ্রাইজ এবং (২৫) হৃদয় এন্টারপ্রাইজ নামে ০৫ থেকে ১০টি করে কোটেশন দেখানো হয়েছে তন্মধ্যে হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ এর নামে প্রায় ৫০টির অধিক কোটেশন করেছেন। যেখানে প্রকিউরমেন্ট রুলস ২০০৮ এবং ২০০৯ এর ৮১ ও ৮৮ বিধিতে বছরে নগদ ভাউচারে ০৫ (পাঁচ) লাখ টাকা এবং কোটেশনে ২০ (বিশ) লাখ টাকার বেশী খরচ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে সেখানে প্রতিযোগীতামূলক দরপত্র আহবান না করেই বিপুল পরিমান অর্থ পরিচালক আবদুর রহিম ও হিসাবরক্ষক মাহবুব ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ ও অর্থ আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে ব্যয় করা হয়েছে বলে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সেলস এন্ড প্রকিউরমেন্ট অফিসার হিসাবে (২য় গেজেটেড পদ) কর্মরত নিজাম উ্িদ্দনকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে সেই পদটি মাহবুব বর্তমান পরিচালককে ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে ভাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ প্রকাশ। হতভাগা নিজাম উদ্দিন মনের কষ্টে স্ট্রোক করে মে/২০২০ ইং তারিখে মৃত্যূর কোলে ঢলে পড়েন। হিসাব রক্ষক মাহবুব অফিস ক্যাম্পাসে অবৈধ জায়গা দখল করে নিজে বাংলো বাড়ি তৈরী করে থাকেন এবং ২০/২৫ টি সেমি পাকা ঘর তৈরী করে প্রতিমাসে সেখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ভাড়া পাচ্ছেন দীর্ঘদিন যাবৎ। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ভিতরে অবৈধভাবে বসবাসকারী কর্মচারীদেও বাসা-বাড়ী থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ লাইন, গ্যাস এবং পানির লাইন সংযোগ দিয়ে প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা আদায় করে যাচ্ছেন। টাকা না দিলে বাসা-বাড়ী ভেংগে দেওয়ার হুমকী দিচ্ছেন।
তাছাড়া নামে বেনামে অনেক সম্পদ ও সম্পত্তি করেছেন মাহবুব। ঢাকা শহরে তার শশুরবাড়ী রসুলবাগ এলাকায় রয়েছে সাত তলা প্রাসাদোগম বাড়ী। এছাড়াও উত্তরা, ধানমন্ডি, আদাবর, বসুন্ধারা আবাসনে রয়েছে তার একাধিক ফ্ল্যাট। তার স্ত্রী এবং সাত শালাÑশ্যালিকার নামে বে-নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট । যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা, গাউছিয়া মার্কেটে রয়েছে আলিশান দোকান। শালা-শ্যালীকা এবং তার ভায়রা ভাইদের নামে ক্রয় করেছে বিলাসবহুল গাড়ী। তিনি তৃতীয় শ্রেণীর একজন কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তার অফিস কক্ষটি দেখলে মনে হবে বড় কোন অফিসারের রুম। তার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের আলমারীতে থাকে সর্বদা বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ, কাজের ফাঁকে, ফাঁকে তার কাছে বিভিন্ন তদবীর নিয়ে আসে সুন্দরী ললনারা। অফিস কক্ষেই তিনি মদ পান করে থাকেন। এই মহাদূর্নীতিবাজ মাহবুব স্বাস্থ্য সেক্টরে ভয়ংকর দূর্নীতিবাজ আফজাল সিন্ডিকেটের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তার বিরুদ্ধে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী মুখ খুললেই তার ওপর নেমে আসে শাস্তি ও নির্যাতনের খরগ। হয় বদলী না হয় মৃত্যুদন্ডের হুমকী। তার নিজস্ব ক্যাডারবাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। গত ১৭/১০/২০১৭ ইং তারিখে তার বিভিন্ন অপকর্ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দূর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি তদন্ত টীম গঠন করা হয়েছিল। তিনি সেই তদন্ত কমিটিকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে আলোর মুখ দেখতে দেননি। তার সীমাহীন দূর্নীতির বিরুদ্ধে অসংখবার দেশের জাতীয় পত্রিকায় নিউজ ছাপা হলেও অদ্যাবধি তিনি বহালতবিয়তে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নামে বরাদ্দকৃত করোনা ভাইরাসের প্রনোদনা ০২(দুই) কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ১০ লাখ টাকা যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনা ভাইরাসের সময় বাসায় এবং বাড়িতে অবস্থান করেছিল এবং যারা মাহাবুবের পা চাটা তাদের দিয়েছেন। বাকী প্রায় ২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা প্রকৃতপক্ষেই করোনা ভাইরাসে ডিউটি করেছেন তাদেরকে বঞ্চিত করেছে। ভুক্তভোগীরা গত ০৬/০৭/২০২০ ইং তারিখে পরিচালকের কক্ষের সামনে বিক্ষোব সমাবেশ করে দূর্নীতিবাজ পরিচালক, হিসাব রক্ষক মাহবুব এবং প্রসাশনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জনিয়েছে।

আবারো তদন্তের নির্দেশ
মাহবুবের দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট। সবাই যেন এখন মাহবুবের পকেটে। দেখেও দেখেনা, শুনেও না। কথিত আছে সবাইকে দিয়েই খায় মাহবুব, কাজেই কোনকিছুই হবেনা তার। গত ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মাহবুবের দুর্নীতি ও অপকর্ম তদন্ত করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্টানের পরিচালককে। সদস্য করা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন সহকারী পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাফায়েতুল ইসলামকে। ১৫ দিনের মধ্যে তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ২ বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। তদন্ত হিমাগারে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছে পর্যবেক্ষক মহল। ফলে আগের তদন্ত কমিটি বাতিল করে মাহবুবের দুর্নীতি ও অপকর্ম তদন্ত করার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তিন সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্টানের সহকারী পরিচালককে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন: ডা. রাজিব সরকার, মেডিকেল অফিসার, ইপিআই সাভিল্যান্স, ইপিআই ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,মহাখালি, ঢাকা ও মো. মুজিবুল হক মুন্সী, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, ইপিআই সাভিল্যান্স, ইপিআই ভবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালি, ঢাকা।

মুমূর্ষু রোগীর স্যালাইন উৎপাদন বন্ধ যেকারণে
কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করেই মুমুর্ষু রোগীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তিন শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড স্যালাইন উৎপাদন একমাত্র প্রতিষ্ঠান আইপিএইচ বন্ধ কওে দিয়েছে। অথচ সরকারি হাসপাতালে স্যালাইনের বড় যোগানদাতা এটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রণায়ের অদক্ষতা, মাহবুব সি-িকেটের কালো থাবা আর নজরদারির অভাবেই এই প্রতিষ্ঠানের এমন পরিণতি।
স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের আইভি ফ্লুইড বা স্যালাইন এর বড় যোগানদাতা জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট- আইপিএইচ। সরকারি হাসপাতালের একটি বড় অংশের যোগান দিতো প্রতিষ্ঠানটি। আর এখনো মুমূর্ষ রোগীর জন্য অত্যাবশ্যকীয় ৩ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইডের একমাত্র যোগানদাতা আইপিএইচ। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অদক্ষ জনবলসহ নানা করণে গত ১৫ জুন বন্ধ করে দেয়া হয় দেশের একমাত্র সরকারি জৈব ঔষধ উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটি। আর এজন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের অবহেলাকে দুষছেন ওষুধ প্রশাসন।’
এদিকে ঔষধ প্রশাসনের পক্ষে বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় স্যালাইন সরবরাহ করার নির্দেশনা দিলেও সেসব প্রতিষ্ঠানে তিন শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড পাওয়া নিয়ে সংশয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘.৩ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের স্যালাইন, যদি না দেওয়া হয় মৃত্যু ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। এটি আমাদের আইপিএইচ থেকে সরবরাহ করা হতো। বাইরের ২-১ টি প্রতিষ্ঠানের এই .৩ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকতে পারে তবে খুব একটা আমরা পাই না।’
২০১৯ এর জুলাই থেকে ২০২০ এর ১৫ জুন পর্যন্ত দেশের ১১৯ টি সরকারি হাসপাতালে আট লাখ ৫৮ হাজার পঁচাশি ব্যাগ স্যালাইন সরবরাহ করেছে আইপিএইচ। এমন একটি স্যালাইন উৎপাদন বিকল্প ব্যবস্থা না করেই বন্ধ করে দেয়া ঠিক হয়নি বলছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘ আবজাল-মাহবুবদের দুর্নীতির কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রতিষ্ঠান চোখের সামনে এরকম জরাজীর্ণ হয়ে গেলো এর দায় মন্ত্রণালয় কোনোভাবে এড়াতে পারে না।’
দফায় দফায় নোটিশ পেলেও কারখানা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়নি কেন প্রতিষ্ঠানটি, সে বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ। মূলত বেসরকারি কোম্পানীসমূহের সাথে মাহবুবের গোপন আঁতাতের ফলেই স্যালাইন উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। রহিম-মাহবুব সি-িকেটের হাত থেকে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা/কর্মচারীরা।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021