Thursday, January 27, 2022

গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার

গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও গ্রাহক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিকরণে বিশেষ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। গতকাল এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিটি সচিবালয়ে জমা দেয়া হয়। পাশাপশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর ই-মেইলেও পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, দেশের সর্বোচ্চ প্রায় ৭ দশমিক ৫ কোটি গ্রাহক নিয়ে গ্রামীণফোন সর্বোচ্চ মুনাফাকারী ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হলেও গ্রাহক সেবা ও জবাবদিহিতায় গ্রামীণফোনের অবস্থান বর্তমানে সর্বনিম্ন্নে। এ প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছে কোনো জবাবদিহিতা করে না। এরা সেবার নামে গ্রাহকের অর্থ লুটপাট ও প্রতারণায় লিপ্ত হয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের কারণেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আপনার দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগের শেষ নেই। এই সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমরা আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। গ্রামীণফোন আইন, নীতিমালা ও গ্রাহক স্বার্থ এমনকি সেবার প্রতি দায়বদ্ধতাকে তুচ্ছ মনে করছে। এই প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি’র এনওসি নিষেধাজ্ঞা ও আইন বহুবার লঙ্ঘন করেছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এনওসি বন্ধ করার পরেও তারা নতুন নতুন প্যাকেজ অফার দিয়েছে। এমনকি জাতীয় স্ল্লোগান জয়বাংলাকে নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে ওয়েলকাম টিউন হিসেবে ব্যবহার করেছে। একজন গ্রাহকের সিম অব্যবহৃত থাকার ১৫ মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকার পরও আরো ৩০ দিন অব্যবহৃত যদি থাকে তারপরেই আইন অনুযায়ী ঐ সিম বা নম্বর বিক্রি করতে পারে অপারেটর। কিন্তু গ্রামীণ ফোন পূর্বেও সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সিমও নিয়ম ভঙ্গ করে বিক্রি করার নজির রয়েছে। সমপ্রতি আবুল বাশার নামে একজন গ্রাহক জিপি’র বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তার চলতি সিম অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার কারণে। এতে বলা হয়েছে- সারা দেশে ১৪টি গ্রামীণ সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারগুলোও বন্ধ করে দিচ্ছে। গ্রাহকরা তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। তাদের কল সেন্টার ১২১ এ ফোন করে উল্টো গ্রাহকের টাকাও কাটছে আবার হয়রানিও বাড়ছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও এখন তারা আর তা দিচ্ছে না। এমনকি মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল কলড্রপ করা যাবে না। আর কলড্রপ হলে ক্ষতিপূরণ সঙ্গে সঙ্গেই দিতে হবে। কিন্তু তারা কোনোটাই করছে না। আপনি জানেন, গত বছর ৬-৮ই নভেম্বর রাজধানীর ১৪টি এলাকায় বিটিআরসি’র কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউএএস) পরীক্ষায় যান্ত্রিকভাবে ৯০ সেকেন্ডে ৩ হাজার ৩০০টি কল করা হয়। পরীক্ষায় জিপি’র কলড্রপ হয় ৩.৩৮ শতাংশ (আইটিইউ’র নিয়ম অনুযায়ী ২ শতাংশের বেশি কলড্রপ করা যাবে না। সংযোগ পেতে জিপি গড় সময় নেয় ১০.১৪ সেকেন্ড (বিটিআরসি’র পরীক্ষা অনুযায়ী।) অথচ বিটিআরসি’র আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ৭ সেকেন্ড। এছাড়াও অনেকক্ষেত্রে সময় লাগে ৩০ সেকেন্ডের মতো। এতে গ্রাহক বিড়ম্বনা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আমাদের পর্যবেক্ষণে জিপি’র ইন্টারনেট গতি সর্বোচ্চ ২ এমবিপিএস। কোথাও ১০০ কিলোবাইট বা কোথাও ১ মেগাবাইট। অথচ ৪জি চালুর সময় শর্ত ছিল সর্বনিম্ন গতি হবে ৭ এমবিপিএস। ইন্টারনেট প্যাকেজের সাথে মূল ব্যালেন্স থেকেও টাকা কেটে নিচ্ছে জিপি। এর ফলে গ্রাহক তার নির্দিষ্ট টকটাইম থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করতে পারছে না। ব্যালেন্স লোন দিলে দুই দফা ভ্যাট কাটার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সিলিং রেট ২ টাকা কলরেট কাটছে অপারেটরটি। ছোট ছোট ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ ব্যবহার করতে না করতেই ব্যালেন্স শেষ দেখাচ্ছে। এমনকি তার ইন্টারনেটের ধীর গতির খেসারত দিচ্ছে গ্রাহকরা। জিপি’র ৯৫ শতাংশ গ্রাহক তাদের ৮ ধরনের প্রি-পেইড ব্যবহারকারী। এই বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে বিভিন্ন অফারের কথা বলে ১.৬৪ টাকা প্রতি মিনিট চার্জ নিচ্ছে। আবার এর মধ্যে ৩-৪টি কলড্রপও করছে। মিউট কলের মাত্রা দিন দিন তাদের বেড়েই চলেছে। এতে গ্রাহক বিড়ম্বনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসএমপি নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ করছে অন্য অপারেটররা। এমএনপি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এই অপারেটরটি বলে অভিযোগ রয়েছে। গতবছর বিটিআরসি’তে ৫ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ জমা পড়েছিল সব অপারেটরের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে কেবল মাত্র গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়েছিল প্রায় ২ হাজার। ভোক্তা অধিদপ্তরে এখনো জমা পড়ে রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার অভিযোগ। কিন্তু ২৭/০৫/২০১৭ইং থেকে রবি’র একটি রিটের প্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর গ্রাহকদের অভিযোগ আর নিষ্পত্তি করতে পারছে না। যদিও এখনো প্রতিদিনই অনেক গ্রাহক অলাইনে ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ পাঠাচ্ছেন। এমনকি আপনি নিজেও সাক্ষী হিসেবে জানেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ডাক ও টেলিযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সহ অনেক সংসদ সদস্য মহান জাতীয় সংসদেও গ্রামীণফোন সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য রেখেছেন। জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে অসংখ্য সংবাদ প্রচার হয়েছে জিপি’র গ্রাহক হয়রানি সম্পর্কে। কিন্তু কি কারণে ও কিসের ক্ষমতাবলে এই প্রতিষ্ঠানটি দিনের পর দিন গ্রাহকদের দুর্ভোগে ফেললেও কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না তা আজ জাতির কাছে প্রশ্ন। আমরা আপনার কাছে গ্রাহকদের অভিযোগের কিছুমাত্র নমুনা তুলে ধরলাম মাত্র। বিটিআরসি’তে এর চেয়ে অধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ কেন নিতে পারছে না- তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। আমাদের সহ অনেকের বিটিআরসি’র ভেতরের অনেক কর্মকর্তা গ্রামীণফোনের সুবিধাভোগী। কমিশনে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার পূর্বেই সংবাদ পৌঁছে দেয় সুবিধা গ্রহণকারী অপারেটরকে। অথচ আমরা তথ্য চাইলেও পাই না। এমকি নিয়ন্ত্রক কমিশনের মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক আমাদের ফোনও ঠিকমতো রিসিভ করে না। খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থারই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে জিপি’র অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা এমনিতেই বোঝা যায়। আমরা জাতীয় ইস্যু নিয়ে কাজ করলেও জিপি আমাদের সঙ্গে কোনো তথ্যবিনিময় বা জবাবদিহিতা করে না। তাহলে একজন সাধারণ গ্রাহক কীভাবে প্রতিকার পেতে পারে এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...