Monday, September 20, 2021

কেন্দুয়ায় টোকাই থেকে শিল্পপতি শামীমের গোপন কাহিনী

রাতারাতি রাস্তার ফকির থেকে কোটিপতি বনে যাওয়ায় নজর পড়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের। অর্থের উৎসসহ সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশও দিয়েছিল দুদক। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলেও হঠাৎ থেমে যায় তদন্ত, শামীম বুক ফুলিয়ে বলে ‘দুদক এখন আমার পকেটে, টাকা থাকলে সমস্যা কোন ব্যাপারই না।’ শামীম ছিল কেন্দুয়া বিএনপি অফিসের পিয়ন, এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েছে। বড় পদ কিনে এমপি/মন্ত্রী হবার খায়েশটাও পেয়ে বসেছে তাকে। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে শামীম।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাতারাতি রাস্তার ফকির থেকে কোটিপতি হয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যকোন দেশে সম্ভব না হলেও বাংলাদেশে সম্ভব এটা প্রমাণ করেছেন অনেকেই। সিলেটের রাগীব আলী, নরসিংদীর ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি কাদের মোল্লাসহ অনেকেই ফুটপাতের সাধারণ মানুষ থেকে কোটিপতি অথবা শিল্পপতি হয়েছেন। কিন্তু সবাইকে টেক্কা দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার টেঙ্গুরি ছয়আনি পাড়ার আবদুল খালেকের ছেলে মনিরুজ্জামান শামীম। রাতারাতি কোটিপতি ও শিল্পপতি হবার ক্ষেত্রে শামীম অতীতের সকল ইতিহাস ভঙ্গ করেছে। রাস্তার একজন টোকাই, অজপাড়া গায়ের ঔষধের দোকানদার এবং সামান্য একজন টোল প্লাজার কর্মচারী যদি হঠাৎ করে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যায় তবে সবাই অবাক হবে এটাই স্বাভাবিক। একজন মানুষ পরিশ্রম করে ধীরে ধীরে তার ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করতে পারে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু রাতারাতি শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়াটা কল্পনাকেও হার মানা। অথচ শামীমের কাহিনী আলাদিনের চেরাগকেও হার মানিয়েছে। যে শামীম একদিন ১০/২০ টাকার জন্য বিএনপির নেতা/কর্মীদের পেছনে ঘুরতো, যার বাবা একজন স্কুলের শরীর চর্চা শিক্ষক, যিনি ছোট্ট একটি ঔষধের দোকানে বসতেন এবং অবশেষে টোল প্লাজায় টোল কালেক্টরের চাকরি নিলেন অন্যের দয়ায়। যার দিন কাটতো খেয়ে না খেয়ে সেই শামীম যখন টয়োটা করোল্লা গাড়ি নিয়ে কেন্দুয়ায় প্রবেশ করে হঠাৎ করে তখন সবাই হতবাক হয়ে যায়। এরপর যখন কেন্দুয়ায় অটোরাইস মিল স্থাপন করে এবং এলাকার বিভিন্ন কর্মকান্ডে দু’হাতে টাকা বিতরণ করতে থাকে তখন এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়। ব্যাপার কি? শামীম কোথায় পেল এতো টাকা? এলাকার সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাও যখন শামীমের এসব কাহিনী দেখে কৌতুহলী হয়ে ওঠে তখন সুচতুর শামীম সবাইকে ম্যানেজ করার উদ্দেশ্যে সবার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং গোপনে সবাইকে বিভিন্ন উপহার ও ক্ষেত্র বিশেষে নগদ অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে নেয়। ফলে কেউই আর তার এই অবৈধ অর্থের উৎস নিয়ে মাথা ঘামায় না। শত কোটি টাকার মালিক হবার পর শামীম সক্রিয় হয় রাজনীতিতে। এখন তার স্বপ্ন সংসদ সদস্য হয়ে মন্ত্রী হওয়া। যে শামীম টাকার অভাবে লেখাপড়াও করতে পারেনি সেই শামীম এখন মন্ত্রী হতে চায়! গত সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়ন পাবার জন্য মামীম মোটা অংকের টাকার খরচ করেছে কিন্তু সফল হয়নি তবে আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাবেন এটা না-কি প্রায় শিশ্চিত। আর মনোনয়ন পেলে তিনি বিপুল ভোটে পাস করবেন বলেও বলে বেড়াচ্ছেন। তিনি মনোনয়ন পেলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরাও তাকে ভোট দেবে বলেও প্রচার করছেন তিনি। সবাইকে না-কি টাকা দিয়ে কিনে রেখেছেন তিনি। তাছাড়া গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছেন বলেও গল্প করছেন তিনি। সব প্রার্থীকেই তিনি মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন অতএব যারা পাস করেছে তারাও তার লোক আর যারা ফেল করেছে তারাও তার লোক। আওয়ামী লীগ বিএনপি জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সবাই তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। কাজেই তারা ভোট দিয়ে সহায়তা করার পাশাপাশি মনোয়ন পাবার ব্যাপারেও শামীমকে সহায়তা করবেন। অবশ্য এর আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি কয়েকজন প্রার্থীকে প্রায় এক কোটি টাকা দিয়েছিলেন কিন্তু যারা তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল তার কেউই নির্বাচিত হতে পারেনি। ফলে এবার তিনি সকল প্রার্থীকেই টাকা দিয়েছেন।

দুদকের নোটিশ ও শামীমের জবাব
দুর্নীতি দমন কমিশন শামীমকে তার অর্থের উৎস ও সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে শামীম যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করে তাতে সে উল্লেখ করে যে, ‘২০০৭ ইং সনে মাহবুব স্পিনিং মিলস লিঃ, যাত্রামুড়া, রূপগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ এর চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান খানের সাথে কমিশনে ব্যবসা শুরু করি, উক্ত মিল থেকে সুতা এলসির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করি। আমি প্রতিবছর আনুমানিক ১০০ কোটি টাকার মালামাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করিতাম এবং ৩% হারে কমিশন পাইতাম। এইভাবে প্রতিবছর ৩০ লাখ টাকা হিসাবে ৫ বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মুনাফা প্রাপ্ত হই।
২০০৮ সালে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া বাজারে প্রমি ট্রেডার্স নামে রড সিমেন্টের ব্যবসা ও রড সিমেন্টের ডিলারশীপ গ্রহণ করি। ৩০ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করি। এই ব্যবসায় প্রতিবছর আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা মুনাফা করি। এইভাবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১ কোটি ০৫ লাখ টাকা মুনাফা করি।
২০০৯ ইং সনে পৈত্রিক ০৫ একর সম্পত্তিতে পিতার নিকট হইতে ০৭ লাখ টাকা দান হিসাবে গ্রহণ করিয়া পুকুর তৈরি করিয়া বাকীতে মৎস্য খাদ্য ক্রয় করিয়া মৎস্য ব্যবসা শুরু করি। এই ব্যবসায় প্রতিবছর ১০ লাখ টাকা মুনাফা প্রাপ্ত হই। এইভাবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬০ লাখ টাকা মুনাফা অর্জন করি।
২০১০ সালে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে একটি রাইসমিল তৈরির জন্য ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা, অগ্রণী ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ঢাকা হতে ঋণ গ্রহণ করে রাইসমিল স্থাপন করি এবং আরো ২ কোটি টাকা সিসি ঋণ গ্রহণ করিয়া রাইসমিল ব্যবসা শুরু করি। রাইসমিলের ব্যবসা দুই জনের যৌথ ব্যবসা। ব্যবসার মুনাফার অর্ধেক আমি পাই। ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ৫০ লাখ টাকার মুনাফার অর্ধেক হিসেবে ৪ বছরে ১ কোটি টাকা প্রাপ্ত হই।
২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রাপ্ত আয়ঃ- ১. স্পিনিং মিলের কমিশন- ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ২. রড সিমেন্ট ডিলারশীপসহ কমিশন- ১ কোটি ৫ লাখ টাকা, ৩. মৎস্য ব্যবসা হইতে মুনাফা ৬০ লাখ টাকা, ৪. রাইসমিল হইতে মুনাফা ১ কোটি টাকা, ৫. জমি বিক্রয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোট ৪ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।’
এটা যে একটা মনগড়া হিসাব সেটা যেকেউ একবার দেখলেই বলতে পারবে। যে ব্যক্তির নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেই ব্যক্তি ১০০ কোটি টাকার মালামাল কিভাবে সংগ্রহ করতো? এ প্রশ্নের উত্তরে কি বলবে শামীম এটা বোধহয় নিজেও জানে না। তাছাড়া ২০০৭ সালে সে প্রতিদিন সকালে কেন্দুয়ার ছোট একটা ঔষধের দোকানে বসত এবং রাতে বিএনপি অফিসে গিয়ে নেতাদের ফরমায়েস কেটে ১০/২০ টাকা বখশিস নিয়ে বাসায় চলে যেতো। পর্যবেক্ষক মহলের মতে এই আর্থিক বিবরণীটা হচ্ছে একটা ফরমালিটি মাত্র। আসলে মোটা অংকের টাকায় দুদককে ম্যানেজ করেছে শামীম, অবশ্য প্রকাশ্যেই বলে বেড়ায় যে, দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত তার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বড় কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন শিবলীর সহায়তায় সবকিছু ম্যানেজ করতে পেরেছে।

বাস্তব অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা গেছে যে, শামীম টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে না পেরে কেন্দুয়ার বিএনপি’র নেতা কর্মীদের পেছনে ঘুরতো এবং তাদের তল্পীবাহক হিসেবে কাজ করতো। সে সময় ক্ষমতায় ছিল ৪ দলীয় জোট সরকার। অতিকষ্টে চলতো তাদের সংসার। এসময় তার সংসারের অভাবের কথা স্থানীয় সাদেক মাষ্টারের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আবু সাহেদ ছাহেলের কাছে বললে তিনি তাকে তার কনস্ট্রাকশন ফার্মে চাকরি দেন। সেসময় গ্রামের বাজারে তার একটি ছোট ঔষদের দোকান ছিল। কিন্তু কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় ঔষধের দোকান দিয়ে সংসার চলছিলো না তার। কাজেই ঔষধের দোকান ছেড়ে ছাহেলের সাথে কেন্দুয়া ছেড়ে যায় শামীম। এরপর ছাহেল সাহেবের বিশ্বস্ততা অর্জন করায় তাকে একটি টোল প্লাজায় টোল সংগ্রহের দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে শামীম চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন সম্পর্ক গড়ে তোলে আর তখন থেকেই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাকে। তবে কোটিপতি বা শিল্পপতি হবার মত অবস্থা তখনো তৈরি হয়নি। মূলত হঠাৎ করে সে অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছে ওয়ান ইলেভেনের পট পরিবর্তনের পর। অনেকেই মন্তব্য করে বলেন সুচতুর শামীম ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে ছাহেলের বিশ্বস্ততা অর্জন করেছিল আগেই। ওয়ান ইলেভেনের পট পরিবর্তনের পর যৌথ বাহিনী যখন কালো টাকার মালিকদেরকে পাকড়াও করা শুরু করে তখন ছাহেল ও তার ব্যবসায়ী বন্ধুরা কালো কাটার বস্তাগুলো শামীমের জিন্মায় রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। অনেকেই আবার দেশ থেকে পালিয়ে যায়। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরও শামীমকে বিশ্বাস করে তার কালো টাকার বস্তা শামীমের কাছে রেখেছিল। ওয়ান ইলেভেনের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শামীম পুরো পাল্টে যায়। সবার টাকা রাখার বিষয়টি অস্বীকার করে সে। শামীম টাকা দিতে অস্বীকার করলে আবু সাদেক ছাহেল হার্ট এটাক করে মারা যান বলে মন্তব্য করেছেন তার এলাকার লোকজন। তাছাড়া বাবর জেলখানায় থাকায় শামীমকে সে বিষয়ে কিছুই ভাবতে হয়নি। তাছাড়া শামীম বিএনপি’র সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। মোটা অংকের টাকা খরচ করে যুবলীগের কেন্দুয়া উপজেলা কমিটির সহ-সভাপতির পদটি ভাগিয়ে নেয়। টাকার উৎসের বিষয়টি নিয়ে যাতে কেউ কোন প্রশ্ন তুলতে না পারে সেজন্য এলাকার সকল প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে হাত করে নেয় শামীম। সাধারণ মানুষের আই ওয়াস করার লক্ষ্যে শামীম একটি ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তার অটোরাইস মিলের নামে একটি ঋণ গ্রহণ করে রাইস মিলে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়। অবশ্য অনেক জাল জালিয়াতি ও অনেক অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে লোন গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া কয়েক কোটি টাকা জামানত দিয়ে একটি সিমেন্ট কোম্পানীর এজেন্ট হয়েছে শামীম। এছাড়া কেন্দুয়া ও আটপাড়া এলাকায় শামীম যে পরিমাণ সহায় সম্পত্তি কিনেছে কোন শিল্পপতির পক্ষে বৈধভাবে ৫০ বছরেও এত সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব নয়।

দুদক ও রাজস্ব বিভাগ এখন শামীমের পকেটে
হলমার্ক কেলেংকারীর সময় বিভিন্ন ব্যক্তির একাউন্টে জমাকৃত অর্থের উৎস নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। শামীম তখন ঢাকার মতিঝিলে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। সে সময় একটি ব্যাংকে শামীমের একাউন্টে ১০ কোটি টাকার অস্তিত্ব পায় দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তখন দিশেহারা হয়ে বেশ কিছুদিন আত্মগোপন থাকে শামীম। সে সময় তার ভগ্নিপতিকে দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে শামীম এবং একই সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদককে ম্যানেজ করার চ্যানেল খুঁজতে থাকে শামীম। দুদক তদন্ত করে শামীমের অবৈধ অর্থের বিষয় একটি মামলা দায়ের করে। এসময় শামীম প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে মামলা ধামাপাচা দিয়েছে। মামলা শেষ হয়ে গেছে বলে প্রচার করছে শামীম কিন্তু সেগুলো ধামাচাপা পড়ে আছে এবং এখনো তদন্তাধীন যে কোন সময় জেগে ওঠলে গ্রেফতার হতে পারেন শামীম। সেকারণেই কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন আওয়ামী লীগ নেতাদের পেছনে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকায় তার অবৈধ অর্থের উৎসের অনুসন্ধানের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পেরে শামীমের সাহস অনেক বেড়ে গেছে। তিনি দম্ভ করেই বলেন যে ‘টাকা হলে যেকোন অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব।’ তার যেহেতু টাকা আছে সেহেতু তার একটি পশমও কেউ নাড়াতে পারবে না।

ডিজিএফআইয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে হুমকি
কথায় কথায় শামীম বলেন তার বড়ভাই ডিজিএফআইয়ের একজন পরিচালক, তাকে দিয়েই সে দুদক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ম্যানেজ করেছে বলে প্রচার করছে। কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বললে তাকে ডিজিএফআই দিয়ে শায়েস্তা করবে বলে হুমকি দিয়ে বেড়ায়। এ প্রতিবেদক তার অবৈধ অর্থের উৎস সম্পর্কে শামীমের কাছে জানতে চাইলে শামীম বলেন- আমার ভাই ডিজিএফআইয়ের পরিচালক, তিনি সব জানেন, তিনি আপনার সাথে কথা বলবেন। ডিজিএফআইয়ের সেই পরিচালকের নাম জানতে চাইলে শামীম বলেন- তিনি যখন কথা বলবেন তখন সবই জানতে পারবেন। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও শামীমের ডিজিএফআইয়ের সেই ভাইয়ের অস্তিত্ব খোঁজে পাওয়া যায়নি। শামীম ডিজিএফআইয়ের নাম ভাঙ্গানোর সাহস কোথায় পেলো তা কারো বোধগম্য হচ্ছে না।

মন্ত্রী হতে চায় শামীম, ক্ষুব্দ সচেতন মহল
শামীমের কাছে টাকার যে পাহাড় রয়েছে এবং নামে বেনামে যে সম্পদ তিনি অর্জন করেছেন তা কয়েক শত বছর তার চৌদ্দ গোষ্টি বসে বসে খেয়েও শেষ করতে পারবে না। তাই এখন আর টাকা রোজগারের দিকে নজর নেই তার। এখন তার প্রয়োজন ক্ষমতা। তার নিজের ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্যেই এখন তার প্রয়োজন ক্ষমতা। ক্ষমতা পেলে তিনি টাকাও যেমন পাবেন তেমিনি পাবেন জীবনের নিশ্চয়তা। তাই ক্ষমতা পাবার জন্য যা যা প্রয়োজন সবই করে যাচ্ছেন শামীম। যাদের টাকা তিনি আত্মসাত করেছেন তারা কিংবা তাদের বংশধরেরা যেকোন সময় প্রতিশোধ নিতে পারে এ বিষয়টা মাথায় রেখেই এগোতে হচ্ছে শামীমকে। তাছাড়া ফুটপাত থেকে ওঠে আসা শামীম বর্তমানে এলাকার শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিদের কাঁধে যেভাবে চেপে বসেছে তাতে সচেতন মহল ও কেন্দুয়া – আটপাড়া এলাকার নাগরিকেরা ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেছে। অনেকেই মন্তব্য করে বলেন যে শামীম এক সময় সেসব নেতাদেরকে চা সিগারেট এনে দিতো তাদের বিভিন্ন ফুট ফরমায়েশ খাটতো সেই শামীমকে এখন সেইসব নেতাদের পাশের চেয়ারে বসে থাকতে দেখলে খুবই খারাপ লাগে। শামীম অবৈধ অর্থের মালিক হয়ে নেতাদেরকে ম্যানেজ করে যুবলীগের সহ সভাপতি পদটি কিনে নেয়। এর পরই সে দলে ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য নানা কৌশল গ্রহণ করতে থাকে। কেন্দুয়া আল খাইরুল অটো রাইস মিলটি প্রতিষ্ঠা করার পর সেটি একজন মন্ত্রীকে দিয়ে উদ্ধোধন করিয়ে এলাকায় তার প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও কৌশলে হাত করে নিয়েছে শামীম। সাংসদের পাশের চেয়ারে শামীমকে দেখে অনেক প্রবীণ সদস্যই হতবাক। অনেকেই এটা মেনে নিতে পারছে না। অবৈধ কালো টাকার মালিকের কাছে সাংসদসহ রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের মাথা নত হবার বিষয়টি ভবিষৎতে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। তারা মন্তব্য করে আরো বলেন- আভিজাত্যের ছাপ মানুষের চেহারাতেই থাকে, টাকা দিয়ে চেহারা পাল্টানো যায় না, শামীমের চেহারায় এখনো তার আগের দিনের ছাপ লেগে আছে, সে যে গাড়িটি দিয়ে চলাফেরা করে সেই গাড়ির সাথে তার চেহারা বড়ই বেমানান, অপরিচিত কেউ দেখলে তাকে গাড়ির ড্রাইভার মনে করবনে। কেন্দুয়া কলেজের আজীবন দাতা সদস্য হয়েছেন শামীম। এ বিষয়টাও অনেকে মেনে নিতে পারছে না। অনেকেই বলেন- কেন্দয়ায় প্রভাবশালী ও বিত্তবান লোকের অভাব নেই অথচ আজীবন দাতা সদস্য হয়েছে টোকাই শামীম। এতে কেন্দুয়াবাসাীর লজ্জিত হওয়া উচিত। শামীম তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কেন্দুয়া ও আটপাড়া এলাকার গরীব ঘরের সন্তানদেরকে নিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে একটি বাহিনী তৈরি করেছেন। এদেরকে দিইে করাচ্ছেন বিভিন্ন অপকর্ম। আগামী দিনে এদের দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করবেন কেন্দুয়া ও আটপাড়া এলাকা। তাই শামীম দম্ভ করে বলেন-আওয়ামী লীগের অনেক নেতারই সংসার চলে আমার টাকায়। তাছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ না কি তাকে ছোট ভাই বানিয়েছেন এবং আগামী নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেবেন বলে কথা দিয়েছেন। এ বিষয়ে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি- বলেন কেন্দুয়ায় মনোনয়ন পাওয়ার মতো শামীম নামে কোন আওয়ামী লীগ নেতা আছে বলে আমার জানা নেই। অতএব কাউকে ছোট ভাই বানানো কিংবা কোন ধরনের কথা দেবার প্রশ্নই ওঠে না। হলমার্ক কেলেংকারীর সাথেও শামীমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, মাহবুব গ্রুপের সাথে সুতার ব্যবসার নাম করে এল সি জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক পাচার করেছে শামীম।

শামীমের নেতৃত্বে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ কেন্দুয়ায় শামীমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে জড়িত ৩৪ নারী পুরুষকে আটক করেছিল। আটককৃতদের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যসহ শিক্ষক ও বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ছিল। পরীক্ষা চলাকালে ছয়ানি গ্রামের শিল্পপতি ঘিউর থানার ওসির স্ত্রীর ভাই মনিরুজ্জামান শামীমের বাড়ি থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে কেন্দুয়া উপজেলার ছয়ানী গ্রামে মনিরুজ্জামান শামীমের বাড়িতে ঘিউর থানার ওসি এমদাদুল হক পুতুলের ভাই আব্দুল হান্নান ছোটনসহ বিভিন্ন শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের আত্মীয় স্বজন ভীড় জমায়। সেখান থেকে উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে তারা পরীক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়ার কাজ চালাতে থাকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সকাল ১১টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৩৪ জনকে আটক করে। পুলিশ এ সময় তল্লাশী চালিয়ে তাদের কাছ থেকে উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল ডিভাইস, বিভিন্ন সেটের প্রশ্ন, ল্যাপটপ, প্রিন্টার জব্দ করে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুল্লাহ জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ২য় ধাপে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও আটপাড়া এ চারটি উপজেলায় ২২ হাজার ৩ শত ৭৮ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।
তখন এঘটনায় ১১ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আট জনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার এসআই আবুল বাশার জানান, সোমবার ১জুলাই নেত্রকোনা সিনিয়র জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালত-১ এ আট জনকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে শুনানি শেষে আদালতের হাকিম শরিফুল হক তাদেরকে দুই দিনের হেফাজতে দেন।
শিক্ষক বরখাস্তের কথা নিশ্চিত করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, সাময়িক বরখাস্ত ১১ জনের মধ্যে তিন জন প্রধান শিক্ষক ও বাকি আট জন সহকারী শিক্ষক রয়েছেন। তারা সরকারি চাকরি বিধি ভঙ্গ করে অপরাধে জড়িয়ে কারাগারে আছেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বরখাস্ত শিক্ষকেরা হচ্ছেন- কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ছোটন, বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাকি ও পানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন আক্তার, কেন্দুয়া উপজেলার দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান, নওপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাওয়া বেগম, লিপা মুনালিসা, বলাইশিমুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরিয়ম আক্তার, কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাহমিনা আক্তার, মদন উপজেলার জঙ্গলটেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেবুন্নাহার ডলি, খাগরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাকি আক্তার ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্মৃতি খানম। পুলিশি হেফাজতে যাদেরকে দেওয়া হয়েছিল তারা হলেন- বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ছোটন, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, শরিফুজ্জামান ভূইয়া মিন্টু, দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষক মজিবুর রহমান, বিকাশ দে, জুয়েল মিয়া, আবুল বাশার, বিলাস সরকার।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার এসআই আবুল বাশার জানিয়েছিলেন, চক্রটির সঙ্গে জড়িত আছে এমন আরও অনেকের নাম তদন্তে বেড়িয়ে আসছে। এ সব যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শাহাজাহান মিয়া জানান, চক্রটি পরীক্ষার হলে পরির্দশক ও বাইরে থেকে বিভিন্ন ডিভাইস, মোবাইলফোন ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মে জড়িত। পরীক্ষার হলে পরির্দশক হিসেবে থাকা এই চক্রের সদস্যরা পরীক্ষা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশ্নপত্র বাইরে তাদের অন্য সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে দিতো। বাইরে থাকা চক্রের অন্যরা দ্রুত প্রশ্নের উত্তর লিখে আবার সেই পরির্দশকদের কাছে একইভাবে পাঠিয়ে দেয়। পরে তারা তাদের নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীদের তা সরবরাহ করে এবং পাশে দাঁড়িয়ে থেকে উত্তর লিখতে সহযোগিতা করে। এভাবে তারা একেক পরীক্ষার্থীকে অন্তত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ নম্বর পাইয়ে দেয়। এরা পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে এভাবে প্রশ্ন ফাঁস করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। একেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে তারা চার থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইলফোন, ডিভাইস, প্রিন্টার জব্দ করে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া শামীম এই চক্রের মূল হোতা। সে নেপথ্যে থেকে তার শ্যালককে দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস করাতো এবং মক্কেল যোগার করতো। দীর্ঘ ৭বছর যাবত শামীম প্রশ্ন ফাঁস করে ও চাকরি দেবার নামে লাখ লাখ টাকা রোজগার করে আসছিল। ঘটনার দিন সারারাত শামীম প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সাথে প্ল্যান- প্রোগ্রাম করেছে কিন্তু পরীক্ষা শুরু হবার আগে সে নিরাপদ দুরত্বে চলে যায়। পুলিশ প্রশাসন সেসময় নেপথ্য নায়কদেরকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে শামীমের টাকার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়।

Related Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

ধারাবাহিক : পলাশ রাঙা দিন

নুসরাত রীপা পর্ব-১৬ তুলির বিয়েতে মীরা আসবে না শুনে বিজুর খুব মন খারাপ । মীরাকে মায়ের কলিজা বলে মা কে ক্ষ্যাপালেও মীরাকে ও আপন বোনের মতোই...

প্রকৃতিকন্যা সিলেট- নয়নাভিরাম রাতারগুল

মিলু কাশেম অপরূপ প্রকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ।নদ নদী পাহাড় পর্বত হাওর বাওর সমুদ্র সৈকত প্রবাল দ্বিপ ম্যানগ্রোভ বন জলজ বন চা বাগানসহ পর্যটনের নানা...

হাওড়ে প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের জমকালো উদ্বোধন

দুই নায়িকা নিয়ে জায়েদ খান মিশা ডিপজল রুবেল হেলিকপ্টারে চড়ে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন হাওরে প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট উদ্বোধন করতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান, জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা...

মৎস্য খাতে অর্জিত সাফল্য ও টেকসই উন্নয়ন

ড. ইয়াহিয়া মাহমুদমৎস্যখাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ৩.৫০ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে...

জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ

মৎস্য উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরিকল্পনা মাফিক যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করায় এই সাফল্য এসেছে। মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে বাংলাদেশ।...