Wednesday, October 27, 2021

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’


তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়ার শুভ সূচনা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, ‘মাছ হবে এ দেশের দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সম্পদ।’ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে মৎস্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের ফলে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে মাছ ও পুষ্টি পাচ্ছে, অন্যদিকে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর হচ্ছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত একাধিক বাস্তবমুখী ও যুগপোযোগী প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে জাতির জনকের ভবিষ্যদ্বাণী আজ সফল হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে। ‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনের মূল্যায়ণের উপর ভিত্তি করেই রচিত এ প্রতিবেদন।

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা মাছ নিয়ে তাদের ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২০’ শিরোনামে প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলেছে, স্বাদু পানির উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। দেশে উৎপাদিত মাছের ৭৫ শতাংশ এখন বাজারজাত করছেন মৎস্যচাষিরা। এ ছাড়া কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন ও চাষাবাদ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ২৪ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছ। সব মিলিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছরে মাছ উৎপাদনে রের্কড সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে মাছের উৎপাদন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন হয় ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার টন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ লাখ ৮১ হাজার টন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গিয়ে দাঁড়াবে ৪৫ দশমিক ৫২ লাখ মেট্রিক টন।

মাছ বাঙালি জাতির সংস্কৃতি ও কৃষ্টির অংশ। দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর পুষ্টিচাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও রপ্তানি আয়ে মৎস্য খাতের অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪.৭৩ শতাংশ মৎস্য উপখাতের অবদান এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২৫.৭২ শতাংশ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে। দেশের প্রায় ১৪ লাখ নারীসহ মোট জনসংখ্যার ১২ শতাংশের বেশি অর্থাৎ প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে। দেশের মানুষ গড়ে জনপ্রতি প্রতিদিন ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ বর্তমানে গ্রহণ করছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত তিন দশকে বাংলাদেশে মাছের উৎপাদন বেড়ে হয়েছে প্রায় ২৫ গুণ। তাছাড়া গবেষণার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অনেক প্রজাতির মাছ এখন চাষ করা হচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া মাছ চাষ হচ্ছে সরকারি-বেসরকারিভাবেও। এ ছাড়া মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ এখন ইলিশ উৎপাদনে বিশ্বে রোল মডেল।বর্তমান সরকারের নানামুখী কর্মকাণ্ড ও বেকারত্ব নিরসনে মৎস্য খাত বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে মাছ চাষ ও ব্যবসায় দুই কোটির কাছাকাছি মানুষ যুক্ত আছেন।

প্রকল্পের নির্বাহী সার-সংক্ষেপ
টেকসই মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ,“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি ২৫৪০০৪.৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অক্টোবর ২০১৫ হতে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ৪ বছর মেয়াদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করে। পরবর্তীতে দেশের সমউন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষে আরও ৮ টি জেলার ১২০ টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প এলাকা সম্প্রসারণ করে ইত্যাদি কারণে ১ম ও ২য় বার সংশোধন করে প্রকল্পটি বর্তমানে দেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৯০০০.০০ লক্ষ টাকা। এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ২৯০১৫.৫৪ লক্ষ টাকা এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭০.৯৪%।
প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে পতিত জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ, মাছ চাষের উন্নত প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণসেবা প্রদান এবং উকারণ সরবরাহ; গ্রামীণ দরিদ্র্য মৎস চাষি, মৎস্যজীবী, বেকার যুবক, দুস্থ মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের আর্থ-সমাজিক অবস্থার উন্নয়ন। এছাড়া পতিত জলাশয় সংস্কার করে মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, পরিবেশবান্ধব মাছ চাষ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সমাজভিত্তিক মাছ চাষ সম্প্রসারণও অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। মূল প্রকল্প প্রস্তাবনাটি বাংলাদেশের ৫৩টি জেলার ২২৯টি উপজেলায় বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়।
প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে ৯৮৮.৮২ হেক্টর পুকুর, দিঘি এবং ১৬৫২.৬১ হেক্টর খাল/বিল/মরা নদী পুন:খনন, পানি চলাচলের অবকাঠামো হিসেবে ৫০০টি পাইপ কালভার্ট স্থাপন, ১৫০৩৫ জন সুফলভোগীকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৭৮২টি প্রদর্শনী মৎস্য খামার স্থাপন, ৭১,১৫০টি বৃক্ষরোপণ এবং উম্মুক্তকরণ কর্মসূচির অধীনে চাষিদেরকে ৮০টি মাছ ধরার জাল এবং ৪০টি পানির পাম্প সরবরাহ। প্রকল্পের অধীনে ২টি পিকআপ, মাছ ধরার জাল ও পাম্প মেশিন ব্যতীত সকল যানবাহন, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয় এবং জনবল যথাসময়ে নিয়োগ করা হয়েছে। ক্রয় প্রক্রিয়া পিপিআর ২০০৮ অনুসরন করা হয়েছে।
প্রকল্পের সংস্কারকৃত জলাশয় মছের উৎপাদন গড়ে ৫৪.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুরূপভাবে ঐ সকল জলাশয়ে গঠিত সুফলভোগীদের বাৎসরিক আয় পূর্বের তুলনায় গড়ে ২৫.৫৫৫ (৩৪.৭৫৬ টাকা) ও মাছ খাওয়ার পরিমাণ ৭৪.৩৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের পুন:খনন কাজ সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে জরিপে ৯৬% সুফলভোগী এবং প্রায় ১০০ভাগ জেলা/উপজেলা মৎস কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, জলাশয়সমূহ কাঙ্খিত গভীরতায় খনন করা হয়েছে এবং খনন কজের মান সন্তোষজনক। সমীক্ষা দল কর্তৃক সরেজমিন পরিদর্শনের কাজের মান সন্তোষজনক পাওয়া গিয়াছে এবং সমধর্মী অন্যান্য প্রকল্পের সাথে কোন প্রকার দ্বৈততা পরিলক্ষিত হয়নি। প্রকল্পেটি গ্রহণের পূর্বে প্রায় ৪৪% জলাশয় পতিত ছিল। অবশিষ্ট জলাশয়ের অধিকাংশে মৌসুমী মাছ চাষ বা আহরণ করা হতো। পূর্বে এ সকল জলাশয়ের মাছের বাৎসরিক উৎপাদন বাৎসরিক ০-২.০ মে টন/হেক্টর সীমিত ছিল। পুন:খননের পর মাছের উৎপাদন ৪.০ হতে ৬..০ মে. টন/হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। জলাশয়সমূহ পুন:খনন/সংস্কারের ফলে মাছ চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডিপিপিতে অনুমিত মাছের বাৎসারিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১০.২৩৪ মে.টনের চেয়ে বেশী বৃদ্ধি পাবে। অনুরূপভাবে ১৫,০০০-২০,০০০ লোকের প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় সমপরিমাণ লোকের পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে। ফলে প্রকল্পেভুক্ত গ্রামীণ দরিদ্র মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, বেকার যুবক, দুঃস্থ মহিলাসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। প্রশিক্ষণের ফলে মৎস্য চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৯০.৮% সুফলভোগী প্রশিক্ষণের মান ভাল/খুব ভাল এবং ৫৪.২% প্রশিক্ষণের পর বুকলেট/লিফলেট পেয়েছেন। জলাশয়সমূহ হতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও পূর্বের তুলনায় সর্বনিম্ন ৫% হতে ৫০% এবং গড়ে ১৪.২%বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্পের কাজ টেকসই করার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মাছ চাষের জন্য গঠিত সকল সুফলভোগীদল নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের আবর্তক তহবিল থাক প্রয়োজন। উন্নয়নকৃত জলাশয়সমূহ এলকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণে ইজারা বা মাছ চাষের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হচ্ছে। ইজারামূল্য প্রতি বছর ৫% হতে ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে বা হচ্ছে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যবস্থপাপনা.এডিপি অর্থ ছাড় ও ব্যায় এবং প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন ইত্যাদি অনেকগুলো সবল দিক পরিলক্ষিত হয়েছে। অনুরূপভাবে প্রকল্প এলাকায় মাছ চাষ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রকল্পের সুফলভোগীদের কর্মসংস্থান এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বন্যা, প্লাবন, পলি ভরাট এবং সুফলভোগী দলের নিবন্ধন না হওয়া ও প্রতিবছর ইজারা মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য প্রকল্পের কাজ টেকসই হওয়া এবং প্রভাবশালী মহল কর্তৃক জলাশয়সমূহ পুন:দখল এবং দূষনের ঝুঁকি রয়েছে।
উপরোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে প্রকল্পের অর্জনসমূহ ও সুফলভোগী দল টেকসইকরণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য, বিষয়ে মোট ১০টি সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। তন্মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্র্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা, সুফলভোগী দলের নিবন্ধন, পুজিগঠন, দীর্ঘ মেয়াদে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ইজারা প্রদান, একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রকল্পের অধীনে স্থাপিত প্রদর্শনী মাছচাষ কার্যক্রম টেকসইকরণ, সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ পুন:দখল, দূষণ রোধ এবং প্রকল্প সমাপ্তির পর রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বিভাগ বা জেলা পর্যায়ে বহুমুখী সেবাযুক্ত প্রদর্শনী মৎস্য খামার স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও অনেক সুফল যেমন-কৃষি কাজে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, খাল-বিল, মরানদী পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ উন্নয়ণের চলাচলের ব্যবস্থা, জলজ জীব বৈচিত্র্য এবং চিংড়ি চাষের এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। জলাশয়ের পাড়ে সাকসবজি, পেঁপেঁ, কলা গাছ, লেবু চাষ, গবাদি পশুর খাদ্য যেমন-নেপিয়ার ঘাস চাষ করা হচ্ছে। সর্বোপরি পানি সম্পদের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি নিশ্চিত কল্পে খাল, বিল, মরানদীসহ সরকারি জলাশয় অবৈধ দখলদারদের কবল হতে মুক্ত করে এখন মাছ চাষের আওতায় এসেছে।

প্রকল্পের সবল দিক ও সুযোগ ঝুঁকি বিশ্লেষণ
“জলাশয় সংষ্কারের মাধ্যমে সৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটির আরডিপিপি পর্যালোচনা, মাঠ পর্যায় হতে তথ্য সংগ্রহ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষন করে সবল দিক, সুযোগ ও ঝুকি নিম্নে সংক্ষেপে প্রদান করা হয়েছে;

প্রকল্পের সবল দিকসমূহ
যে কোন প্রকল্পের সবল দিক হচ্ছে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ নিয়ামক। ডিপিপির অবকাঠামোগত উপাদান ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যা প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ের বাস্তবায়নের এবং প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। এ পর্যায়ে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে জন্য জনবল নিয়োগ, জমি অধিগ্রহন, ক্রয় ও সম্পদ সংগ্রহের পরিকল্পনা প্রকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবিড় পরিক্ষণ, প্রকল্পের অভিষ্ঠ লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ফলাফল ও প্রভাব নির্ণয়ের অনুমতি লজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক ইত্যাদি বিবেচনায় করা হয়েছে । এতে দেখা যায়
১. ডিপিটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণায়ন গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রণয়ন করা হয়েছে। ২. উপরোক্ত বিষয়াবলী ডিপিপির লগফ্রেমে সুবিন্যস্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩. ডিপিপিতে উল্লিখিত বিষয়বলী যথাযথভাবে প্রদান করা হয়েছে। ৪. পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালক ও জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। ৫. দু একটি আইটেম ব্যতীত সকল সম্পদ প্রকল্পের সূচনালগ্নে ক্রয় করা হয়েছে।
৬. প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ামিতভাবে পর্যালেচনা ও প্রতিবন্ধকতা নিরসনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালন করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভাসমূহ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিমধ্যে, একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পটির মধ্যবর্তী মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক নিয়মিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়, আইএমইডিসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করেছেন।
৭. স্থানীয় জনগণ, সুফলভোগী দল ও প্রশাসনিক বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে সহযোগিতা করছেন।

প্রকল্পের সুযোগসমূহ
প্রকল্পের সুযোগ হচ্ছে প্রকল্প বহির্ভূত উপাদান (ঊীঃবৎহধষ ভধপঃড়ৎং) যা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে নতুনভাবে সৃষ্টি হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ইতোমধ্যে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের সুযোগসমূহ নিম্নরূপ শনাক্ত করা হয়েছে:

  • মাছ চাষের এলকা বৃদ্ধি; * গ্রামীন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থ-সামজিক উন্নয়ন;
  • আমিষ জাতীয় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি; * পরিবেশ দূষন হ্রাস ও পরিবেশের উন্নয়ন; * পানির বহুবিধ ব্যবহার; এবং * সেচ সুবিধা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি।
    এছাড়া কেআইআই’তে অংশগ্রহণকারী জেলা এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাগণ অনেকগুলো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যা কেআইআই সেকশনে প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের ঝুঁকিসমূহ
    ঝুঁকি হচ্ছে প্রকল্পের বাইরের নিয়ামক, যেগুলো প্রকল্প ও উদ্দেশ্য অর্জন অথবা প্রকল্পের অধীনে সৃষ্ট সুযোগ সুবিধাদির ক্ষতি করছে বা ভাবিষ্যতে করতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পের ঝুঁকিসমূহ নিম্নরূপ শনাক্ত করা হয়েছে; * মৎস্যচাষি সমিতি বা দলসমূহের আইনগত ভিত্তি প্রতিষ্টিত না হওয়ায় সমিতির অবলুপ্তি
  • সুফলভোগী দলের পুঁজি গঠিত না হওয়া; * প্রকল্পের অবকাঠমো নির্মাণ ও জলাশয় সংষ্কারে স্থানীয়দের প্রভাব ও বিরোধ; * প্রাকৃতিক বিপর্যয় (বন্যা, পলি ভরাট, সংস্কারকৃত জলাশয়ের পাড় ভাংগণ ইত্যাদি);
  • সংস্কৃত জলাশয়সমূহ বাৎসরিক ভিত্তিতে ইজারা প্রদান এবং প্রতি বছর ১০-১৫% হারে ইজারা মূল্য বৃদ্ধি করা; * সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ ব্যবস্থাপনার মৎস্য অধিদপ্তর বা সুফলভোগী দলের নিকট দীর্ঘ মেয়াদে হস্তান্তর না করা ইত্যাদি; এবং * সংষ্কারকৃত জলাশয়সমূহ প্রভাবশালী কর্তৃক দখল, দূষণ, পরিবর্তন এবং লিজ নিয়ে মাছ চষের প্রবির্তে ফসলী জমিতে রুপান্তর এবং শিল্পবর্জ্য ফেলার ঝুঁকি রয়েছে।

নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষার সার্বিক পর্যবেক্ষণ
“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটির প্রধান প্রধান কাজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি, উদ্দেশ্য অর্জন, উৎপাদন বৃদ্ধি, সুফলভোগীদের আর্থ-সমাজিক অবস্থার উন্নয়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, প্রকল্প বাস্তাবয়নে সমস্যা, প্রকল্পের কাজ টেকসই করার পরিবল্পনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষার পর্যক্ষেণ নিম্নে প্রদান করা হলো।

প্রকল্প অনুমোদন ও সংশোধন
প্রকল্পটি ৫টি উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষে ২৫৪০৪.৪৩ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ১৭/২/২০১৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অক্টোবর ২০১৫ হতে জুন ২০১৯ মেয়াদে অনুমোদিত হয়। মূল ডিপিপিতে দেশের ৫৩টি জেলার ২২৯টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তাবয়নের লক্ষ্য নির্ধারিণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থ অবমুক্তিতে বিলম্ব হয়। অত:পর দেশের সমউন্নয়নের লক্ষ্যে মূল ডিপিপির জেলা ও উপজেলা ঠিক রেখে শুধু নতুন জলাশলের তালিকা অন্তর্ভূক্ত করে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতার মধ্যে ১৫% বৃদ্ধি এবং মেয়াদ জনু ২০২০পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ ২৯২১৫.০৯ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৪টি জেলা এবং ১২০টি উপজেলা অন্তর্র্ভূক্তসহ অন্যান্য সুবিধা সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় ৪০% বৃদ্ধি করে ২য় সংশোধন অনুমোদন করা হয়। ২য় সংশোধিত প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২২ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৯০০.০০ লক্ষ টাকা নির্ধারিত করা হয়। প্রকল্পটি বর্তমানে বাংলাদেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


ডিপিপির লগফ্রেম ৮দ্ধ৮ মেট্রিকস ফলম্যাট অনুসরনে প্রস্তুত করা হয়েছে। লগফ্রেমে ইনপুট, আউটপুট ইত্যাদি প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের সকল ক্রয় কাজ সরকারি নিয়ম অনুসরণে করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৪০৯০০.০০ লক্ষ টাকা মধ্যে এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত সর্বমোট ব্যয় হয়েছে ২৯০১৪.৫৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতি ৭০.৯৪%। প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি জলাশয়ের জন্য ১টি করে সর্বমোট ২৩৩৬টি দল গঠন করা হয়েছে। আরডিপিতে পুন:খননকৃত জলাশয় মাছ চাষের জন্য দরিদ্র সুফলভোগীদলের নিকট কমপক্ষে ৩ বছরের জন্য সরকারি মূল্যে ইজারা প্রদানের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী শুধু নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সংগঠনের নিকট সরকারি জলাশয় ইজারা বা লিজ দেয়ার নিয়ম করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজের অগ্রগতিঃ

প্রকল্পের সংস্থান অনুযায়ী সকল জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। অগ্রগতি ১০০%। প্রকল্পের সংস্থান অনুযায়ী ১টি জিপ, ৩টি ডাবল কেবিন পিকআপ এবং ১০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে ২টি ডাবল কেবিন পিকআপ ব্যতীত অবশিষ্ট যাসবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে জাল ও পাম্প মেশিন ক্রয়: আরডিপিতে প্রস্তাবিত ৮০টি জাল ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতিসহ ৪০টি পাম্প মেশিন ক্রয়ের চলমান আছে বলে জানা গিয়াছে। প্রকল্পের সংস্থান অনুযায়ী আসবাবপত্র ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি যথা-ক্যামেরা, ফটোকপিয়ার, কম্পিউটার ইত্যাদি ক্রয় করা হয়েছে। আরডিপিপি অনুযায়ী পুন:খনন লক্ষ্যমাত্রা
এ খাতে লক্ষমাত্রা ১৬৫২.৬৯ হেক্টর এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ২২৫৫৬.৩৮ লক্ষ টাকা। এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৭৩.৬৪%। জলাশয় খনন কাজে দ্বৈততা বিষয়ে সকল সুবিধভোগীগণ মতামত ব্যক্ত করেছেন যে জলাশয় খনন কাজে সমধর্মী অন্যান্য প্রকল্পের সাথে কোন প্রকার দ্বৈততা বা একই জলাশয় একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পুন:খনন করা হয়নি। সরেজমিন পরির্দশনেও কোন প্রকার দ্বৈততা পাওয়া যায়নি।
পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো (পাইপ কালভার্ট) নির্মাণ লক্ষমাত্রা ৫০০টি এবং প্রাক্কলিত ১০০০ লক্ষ টাকা এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৮২.২৫%। আরডিপিপি অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান: লক্ষমাত্রা ১৫,০৩৫ জন এবং ১১৭.৪৫ লক্ষ টাকা। এ পর্যন্ত প্রকল্পের অধীনে ১১৭২৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান: প্রদান করা হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতি ৯১.৮৪%। প্রদর্শনী খামার স্থাপন লক্ষমাত্রা ৭৮২ টি এবং ৭৯২.২৫ লক্ষ টাকা। মার্চ ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৩.৭৬%
আরডিপিপি অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ লক্ষমাত্রা ৭১১৫০টি এবং ১১০.০০ লক্ষ টাকা। মার্চ ২০২১ পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৭.৩১%।

নিবিড় পরিবীক্ষণ অংশগ্রহণকারী প্রায় সকলেই পুন:খনন কাজের মান সন্তোষজনক বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সমীক্ষা দল কর্তৃক প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহকালে বাস্তবেও তা পাওয়া যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বহুমুখি ইতিবাচক দিক যেমন, মাছ চাষের এলাকা ও উৎপাদন বৃদ্ধি, সকরারি সম্পদ অবৈধ দখল হতে উদ্ধার, পরিবেশ উন্নয়ন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন, সারা বছর পানি প্রাপ্তি ও শস্য শাকসবজি চাষ ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সুপাররিশ ও উপসংহার
“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটির অধীনে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং সুফলভোগীদের তথ্য জরিপ, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা, জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফসার সাথে নিবিড় সাক্ষাৎকার (কওও) বিভিন্ন কাজ সরেজমিন পরিদর্শন এবং আঞ্চলিক কর্মশালা হতে প্রাপ্ত সুপারিশের আলোকে নিম্নলিখিত সুপাররিশসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে।
১. প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ে সমাপ্তকরণঃ প্রকল্পের অধীনে পুকুর, দিঘি ও অন্যান্য জলাশয় খননের গড় অগ্রগতি ৬৯.৮৮%। এ প্রেক্ষাপটে, প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ (৩০.১২%) প্রকল্প মেয়াদ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতীব জরুরি।
২. সংষ্কারকৃত জলাশয়ে মাছ চাষের জন্য গঠিত অধিকাংশ সুফলভোগী দলের নিবন্ধন করা হয়নি। সুফলভোগী দল টেকসই করার জন্য প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে সমবায় বিভাগ অথবা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে নিবন্ধন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
৩. প্রকল্পের মেয়াদ শেষে সুফলভোগী দল কারিগরি পরামর্শ ব্যাতীত অন্য কোন সহায়তা পাবেন না। ফলে উন্নত পদ্ধতি অবলম্বন করে পুঁজির অভাবে মাছ চাষ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। এ পর্যায়ে যে কোন নির্ভরশীল সংস্থার সাথে মাছ চাষের লভ্যাংশের একটি অংশ সঞ্চয় করে পুঁজি গঠন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৪. বর্তমানে সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে ইজারা প্রদান করা হচ্ছে, যা টেকসই মৎস্য উৎপাদনে সহায়তা করবে না। এ পর্যায়ে জলাশয়সমূহ নিবন্ধিত সুফলভোগী দলের নিকট জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০০৯ অনুসরণের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৫. সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতিবছর সর্বন্মি ৫% হতে সর্বোচ্ছ ২০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা টেকসই মৎস্য উৎপাদনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। এ পর্যায়ে জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০০৯ অনুসরণে সংষ্কারকৃত জলাশয়ের ইজারামূল্য নির্ধারণ করার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
৬. সরকারি/স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের পতিত জলাশয় পুন:খনন ও মাছ চাষের জন্য সমঝোতা স্মারকঃ পতিত জলাশয় পুন:খনন ও মাছ চাষ ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সাথে সমঝোতা স্মারক প্রণয়ন করা হলে পুন:খনন ও মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।
৭. সুফলভোগী দল পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রদর্শন কার্যক্রম টেকসই নাও হতে পারে। প্রদর্শনী মৎস চাষ টেকসই করার লক্ষ্যে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাগণ কর্তৃক নিবিড় তদারকি বৃদ্ধ করা প্রয়োজন।
৮. সংস্কারকৃত জলাশয়সমূহ যাতে প্রভাবশালীগণ পুন:দখল করতে না পারে এবং দূষণ রোধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
৯. বহু সেবাযুকÍ প্রদশনী মৎস্য খামার স্থাপনঃ মৎস্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় পর্যায়ে কমপক্ষে একটি করে বহু সেবাযুক্ত প্রদর্শনী মৎস্য খামার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

উপসংহার
“জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পটি পূর্ণমাত্রায় বাস্তাবয়ন করা সম্ভব হলে প্রায় ৩৫০০টি বভিন্ন প্রকার জলাশয় (পুকুর, দীঘি, খাল,বিল, বরোপিট) মাছ চাষের আওতায় আসবে। এ সকল জলাশয়ে অধিকাংশে পূর্বে মাছ চাষ করা হতো না। এছাড়া দীর্ঘদিন পতিত থাকায় অধিকাংশ জলাশয় আগাছায় পরিপূর্ণ ছিল, ময়লা-আবর্জনা ফেলার আঁধার এবং পরিবেশ দূষনের অন্যতম প্রধান কারণে পরিণত হয়েছিল। অনেক জলাশয় দখলদারদের দখলে চলে গিয়েছিল। এ সকল জলাশয় হতে স্থানভেদে সরকারের যৎসামন্য রাজস্ব আদায় হতো। জলাশয়সমূহ প্রকল্পের অধীনে সংষ্কারের ফলে মাছ চাষের আদর্শ স্থানে পরিণত হয়েছে। সংস্কারে পরবর্তী সময় এ সকল জলাশয় হতে মাছের উৎপাদন গড়ে হেক্টর প্রতি ২.৫-৩.০ মে.টন বৃদ্ধি পেয়েছে। জলাশয় ভেদে ২.০০ লক্ষ টাকা হতে সর্বোচ্ছ ১৪.০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হচ্ছে। রাজস্ব আদায় সর্বনিম্ন ৫.০% হতে সর্বোচ্চ ৫০২% এবং গড়ে ১৪.২% বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পের সুফলভোগীদের মতামত অনুযায়ী গ্রামীণ দরিদ্র মৎস্যজীবী, বেকার যাবক, দুঃস্থ মহিলা এবং অন্যদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পাশাপাশি মাছ খাওয়ার পরিমাণও প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফফে প্রকল্পটি গ্রামীণ জনসাধারণের আত্মকর্মসংস্থান, আমিষজাত খাদ্যের সংস্থান এবং সকরারের রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রকল্পের অধীনে প্রস্তাবিত ২৫৯৭.৪ হেক্টর জলাশয় পুন:খনন করে মাছ চাষ করা হলে দেশে প্রায় ১২,০০০ হতে ১৫,০০০মেঃটন মাছ উৎপাদন হবে। দেশের সকল পতিত জলাশয় সংস্কার করে মাছ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হলে বাংলাদেশে মাছ চাষের সাফল্যে আরেকটি নতুন পলক যুক্ত হবে, গ্রামীণ দারিদ্র্য বহুমাত্রায় দূর হবে এবং আমিষ জাতীয় খাদ্যের যোগানে আত্মনির্ভরশীল হবে। এ প্রেক্ষাপটে জেল ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অথবা ইধংবষরহব জরিপ করে দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল খাস পতিত জলাশয়ের তালিকা প্রস্তুতপূর্বক মাছ চাষের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব
বর্তমানে প্রকল্পটি দেশের ৬১টি জেলার ৩৪৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এখনো ১৪৬টি উপজেলা প্রকল্প বর্হিভুত রয়েছে। এসকল উপজেলা এবং বিদ্যমান প্রকল্প এলাকার মধ্যে অসংখ্য জলাশয় রয়েছে যা ভরাট হয়ে যাওয়ার কারনে উৎপাদনশীলতা নষ্ট হয়ে গেছে। দেশের উপকূলীয় জেলায় মৎসজীবীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মিষ্টি পানির উৎস নিশ্চিত করণসহ উপকূলীয় সুরক্ষায় খনন উপযোগী বিপুল পরিমান জলাশয় আছে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায় হতে খনন উপযোগী জলাশয়ের তালিকা প্রকল্প দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। যার প্রাক্কলিত খনন ব্যয় আনুমানিক ৪০০০.০০ কোটি টাকা। মাঠ পর্যায়ে চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্প ব্যয় ২০০.০০ কোটি টাকা বৃদ্ধিসহ মেয়াদ আরোও ২(দুই) বছর বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

Related Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles

পুনর্গঠিত হলো বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ

সভাপতি আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ : সাধারণ সম্পাদক এড. মো: ফারুক উজ্জামান ভূইয়া টিপু আকাশ বাবু:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক স্বাধীন...

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

Rajpath Bichtra E-Paper: 20/10/2021

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী আজ

আজ (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ৫৭তম বিবাহ বার্ষিকী। ১৯৬৪ সালে আজকের এই দিনে রাশিদা খানমের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন...

‘আইএমইডি’র নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন করোনা দূর্যোগেও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’

তিন দশকে দেশে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে গণভবন লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে মৎস্য চাষকে...

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021

Rajpath Bichitra E-Paper 28/09/2021